somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন আমি বিশ্বাস করি (১)

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশাল পোষ্ট, পড়ে কারো মাথা ধরলে আমি দায়ী থাকব না :D স্রষ্টার ওপর সবাই বিশ্বাস করে, আর আমিও করি, এটাই স্বাভাবিক। যারা সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস করে না তারা নিজেদের বেশ গর্ব করেই নাস্তিক বলে পরিচয় দেয়। সেই সব নাস্তিকদের অনেকেই এটাকে আলাদা একটা স্মার্টনেস ভাবে, তাদের হাব ভাব এ এটাই মনে হয়। যাই হোক নাস্তিক এবং আস্তিক সবাই এই লেখাটায় আমন্ত্রিত। :)
------------------
ব্লগে নাস্তিকদের পোষ্টগুলো দেখে যা মনে হয় এইসব নাস্তিক রা নিজেদের নাস্তিকতাকে একটা স্মার্টনেস ভাবে। কে কি ভাবে তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, কিন্তু মজার বিষয় দেখলাম যে এইসব নাস্তিকরা নিজেদের "লজিকাল" ভাবে। শুনে হাসব নাকি কাদব তা বুঝতে পারলাম না.. আরো হাসির বিষয় হল এরা বলে যে "বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়"। তাই নাস্তিকদের কাছে আমি কেন আস্তিক এই নিয়ে কিছু যুক্তি দেখাব। তবে আমার মনে হয় বরাবর এর মতই এরা কমেন্টে যুক্তি দিয়ে অযৌক্তিক কথা বলবে :)

আমি কেন সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি? এই কথায় যাওয়ার আগে "সৃষ্টি" নিয়ে কিছু কথা বলি।

অনেকেই মনে করেন মানুষ তার মেধা দিয়ে সবকিছুকেই জয় করতে পারে। প্রকৃতির ওপর অনেক আগেই আমরা তথাকথিত নিয়ন্ত্রণ এনেছি, তাই প্রকৃতির অংশ গুলো নিয়ে অনেকেই (বিশেষ করে নাস্তিকরো) চিন্তা করেন না।

আজকের মানব জাতি যা কিছু আবিষ্কার করেছে তার সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোয়া এবং সেই সব আবিষ্কারের অনেক কিছুই এমন যে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়। যেমন? কিছু উদাহরণ দেই। সবাই ব্যবহার করে- পেন ড্রাইভ (ফ্ল্যাশ মেমেরি) বা মেমরি কার্ড। ডাটা রাখার জন্য আশ্চর্য এক আবিষ্কার। মোটামুটি একটা মেমরি চিপের একটা সেল এর আয়তন হল 0.025 X 0.03 ঘন- মাইক্রোমিটার। এই অবস্থায় ১১৬.মেগাবাইট মেমরি রাখার জন্য আপনার দরকার হবে ৭৩৩০০০ ঘন-মাইক্রোমিটার জায়গা। কেন আমি ১১৬.৫ মে.বাইট বললাম তা বলছি একটু পরে।

এবার আসি স্রষ্টার কিছু সৃষ্টিতে। খুবই "সাধারণ" একটা উদ্ভিদ ধান নিয়েই চিন্তা করে দেখি। আমরা জানি যে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জীবদেহের প্রতিটি কোষে SAVE করা আছে। কোষের কোথায়? কোষের ভেতর নিউক্লিয়াস এ। নিউক্লিয়াসের ভেতর ক্রোমোজোমে এবং তার ভেতর ডি.এন.এ তে। জীবের বংশবৃধ্ধির সময় এই জীনের অনুলিপি (পরিবর্তিত হয়ে) নতুন প্রজন্মে সন্চারিত হয়।

তার মানে নতুন প্রজন্মের জন্ম দেবার সময় বাবা-মা (গাছ হোক আর প্রাণী-ই হোক) তার DATA এই ডি.এন.এ এর মাধ্যমে সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত করে।

এইবার এই ডি.এন.এ এর একটু অ্যানালাইসিস করি! :| ডি.এন.এ তে চার রকম নাইট্রোজেন বেস এর বিন্যাস দিয়ে এই "DATA" "লিখা" হয়। ধানের জীনে ৪৬৬ মিলিয়ন নাইট্রোজেন বেস আছে। আপনি যদি এই বেস নিয়ে অ্যানালাইসিস করেন তাহলে দেখবেন ১ মিলিয়ন বেস এ রাখা তথ্য ০.২৫ মে.বাইট এর সমান। তার মানে ৪৬৬ * ০.২৫ = ১৬৬.৫ মেগাবাইট ডাটা থাকতে পারে ধানের নিউক্লিয়াস এ. আর এই নিউক্লিয়াস এর সাইজ কত? মাত্র ৬৫.৪৫ মাইক্রোমিটার। যেখানে মানুষের "তৈরি" মেমরি কার্ডের আয়তন ৭৩৩০০০ ঘনমিটার।

তার মানে আপনার তৈরি করা প্রযুক্তির চেয়ে প্রকৃতির স্রষ্টি "ধান গাছ" ১১ হাজার গুণ জটিল (Compact)।

আর মানুষের নিউক্লিয়াসে রাখা যাবে ১.৬৬ গিগাবাইটা ডাটা যার মানে মানুষের নিউক্লিয়াস পেন-ড্রাইভ থেকে ১১ লাখ গুণ Compact। B-)

মেমরি কার্ড আপনার-আমার প্রযুক্তি। আর ডি.এন.এ ? মানুষ পেরেছে ডি.এন.এ তৈরি করতে? পারে নাই। সেই প্রযুক্তির ধারে কাছে যেতে মানুষের আরো কত শতাব্দি লাগবে তা সময়ই বলে দেবে, আর ততদিনে প্রকৃতির আরো কি প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা জানবো আল্লাহ জানে! আমরা কিন্তু কয়েক বছর আগেও ডি.এন.এ নিয়ে এত কিছু জানতাম না, এবং ভবিষ্যতে আরো অনেক চমকপ্রদ তথ্য হয়ত জানব।

এইবার নাস্তিকেরা বলেন, কোন স্রষ্টাই যদি না থাকে, তাহলে এই ডি.এন.এ কোথা থেকে আসল? মানুষ তৈরি করেছে? না। পারবেও না। তাহলে?

স্রষ্টা কোথায় থাকে? তাকে দেখিনা কেন?

একটু সিম্পলি চিন্তা করে দেখেন। আমরা যা দেখি আসলেই কি তাই থাকে? রাতের আকাশে তাকিয়ে আমরা তারা দেখি। আসলে কি দেখি? যেই তারা (নক্ষত্র) আমরা দেখছি তা আজ থেকে (১-১ মিলিয়ন) বছর আগের আকাশের ছবি। সেই তারা আজ থেকে (১-১মিলিয়ন) বছর আগে যে আলো বিকিরণ করে গেছে তা আমরা এখন দেখি! আর তারা এখন যে আলো দিচ্ছে তা আপনি/আপনার বংশধর দেখবে আজ থেকে ১-১মিলিয়ন বছর পরে। এই মহাবিশ্ব নিজে থেকেই তৈরি হয়েছে? মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে এটা তো সবাই জানেন। আর এখন পর্যনত "আমরা" মহাবিশ্বের যতটুকু "দেখতে" পাই সেই সীমানা থেকে আলো পৃথিবী তে আসতে সময় লাগে ৯৩ বিলিয়ন বছর। আর আলো এক বছরে 10 trillion km অতিক্রম করে :| এবার গুণ দিয়ে দেখেন "দৃশ্যমান" মহাবিশ্ব কত বড়, আর অদ্শ্যমান অংশ তো আছেই।

এই মহাবিশ্বের প্রতিটা ছায়াপথ, নীহারিকা, নেবুলা যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি কি এই মহাবিশ্বের মধ্যেই আছেন? আমাদের জ্ঞান দিয়ে কি তার অস্তিত্ব/ক্ষমতা বুঝা সম্ভব?

না। Creator created all these from nothing (Big Bang). Creator is not within His creation.

মেমরি কার্ড যে তৈরি করে সে আপনাকে ম্যানুয়াল দেয়। স্রষ্টাও আপনাকে ম্যানুয়াল দেবেন কিভাবে চলতে হবে। এই জন্য তিনি Prophet পাঠান এবং ধর্মগ্রনথ (Holly Books) পাঠান, যাতে আমরা সেগুলো পড়ে শিখতে পারি। পবিত্র কুরআন এ আল্লাহ তা'আলা বলেন, এমন কোন জাতি নেই যেখানে তিনি Prophet পাঠান নি।

আপনি যার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনেন সে আপনাকে আপডেট দেয়। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্রষ্টাও তার বিধান আপডেট করেন। আর সবচেটে আপ-ডেটেড, পরিপূর্ণ ধর্ম হল ইসলাম।

মেমরি চিপ, এবং এরকম সব কিছু মানুষের "আবিষ্কার"। সৃষ্টি না। মানুষ কি সিলিকন তৈরি করেছে? না। সে শুধু তার মেধা দিয়ে সৃষ্টি কে Modify করে। শক্তি কে পরিবর্তন, রূপান্তর করা যায়, কিন্তু নতুন শক্তি সৃষ্টি করা যায় না, তা সাইন্স ও মেনে নিয়েছে ।তাহলে এই সৃষ্টি গুলোকি আপনা থেকেই আসল? এখন আপনি (নাস্তিকেরা) কি যুক্তি দেখাবেন?

আমার লেখাগুলো পড়ে নাস্তিকেরা সব ভালো হয়ে যাবে, এই ভেবে আমি এইসব লিখি নাই। তাদের "বিশ্বাসের চেয়ে যুক্তি বড়" এই ধারণার জবাবে কিছু লিখলাম, কিছু যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করলাম। আপনি(নাস্তিক) মৃত্যুকে কিভাবে যুক্তি দিয়ে দেখাবেন? মৃত্যুই কি সব? NDE: clinically dead then comes back to life
Coma: clinically alive but has no consciousness for long time.
So scientifically we don't understand death! আপনার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্জান ও হার মেনেছে মৃত্যুর কাছে। সায়েন্সের লিমিটেশন আছে। যুক্তি দিয়ে সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না।

* এই লেখার অনেক Concept আমি আমার একজন প্রিয় স্যার এর লেকচার থেকেই নিয়েছি। আপনারা কেউ স্লাইড টি দেখতে আগ্রহী হলে আমি শেয়ার করতে পারি।
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×