বিশাল পোষ্ট, পড়ে কারো মাথা ধরলে আমি দায়ী থাকব না
------------------
ব্লগে নাস্তিকদের পোষ্টগুলো দেখে যা মনে হয় এইসব নাস্তিক রা নিজেদের নাস্তিকতাকে একটা স্মার্টনেস ভাবে। কে কি ভাবে তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, কিন্তু মজার বিষয় দেখলাম যে এইসব নাস্তিকরা নিজেদের "লজিকাল" ভাবে। শুনে হাসব নাকি কাদব তা বুঝতে পারলাম না.. আরো হাসির বিষয় হল এরা বলে যে "বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়"। তাই নাস্তিকদের কাছে আমি কেন আস্তিক এই নিয়ে কিছু যুক্তি দেখাব। তবে আমার মনে হয় বরাবর এর মতই এরা কমেন্টে যুক্তি দিয়ে অযৌক্তিক কথা বলবে
আমি কেন সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি? এই কথায় যাওয়ার আগে "সৃষ্টি" নিয়ে কিছু কথা বলি।
অনেকেই মনে করেন মানুষ তার মেধা দিয়ে সবকিছুকেই জয় করতে পারে। প্রকৃতির ওপর অনেক আগেই আমরা তথাকথিত নিয়ন্ত্রণ এনেছি, তাই প্রকৃতির অংশ গুলো নিয়ে অনেকেই (বিশেষ করে নাস্তিকরো) চিন্তা করেন না।
আজকের মানব জাতি যা কিছু আবিষ্কার করেছে তার সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোয়া এবং সেই সব আবিষ্কারের অনেক কিছুই এমন যে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়। যেমন? কিছু উদাহরণ দেই। সবাই ব্যবহার করে- পেন ড্রাইভ (ফ্ল্যাশ মেমেরি) বা মেমরি কার্ড। ডাটা রাখার জন্য আশ্চর্য এক আবিষ্কার। মোটামুটি একটা মেমরি চিপের একটা সেল এর আয়তন হল 0.025 X 0.03 ঘন- মাইক্রোমিটার। এই অবস্থায় ১১৬.মেগাবাইট মেমরি রাখার জন্য আপনার দরকার হবে ৭৩৩০০০ ঘন-মাইক্রোমিটার জায়গা। কেন আমি ১১৬.৫ মে.বাইট বললাম তা বলছি একটু পরে।
এবার আসি স্রষ্টার কিছু সৃষ্টিতে। খুবই "সাধারণ" একটা উদ্ভিদ ধান নিয়েই চিন্তা করে দেখি। আমরা জানি যে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জীবদেহের প্রতিটি কোষে SAVE করা আছে। কোষের কোথায়? কোষের ভেতর নিউক্লিয়াস এ। নিউক্লিয়াসের ভেতর ক্রোমোজোমে এবং তার ভেতর ডি.এন.এ তে। জীবের বংশবৃধ্ধির সময় এই জীনের অনুলিপি (পরিবর্তিত হয়ে) নতুন প্রজন্মে সন্চারিত হয়।
তার মানে নতুন প্রজন্মের জন্ম দেবার সময় বাবা-মা (গাছ হোক আর প্রাণী-ই হোক) তার DATA এই ডি.এন.এ এর মাধ্যমে সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত করে।
এইবার এই ডি.এন.এ এর একটু অ্যানালাইসিস করি!
তার মানে আপনার তৈরি করা প্রযুক্তির চেয়ে প্রকৃতির স্রষ্টি "ধান গাছ" ১১ হাজার গুণ জটিল (Compact)।
আর মানুষের নিউক্লিয়াসে রাখা যাবে ১.৬৬ গিগাবাইটা ডাটা যার মানে মানুষের নিউক্লিয়াস পেন-ড্রাইভ থেকে ১১ লাখ গুণ Compact।
মেমরি কার্ড আপনার-আমার প্রযুক্তি। আর ডি.এন.এ ? মানুষ পেরেছে ডি.এন.এ তৈরি করতে? পারে নাই। সেই প্রযুক্তির ধারে কাছে যেতে মানুষের আরো কত শতাব্দি লাগবে তা সময়ই বলে দেবে, আর ততদিনে প্রকৃতির আরো কি প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা জানবো আল্লাহ জানে! আমরা কিন্তু কয়েক বছর আগেও ডি.এন.এ নিয়ে এত কিছু জানতাম না, এবং ভবিষ্যতে আরো অনেক চমকপ্রদ তথ্য হয়ত জানব।
এইবার নাস্তিকেরা বলেন, কোন স্রষ্টাই যদি না থাকে, তাহলে এই ডি.এন.এ কোথা থেকে আসল? মানুষ তৈরি করেছে? না। পারবেও না। তাহলে?
স্রষ্টা কোথায় থাকে? তাকে দেখিনা কেন?
একটু সিম্পলি চিন্তা করে দেখেন। আমরা যা দেখি আসলেই কি তাই থাকে? রাতের আকাশে তাকিয়ে আমরা তারা দেখি। আসলে কি দেখি? যেই তারা (নক্ষত্র) আমরা দেখছি তা আজ থেকে (১-১ মিলিয়ন) বছর আগের আকাশের ছবি। সেই তারা আজ থেকে (১-১মিলিয়ন) বছর আগে যে আলো বিকিরণ করে গেছে তা আমরা এখন দেখি! আর তারা এখন যে আলো দিচ্ছে তা আপনি/আপনার বংশধর দেখবে আজ থেকে ১-১মিলিয়ন বছর পরে। এই মহাবিশ্ব নিজে থেকেই তৈরি হয়েছে? মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে এটা তো সবাই জানেন। আর এখন পর্যনত "আমরা" মহাবিশ্বের যতটুকু "দেখতে" পাই সেই সীমানা থেকে আলো পৃথিবী তে আসতে সময় লাগে ৯৩ বিলিয়ন বছর। আর আলো এক বছরে 10 trillion km অতিক্রম করে
এই মহাবিশ্বের প্রতিটা ছায়াপথ, নীহারিকা, নেবুলা যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি কি এই মহাবিশ্বের মধ্যেই আছেন? আমাদের জ্ঞান দিয়ে কি তার অস্তিত্ব/ক্ষমতা বুঝা সম্ভব?
না। Creator created all these from nothing (Big Bang). Creator is not within His creation.
মেমরি কার্ড যে তৈরি করে সে আপনাকে ম্যানুয়াল দেয়। স্রষ্টাও আপনাকে ম্যানুয়াল দেবেন কিভাবে চলতে হবে। এই জন্য তিনি Prophet পাঠান এবং ধর্মগ্রনথ (Holly Books) পাঠান, যাতে আমরা সেগুলো পড়ে শিখতে পারি। পবিত্র কুরআন এ আল্লাহ তা'আলা বলেন, এমন কোন জাতি নেই যেখানে তিনি Prophet পাঠান নি।
আপনি যার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনেন সে আপনাকে আপডেট দেয়। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্রষ্টাও তার বিধান আপডেট করেন। আর সবচেটে আপ-ডেটেড, পরিপূর্ণ ধর্ম হল ইসলাম।
মেমরি চিপ, এবং এরকম সব কিছু মানুষের "আবিষ্কার"। সৃষ্টি না। মানুষ কি সিলিকন তৈরি করেছে? না। সে শুধু তার মেধা দিয়ে সৃষ্টি কে Modify করে। শক্তি কে পরিবর্তন, রূপান্তর করা যায়, কিন্তু নতুন শক্তি সৃষ্টি করা যায় না, তা সাইন্স ও মেনে নিয়েছে ।তাহলে এই সৃষ্টি গুলোকি আপনা থেকেই আসল? এখন আপনি (নাস্তিকেরা) কি যুক্তি দেখাবেন?
আমার লেখাগুলো পড়ে নাস্তিকেরা সব ভালো হয়ে যাবে, এই ভেবে আমি এইসব লিখি নাই। তাদের "বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়" এই ধারণার জবাবে কিছু লিখলাম, কিছু যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করলাম। আপনি(নাস্তিক) মৃত্যুকে কিভাবে যুক্তি দিয়ে দেখাবেন? মৃত্যুই কি সব? NDE: clinically dead then comes back to life
Coma: clinically alive but has no consciousness for long time.
So scientifically we don't understand death! আপনার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্জান ও হার মেনেছে মৃত্যুর কাছে। সায়েন্সের লিমিটেশন আছে। যুক্তি দিয়ে সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না।
* এই লেখার অনেক Concept আমি আমার একজন প্রিয় স্যার এর লেকচার থেকেই নিয়েছি। আপনারা কেউ স্লাইড টি দেখতে আগ্রহী হলে আমি শেয়ার করতে পারি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



