আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
বাউলের মূর্তি সরানোয় মুসলমানি সাফল্য: আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের পুনর্পাঠ, পর্ব ৪
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৪
পর্ব ৩: Click This Link
ব্রিটিশ নীতি
যাদের কাছ থেকে ব্রিটিশরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিল সেই মুসলমানদের বরাবরই তারা পৃথক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে ভেবেছে। পৃথকভাবে দেখার এই নীতি কখনও মুসলমানদের বিপক্ষে গিয়েছে, কখনও পক্ষেও এসেছে। ব্রিটিশদের গৃহীত অন্তঃত তিনটি পদক্ষেপ মুসলমানদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে: এগুলো হলো ১৮৩৭ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৩২ সালের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা।
ঐতিহাসিক ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের (১৮৭১) মতে, 'ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমান জাতটি সব অর্থে একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়'। প্রথম বড়ো আঘাত আসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে পুরনো প্রশাসন ও ক্ষমতাকাঠামো একেবারে ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং এভাবে 'আশরাফ' মুসলমানরা (এলিট মুসলমান, যাদের অন্তঃত আরব, তুর্কী বা নিদেনপক্ষে মধ্য এশীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল অথবা যারা ব্রিটিশ আগমণের পূর্বে রাজ-রাজড়া জাতীয় পদবিতে সমাসীন ছিল) সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এটি মূলত একটি রাজস্বব্যবস্থা হবার কারণে 'আতরাফ' (নিম্নবর্গীয় মুসলমান, মূলত ধর্মান্তরিত স্থানীয় লোকজন) কৃষকরাও এর শিকার হয়। অন্যদিকে এই বন্দোবস্তের ফলে একটি মধ্যস্বত্বভোগী জমিদার শ্রেণীর সৃষ্টি হয় যাদের মূল কাজ ছিল কৃষকদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করে ব্রিটিশ সরকারের কাছে জমা দেয়া। এই জমিদার শ্রেণীর বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু এবং এই করসংগ্রাহকরা নানা উপায়ে 'মুসলমান' কৃষকদের কাছ থেকে কর আদায় করতো। একপর্যায়ে তাদের নিপীড়কের ভূমিকায় দেখা যায়। অন্যদিকে এই নিপীড়নসৃষ্ট প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এই জমিদারসন্তানরা কলকাতায় ইংরেজি পড়া শুরু করে, ইউরোপীয় শিক্ষায় আলোকিত হয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা শুরু করে, কিছু সমাজসংস্কারও করে (যেমন সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ), একটি 'ভদ্রলোক' বা 'বাবু' শ্রেণীর জন্ম হয়, ব্রিটিশদের সঙ্গে দেনদরবার করে অধিকার আদায় করতে তারা সমর্থ হয়ে ওঠে। এমনকি ইউরোপীয় শিক্ষা তাদের উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে তাত্ত্বিক সমর্থন দেয়। যখন হিন্দু বাবুরা সমাজে এভাবে অগ্রবর্তী ও আধুনিক হয়ে ওঠে, মুসলমানদের অবস্থা তখন করুণ থেকে করুণতর হতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আবিষ্কার করে তারা ব্রিটিশ ও হিন্দু উভয় দ্বারাই নিপীড়িত। ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে তারা সংগঠিত হতে থাকে, ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লিগের জন্ম হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যদি মুসলমানদের জন্য অভিশাপ হয়ে থাকে তবে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ তাদের জন্য আশীর্বাদ বা কম্পেনসেশন হিসেবে দেখা দেয়। ঢাকাকে কেন্দ্র করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামক রাজ্যটিতে মুসলমানরা বিকশিত হবে, এই ছিল লর্ড কার্জনের পরিকল্পনা। কিন্তু এই পদক্ষেপ হিন্দু মধ্যবিত্ত মানতে চায়নি, তারা একে বাংলাকে বিভক্ত করে দূর্বল করে দেবার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে এবং তাদের প্রবল প্রতিবাদে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হিন্দু নেতারা যতই মুসলমানদের একক বাঙালিত্বের ছাতায় রাখতে চাননা কেন, দুই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ততদিনে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সুনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মুসলমানরা মুসলিম লিগ ও হিন্দুরা কংগ্রেসকে ঘিরে সংগঠিত হতে থাকে। কংগ্রেসের যদিও একটা সেকুলার চেহারা ছিল, কিন্তু কংগ্রেসের ভেতরকার চরমপন্থী হিন্দুরা ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের সময় (দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গ) চেয়েছে বাংলা দুই ভাগ হয়ে যাক। কারণটা হলো ১৯৩২ সালের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা।
জয়া চ্যাটার্জির (১৯৯৪) মতে ম্যাকডোনাল্ডের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা বাংলায় নাটকীয়ভাবে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র উল্টে দেয়। বিংশ শতাব্দির শুরুতে মুসলমানরা বঙ্গে সংখ্যায় সামান্য বেশি ছিল, কিন্তু সমাজে হিন্দু ভদ্রলোকদের প্রভাবই বেশি ছিল। কিন্তু এই রোয়েদাদে যেভাবে আইনসভার আসন বিন্যস্ত হয় তাতে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়। বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় মুসলমানদের জন্য শতকরা ৪৮.৪ ভাগ, হিন্দুদের জন্য ৩৯.২ ভাগ এবং ইউরোপীয়দের জন্য ১০ ভাগ আসন বরাদ্দ করা হয়। এভাবে মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মানসে এভাবে বাঙালি মুসলমানরা ধীরে ধীরে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। মুসলিম লিগে যদিও আবুল হাশিমের মতো উদারপন্থী নেতারা ছিলেন এবং যদিও পাকিস্তান আন্দোলনে বাঙালি মুসলমানরা বেশি মাত্রায় উচ্চকণ্ঠ ছিল, কিন্তু নানা ঘটনাচক্রে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব উর্দুভাষী ও কট্টর আশরাফ মুসলমানদের হাতে চলে যায়।
হিন্দুত্ববাদ
বাঙালি মুসলমানদের দিক থেকে ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে মুসলমানিত্বের দিকে অধিকমাত্রায় ঝুঁকে পড়ার জন্য তাদের এককভাবে দায়ী করা যাবেনা। হিন্দুত্ববাদের জোয়ারও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। কারণ হিন্দুদের দিক থেকে ভারতীয়ত্ব মানে হিন্দুত্ব ধরে নেয়া হতো। এমনকি বাঙালিত্বের ডিসকোর্সেও তারা মুসলমানদের ঠাঁই দিতে চায়নি। শ্রীকান্ত উপন্যাসে বাঙালি ও মুসলমানদের মধ্যকার ফুটবল-ম্যাচের কথা আগেই বলেছি। তবে ভারতীয়ত্ব ও হিন্দুত্বকে সমার্থক মনে করে যে ডিসকোর্স চালু হয়, পার্থ চ্যাটার্জির (১৯৮৬) মতে, তাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমূখের লেখালেখি ও কার্যক্রম তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়। ১৯২০, ১৯৩০ ও ১৯৪০ দশকের ঘটনাবলী তাই বাঙালি মুসলমানের কাছে মুসলমান পরিচয় বাঙালি পরিচয়ের চাইতে ওপরে স্থান পায়।
তাই বলা যায় ঊনবিংশ শতাব্দির ইসলামী সংস্কার আন্দোলন ও বিংশ শতাব্দির প্রথম পর্যায়ের রাজনৈতিক ঘটনাবলী পূর্ববঙ্গের মানুষের মানসপটে মুসলমানিত্বের অস্তিত্বটি স্থায়ী হয়ে যায়। তবে বিভাগপূর্ব সময়ে যদি বাঙালিত্বের ওপরে মুসলমানিত্ব প্রতিষ্ঠা লাভ করে, বিভাগপরবর্তী পাকিস্তান আমলে মুসলমানিত্বের ওপরে বাঙালিত্বের বিজয় ঘোষিত হয়।
অধুনা সেই সেই ইতিহাস সবারই জানা, সেই পরিসরে অনুপ্রবেশের আগে আমি এবার আলোকপাত করতে চাইবো লোকধর্মের ওপর, যা একসময় সমাজে সর্বসাধারণের ধর্ম ছিল, বাঙালিত্বের বৈশিষ্ট্য গঠনে যার প্রভাব ছিল, কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দির ইসলামী সংস্কারের কারণে যা প্রত্যন্ত সমাজে গৌন ধর্ম আকারে পশ্চাদাপসারণ করে।
[চলবে]
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আত্মপরিচয় ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাশেদ বলেছেন:
পরে পড়বো।
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন:
একসাথে ৪ পর্ব পইড়া মাথা ধাই ধাই করতাছে.... ৪থ পর্ব আবার পড়ন লাগবো... অনেক জিনিস কিলিয়ার হয়নাই
লেখক বলেছেন: বিরাট সময়কালের ইতিহাসকে অল্প পরিসরে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্যই বোধহয় কিছু বিষয় আনকিলিয়ার থেকে যাচ্ছে।
বন্ধনহীন বলেছেন:
মুসলিম লীগের জন্মের জন্য কিছুটা কংগ্রেসের উচ্চবর্নে হিন্দুরাই দায়ী ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। মুসলিম উঠতি মধ্যবিত্তরা বা এলিটরা উচ্চবর্নে হিন্দুদের কারণে কংগ্রসে কোনঠাসা ছিল। তাই মুসলিম লীগ যতটুকু না সাধারণ মুসলিমদের রাজনৈতিক সংগঠন ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ঐসব মুসলিম নেতাদের নেতৃত্ব বজায় রাখার একটা ক্লাব। মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছে পূর্ববঙ্গে, যে সময় বঙ্গভঙ্গের জন্য পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের সমর্থন ব্রিটিশদের খুবই দরকার ছিল। ১৮৮০ - ৯০ এর দিকে শুরু হওয়া হিন্দু পুণর্জাগরন (যার একটা রাজনৈতিক দিক ছিল) মুসলিমদের মুল রাজনৈতিক স্রোত থেকে কিছুটা পৃথক করে ফেলে। এই ভুলটা আমাদের পূর্বপুরুষরা কিভাবে করলেন, ভেবে খুব অবাক হই।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রথম পর্যবেক্ষণটি ঠিকই আছে।
পুনর্জাগরণে মুসলমানদের অংশ না থাকার বেশ কয়েকটি কারণ আছে:
১. কলকাতায় গিয়ে পড়ার অর্থ কৃষক মুসলমানের ছিলনা।
২. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর মাধ্যমে গজিয়ে ওঠা হিন্দু জমিদারদের উদ্বৃত্ত অর্থ সন্তানদের ইংরেজি শিক্ষা লাভে ব্যয়িত হয়
৩. সাধারণভাবে হিন্দুদের চাইতে মুসলমানরা ব্রিটিশদের বেশি অবিশ্বাস করতো। কারণ তাদের কাছ থেকেই ব্রিটিশরা শাসন ছিনিয়ে নেয়। তাই ইংরেজি শিক্ষা থেকে তারা দূরেই ছিল।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
চারপর্বই পড়লাম।বাংলাদেশের মানুষদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক(হালখাতা) কর্মকান্ডে বাংগালীত্বের ঐতিহ্য স্বীকার করেও আধুনিক বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় বাংগালীর পরিবর্তে বাংলাদেশি হিসেবেই চিহ্নিত হওয়া উচিত বলে মনে করি।দুটো পরিচয়ই হয়তো বা পাশাপাশি চলতে পারে।তবে আত্মপরিচয়ের অথবা সেল্ফ আইডেনটিটি হিসাবে আমার কাছে বাংগালীর চেয়ে বাংলাদেশি অনেক বেশি ভ্যালিড মনে হয়।এথনিসিটির চেয়ে রাষ্ট্রের পরিচয়ে আধুনিক মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয়।
ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারলাম না হয়তোবা।তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহে বাংগালি হিসেবে পরিচিত হওয়ার আকাংখা এক ধরণের আত্মবিশ্বাসহীনতার পরিচায়ক।
অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
আপাতত পরের পর্বের অপেক্ষায়।ভবিষ্যতে নিজের আইডেনটিটী সংকট নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।
লেখক বলেছেন: বিদেশে বাংলাদেশী পরিচয়টাই সুবিধাজনক। জাতিগত বাঙালি পরিচয় বিদেশীরা না বোঝার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ ঐ নামে কোনো দেশই নেই। আর আমাদের মতো অনাকর্ষণীয় দেশের ইতিহাস ওদের না জানারই কথা।
তবে এরপরও আমাদের জাতিগত পরিচয়টা তো আর মুছে যাচ্ছেনা।
কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে এর অবশ্যই গুরুত্ব আছে, কিংবা একাডেমিক আলোচনায়। আর কেউ যদি হঠাৎ করে বলে বসেন আমরা বাঙালি না বাংলাদেশী, তখন ভুল সংজ্ঞায়ন হয়।
লেখক বলেছেন: স্যরি কষ্ট দিচ্ছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তপনদা।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ওভার অল, বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার বিস্তারকে আমার কাছে লম্বা সময় ধরে গভীর বৃটিশ ষড়যন্ত্রের একটা খেলা বলেই মনে হয়।বঙ্গভঙ্গ ও ঢাবির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম অনেক আগে। যদি পড়েন তবে ভাল লাগবে।
বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আনন্দ নিয়ে আপনার এই সিরিজটি পড়ছি ।
সবগুলো পর্ব শেষ হলে একত্রে দিবেন, সংগ্রহের সুবিধার্থে ।
লেখক বলেছেন: তা দেয়া যাবে।
রাজর্ষী বলেছেন:
লোকধর্মের ব্যাপারটার জন্য অপেক্ষা করছি।এই আলোচনায় লেখক এখনো বাংগালী, বাংলাদেশী দ্বন্দে আসেননি, ঐটা আরো পরের ব্যাপার@আহসান হাবিব শিমুল
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
@রাজর্ষী,আমি জানি।উনার প্রথমপর্বেই লেখাই আমি যদি ভুল পরে না থাকি বাংগালীত্ব,লোকসংস্কৃতি এবং ইসলাম এই তিন মাঝের আধুনিক বাংলাদেশের মানুষ পরিচয় খোজার চেষ্টা আছে।
আমি প্রশ্নটা সেখানেই।আধুনিক বাংলাদেশের মানুষের জীবনে বাংগালী ঐতিহ্যের অবদান আমি স্বীকার করি।তবে সেটা স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় নির্ধারনে ভুমিকা রাখার মত পজিশনে আছে কিনা? আমি দ্বিধাটা সেখানেই।
আমি প্রশ্নটা পরিস্কার করতে পারিনি হয়তোবা।পরে লিখা যাবে।
বন্ধনহীন বলেছেন:
ফাহমিদুল হক ভাই, আমাদের পূর্বপুরুষ বলতে আমি মুসলিম পূর্বপুরুষের কথা বুঝাই নি। ঐ সময়ে আমাদের সমাজের বিবেক বলতে যাদের (বঙ্কিমচন্দ্র প্রমুখ) বুঝাতো, তাদের কথা বলতে চেয়েছি। তারা কিভাবে সমাজের ৫০% ভাগ মানুষের কথা ভুলে গেলেন, তা ভেবে আমি অবাক হয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমরা পশ্চাদপদ হয়ে পড়েছিল, তাই তারা পুণর্জাগরনে অংশ নিতে পারেনি। এর জন্য একটি শক্তিশালি মধ্যবিত্ত শ্রেনীর দরকার হয়।
লেখক বলেছেন: ও ঠিকাছে।
এ হলো এলিটত্বের সংকীর্ণতা। ক্ষমতা ও জ্ঞানের (জ্ঞানও ক্ষমতা, ফুকো যেমন বলেন) হর্তাকর্তা ক্ষমতাহীনদের স্বার্থকে আমলে আনেনা। আর মুসলমান বহিরাগত এত চেষ্টা করলো স্থানীয় হবার (সুলতানদের ভূমিকা স্মর্তব্য), কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে ভারতবর্ষকে তাদেরই ভূমি, মুসলমানদের নয় -- এরকম ভাবার একটা প্রবণতা ছিল। হিন্দুত্ব ও ভারতীয়ত্ব সমার্থক -- এই ধারণা একারণেই এসেছে। ফুটবল ম্যাচ তাই অনুষ্ঠিত হয় 'বাঙালি' ও 'মুসলমান'দের মধ্যে।
রাশেদ বলেছেন:
পড়লাম।
লেখক বলেছেন: পড়ার পাশাপাশি কিছু কইলে আরও ভালো লাগতো।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আপনার লেখার বৈশ্লেষনধর্মী বৈশিষ্ঠ টা পড়তে আকর্ষন করে। কমেন্ট করতে পারছি না, তবে পড়েছি।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















