somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর কি ব্যান হবার দরকার?

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হলের ছেলেরা মাঝে মধ্যেই লক্ষ্য করতো ছেলেটাকে রাতের বেলা কোথাও খুজে পাওয়া যেতো না। আশেপাশে পাহাড়ে ঘেরা ঘন জঙ্গল, জনবসতী খুব একটা দেখা যায় না আর তাই বিদ্যুতের ছোয়া ক্যাম্পাসের বাইরে কোথাও তেমন নেই বললেই চলে।তাহলে এ রাত করে ও যায় কোথায়? ওযে খুব বেশী শহরে যায় এটাও ঠিক না, রাতের বেলা জীমে থাকবে বা নেশা করে এটা কেউ দেখে নাই বা বিশ্বাসও করে না, কারন ও কখনো সিগারেট বা অন্য কিছু ধরে দেখে নি।

একদিন পরীক্ষা শেষে একদল তাবলীগের ছেলে পেলে আবিস্কার করলো ও বসে আছে ক্যামপাস থেকে ১ কিমি দূরে জঙ্গলের ধারে, শুয়ে আছে আর বিশাল আকাশের তারা দেখছে!

__________________________


এই ব্লগে আমি সাইন ইন করি এ বছরের মে মাসে এবং আসার কয়েকদিনের মধ্যে আমি আমার প্রথম পোস্ট করি আমার ছিন্তা ভাবনা শেয়ার করার জন্য। আমি আবার একটু ফান লাভিং বাডি, তাই সবসময় ফান করতে পছন্দ করি। তবে চাকরি বাকরির সুবাদে আমি তখন আর আড্ডা বা জীম বা নতুন কোনো ক্যাচালে সময় দিতে পারছিলাম না, তাই ফিগারে শেপটা নস্ট হচ্ছিলো। তখন এই ব্লগই মনে হলো আড্ডার জায়গা। বোলগানোর এক সময় আমি নাতাশার পোস্টে ঢুকি অন্য সবার পোস্টের মত এবং তার একটা সুন্দর পোস্ট ছিলো কিউট ভুত। ভুত যে কখনো কিউট হয় সেইটা আমি কেন আমার কোনো বন্ধু বান্ধব ইভেন কলিগদের মাথায়ও ঢুকে নি কিন্তু তার পোস্ট পড়ে অনেকেই বলে চিন্তা বদলের টাইম এসে গেছে। তার আরো অনেক পোস্টের মধ্যে একটা পোস্ট পাই: "আমার বন্ধুর বান্ধবী চাই বিজ্ঞাপন হি:হি:হি:"। পোস্ট টা বেশ মজার ছিলো। নাতাশা এখানে তার কোনো এক বন্ধুর জন্য বান্ধবী খুজছেন অবশ্য এখানে বান্ধবী বলা ঠিক হবে না, খুজছেন তার জন্য বৌ। বেশ ইন্টারেস্টিং বলে আমিও সেখানে নিজের চাহিদা অনুযায়ী একটা কমেন্টও করি কিন্তু কমেন্টটা যুগোপযোগী ছিলো না। অবশ্য আমিও একচ্যুয়ালী বাস্তব জীবনে এমন কাউকেই খুজছি যে আমার হয়ে এতটুকু উপকার করবে। তাই আমি চিন্তা করলাম সেটাই যদি হয় আমি নাতাশার পোস্টেই কমেন্ট করে দেখি না কেন, যদি কপালে লেগে যায়। এমন সময় আপনার আরেকটা ফ্যান্টাসি টাইপ পোস্ট আসলো," ভালো লাগে না।" অনেকেই যাতা বললো, অনেকে অনেক কিছু মীন করলো যেটা ঐ পোস্টে এখনও লেখা আছে। তা আমি বেশ সান্তনা দেবার সুরে বললাম ঢোল পিটানের কি আছে, খালাম্মাকে জানান। এখানে যেটা বলতে চেয়েছি একটা মেয়ের যখন ভালো না লাগে তখন সেটা তার মার সাথেই শেয়ার করে বেশীর ভাগ সময়। বাবার সাথে অন্তত এ বিষয়টা বলে না, কিজন্য বলে না সেটা এখানে বলতে চাইনা। আর আমি এটা জানি কারন এককালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজী নিয়ে একটু পড়ালেখা করেছি। সাইকোলজী নিয়ে আমার আলাদা একটা টান আছে। যাই হোক প্রথম তিনটা লাইনের ব্যাখ্যা ছিলো এটা আর লাস্টের লাইনটা ছিলো ঐ পোস্টের রেফারেন্স কিন্তু আমি সেভাবে দিতে পারিনি কারন আমি লেখায় কিভাবে পোস্টের লিংক দেয় সেটা জানতাম না।তবে ওখানে আমি বিবাহের ইঙ্গিত আপনার দিকে করি নাই, আমি করেছিলাম এভাবে: আপনার বন্ধুর বান্ধবী খোজা হলে তার সাথে আমার ব্যাবস্হা করা।
আপনাকে না দেখে আমি আপনাকে কিভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেই? এখানে আপনার আমার উভয়ের আরেকটু ক্লেয়ারিফিকেশনের দরকার ছিলো কিন্তু তারপর থেকেই আপনি উধাও। সে যদি এসে বলতো কমেন্ট গুলো আপত্তিকর বা সে বুঝে নাই, তাহলে আমার আত্তপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকতো। কিন্তু নাতাশা তার কোনো সুযোগ না দিয়েই কাউকে কিছু না বলেই ভুল বুঝে এই পোস্ট দিলেন।
তবে তার পোস্টে একটা জিনিস দেখলাম ওখানে হাসিব, অ:র:পি, শমশের আরো অনেকেই বেশ সরাসরি কমেন্ট করেছে, এবং এগুলো নিয়ে হালকা বাদানুবাদও হয়েছে। আর এখানে আমার কমেন্ট টাই ছিলো লাস্ট। এখানে দেখা যায় শমশের আরো কয়েকজনের কথা আপনি বেশ প্রতিবাদও করেছেন, কিন্তু আমার বেলায় আপনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। তার মানে এটা হতে পারে আপনার চলে যাবার ব্যাপারে ডিসিশনটা আগেই নিয়ে ফেলেছেন অথবা আপনি জাস্ট একজনের ঝাল আরেকজনের উপর মিটানোর জন্য। তবে এটা শিওর আপনি আমার কমেন্ট বুঝতে পারেনি, এবং একজন মেয়ে ব্লগারের জন্য এটা বেশ দুঃখজনক।
আর আমার দুঃখিত হবার কারন হলো আমার কমেন্টে আমার প্রেজেন্টেশনের দুর্বলতা। সেক্ষেত্রে আমি বলতে পারি আমি তেমন ভালো প্রেজেন্টার নই এবং আমি চেস্টা করছিলাম এটা হবার জন্য। হয়তো বা আমি এ পথে এগুচ্ছিলাম বেশ ভালো ভাবেই। তবে এ কমেন্টখানা আমার স্মৃতি থেকে প্রায় মুছে গিয়েছিলো।এটা সেক্ষেত্রে একটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং এর পর্যায়ে পড়ে!

তবে আমি একটা ডিসিশন নিতে চাচ্ছি কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে ব্যান নাও করে তাহলেও এটাই বোধ হয় আমার লাস্ট পোস্ট। অবশ্য আমি এখনও অতোটা শিওর না আমি এটা পারবো কি না! কারন ব্লগটা আমার নেশায় ঢুকে যাচ্ছে। আর আমি যদি নাও যাই তাহলে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদের সময় এ কথাই অন্যায় কারী আমাকে মনে করিয়ে দেবে। তখন দেখা যাবে যার জন্য প্রতিবাদ করেছি সে উল্টা ঝামেলায় পড়বে। অবশ্য এই ব্লগে এসে আমার অনেক অভ্যাসের পরিবর্তন হয়েছে: জীমে রেগুলার যেতে পারিনা, অফিসে ওভার টাইমে কাজ না করে বোলগাই, বাসা থেকে তেমন একটা বের হইনা, কাজিন, বন্ধুদের এক্সট্রা টাইম দিতে পারিনা। অবশ্য থ্যাংক গড আমার কোনো গার্ল ফ্রেন্ড নাই, থাকলে হয়তো সেও ফুটতো।
তবে হ্যা এখানে আমি যা পেয়েছি জীবনে আমি তা পাই নি আর পাবোও না- সেটা হলো অসংখ্য লোকের ভালোবাসা। অসংখ্য ভার্চুয়াল বন্ধু যারা আমাকে ব্লগে, ম্যাসেন্জারে, ইমেইলে এমনকি ফোনে আটকে রাখে। আমি এতটা জনপ্রিয় হবো তা কখনো ভাবতে পারিনি। এখানে আমাকে নিয়ে যে পোস্ট গুলা দেয়া হয়েছে এটা আমার কল্পনার বাইরে। আমার অঘোষিত বান্দরের গ্রুপের জন্য কখনো আমাকে আহবান করতে হয়নি তবে এটা বোধ হয় নিজে নিজেই ফর্ম হয়েছে। এ গ্রুপের একটা আদর্শ আছে সেটা বুঝতে পারতে কারো তেমন সময় লাগে নি। রিসেন্টলি এরা খুব প্রো এ্যাকটিভ হচ্ছিলো যা অনেক অন্যায়কে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার কাছে এর চেয়ে বেশী আর কি চাইবার থাকতে পারে! হোসেইন্দার- এটিমের পর বান্দর গ্রুপই বোধ হয় এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বেস্ট বোনমিলস হিসেবে পেয়েছি চানাচুরকে, কিন্তু ও চলে গেলো বলে খুব দুঃখ হচ্ছে। ব্লগ বাসী, আউলা নামের ব্লগারকে দেখলে একটু চানাচুরের জন্য একটু রিকোয়েস্ট পাঠাবেন।

প্লিজ চানাচুর ফিরে এসো!

যাই হোক, আমার সামনে হয়তো একটা প্রোমোশন বা এরকম কিছু একটা ওয়েট করছে। আর সামনের বছর আমার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ন কারন আমার হাতে কিছু বড় বড় কাজ আছে। আমি তার জন্য দোয়াপ্রার্থী। আর আমি থাকা না থাকার উপর কেউ যেনো কোনো ডিসিশন না নেয়, আর কেউ যদি এর কারনে ব্লগ ছাড়তে চায় তাহলে আমি এর জন্য নিজেকে কখনোই মাফ করতে পারবো না! আর "মানুষ"কে বললাম আমার স্বঘোষিত দায়িত্বটা তুমি নাও যদি তোমার কোন সমস্যা না থাকে। বান্দর গ্রুপটাকে সামলে রেখো এবং সামহোয়্যার ইন যেনো লুইস আর আর রাজাকর শিবিরের অবাধ ভূমি নাহয়!

আমি এখনো ডিসিশন নিতে পারছি না থাকবো কি না! আশা করি আপনারা আমাকে ডিসিশন নিতে সাহায্য করবেন!

যদি কেউ মনে করেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে তাহলে মেইলে বা ম্যাসেন্জারে সবাই নক করবেন আমি সাড়া দেবো:[email protected]

সবাইকে খুব মিস করবো (যদি এই ব্লগ ছাড়তে পারি!)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭
৬২টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×