আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

বৈশ্বিক খাদ্যসংকট: ভুখা বাঙালির ভাতের কষ্ট বনাম শতাব্দীর বৃহত্তম জোচ্চুরির ইতিহাস
০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৩৬
আজকের পৃথিবীর প্রধানতম স্বপ্নটি কী? অনেকেই অনেক কথা বলব। বলব দারিদ্র্যমুক্তি, ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো, যুদ্ধের অবসান প্রভৃতি। এগুলো মানবজাতির বিরাট স্বপ্ন। কিন্তু দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে, দারা-পুত্র-পরিবার এবং স্ত্রী-কন্যাদি নিয়ে জানাচ্ছে সেই আদিম প্রয়োজনের কথা, যার নাম 'খাদ্য'। হ্যাঁ, অফুরান খাবারই আজকের পৃথিবীর প্রধান স্বপ্ন; এবং আমাদের বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষও এই বাসনাই দিনরাত জপ করে। আজকের পৃথিবীর প্রধানতম সাফল্যও এই যে সেই স্বপ্নপূরণের সামর্থ্য মানবজাতি অর্জন করেছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ফাও) এলান করেছে: ২০০৭ সালে বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ শস্য ফলেছে, বর্তমান চাহিদার দেড় গুণ বেশি। বাস্তবে ২০ বছর ধরে খাদ্য উৎপাদন টানা দুই শতাংশ হারে বাড়ছে। বাংলাদেশও এ সাফল্য থেকে পিছিয়ে নেই। ড. সাদত হুসাইন লিখেছেন, স্বাধীনতার সময় যেখানে সাড়ে সাত কোটি মানুষের দেশে খাদ্য উৎপাদিত হতো এক কোটি টন, সেখানে এখন ১৪ কোটি মানুষের দেশে খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে তিন কোটি টন (খোলা কলম, প্রথম আলো, ৬ জুন)। অর্থাত জনসংখ্যা দ্বিগুণ বাড়লেও খাদ্য উতপাদন বেড়েছে তিন গুণ। তার মানে, চাহিদার চেয়ে খাদ্যের জোগান বেশিই তো হওয়ার কথা। এর চেয়ে বড় সুসংবাদ ‘ভুখা বাঙালি’র জন্য আর কী হতে পারে!
এতে ম্যালথাসের তত্ত্ব আবারও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য উতপাদন একটানা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পেরিয়ে যাচ্ছে। এই ২০০৭ সালেই বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল খাদ্যের দুই শতাংশ ফলনবৃদ্ধির তুলনায় কিঞ্চিত কম: ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
এখান থেকেই জন্মায় দ্বিতীয় প্রশ্নটি: তাহলে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা ফাওই কেন বলছে, বিশ্বের ৮৫ কোটি মানুষ অপুষ্টির শিকার? কেন খাদ্যের অভাব, এমনকি বাজারের তাপে মায়ের পেটের মধ্যে শিশুও জন্মাতে ভয় পাচ্ছে? এর একটা উত্তর হলো, ক্ষুধার্তকেই গালি দেওয়া যে তুমি ক্ষুধার্ত কেন, চারদিকে এত খাবার! কিংবা উত্তরটি এই যে খাদ্য আছে দোকানে, গুদামে, খাদ্যবেচা কোম্পানির কবজায়; কিন্তু মানুষের তা কেনার সামর্থ্য নেই। অর্থাত কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। আকাশে রোজ চাঁদ দেখি বলেই কি আর চাঁদ সহজলভ্য নাকি!
সাধারণ মানুষ দরকারমতো খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে। শুক্রবারের প্রথম আলোর শিরোনাম হয়েছে গবেষণা সংস্থা সিপিডির একটি জরিপ। তা বলছে, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ১৫ মাসে গরিব মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। ওদিকে একজন পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম আয় সাব্যস্ত হয়েছে কমপে এক হাজার ৬৬২ টাকা পাঁচ পয়সা। আয় কমার ফলে, ওই প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সেটা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫২ টাকা। এই টাকায় তাকে পরিবার নিয়ে বাঁচতে হয়! ভাগ্যিস, তারা জাদু জানে! তা না হলে কীভাবে তা সম্ভব!
এবং এ অবস্থায়ও খাদ্যপণ্যের, বিশেষত চালের দাম কমেনি। এত দিন বলা হচ্ছিল, উতপাদন কম হওয়া এবং জৈব জ্বালানি তৈরিতে শস্য চলে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। এটা বাজারের যুক্তি। এ যুক্তির সারমর্ম হচ্ছে, জোগানের চেয়ে চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে এবং চাহিদার চেয়ে জোগান বাড়লে দাম কমবে। কিন্তু যখন জোগানও বেশি, দামও বেশি, তার ব্যাখ্যা কী? এও বলা দরকার যে আন্তর্জাতিক চালের বাজারে বিকিকিনি হয় বিশ্বের মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ। তাহলে এই ১০ শতাংশের সরবরাহে গড়বড় হলেই চালের আস্ত বাজারটিই বেসামাল হয়ে পড়বে কেন? মুক্তবাজারের নীতির মধ্যে এমনটা ঘটে কোন জাদুবলে? জিজ্ঞাসি জনে জনে; মেলে না উত্তর।
সুতরাং খাদ্যসংকট নিছক চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য টলে যাওয়ার জন্য হচ্ছে না; হচ্ছে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে। বিশ্বের ৮৫ কোটি অপুষ্ট মানুষের আয়ু কমে যাওয়া এবং ুধায় দৈনিক ১৮ হাজার শিশুর মরে যাওয়া যদি রাজনৈতিক সমস্যা না হয়, তাহলে রাজনীতির কাজ কী, তা নিয়ে ভাবতে বসতে হবে। আর ভাবলে আন্তর্জাতিক মজুদদারি, ফটকাবাজি, অল্প কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির বিশ্বের খাদ্য ও কৃষিবাণিজ্যে একচেটিয়া প্রাধান্য কায়েম হওয়ার দিকে চোখ পড়বে। বহুজাতিক মার্কিন কোম্পানি কারগিল ও মাসেকাকে দায়ী করা হচ্ছে খাদ্যসংকটের জন্য। এমনকি এমন অভিযোগও জোরের সঙ্গে উঠছে যে তেলের দামের ৬০ শতাংশই বেড়েছে কয়েকটি অর্থকরী সংস্থার অসাধু কার্যকলাপের জন্য। তেলের চাহিদা বাড়ার যে গল্পটি শোনানো হয়, তা খারিজ করে দিয়ে জে পি মরগ্যান ফান্ডের ডেভিড কেলি ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমার কাছে একটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে যে বিশ্বে তেলের ব্যবহার ও চাহিদা তত জোরালোভাবে বাড়েনি।’ অতএব খাদ্য দেখলাম, তেল চাখলাম। কাজেই, ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। বাজারে ঢুকে পড়েছে কিছু অদৃশ্য হাত। আর তাদের হাতে বন্দী আমাদের খাওয়া (খাদ্য) ও চলার (তেল) রসদ।
তৃতীয় প্রশ্নটি তখনই সামনে চলে আসে: বৈশ্বিক কৃষিবাণিজ্যের নিয়ন্তা কোম্পানিগুলো কেন বৈশ্বিক ক্ষুধা মেটাতে ব্যর্থ? উত্তরটি সরল: ওটা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা গড়ে উঠেছে মুনাফার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমাদের মতো দেশে, একদা যেখানে কম হলেও দেশের সব রকম খাদ্যের চাহিদা তথা চাল থেকে আনাজ, তেল থেকে লবণ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হতো এবং এখনো প্রধান খাদ্য চালের ৯০-৯৫ শতাংশ স্থানীয় কৃষকেরাই উতপাদন করে থাকে, তাদের এত ভয়ের কী আছে? তবু ভয়ের আলামত মিলছে। দুই দশক ধরে কাঠামোগত সংস্কার, দেশের বাজারকে বিদেশি পণ্যের জন্য অবাধ করে দেওয়া এবং কৃষিতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ক্রমশ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশও মেক্সিকো, আফ্রিকার দেশ মালাবি কিংবা ফিলিপাইনের মতো খাদ্য-আমদানির দেশে পরিণত হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ তিনটি দেশই দুই দশক আগে খাদ্যে সচ্ছল ছিল। স্বৈরশাসক মার্কোসের অপশাসনের ভেতরও ফিলিপাইন তো বিরাট খাদ্যমজুদও গড়ে তুলেছিল। এখন মেক্সিকোর খাদ্যচাহিদা ও খাদ্যের দামের ওঠানামা পরিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ফিলিপাইন ও মালাবিকেও বিদেশ থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খেতে হয়।
এসবই আশির দশক থেকে চালু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সরাসরি হস্তেক্ষেপে কৃষিতে রাষ্ট্রের অনুদান ও সহায়তা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর বদলে কৃষিকে করা হয় রপ্তানিমুখী। কৃষি থেকে তহবিল সরিয়ে সেই টাকা ঢালা হয় বিদেশি ঋণের সুদ মেটাতে। (উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে প্রধানত রপ্তানীমুখী করা হয় মূলত এ কারণেই, আমাদের দেশে যেমন ধানী জমিগুলোতে জোর করে নোনা পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ কিংবা পাহাড়ের জমিতে রাবার বাগান করা ইত্যাদি এরই ধারাবাহিকতা) বিলোপ করা হয় বাজার নিয়ন্ত্রণকারী আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো। এই ধারা বাংলাদেশেও চলেছে। এসবের পর খোলাবাজার দিয়ে বাইরে থেকে ঢুকে পড়ে বিপুল ভর্তুকিপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক কৃষিপণ্য। স্থানীয় কৃষকেরা প্রতিযোগিতায় মার খেয়ে আবাদ থেকে উচ্ছেদ হয়। মার্কিন গবেষণা সংস্থা কার্নেগি এনডৌমেন্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, কেবল নাফটা চুক্তির ফলেই মেক্সিকোর ১৩ লাখ কৃষক কর্মচ্যুত হয়। এরা ভিড় জমায় শহুরে বস্তির অমানবিক পরিবেশে। ভারতেও একই ঘটনা। সেখানে সরকারি অবহেলার শিকার হয়ে গত এক দশকে দেড় লাখ কৃষক আÍহত্যা করেছে। অথচ খাদ্যসংকটের মুখে গত বছরও ভারত খাদ্য রপ্তানি করেছে। বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য যে ডলার প্রয়োজন, তার জন্য এটা পয়লা তরিকা। দ্বিতীয় পন্থা হলো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ কমিয়ে আনা। প্রভাবশালী দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষি খাতে সরকারি ব্যয় আগের অর্ধেকে এসে ঠেকেছে। পরিণামে একসময়কার খাদ্য-উদ্বৃত্ত দেশগুলো পরিণত হলো খাদ্যঘাটতির দেশে। ফিলিপাইন সরকারের এক কর্মকর্তার ভাষ্যে, বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কায়দাকানুনের মধ্যে পড়ে আমাদের ছোট উৎপাদকেরা একেবারে কোরবানি হয়ে গেছে। এর অন্য অর্থ, দেশটি তার খাদ্য-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ফেলল। খাদ্য নিরাপত্তা আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু খাদ্য-সার্বভৌমত্ব না এলে তা সম্ভব কি? কৃষক ও কষিকে শক্তিশালী না করে এটা অর্জনের আর আর কোনো উপায় নাই। Click This Link
আমরা জানি, শক্তির ক্ষয় হয় না; তা এক রূপ থেকে আরেক রূপে যায়। অর্থাৎ এর হাত থেকে ওর হাতে যায়। অনেক দেশ যদি খাদ্য-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে থাকে, তবে তা কার হাতে গিয়ে জমা হলো? জমা হলো ওই বিশ্বায়িত শিল্পায়িত কৃষিবাণিজ্য কোম্পানিগুলোর হাতে। সার্বভৌমত্বের প্রতিশব্দ হলো পরমুখিতা। এভাবে তারা পরমুখী হলো। অন্যদিকে প্রকৃত খামারিরা দিন দিন নাজুক হলো, খাদ্যের জন্য তাদেরও করজোড়ে দাঁড়াতে হলো বাজারঠাকুরের সমীপে। একসময় সেটাও তারা পেরে উঠল না। দেখা গেল যে একই দেশের বিশ্বায়িত এলাকায় খাদ্য-ঝলমল সমৃদ্ধি, অন্যদিকে গরিবি এলাকায় হানা দিল ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’। এ রকম একটি সময়েই কিনা কৃষি খাতে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন করে!http://www.globalresearch.ca/index.php?context=listByAuthor&authorFirst=Ian&authorName=Angus
শস্যবাণিজ্যে: আর্চার ড্যানেয়লস মিডল্যান্ড মুনাফা করে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার, এ অংক আগের বছরের ৫৫ শতাংশ বেশি। কারগিল মুনাফা করে ১.০৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের ৮৬ শতাংশ বেশি। বাঞ্জ করে ৮৬৭ মিলিয়ন ডলার, আগের বছরের ১৮৯ শতাংশ বেশি। বীজ ও কীটনাশক কোম্পানিগুলোর মধ্যে: মনসান্টো মুনাফা করে ২.২৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের ৫৪ শতাংশ। ডুপোঁ অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড নিউট্রিশন লাভ করে আগের বছরের ২১ শতাংশ বেশি। এ রকম হারে সারের ব্যবসা করে মোজাইক নামের কোম্পানি আগের বছরের ১২০০ শতাংশ বেশি মুনাফা বাড়াতে সম হয়। এ রকম ঘটনা রূপকথায়ই সম্ভব। কিন্তু এখন রূপকথাই বাস্তব, বাস্তব হলো এক অদ্ভুত রূপকথা।
সুতরাং এককথায় আজকের খাদ্যসংকট বর্তমান বাজারব্যবস্থার গভীর ত্র“টি এবং কিছু কোম্পানির লাগামছাড়া মুনাফার ফল। আর ঠিক যখন সংকটটা এল, তখন আমাদের কৃষক ও দরিদ্র ক্রেতারা দেখল, তাদের পাশে কেউই তেমন নেই। তিন দশকের অর্থনৈতিক সংস্কারে তারা দুর্বল ও রুগ্ণ। রাষ্ট্র বাজারে হস্তপে করবে না, বরং বিডিআরের মাধ্যমে নতুন ‘ন্যায্যমূল্যের’ দোকান খুলবে। কৃষক দেখল, ভালো ফলন হলেও উপযুক্ত দাম পাওয়ার ভাগ্য তাদের হবে না। মিল মালিকেরা সেখানে ভাগ বসাবে। আগের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও আর তার পাশে নেই। আর ক্রেতা দেখল, বাজারঠাকুরই এ যুগের সর্বেসর্বা মহেশ্বর। আজকের বিশ্ব রাজনীতির আধিপত্যশীল নিওলিবারেল ধারার কাজ হলো এই মহেশ্বরেরই সেবাইতগিরি করা। রাষ্ট্র এখন বিশ্বায়িত পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক ইউনিট, সরকার হলো কর্পোরেট স্বার্থের ম্যানেজার, তা বাংলাদেশই হোক আর ব্রিটেন-আমেরিকাই হোক।
তাই আজ যখন খাদ্যে প্রাচুর্য, তখনো কি তার ধারে-কাছে পৌঁছতে না পেরে কেবল তার দিকে চাহনি মেলে ক্ষুধায় ঢলে পড়ার ভয়ে সিটকে থাকতে হবে? ভবিষ্যতের ভয় এখনও দুঃসহ স্মৃতির মতো মনে জাগবে কেন?
পরিশিষ্ট: বিরাট এক খাদ্যাভাব তথা দুর্ভিরে পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন বিশ্বের অনেক ওয়াকিবহাল মানুষ। আর আমাদের স্মরণে আসছে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বলে কুখ্যাত ১৭৬৯-৭০ সালের বাংলার দুর্ভিরে করাল ছায়া। সেই দুর্ভিক্ষে বাংলায় প্রতি তিনজনের একজন মারা গিয়েছিল, দুই হাজার বছর পুরনো সেকালে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধিশালী শহর মুর্শিদাবাদ পরিণত হয়েছিল পোড়ো প্রেতপুরীতে। সেই আকালের বছরও সর্বোচ্চ পরিমাণ খাজনা আদায় করা হয়েছিল। এর সাক্ষি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তবিরোধী ইংরেজ লাট জন শোরের বিবরণও মনে আসছে। দুর্ভিরে ৪০ বছর পরও তিনি ভুলতে পারেননি সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এরই তাড়নায় লিখিত একটি কবিতায় তিনি বলছেন,
‘কেউ আর নেই,
মৃতের সঙ্গে মৃতপ্রায় মানুষও
আজ তাদের শিকার!’
জীবিত মানুষ তখন মৃত মানুষের মাংস ছিঁড়ে খাওয়া শুরু করেছিল। ওটা ভয়াবহতা কিন্তু কিছু স্বচ্ছল মানুষ যখন বাকি সবের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে শান-শওকত বাড়াতে থাকে, সেটা হয় উন্নয়ন। যাদের উন্নতি হচ্ছে উন্নয়নের স্লোগান তারাই বেশি দেয় আর মর্ত্যে বানায় শাদ্দাদের বেহেশত।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের চূড়ান্ত মুহূর্তের মাঠে মাঠে বিপুল ফসল ফলেছিল। লাখ লাখ ভুখা মানুষ ‘ফসল কাটার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে’। এই কাহিনীর বর্ণনাকারী উইলিয়াম হান্টার তাঁর বই পল্লী বাংলার ইতিহাসে লিখেছেন, ‘তাদের কাতর চোখের শেষ চাহনি সম্ভবত ঘন সন্নিবিষ্ট সবুজ ফসলে ঢাকা ক্ষেতর ওপরই নিবদ্ধ ছিল।’ আজ যখন খাদ্যে প্রাচুর্য, তখনো কি সেই প্রাচুর্যের দিকে চাহনি মেলেই ক্ষুধায় ঢলে পড়ার ভয়ে সিটকে থাকতে হবে? ভবিষ্যতের ভয় এখনই দুঃসহ স্মৃতির মতো মনে জাগছে কেন?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অক্ষর বলেছেন:
*****
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ মুকুল ও নাজমুল।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
"ক্ষুধার্তকেই গালি দেওয়া যে তুমি ক্ষুধার্ত কেন, চারদিকে এত খাবার! কিংবা উত্তরটি এই যে খাদ্য আছে দোকানে, গুদামে, খাদ্যবেচা কোম্পানির কবজায়; কিন্তু মানুষের তা কেনার সামর্থ্য নেই। অর্থাত কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। আকাশে রোজ চাঁদ দেখি বলেই কি আর চাঁদ সহজলভ্য নাকি!"কথা সেটিই। চাঁদ দেখলেই সেটাকে সহজলভ্য মনে করতে হবে! অতএব, তুমি বামন, বামনই থাকো, চাঁদের দিকে হাত বাড়িও না। তুমি ক্ষুধার্ত, ক্ষুধার্তই থাকো, খাদ্যের দিকে ভুলেও তাকিওনা।
অসাধারণ লেখা।
অভিনন্দন, ফারুক।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ কামাল ভাই। এই লেখাটি কিঞ্চিত মার্জিত রূপে ছাপা হয়েছে গতকালের প্রথম আলোর খোলা কলম পাতায়।আপনি কেমন আছেন?
েবহাগ বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন।
আফলাতুন বলেছেন:
এ+ দিলাম । ভাল লিখেছেন । this type of speculation and future market is usually used for currency , but now it is using for commodity. god knows , when the call(hunger) come
মাইনুল বলেছেন:
তেলের দামের সাথে সাথে উতপাদন খরচ ও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে খাদ্যের দাম ও বেড়ে যাচ্ছে। ঠিক ই বলেছেন, মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে খাবারের মুল্য তারা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। উন্নত দেশ গুলিতে আয়ের তুলনায় খাবারের দাম খুব ই কম। ফলে তাদের জন্য খাদ্য কোন সমস্যাই না। সমস্যা হয়েযায় বাংলাদেশের মত অনুন্নত দেশের মানুষের জন্য। এ ক্ষেত্রে মানুষের আয় বাড়াতে হলে, দুর্নীতি মুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ দিতে হবে। ফলে দেশ বিদেশের বিনিয়োগ কারীরার বাংলাদেশে কল কারখানা গড়ে তুলবে। ফলে মানুষের কর্মসংস্থান হবে ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। এক্ষেত্রে একটা ব্যাপারে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমের মুল্য সারা দুনিয়াতে সবচেয়ে সস্তা।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
কেবল বিনিয়োগ হলেই কি হয় ভাই, কী শর্তে কোন সেক্টরে হচ্ছে সেটাই মুখ্য। ধরেন দেশি কৃষককে উচ্ছেদ করে সেখানে কর্পোরেট কৃষি এল, সেটা ভাল হবে? কিংবা মোবাইলে এত বিনিয়োগ এল, দেশ পেল কয় টাকা? লাভের গুড় তো পিপড়ার দল খায়। জ্বালানী খাতে বিনিয়োগের নেট রেজাল্ট হলো জ্বালানী নিরাপত্তা ধ্বংস।
মাইনুল বলেছেন:
কর্পোরেট মানেই খারাপ না। এরা ব্যবসায়ি, এরা লাভের পিছনে ঘুরবে এটাই সাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে সরকারের কাজ কর্পোরেট রা যেন কোন অন্যায় সুযোগ নিতে না পারে। সরকারের পলিসির উপর ই এসব নির্ভর করছে। উন্নত দেশ গুলির সরকারের প্রধান আয় কর্পোরেট দের দেয়া ট্যাক্স। আর এই ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সরকার বিভিন্ন ভাতা যেমন বেকার ভাতা, হাউজিং ভাতা, শিশু প্রতিপালন ভাতা, পংগু ভাতা ইত্যাদি দেয়। কর্পোরেট কৃষি হলে তো ভালই হবে। এই যে এত আলু উতপাদন হচ্ছে অথচ কৃ্ষকরা সেগুলি রাখার জায়গ পাচ্ছে না , দাম পাচ্ছে না। অথচ পুজি থাকলে কিন্তু এই অতিরিক্ত কৃ্ষি ভিত্তিক শিল্প যেমন ধরুন চিপস কারখানা গড়ে তোলা যেত।
মোবাইল কোম্পানীগুলি থেকে কি সরকার ট্যাক্স নিচ্ছে না? আর মোবাইল বাংলাদেশের কি ব্যবসা বানিজ্য সহ সব ক্ষেত্রে কি সাহায্য করছে তা ভেবে দেখেছেন?
জালানী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের টেকনোলজী নাই, পুজি নাই। তাই আমরা বাধ্য বিদেশীদের উপর নির্ভর করতে। এক্ষেত্রে সরকারের কাজ হচ্ছে , খেয়াল রাখা চুক্তি গুলি যেন দেশের সার্থ রক্ষা করে এবং সচ্ছ হয়।
লেখক বলেছেন: আমি আসলে বলতে চাইছি, পণ্যায়িত অর্থনীতিতে কর্পোরেটের ভূমিকা নিয়ে। তার বিচারে কর্পোরেট কেবল খারাপই না ধ্বংসাত্মক। তবে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসাবে এদের সঙ্গে দরকষাকষি করে পাবলিকের স্বার্থ রক্ষা করা দরকার হয়। কিন্তু সরকার যখন কেনা গোলাম, মিডিয়া যখন খয়ের খাঁ তখন তা কীভাবে সম্ভব?
কর্পোরেট প্লাস বিদেশী বিনিয়োগের ওপর এই লেখার প্রসঙ্গ ধরে একটা বিতর্ক হয়েছিল এখানে, http://www.sachalayatan.com/faruk_wasif/15836
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই।
জানা বলেছেন:
অসাধারণ এই লেখাটি প্রথম আলোতে পড়ার পর আরেকবার এখানে পড়তে পেরে খুব ভাল লাগলো।
এমন একটি সুলেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ @ লেখক।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে। আমি অর্থনীতির ছাত্র নই, কিন্তু যখন দেখলাম বাজারের এতবড় জোচ্চুরি নিয়ে কোনো কথা নাই কারো, তখন এটা বোঝা এবং ব্যাখ্যা করাটা ফরজ মনে হলো। তাতে যদি কাজ হয়ে থাকে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এই পোড়ার দেশে স্বাধীন অর্থনীতিবিদ দই একজন ছাড়া আর নাই, বাকি সব চিড়িয়া কনসালটেন্ট।
তাপস বল বলেছেন:
আসলে সবাই সকল প্রশংসা করে ফেলেছে....লেখার প্রস্তাবনাগুলো যদি বাস্তবায়ন করা যেত....তাহলে দারুন হতো। গত মাসের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে চীনের থিংকট্যাংকগুলোর ভূমিকার কথা বলা হয়েছিলো..যে প্রতিটি বিষয়ে চীনের সরকার তাদের ২০০০ এরও বেশী সংস্থগুলোর চিন্তাভাবনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে....বাংলাদেশে এরকমটা হবে কবে...কে জানে? বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিপিডির মত সংস্থাগুলোর ভূমিকা বা প্রভাব কতটুকু সে বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো গবেষণা আছে কি? থাকলে একটু কষ্ট করে জানাবেন।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে মুগ্ধ। লাল সালাম। (প্যারার মাঝে একটু ফাঁক দিলে পড়তে সুবিধা হয়।)
আরেকটি কথা, কাজিপাড়া ফোরামে লেখা গল্পগুলো ৭২ ঘন্টা বাসী হলে এখানেও দিয়েন। বাসী লেখায় আমার আপত্তি নেই যদি তা সুপাঠ্য হয়। ওখানে কমেন্ট করার সমস্যা আছে আমার। এটা অনুরোধ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
যাক, বাসি লেখার সঙ্কোচ কাটিয়ে লেখা দিচ্ছি। ধন্যবাদ।
হরিণ বলেছেন:
খাদ্যের এই অসময়ের এই ভুখা বাঙালির সচেতন ব্লগারদের জন্য লেখাটি অসাধারণ ! অসাধারণ !!
হরিণ বলেছেন:
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আজিজুল পারভেজ বলেছেন:
আপনার এই লেখাটি একটি সাময়িকীতে ছাপতে চায় একজন। আপত্তি নাই তো। আপত্তি থাকলে দয়া করে জানাবেন। উনার ফোন নাম্বার ০১৯১১৭০২৯৬৭ । কিছু মনে করবেন না। আপনার যোগযোগ নাম্বার থাকলে আমরাই জানিয়ে দিতাম।
হাসান মইখল বলেছেন:
প্রথম আলোতে পড়িনি, এইখানে পড়লাম। রেড স্যালুট।
বাফড়া বলেছেন:
একটু পরে পড়ব মাথা ঠান্ডা করে... তাই প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম
রাগ ইমন বলেছেন:
সাহসী এবং সত্যসন্ধানী লেখা । একটা বিনীত অনুরোধ , লেখার আলোচনাটাকে আরেকটু এগোন । অনেক বেশি আলোচনা হওয়া দরকার এসব নিয়ে । অর্থনীতি কিংবা রাজনীতি কোনটাই খুব বেশি খবর রাখি না ,কিন্তু মানবনীতির কিছু খবর রাখি । সাদা চোখে অনেক অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ে । অন্য দেশ দখল করে নিজেরা সমৃদ্ধ হওয়ার ইতিহাস বদলায়নি , বদলেছে কেবল হাতিয়ারের রূপ কিংবা এখনো ক্ষমতাধরের শোষনের রূপ এক ও অভিন্ন -- এই গল্প গুলো ও জানা । কিন্তু আলোচক হিসেবে আমি উপযুক্ত নই ।
আশা করি লিখবেন , কেন এবং কি ভাবে অর্থনৈতিক আগ্রাসন আর নতজানু রাজনীতির মধ্য দিয়ে "কর্পোরেট বিশ্বের " হাতে বাধা পড়ে গেছে সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের মৌল চাহিদা মেটানোর উপাদান গুলো ।
কাপালিক বলেছেন:
এটি আমার পড়া সামহোয়ারইনের সবচেয়ে ভালো লেখা। সত্যিই অসাধারন। সত্য এবং সাহসী একটি লেখা। দেখাই যাচ্ছে অনেক পরিশ্রম করেছেন।লেখাটা পড়তে পড়তে গায়ের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে। এইভাবে যদি বড় বড় কোম্পানগুলো কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করে, তাহলে তো দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাবে নিশ্চিত। এর থেকে মুক্তির উপায় কি?
যেইভাবে প্রতিদিন খাদ্যের দাম বাড়ছে, সাধারন মানুষের বেঁচে থাকার কি কোন উপায় আছে? নিম্নবিত্তের লোকেরা না হয় ভিক্ষে করবে, কিন্তু মধ্যবিত্তরা কি করবে? এরা না পারবে আয় বাড়াতে, না পারবে ভিক্ষে করতে। এদের হয়ত এখন থেকে একবেলা খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। তাও যদি শেষ পর্যন্ত খাওয়া জোটে!
বেশী করে লিখবেন। এই ধরনের সমস্যায় কি ধরনের সমাধান আছে তা স্পষ্ট ভাবে ব্যখ্যা করে জানান। আর প্রতি প্যারাগ্রাফের মাধখানে গ্যাপ রাখবেন - পড়ার সুবিধার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আজকের প্রথম আলোতে দেখবেন, দেবপ্রিয়ও স্বীকার করেছেন যে, এতদিন তাঁদের ভূল বোঝানো হয়েছিল এবং তারাও ভুল করেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, সবসময়ই তারা পরে বোঝেন কেন, সেটা কি তাদের জ্ঞানের সমস্যা না স্বার্থের সমস্যা। আর তাঁদের ভূলের খেসারত কেন বারংবার জনগণকে দিতে হবে? দেশটাকি দুধের বাঁট নাকি, যে যার মতো চুষে ছিবড়ে বানাবে?
ত্রিভুজ বলেছেন:
চমৎকার লেখা...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ ত্রিভূজ।
কাপালিক বলেছেন:
"দেশটাকি দুধের বাঁট নাকি, যে যার মতো চুষে ছিবড়ে বানাবে?" - লেখক।কখনোই না। কিন্তু সবাই তা-ই করছে। যে যার মতো করে ছিবড়ে বানাচ্ছে। প্রতিকারের তেমন কোন উপায় বা উদ্যোগ কোনটাই তো দেখি না!
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
প্রিয়তে যুক্ত হলো।
হাসান বিপুল বলেছেন:
ভালো লেখা দীর্ঘ হলেও পড়া যায়। দিনে এমন অন্তত একটি লেখা পড়ার ইচ্ছে থাকে কোনো না কোনো ব্লারের কি বোর্ড থেকে। অভিনন্দন।
বিডি আইডল বলেছেন:
রাজীব_নন্দী বলেছেন:
একাধিক বার পড়ার মত...
উদাহরন হিসেবে বলতে পারি চলতি বছরে বাংলাদেশের দিত্বীয় রপ্তানী পণ্য চিংড়ির বাজার মুল্য সম্পর্কে; ২০০৭ সালের তুলনায় ২০০৮ সালে রপ্তানীকারকেরা সাধারণ চাষীদের কাছ থেকে চিংড়ি কিনছে ২০০৭ সালের দামের থেকে শতকরা ২০ টাকা কম দামে। আন্তর্জাতিক বাজার দাম অপরিবর্তনীয় কিন্তু চাষীদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৮০%। উল্লেখ্য এই খাতে ১০% ভর্তুকি দেয়া হয় রপ্তানীকারকদের।
দক্ষিনাঞ্চলের তিন জেলার মানুষের কাছ থেকে কত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তার হিসেব কেউ রাখে না।
চালের দাম বাড়ার কারণ এবং গত ১ বছরে কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি সম্পর্কে কিছু ধারনা দিচ্ছি:
চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের দাম বেড়েছে ১০০%
দ্রব্যমুল্যের মুল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমমুল্য বেড়েছে প্রায় ৪০%
এবং সর্বশেষ পোকার আক্রমন চরম মাত্রায় পৌছেছে কিন্তু ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব বাজার, ফলে পোকা খেয়ে ফেলছে সম্ভাব্য ফলন।
চালের দাম আসলেই কি কমবে?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ, আশেক ইব্রাহীম। আপনার মন্তব্য থেকে জানতে পারলাম। ঠিক যে, ঐ দিকটা আমার আলোচনায় নাই। তখন যে কারণে এটা লেখা হয়েছিল তার প্রধান প্রয়োজনটাই মেটানোর চেষ্টা করেছি। তথ্যসূত্র দেবেন কি?
প্রতিক বলেছেন:
চমৎকার লেখা। পৃথিবীর প্রায় সব পুঁজিপতিদের একটাই লক্ষ্য- লাভ, তা সে যেকোন মূলে্যই হোক না কেন। তারপরেও কিছু দেশে দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদরা বযবসায়ীদের রাশ টেনে ধরেন, অন্তত নিজের দেশের মানুষেরা কিছু খেয়ে বেঁচে থাকেতে পারে (যেটি আমরা লযাটিন আমেরিকান ও স্কান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে দেখতে পাচ্ছি)। আমার মনে হয় আমাদের দেশে এটি একেবারেই অসম্ভব, কেননা এখানে বযবসায়ীরাই রাজনীতি করে এবং একই সাথে রাজনীতিবিদরাই বযবসা করে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ প্রতিক আপনার সারবান মন্তব্যের জন্য।
দূর্বার বলেছেন:
অসাধারণ ১টা লেখা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















খাদ্য ও তেলের অভাবনীয় মূল্যবৃদ্ধি চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের লজিকে ঘটছে না এটা আমার আলোচনার ভিত্তি।
পাঁচ কি দশ বছর পরের চাল বা তেল বিক্রি হয়ে গেছে বলে বাজারে বর্তমান প্রয়োজনের থেকে বেশি চাল-তেল থাকা সত্ত্বেও জিনিষ দুটোর দাম হুহু করে বাড়বে এবং তা বাকি সব ক্ষেত্রকেও মাতাল করে ছাড়বে, এ অবস্থার মধ্যে যে ধ্বংসাত্মক পাগলামো আছে সেটার দিকেই আমি নজর কাড়তে চেয়েছি। এখন জুয়াকর ও লগ্নিকরেরা কী ভাবে সেটা করছে তা দেখা যাক।
এখন তেলের বাজারমূল্য ব্যারেলপ্রতি ১২৮ ডলার ধরলে ঐ দুই খলচরিত্র ঐ মূল্যের মাত্র ৬% পরিশোধ করেই ভবিষ্যতের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। অর্থাত মাত্র আট ডলার দিয়ে বাকি ১২০ ডলারের ক্ষমতাও তারা অর্জন করে। অপরিশোধিত টাকাটা ধরা হবে ধার হিসাবে। তার মানে সে সুবিধা পাচ্ছে ১:১৬। এভাবে সত্যিকার বাজারের বাইরে লন্ডন আইসিই ফিউচার ও নিউইয়র্ক নাইমেক্স এবং আন্ত: ব্যাংক কিংবা ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনই শত শত কোটি মানুষের জীবনে বিপর্যয় আনতে পারছে। এটাকে আমি সুস্থ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বলে মানতে রাজি নই।
এদের ঢাকার জন্যই বলা হচ্ছে চীনের তেলের চাহিদা বেড়েছে বলে দাম বেড়েছে। কথাটা যে সতি নয়, তা ওপরে বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে দাম ওপেক বাড়িয়েছে, তাও সত্যি নয়।
এ বিষয়ে সুন্দর আলোচনা পাওয়া যাবে এখানে।
Click This Link