somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক রাতের গল্প - ২

১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা আসলেই খারাপ। সাধুর কথায় যা জানা গেল তা হচ্ছে, তুলির বড় ভাই সৌদিআরব থেকে কয়েকদিন আগে এসেছে। তার আসার সেকেন্ডারি উদ্দেশ্য যাই হোক, প্রাইমারি উদ্দেশ্য হচ্ছে ছোটবোনের বিয়ে দেয়া। খালি বোনের বিয়ে উপলক্ষে কেউ বিদেশ থেকে ছুটে আসে না। তুলির ভাই এসেছে কারন, পাত্র নিজেও সৌদিআরব নিবাসী এবং তার বিশেষ বন্ধু। পাত্রের বাংলাদেশ ভ্রমনের একটাই উদ্দেশ্য - বিয়ে করা। আর তুলির বড় ভাইয়ের উদ্দেশ্য বিয়েটা তার বোনের সাথে দেয়া। কথা পাকাপাকি সে দেশে ফিরে আসার আগেই সেরে এসেছে, এখন খালি কালেমা পড়ানো বাকী। এবং সেই কাজটা কালকেই ঘটানো হবে। অতি গোপন সূত্রে জানা খবর।
-এইটা একটা কথা তুই বল্! ট্রাম।
ভাবিষ্ট্ রনি কোনো একজনের টেক্কার উপর ট্রাম্প করতে করতে বলে।
নিয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
টিটোর বোধহয় মেজাজ খারাপ হয়। ধুর বলে চৌকির খালি জায়গাটায় শুয়ে পড়ে। আমি ওর মেজাজ খারাপের কারনটা বুঝে ফেলি। আজকের রাতের মজাটা গেল। এত কষ্ট করে জোগাড় করা মাল খাওয়া চাংগে। মাল খাওয়ার জন্য দরকার ফুরফুরে মন। অথচ ব্ন্ধুর মহাসমস্যা। তার নায়িকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাচ্ছে চব্বিশ ঘন্টা পর। এই সময়ে ফুরফুরে ফুর্তি করা যায় না।
তাও আবার যার প্রব্লেম তার ঘরে, যার নিজের জন্মদিনে ডারলিং আরেকজনের বউ হবে তারই সাথে বসে।
ওরা আবার তাস খেলায় মন দেয়।
সুনসান। সুনসান।
আমি বাইরে বের হই। বালুর ডিবিটার একপাশ ভিজিয়ে তারপর পাশের সদ্য ঢালাই করা পিলারটার গায়ে হেলান দিয়ে সারাদিনের কথা ভাবতে থাকি।
কিছুক্ষন পর কমল আসে। সেও বালুর ডিবিটার শীর্ষ আন্দাজ করে তার জলকামান ছুঁড়ে দেয়। তারপর চেন টানতে টানতে বলে, কি করা যায় বলতো।
আমি কিছু বলি না। মদের দোকানের লোকটার কথা ভাবি। কেমন তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। এ কিসের লক্ষন কে জানে।
আমার সাড়া না পেয়ে কমল বলে চলে, ব্যাটা এইজন্যেই বলি ঐসব ফালতু কাজে জড়াইস না। শুধু শুধু। দুইদিন পিতলা পিরিত,আবডুম বাগডুম, চড়ুই পাখির ড্যান্স, তারপর মালদার পার্টি একটা পাইলেই লগে লগে ফুরুত। শালা নিয়াজ, মালের বোতল কোলে নিয়া এখন কান্দো!
অন্ধকারে কমলের মুখ দেখা যায় না। কথা শেষে থু দিয়ে কমল থুথু ফেলে বালির ঢিবির উপর।
আর তখনি কারেন্ট চলে আসে।

মোমবাতিটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। হাদু ফু দিয়ে নিভিয়ে দেয়। তারপর মোমটা হাতে নিয়ে বলে, রাত বারোটায় তোমাকে আবার জ্বালাবো সুন্দরী।
অমল বলে, গুরু মোম কিন্তু এই একটাই। আবার বাতি গেলেগা এইটাই ভরসা। নিয়াইজ্জারে ফুও দেয়াইতে হইবো এইটাতে। কিরে নিয়াইজ্জা ফু দিবি না?
অমল হ্য়তো ভুলে গেছে, এখনকার মূল বিষয় আর নিয়াজের জন্মদিন নয়, তুলির বিয়ে।
বশির তাস গুটায়। কারেন্ট আসার পর সবাই হাতের তাস ফেলে দিয়ে নড়েচড়ে ওঠেছে। খেলায় কারো মন নেই।
সুমন ওঠে একটা স্প্রাইটের বোতল হাতে নিয়ে মুখ খুলতে খুলতে বলে, অমল অফ যা। তোর শালা কমনসেন্স নাই।
বলে বোতলে চুমুক দেয়। অমলের বোধহয় হঠাত আসল কথা খেয়াল হয়। কিন্তু নিজের বলা আগের কথাকে সাপোর্ট করতেই হয়তো বলে, তোরা খালি প্রবলেম আমদানি করস। এমন একটা দিন, কই মৌজ করুম তা না।
এইটুকু বলে অমল এদিক ওদিক তাকায়।
শুয়ে থাকা টিটোর হাতে এখন নিয়াজের স্প্যানিশ গীটার। টুং করে একটা তারে আওয়াজ তোলে। অমল টিটোর দিকে তাকিয়ে হাসতে চেষ্ঠা করে।
অমলটা বোকাটে। ভেবেচিন্তে কিছু বলে না।
আমি হ্যাভারসেকটা সরিয়ে নিচে রেখে চেয়ারটায় বসে পড়ি।
কিছু মুহুর্ত কথাহীন কেটে যায়।
নিরবতা কাটাতে হাদু রনিকে জিগ্গাসা করে, ভাবিষ্ট, তোর বালের ঘড়িতে কয়টা বাজেরে?
-সাড়ে নয়টা।
-খিদা লাইগা গেল।
এইবার নিয়াজ উঠে গিয়ে আলনায় ঝুলানো জি্নসের প্যান্ট হাতে নিয়ে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে। আজ রাতে ওর আমাদের সবাইকে নান আর চিকেন টিক্কা খাওয়ানোর কথা। পাচশোঁ টাকার একটা নোট বের করে অমলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিয়াজ বলে, যা, তোরা কি খাবি নিয়া আয়।
কথার মধ্যে ঝাঝ টের পাওয়া যায়।
কমল জোরে বলে উঠে, যা অমল তাড়াতাড়ি নিয়া আয়। খাওয়ার পর সবাই মিলা বইসা নিয়াজ আর তুলির ব্যাপারটা একটু ভাবতে হবে। এমনি এমনি তো ছাইড়া দেয়া যায় না। কিছু করন লাগবো।
নিয়াজ টিটোর হাত থেকে গীটারটা বলতে গেলে কেড়ে নেয়। তারপর বলে, আমার ব্যাপার নিয়া তোদের কাউকে কিছু ভাবতে হবে না। তোরা বাল কি খাবি খা, তারপর যারযার মত বাড়ি যাগা।
স্পষ্টতই রাগত স্বর।
অমল দ্রুত বের হয়ে যায়। বশির আমার দিকে তাকায়। কেউ কিছু বলে না।
কারেন্টটা আবার চলে গেলে সুনসান নিরবতার দেহ ফালি ফালি করে কেটে ফেলতেই হ্য়তো গীটারের তারগুলো অহেতুক কেঁপে উঠে।
নিয়াজ গীটার ভালোই বাজায়।


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×