somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের রেভ্যুলেশন কেমনে শুরু করন যায়: প্রজেক্ট ১!

২২ শে অক্টোবর, ২০১১ ভোর ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং দাতে ব্যাথা আর জ্বর নিয়া কাজ করতে হইতাছে। ঘুম ঠিক মতো আসে না, মানসিক অশান্তি তো আছেই। যাই হোক, তাও লেখতাছি কারন কাজের সময় ফাকি দিয়া যখন প্রথম আলোর পেজখান আইফোনে খুলি তখন মনে হয় হায়রে আমার দেশ! কাগো মাথায় বসাইছি!

সবাই অনেকে অনেক কথা কয়। কিন্তু আসল ব্যাপারটা মিসিং! আমি জানি সবার ধারনা আর চিন্তাভাবনা খুবই পোক্ত, কিন্তু একটা ব্যাপার সবাই ভুইলা যাইতেছে, সেইটা হইলো বিচ্ছিন্নতা!

এর সবচেয়ে বড় উদাহরন হইলো আপনে, যে এই পোস্ট খান পড়তাছেন। আমি আপনেরে হাতে বাশ নিয়া রাস্তায় দৌড়াইতে কইতাছি না। কিছু কথা শোনেন ঠান্ডা মাথায়। দেখেন বুঝেন কিনা!

আরব জাতী বর্বর এইটা একটা শ্বাশত সত্য! তেল আছে তাই স্বৈরাচারী সরকার গুলান জন গনরে ভুলাই ভালাই রাখছে আর নিজেগো ক্ষমতা ঠিক রাখছে!

মোহাম্মদ বাওয়াজিজি নামের এক তিউনিশিয়ান, জন্ম হয় গরীব এক পরিবারে। বয়স যখন তিন তখন বাবা মারা যায়। তার কিছু দিন পর তার মা তার চাচাকে বিয়ে করেন। বাওয়াজিজিরা ৬ ভাই বোন ছিলো বাস করতো সিদি সালাহ নামের একটা গ্রামের বস্তিতে। যখন বয়স ১০ এর কোঠায় তখন থেকেই ওকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয় কারন তার সৎ বাবার শরীর খুবই খারাপ থাকতো। তার কয়েক বছর পর তাকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে পঠে ফেরী করে বেচতে হয় নানা রকমের জিনিস। ওর বোন বলতো ওর ভাইয়ের নাকি খুব শখ ছিলো ইউনিভার্সিটিতে পড়ার, গ্রাজুয়েশন করার। কিন্তু স্কুলের কোঠাও পেরোতে পারে নি,

তিউনিশিয়ার বেকারত্বের হার ৩০ ভাগের উপর, সেও এই হারের মধ্যেই পড়ে। নানা জায়গায় চাকরীর আবেদন করলেই সবজায়গাতেই না শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে ঐ রাস্তার ফেরী ওয়ালার কাজে নামতে হয়। সকাল বেলা বাকীতে ২০০ ডলারের মতো জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রিতে নামে বিকেল বেলা তা পরিশোধ করতে হতো। লাভের টাকা দিয়ে বোনের ইউনির খরচ থেকে শুরু করে সবার খাওয়া দাওয়া বাবার চিকিৎসা সবকিছুই।

২০১০, ১৬ই ডিসেম্বরে সকাল বেলা যখন সে ফেরী নিয়ে নামে তখন কিছু পুলিশ শাসিয়ে যায় ভেন্ডর পারমিট ছাড়া ব্যাবসা করা যাবে না। সমস্যা হলো ছোট বেলা থেকেই ও জেনে আসছে এটার জন্য মিউনিসপ্যালিটির কোনো পারমিটের দরকার নেই। তার পর দিন আবার যখন রাস্তায় ব্যাবসা করতে নামে তখন এক মহিলা মিউনিসিপ্যালিটিট অফিসার কিছু পুলিশ নিয়ে এসে চরম অপমান করে। বাওয়াজিজির জিনিসগুলো নিয়ে যায়, মার ধর থেকে শুরু করে মৃত বাবাকে গাল দিতেও ছাড়ে না ভরা রাস্তায়। শুধু কিছু ঘুষ দিলেই ল্যাঠা চুকে যায় সেখানে এতোগুলো অপমান শুনবার একটাই কারন, তখনও সে বনিও করে নি আর পকেটে কোন টাকাও ছিলো না।
রাগে দুঃখে অপমানে বাওয়াজিজি মিউনিসপ্যালিটির অফিসে গিয়ে বিচার করে আর বলে, আমি কিভাবে তোমাদের পেট ভরবো যেখানে আমি যা কামাই তা দিয়ে নিজেরাই কিছু খেতে পারি না? এর বিচার করো নইলে শরীরে আগুন লাগাবো!

কোনো অফিসারের কানে কিছু যায় নি, সে রাগে দুঃখে একটা গ্যাসোলিন ভর্তি গ্যালন যোগাড় করে আর নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় রাস্তার মধ্য দিয়ে। শত শত লোক দেখতে থাকে, কেউ কেউ পানি ছিটিয়ে আগুন নিভাতে চাইলে আগুন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারনত ৩০ ভাগের উপরে পুড়ে তার বাচবার সম্ভাবনা থাকে না, কিন্তু বাওয়াজিজির শরীর পুড়েছিলো ৯০ ভাগ। ব্যাপারটি সবাইকে খুব নাড়া দেয়, আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে, প্রেসিডেন্ট এসে বড় হাসপাতালে ট্রান্সফার করানো হয় আর আশ্বাস দেয়া হয় উচ্চতর চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হবে।

১৮ দিন কোমা্য থাকবার পর ছেলেটি মারা যায়। জানাযায় ৫০০০ লোক শরীক হয়েছিলো আর সেখানে থেকে বারুদ ফুটতে থাকলো সবার মনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সরকার নামতে বাধ্য হলো কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি এক বাওয়াজিজির মৃত্যুর পর আরব অন্ঞ্চলে একের পর এক স্বৈরশাসকের পতন ঘটতে থাকে আর আজকে শুনলাম গাদ্দাফী মরেছে, ওয়াল স্ট্রিটে আগুন জ্বলছে ইউরোপের শেয়ার মার্কেট দখল চলছে।শুরু হয়েছে আরব বসন্ত যার জোয়ার আজ সবদিকে!

আমি আপনাকে বলছি, কি করছেন আপনি? আমি বাবাকে ফোন দিলে বলি বাসায় বসে আছে। মামাকে ফোন দিলে বলি দোকান করছে। চাচাকে ফোন দিলে বলি তাবলীগে সময় দেবার কথা ভাবছে।

কারো কখনো মনে হয় ডিএসইর সামনে কিচু লোক বোবাকান্না কাদছে ওদের পাশে থেকে দাড়াতে। ওখান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু একটা শুরু করতে। ভারতের এক অজানা অচেনা আন্না নামের বুড়ো কি করলো আর আমরা?

বিচ্ছিন্নতা আর স্বার্থপরতা!

আমরা গনতন্ত্র চাই, স্বৈরতন্ত্র বা এক নায়কতন্ত্র এক দিনে জন্যও নয়! কিন্তু বসে থাকলে কি হবে?

সাংবাদিক যারা: ভাই আপনার হলেন সবচেয়ে বড় ক্ষমতাধর। যখন টেলিভিশনের ক্যামেরা নিয়ে নেতা নেত্রীদের দিকে তুলে ধরেন তখন তারা যখন বলে এই কাজটি হচ্ছে না বিগত সরকারের দুর্নীতি অথবা এ কারনে, তখন আপনি বলতে পারেন, এই কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং কনট্রাক্টরী কেন তাদের স্বজন দের দিয়েছে! জন গন দেখুক সে কি উত্তর দেয়। যখন আব্দুল মাল উচ্চমার্গের কথা বলে তখন তাকে জিজ্ঞেস কেনো করা হয় না গতবছর কেনো ২০০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে জন গনের উপর এত বড় একটা মুদ্রস্ফিতীর বোঝা চাপানো হলো? কেনো শেয়ার মার্কেট বা ডাইনামিক মার্কেট বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাজ না করিয়ে পীর দরবেশ নামের জোচ্চর দিয়ে সমাধান খোজা হয়? জন গন যদি এটা দেখে তখন তারা নিজেরাই বুঝবে কে এরা বা কারা এরা

এই গয়েশ্বর সাহেব বা ফখরুল সাহেব বা সাকা সাহেব এত বড় বড় কথা বলে কেউ কোনো দিন কেনো ধরলেন যে তোর যে পাপ করে এই ক্ষমতা নিলি সে পাপের ব্যাপারে কিছু বল....আপনারা এটা করেন নি কারন চাকরি খুব প্রিয়।

আর যদি এটা করতেন তাহলে আজ হোক কাল হোক বাঙ্গালী বুঝতো কাদেরকে তারা মাথায় বসায়!

পেশাজিবীরা কি বলেন: সরকারী চাকরী যারা করেন তাদের সবাই ঘুষখোর না। যারা ঘুষ খান না তারা সারা জীবন সেটা নিয়ে গর্ব করেন। আর যারা ঘুষ খায় তারা সেগুলো নিয়ে গাড়ি বারি বানায়। আমরা যারা সাধারন জন গন টারা যখন আপনাদের কাছে সেবার জন্য আসি তখন যকন আমাদেরকে ইশারায় বলেন টাকা দিতে হবে তখন কি লজ্জা করে না? আমরা কেন এদেরকে রাস্তায় বের করে গন ধোলাই দেই না? মিরপুরের এসপি যিনি ঘুষ ছাড়া খুনের কেস ধরেন না কেন আমরা জন সমক্ষে ধরে শিক্ষা দেই না?

আমজনতা কি করেন? আমরাই কিন্তু সকল দুর্নীতি প্রশ্রয় দিচ্ছি। হয় কারো বাবা অথবা বর ভাই অথবা চাচা অথবা আত্মীয়। আমি কাদের কাছ থেকে এই বিপ্লব আশা করবো যখন যারা এই দুর্নীতির হোতা তারা সবাই আমাদের কেউ না কেউ হয়?

আমার প্রজেক্ট ১ টা খুব সোজা, সাংবাদিক, পেশাজিবী আর আমজনতা এই তিন গ্রুপ এক সূতোয় বাধতে হবে। ফেসবুক গ্রুপ করে পিকনিক করলে লাভ হবে না।

আমরা দুর্নীতি চাই না, যেখানে দুর্নীতি দেখবো, সেখানো আমরা সবাই এগিয়ে যাবো!

কালকে থেকে আমরা একটা স হজ কাজ করি যে পুলিশ সার্জেন্ট বাস আটকালো তার দিকে খেয়াল রাখি, একটু দূরে গিয়ে কন্টাক্টরেরর কাছ থেকে পয়সা নিলো আমরা তখনই এর প্রতিরোধ করি!

একটা কেস নিতে গেলে যখন কেউ টাকা চাইবে এমনকি জিডি লেখাতে হলেও আমরা তখনই সম্মিলিত ভাবে তাকে প্রতিরোধ করি। যখন পুরো এলাকাবাসী এক হবে, তখন পুলিশ বিভাগ থেকেই তদন্ত করতে বাধ্য হবে। কিন্তু সম্মিলিত হতে হবে! আর কত এভাবে বসে থাকবো!

এই সামান্য কিছু কাজ দিয়ে শুরু করা যাক, দেখেন ১ মাসের মধ্যে এটা কতটুকু ছড়িয়ে পরে!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১০:৩৬
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×