নগরে তবে এখনো কোকিল ডাকে?!
মাঝারী মাপের পুকুরের চারপাশ দিয়ে কনক্রিটের শান বাঁধানো পথ। চারদিকে বেশ ঘন করে লাগালো বড় বড় গাছের সারি। পথের ধারের একটা গাছ থেকেই ডাক টা ভেসে আসছিলো। ৪/৫ বার ডাকাডাকি করে থামলো। মুহূর্ত না পেরুতেই, ঠিক বিপরীত পাড় থেকে ভেবে আসলো আরেকটি তীক্ষ্ণকন্ঠি কোকিলের কুহু ডাক। সেও কয়েকবার ডেকে গেলো।!
মজা তো!
উঁকি ঝুঁকি মেরে দুজনকেই দেখতে পেলাম। পুকুরের দুই বিপরীত পাড়ে! হাটতে হাটতেই শুনতে পেলাম পালাক্রমে ডাকাডাকি চলছে! কিন্তু দুজনে কখনোই একসাথে ডাকছিলো না; অবাক লাগলো। যারা পাখী নিয়ে কাজ করেন তারা হয়তো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
কুহু ডাকের ভেতর কোথায় যেন একটা বিষন্নতা লুকনো থাকে বুঝি!! আমের মন্জরীর গন্ধে একটু ভাবনায় ছেদ পড়লো। এবার দেখেছি, সারা দেশেই আম গাছগুলি একেবারে ফুলে ফুলে ছেঁয়ে গেছে। ঢাকার সব আইল্যান্ডের গাছগুলিতেও ফুলের কোন অভাব নেই। পার্কও তার ব্যতিক্রম নয়। সিমেন্টের ঢালাই ঢেকে গেছে ঝরা মন্জরীতে। পা মাড়িয়ে যাবার সময় চমৎকার সৌরভ পেলাম।
ফেরার সময় মনে হলো কোকিল দুটি আরেকটু কাছাকাছি দুটি গাছে এসে বসেছে। হয়তো চিনে নেয়ার চেষ্টা করছে।
এখন যে বসন্ত। তাদের ভালবাসার ঋতু। বসন্ত চলে যায়।
রুক্ষ, ধুসর খরার প্রহর এলে; শুরু হয় আবার হারিয়ে যাবার পালা।
লেখাটা ড্রাফট করা ছিল বেশ কিছু দিন আগেই। নির্মম, অমানুষিক নৃশংষতার পর আর পোস্ট দেয়ার মানসিকতা ছিলনা; এখনও ইচ্ছে করছে না। কিন্তু হয়তো পরে আর দেয়া হয়ে উঠবেনা ভেবে, খালি নিজের ব্লগে পোস্ট করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




