আমার প্রিয় পোস্ট

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান

২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৫

শেয়ারঃ
0 0 0

কিছুদিন আগেও জঙ্গিবাদের আছর লাগা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিশেষ বদনাম জুটেছিল। ভবিতব্য কী, তা আজ নয় বোঝা যাবে কাল। আজকের পরিস্থিতিতে ভারতে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ নতুন চেহারায় হাজির হয়েছে। সেখানে কিছুদিন পরপরই ট্রেনে-মসজিদে, বাজারে বোমা ফাটছে। এর পেছনে রাতারাতি একটা খলনায়কও পাওয়া গিয়েছিল। তার নাম 'মুসলিম জঙ্গি’। কিন্তু ঘটনার ঘনঘটায় মনে হচ্ছে, উপমহাদেশে জঙ্গিবাদের একচেটিয়া খেতাব খোয়াতে যাচ্ছে মুসলমানরা। মাঠে হাজির হয়েছে ‘হিন্দু জঙ্গিবাদ’। বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও গুজরাত দাঙ্গায় সাম্প্রদায়িক দাপটের যে চেহারাটি দেখা গিয়েছিল; এটা তারই সম্প্রসারণ। তবে বেশিরভাগ বিশ্লেষকই 'ওয়ার অন টেররের’ বাঁধা বুলি মোতাবেক চলেছেন, মনের ছানি সরিয়ে কঠিন সত্যকে মোকাবেলা করতে যাননি।

লালন থাকলে বলতেন, এসব দেখি কানার হাটবাজার। আর আজকের কবি রণজিৎ দাশগুপ্ত ‘যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাব’ বলে চোখ টেপেন। পরক্ষণেই বলেন, ‘সম্ভবত গড়িয়াহাটার দিকে’। আমাদেরও তাই। মন যা চায়, চোখও তাই খোঁজে। সেই মন জঙ্গিবাদ আর মুসলিমকে একাত্মা একদেহ ভেবেছে। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী মায় গণমাধ্যমেরও বুনিয়াদি বিশ্বাসও ছিল তাই। কিন্তু এখন তাদের পাণ্ডুলিপি বদলাতে হচ্ছে। পুরনো তত্ত্ব ঝাড়পোঁছ করতে হচ্ছে। কারণ, দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরের বেশিরভাগ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত খোদ বিজেপি’র লোকজন। ভারতের একদল লেখক-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীরা অনেক আগেই ঘন্টা বাজিয়ে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের এই উত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগের আঙুল ছিল বিজেপির লোক-লস্করদের দিকে। কিন্তু সবদেশেই কর্তাদের টনক এতই অনড় যে, তাঁরা দ্বিতীয়বার ভাবতে বসেননি। উল্টো দোষানো হয়; সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বদনাম হচ্ছে। আজ পরিস্থিতি উল্টে গেছে। সরাসরি নাশকতার অভিযোগে এক সন্ন্যাসিনী ও এক কর্মরত কর্ণেলকে আটক করা হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে পাওয়া যাচ্ছে কর্মী ও আলামত। জেরার মুখে হিন্দু জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কের গুমর ফাঁস হচ্ছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ তো সাপ, আস্ত আজদাহাই যেন বেরিয়ে আসছে! তবে এসবই ডুবোপাহাড়ের চূড়া। তলায় আরো গল্প আছে।

অথচ এতদিন সবাই ‘মুসলিম জঙ্গিবাদের’ আতঙ্কে বিভোর থাকায় হক-বেহক অনেক তরুণের প্রাণ গেছে, নির্যাতিত হয়েছে অনেক ‘সন্দেহভাজন’। তবে বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তার মানে এই নয় যে, সেখানে মুসলিম জঙ্গিবাদ নেই। আছে। তবে বেমানান শোনালেও তারা বিলীয়মান, উদীয়মান হলো হিন্দু জঙ্গিবাদ। এরই মধ্যে গত আগস্টে ভারতীয় সাপ্তাহিক তেহেলকায় কংগ্রেস এমপি দিগ্বিজয় সিং ভারতে সাম্প্রতিক বোমা বিষ্ফোরণগুলির জন্য বিজেপিকে চিহ্নিত করেন। পার্লামেন্টে তথ্যপ্রমাণ হাজির করার কথাও ছিল তাঁর। তার আগেই জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিজেপি পরিবারের আঁটঘাট চাউর হলো। তাদের ভারতজোড়া প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমে যা এসেছে, তাতে অনেকের পিলে চমকানোর যোগাড়। বিভিন্ন রাজ্যে চালু আছে প্রশিক্ষণ শিবির। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হিন্দু জনজাগরণ মঞ্চ, পানভেলের সান্তনা আশ্রম এবং সেন্ট্রাল হিন্দু মিলিটারি এডুকেশন সোসাইটির ভোনশালা মিলিটারি স্কুল। এমনকি কর্মরত কয়েকজন সেনা অফিসারের নামও চলে এসেছে তালিকায়। এসব থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের নতুন মুখচ্ছবিটা ধরতে পারা যায়। বিজেপি’র সাম্প্রদায়িক আদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে একে বলা হচ্ছে, ‘হিন্দু সন্ত্রাসবাদ’। তবে যে ধর্মেরই লোক এধরনের তৎপরতা চালাক, তার জন্য ঐ ধর্মবিশ্বাস ও তার অনুসারিদের নির্বিচারে দায়ি করার বুশীয় খাসলত বিষয়ে সাবধান থাকা দরকার। ধর্মবিশ্বাসের চেয়ে বরং গোড়ার রাজনৈতিক স্বার্থটির দিকে মনোযোগ দেয়াই যুক্তিযুক্ত।

ঐ আজদাহার ফণা আরএসএস তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা মুসোলিনীর আদর্শে। বিজেপি এর রাজনৈতিক শাখা। উগ্র সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামরিক ও সাংষ্কৃতিক প্রশিণের ঘটনাও তাদের জন্য নতুন নয়। অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত বেঙ্গল ডিভাইডেড গ্রন্থে জয়া চ্যাটার্জি দেখিয়েছেন, কীভাবে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার অনেক আগে থেকেই শরীর চর্চা কাবের আড়ালে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। মজুদ করা হচ্ছিল গোলা-বারুদ। সেসময়ের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোতে এসবের আকছার ব্যবহারের নজিরও তিনি দিয়েছেন। জয়া চ্যাটার্জিসহ আজকের গবেষকরা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বলছেন, সেসময়কার হিন্দুত্ববাদীদের কার্যকলাপেই সাম্প্রদায়িক দেশভাগ ছিল অনিবার্য। সম্প্রতি খোলস ফেটে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, পুরাতন চালের মতোই পুরাতন কৌশল বেশ কাজে দিচ্ছে। তার জোরেই রাজনীতিতে গৌণ হিন্দুত্ববাদ আজ মূল ধারার রাজনীতির অন্যতম কারিকা শক্তি বনে গেছে। ভারতে দলিত-মুসলিম-খ্রীস্টান ও আদিবাসীদের মুক্তি আন্দোলনের প্রতিষেধক হিসেবে অনেকেই মধ্যপন্থি কংগ্রেসের তুলনায় চরমপন্থি বিজেপিকে ভরসা করছে।

নিঃসন্দেহে জঙ্গিবাদ বিজেপির হিন্দুত্ববাদের প্রধান তরিকাও নয়। বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল: ধর্মনিরপেক্ষ বহুজাতিক ভারতকে তারা ‘হিন্দু ভারত’ বানাতে চায়। তাদের চোখে অ-হিন্দুরা ‘জাতীয়’ শত্র“। ভারতের পুঁজিপতি শ্রেণী ও আধুনিক মধ্যবিত্তদের মধ্যেও এই চিন্তার কদর বাড়ছে। ভয়ের কথা সেটাই। নরেন্দ্র মোদীর গুজরাত এই ধরনের ঘৃণার রাজনীতির অতিকায় কর্মশালা। সরকারি মদদে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানো, ঘর-বাড়ি-দোকানপাট পোড়ানো, গণধর্ষণসহ বহু বীভৎসতার পাথুরে প্রমাণ থাকার পরও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী ‘সাচ্চা’ মানুষ, দক্ষ প্রশাসক। তাঁর প্রত্যক্ষ মদদের অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও তাঁর পুননির্বাচিত হওয়া ঠেকে থাকেনি। ভারত সরকারের নানাবতী কমিশনও মোদীকে নির্দোষ ঘোষণা করতে দ্বিধা করেনি। একেই বলে, যো জিতা ওহি সিকান্দার। ভয় হয়, একদিন হয়তো একাত্তরের গণহত্যাকারীদেরও এরকম সাচ্চা বনে যেতে মুশকিল হবে না।

এই মোদী বাদশা’র রাজ্যে মুক্তবাজার, বহুজাতিক বিনিয়োগ আর কর্পোরেট মডেলের সঙ্গে উগ্র ধর্মীয় আদর্শ একাকার হয়ে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। সংখ্যালঘুদের দলন করা যেখানে বীরত্ব সেখানে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পরিবেশ চৌদ্দ আনাই পাকা। নাৎসি জার্মানীতেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে জার্মানদের ঘৃণায় মাতিয়ে হিটলার মতায় বসেন। বাদবাকি ইউরোপ তখন ভেবেছিল, দেখি না কী করে! সেই দেখার অপোর খেসারত গোটা মানবজাতিকেই রক্ত আর ধ্বংসের দামে দিতে হয়েছিল। বিজেপিও ওরকম ঘৃণার জিগির ছড়াচ্ছে ভারতের সংখ্যালঘু ও অহিন্দুদের বিরুদ্ধে। সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদেরও তারা ছেড়ে কথা বলছে না। বিজেপি’র এক শীর্ষ নেতা তো বলেই ফেলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের জার্মানীতে ইহুদিরা যেমন, এখনকার ভারতের মুসলমানরাও তেমন। গুজরাতের পাঠ্যপুস্তকে তাই হিটলার বন্দিত হন। ইহুদিমুক্ত জার্মানির আদলে বিজেপিও অহিন্দুমুক্ত ভারত চায়। বলপ্রয়োগ ও আতঙ্ক ছড়ানো তারই আয়োজন। এ ধরনের রাজনৈতিক মতবাদ ও কর্মসূচির বিশুদ্ধ নাম ফ্যাসিবাদ। বলতে দ্বিধা নেই, আজ ভারতে সেরকম এক ফ্যাসিবাদের উত্থানই আমরা দেখতে যাচ্ছি। ফ্যাসিবাদ ও বড় কর্পোরেশনের সম্পর্ক সুবিদিত। টাটা, রিল্যায়েন্সও বলছে, গুজরাত হলো পুঁজিপতিদের স্বপ্নের গন্তব্য। আকলমান্দ কি লিয়ে ইশারাই কাফি।

বিজেপির এই রাজনৈতিক যাত্রায় সন্ত্রাস এক মধ্যবর্তী স্টেশন মাত্র। তারা দিব্যি জানে, সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে পুঁজি করে নির্বাচনের পথেই মতা পাকা করা সম্ভব। হিটলার, মুসোলিনির মতো নরেন্দ্র মোদীও কিন্তু পরপর দু’বার নির্বাচিত হয়েছেন। যে এল কে আদভানীর জীবনের প্রধান কৃতিত্ব বাবরি মসজিদ ধ্বংস, সেই তিনিও ভারতের ভাবি প্রধানমমন্ত্রী বিবেচিত হচ্ছেন। সুতরাং ভোটেই কার্যসিদ্ধি হলে আর কেন সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করা? করা এক এক ঢিলে দুই পাখি মারার খায়েশে। নিজেদের সন্ত্রাসকে মুসলিম মুখোশ পরিয়ে দেখালে একদিকে মুসলিমদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা সম্ভব অন্যদিকে জুজুর ভয় দেখিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে হিন্দুত্ববাদের পতাকাতলে জমায়েত করাও সহজ। এটা তাদের পরীতি পথ। গুজরাত গণহত্যা তাদের জনবিচ্ছিন্ন করেনি, বরং নির্বাচনী বাজিমাতকে সহজ করেছে। তাই গণতন্ত্রের মধ্যে অধিকাংশের শাসনের যে প্রতিশ্র“তি আছে তা মোদী গংয়ের হাতে পরিণত হচ্ছে অধিকাংশের দাপটে। কতিপয়ের উত্থানের চরিত্র ক্যু কিংবা সন্ত্রাসবাদ। আর অধিকাংশের দাপটের চরিত্র ফ্যাসিবাদ।

এই ফ্যাসিবাদ জার্মান বা ইতালিয় ফ্যাসিবাদের মতোই আধুনিকতার মুখোশ পরা বলে চিনতে অনেকের দেরি হচ্ছে। তাই অরূন্ধতি রায় তাঁর ইস্তাম্বুল বক্তৃতায় যথার্থই বলেন, ‘‘এটা কোনা কাকতাল নয় যে, ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের যে রাজনৈতিক দলটি আর্মেনিয়দের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল তার নামও ছিল ‘কমিটি ফর ইউনিয়ন এন্ড প্রগ্রেস’। হিটলার এবং মুসোলিনিও ছিলেন প্রগতির ধ্বজাধারী। আমেরিকার ভিয়েতনাম ও ইরাক-আফগানিস্তান-কসোভো সবই তো ভেক ধরা গণতন্ত্র ও প্রগতির রক্তাক্ত পদচিহ্ন। আদভানীর বিজয় রথও প্রগতি ও আধুনিকতার নামেই যাত্রা করেছে।’’ তারা দেখাচ্ছে, মুসলিম ও আদিবাসীরা এই প্রগতির শত্র“। অন্যদিকে ভারত যেহারে ইসরায়েল ও আমেরিকার অক্ষে ঢুকছে, তাতে ঐ দুটি পরাশক্তির জাতবিদ্বেষের সঙ্গে ভারতীয় মুসলিম বিদ্বেষও একাকার হওয়ার মওকা পাচ্ছে। পরাশক্তি ভারত যদি সে পথে যায়, উপমহাদেশে তার বিপদ কল্পনা করাও কঠিন।

এখানেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে তাদের তফাত। এই দুটি দেশে ধর্মীয় রাজনীতি প্রধানত আধুনিকতা বিরোধী। অথবা তারা আধুনিকতার নিজস্ব বয়ানে বিশ্বাসী। রাজনৈতিক ইসলামের ধারাটি এখানকার শাসকবর্গের মূল অংশ নয়। বড় জোর শাসকবৃত্তের ছোট তরফ তারা। শহুরে উঠতি ধনিক ও নিম্নবিত্ত এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের নিয়েই এদের কারবার। জেএমবি প্রধান শায়খ রহমানের জবানিতে থেকেও বোঝা যায় পশ্চিমা আধুনিকতায় ক্ষিপ্ত ও বিত্তবঞ্চিতরাই তাদের সহিংস রাজনীতির খাতক। ভারতের বেলায় তা আসছে অগ্রসর শ্রেণীগুলোর একচেটিয়া ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার রক্ষাকবচ হিসেবে। সনাতন ভারতীয় উচ্চবর্ণের আধিপত্যবাদী মতাদর্শ আর দেশি-বিদেশি পুঁজির বাসনা সেখানে গলাগলি করি পরস্পরকে পুষ্টি যোগাচ্ছে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদ কায়েম করবার জন্য যে অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় তাকদ লাগে তা ভারত ছাড়া উপমহাদেশের অন্য দুটি রাষ্ট্রের নেই, সেরকম মতাদর্শও অনপুস্থিত। আমাদের মতো দেশে তা বড়জোর সেনাশাসন ও প্রধান দুটি দলের হাতিয়ার হওয়ার বেশি যেতে পারে না। ১৯৭১-এ যেভাবে তাদের নির্যাতকদের দোসর হিসেবে দেখা গেছে, সেটাই এখন পর্যন্ত তাদের রাজনীতির সীমানা। নিজের জোরে বড় আন্দোলন কিংবা নির্বাচিত সরকার গঠন তাদের সাধ্যের বাইরে। সরকারি প্রশ্রয় ছাড়া দাপট দেখানোর কোনো নজিরও এখনো মেলেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলার আর মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক মদদের হিসেব কষলে, শক্তি নয় বরং এদের নির্ভরশীলতারই প্রমাণ মেলে।

আবার এটাও খেয়ালে রাখা দরকার যে, ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সচেতনতা রয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তা খুবই কমজোরি। তাহলেও, ভারতে কিছু ঘটা মানে তার ঢেউ আলবৎ বাংলাদেশকেও দোলাবে। সেটা হবে ব্রিটিশ আমলের সাম্প্রদায়িক হানাহানির নতুন পর্ব। সেই পর্ব আসা মানে উপমহাদেশের সকল ধরনের সংখ্যালঘুদের জীবনে নরক নেমে আসা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষের জীবনও তখন আর আগের মতো থাকবে না। ফলে, বিপদ ভেতর-বাহির দুদিকেই। বিশেষ করে বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার পরিবেশে এই ভয় আরো বেশি। মন্দার মধ্যেই কিন্তু ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদ জনগণের হতাশাকে পুঁজি করে বেড়ে উঠেছিল। সবসময়ই মন্দা-নৈরাজ্য হয় বিপ্লব নয়তো প্রতিবিপ্লব ডেকে আনে। আমাদের বেলায় অমঙ্গলের সোনায় সোহাগা আয়োজন দেখে ইতিবাচক পরিবর্তন দুরাশা মাত্র। কিন্তু ইতিহাস মানে পূর্বনির্ধারিত নিয়তি নয়। মানুষই ইতিহাস বানায় ও বদলায়। উপমহাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিগঠন আমাদেরই কর্মফল এবং আমরাই পারি তার খাত বদলে দিতে।

অরূন্ধতি রায়ের কথা ক’টি তাই কানে বাজে, ‘জার্মানিতে যখন ইহুদি-গণহত্যা (হলোকস্ট) চলছিল, তখনও জার্মানরা ছেলেমেয়েদের পিয়ানো বা বেহালার বাজনা শেখাতে নিয়ে যেত, উদ্বিগ্ন থাকত বাচ্চাদের পড়ালেখা নিয়ে!’ আমরাও কি মেতে থাকব মিথ্যা ভরসায়। শিশুরা ভয় পেলে চোখ বুঁজে ফেলে। এটাই তাদের আত্মরক্ষার সহজাত কৌশল। আমরাও কি তেমন চোখ বুঁজে থাকার আত্মরক্ষায় মাতবো? আর ভাববো, যেহেতু আমি দেখছি না সেহেতু ভয় নেই! ধন্য আশা কুহকিনী।

 

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এ বিষয়ে আমার আগের একটি পোস্টের সমালোচনায় এক বন্ধু সততার সঙ্গেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতে ফ্যাসিবাদের উত্থান আলোচনা করলে এখানকার তেনারা আস্কারা পাবে। অরূন্ধতি রায়কেও তিনি এমন অভিযোগে দুষ্ট বলিছিলেন। আমি সেরকমটা ভাবি না। দুদিকেই সমান লড়াই আমাদের করতে হবে। আবার সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় দিক আসলে দশটা কিংবা একটা। সুতরাং সবই একই লড়াইয়ের বিভিন্ন পর্ব ও এলাকা মাত্র। কেন, তার কিছু দিক এ লেখায় রাখা হয়েছে। আশা করি পরে আরো বিশদে যাওয়ার তৌফিক হবে।
২. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২১
অরণ্য আনাম বলেছেন: ভাই এতো বড় লেখা পড়ার মতো ধৈর্য এখন নাই..

পরে পড়ে নেব
৩. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৩
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ অরণ্য। আমার মুদ্রাদোষ বোধহয় বড় করা। কিন্তু বিশ্লেষণ ও প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্ত দিতে মনে সয় না যে!
৪. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৪
মাহিরাহি বলেছেন: যে এল কে আদভানীর জীবনের প্রধান কৃতিত্ব বাবরি মসজিদ ধ্বংস, সেই তিনিও ভারতের প্রধানমমন্ত্রী হয়েছেন - তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, জানতাম না।
৫. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৭
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: দু:খিত ওটা শুধরে দিচ্ছি।
৬. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৯
মাহিরাহি বলেছেন: ঐদিন বিবিসিতে শুনলাম সংঘরা (কিংবা জাতীয় কিছু) কাস্মীরেও ভারত বিভাগের পরে নিরীহ মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে, যাদের সাহায্যকারী ছিল স্বয়ং ভারতীয় সেনাবাহিনী। মার খেতে খেতে কাস্মীরিরা যখন হাতে অস্র তোলে নিয়েছে তখন তারা হয়েছে জংগী।
৭. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: কথাটা ঠিক। কিন্ত কাশ্মীরের সেই জঙ্গিত্ব ভারত গুঁড়িয়ে দেয়ার পর সেখানে বিরাট গণঅভ্যুত্থান ঘটছে এখন। জঙ্গিবাদ দমন করা সহজ, কিন্তু জনগণের অভুত্থান মোকাবেলা কত কঠিন ভারত সেটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝছে।
৮. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: প্রধানমন্ত্রি তো বাজপাই ছিলেন আদভানি নন।
লেখা ভালো লেগেছে।
৯. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই। এবং আরো কিছু?
১০. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪২
অ্যালন বলেছেন:
গুজ্রাটের সেই দাঙ্গার সময় আমার বড় ভাই ইন্ডিয়া ছিলেন..অল্পের জন্য বেঁচে ফেরত আশ্সেন..৪দিন কোন খবর ছিলনা তার..গলায় ছিল কোপের দাগ..
যাই হোক..লিখা ভাল্লাগ্ছে..
১১. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ পাঠ করবার জন্য।
১২. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫০
ভেংচুক বলেছেন: ফারুক ভাই আপনি কি BUSINESS FACULTY (DU) এর ছাএ ছিলেন?
১৩. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: নাহ্‌, আমি জাবির লোক।
১৪. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৯
ত্রিভুজ বলেছেন: কিছুদূর পড়লাম.. পুরোটা সময় নিয়ে পড়তে হবে.. প্রিয় পোস্টে যুক্ত থাকলো আপাতত।
১৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৩
আকাশ সুনীল বলেছেন: ভারতীয় রা অনেক আগে থেকেই সন্ত্রাসী, জংগী ও সাম্প্রদায়ীক। কিন্তু তাদের চানক্য নীতির কারনে মিডিয়াতে এটা তেমন হাইলাইট হয় নাই।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭

লেখক বলেছেন: ভারত রাষ্ট্র, তার শাসকশ্রেণী এবং রাষ্ট্রীয় মতাদর্শের সঙ্গে ভারতের সকল জনগণকে একাকার করে দেখা কি যুক্তিযুক্ত? সেখানকার নি্ম্নবর্ণ, নিম্নবর্গ, মধ্যবিত্ত ভিন্নমতাবলম্বী প্রতিবাদী, বিপ্লবী, হরিজন, মুসলমান খ্রীস্টান সবাই-ই আপনার চোখে ‌সন্ত্রাসী, জঙগি ও সাম্প্রদায়িক' হয়ে গেল কোন জাদুবলে?

আমার মনে হয়, আপনি বলতে চেয়েছেন, ভারতের শাসকদের মধ্যেই ঐসব প্রবণতা বেশি উপস্থিত, যেটা পৃথিবীর বেশিরভাগ শাসকদেরই অমোচনীয় গুণ।

১৬. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আবার এটাও খেয়ালে রাখা দরকার যে, ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সচেতনতা রয়েছে......।

এইটা ঠিক বিশ্বাস হতে চায়না।হিন্দু জংগীর খবর আউটলুকে প্রকাশিত হওয়ার পর, এর পাঠকদের সেই খবরের প্রতিক্রিয়ায় যে দৃষ্টিভংগী পেয়েছি, তাতে বিন্দুমাত্র আশাবাদী হওয়ার উপায় নাই।

আউটলুকের লিংকটা এই মুহুর্তে দিতে পারলাম না।

এনিওয়ে, লেখাটা ভালো হয়েছে।

২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: তারা অবশ্যই আছে, নইলে এইসব খবর প্রকাশ হতো না। অরূন্ধতি রায়দের পুরো গ্রুপটা মুসলিম নিধন ও আইনের অপব্যবহার নিয়ে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছেন। হিন্দু ফ্যাসিবাদের মুখোশ উন্মোচনে তেহেলকার ভূমিকার কথাও স্মরণ করতে বলি। দ্বিতীয়ত ভারতের বাম প্রগতিশীল ও দলিত সংগঠনগুলোরও প্রতিবাদী ভূমিকা রয়েছে।

যেখানে ক্রিয়া শক্তিশালী সেখানে প্রতিক্রিয়াও একটা মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

১৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৪
শঙ্খচীল বলেছেন: ভারত একটা চরম সাম্প্রদায়ীক ও সন্ত্রাসী রাস্ট্র । এটা আর নতুন কি ?
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: তা ঠিক, কিন্তু একইসঙ্গে এর রাষ্ট্রীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের লড়াই, কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রাম, দক্ষিণের দলিত প্রধান রাজ্যগুলো এবং সেখানকার মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি ভারতের ভেতরের গণমুক্তি সংগ্রামকেও নির্দেশ করে। একই চিত্র তো বাংলাদেশেও তাই না?

১৮. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১
রাজর্ষী বলেছেন: একমত যে দুই তরফেই আমাদের লড়াই চালাতে হবে। দেশের ভিতরে আর বাইরে। এমনকি আমাদের চিন্তার ভিতরে ও বাইরেও এই লড়াই চালাতে হবে। এবং মনে রাখতে হবে বাইরের সবাই শত্রু নয়, অনেক বনধু ও আছে।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫

লেখক বলেছেন: এই বিবেচনার থেকে দেখা যায় ঘৃণাই আমাদের বেশি চালিত করে। আমি নিপীড়িত বলে আমার যুক্তিবুদ্ধি অন্ধ হয়ে গেলে তা শেষপর্যন্ত নিপীড়নকেই আরো সাহায্য করে।

১৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: @রাজর্ষী, আপনার মন্তব্যে সহমত।
২০. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৯
মইন বলেছেন: হমমম
ভালো লাগলো।
বাংলা ব্লগে তথ্যবহুল পোস্টের খুবই অভাব।
খুব অল্পকজন লোকই দিচ্ছে ভালো তথ্যবহুল পোস্ট।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্টটির জন্য।
২১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০৬
ফারহান দাউদ বলেছেন: দুর্দান্ত লেখা। এখানে সবচেয়ে বেশি যে কথাটা নজরে পড়লো সেটা হলো,ভারতের এই উগ্রতা আমাদের দেশেও সংখ্যালঘুদের উপর দুর্দিন ডেকে আনবে,কারণ উগ্রবাদীরা ওঁত পেতেই থাকে যে কোন অজুহাতে দুর্বলদের পিষে দিতে। ভবিষ্যৎ আসলেই সংকটাপূর্ণ।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: যে কোনো প্রতিবিপ্লবী উত্থান সমাজের সবচে দূর্বলদেরই আঘাত করে বেশি। সেই বিচারে ভারতের এসব কাজের ধাক্কা আমাদের দেশের সংখ্যালঘুদের ওপরও পড়বে। আবার আরেকদিক থেকে উভয় দেশের সংখ্যালঘুরা যার যার দেশের গণতন্ত্রায়নের একটা শর্ত। কেননা, তাদের ভাল থাকাই প্রমাণ করবে যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরাও ভাল আছে।

২২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১৪
দ্বীপবালক বলেছেন: ভাল বিশ্লেষণধর্মী লিখা। ধন্যবাদ।
২৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:১০
আতিকুল হক বলেছেন: ভারতের ফ্যাসিবাদি আচরনের মূল্য তো বাংলাদেশ দিয়েই চলেছে। উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ভয়েরই ব্যাপার। ধন্যবাদ।
২৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: সহমত এবং ধন্যবাদ।
২৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০১
হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: ভালো পোষ্ট......তথ্যবহুল......একমত............
২৬. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৪
পি মুন্সী বলেছেন: আপনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে আমি যার অভাব দেখি যার দিকে সব সময়ই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি তা হলো আপনার ব্যাখ্যাগুলো লোকালাইজ থেকে যায়। একটা দেশের ঘটনাবলীর মধ্যে থেকে চাই কী খুব ক্রুডভাবে স্হানীয় শ্রেণী বিশ্লেষণের আশ্রয় নিয়ে আপনি ব্যাখ্যা দেবারও চেষ্টা করেন। এটাই আপনার প্রতি আমার সাধারণ সমালোচনা। এখানেও সেই ঝোঁক আছে, দেখেছি।
স্হানীয় শ্রেণী দিয়ে ব্যাখ্যা আপনি শুরু করতে পারেন, তবে আপনাকে অবশ্যই দেখাতে হবে সে কার কার সাথে এ্যলায়েন্সের মধ্যে আছে, সেটা আবার কার সাথে গাঁটছাড়া বেঁধে রাষ্ট্র পরিমন্ডল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগ হয়েছে। কিন্তু এর চেয়ে জরুরী হলো, পুঁজি আন্তর্জাতিক - এই ফেনোমেননের ক্রাইসিসগুলো মেটাতে গিয়ে নেয়া কোন পদক্ষেপ কিভাবে স্হানীয় রাষ্ট্রে থেকে আরও স্হানীয়ভাবে নতুন নতুন আরও ক্রাইসিস তৈরী করছে সেটা বুঝা ও বুঝাতে পারা। কারণ, শেষ বিচারে, ভারতের স্হানীয় ঘটনাবলী তো নয়ই, এমনকি ভারত রাষ্ট্রও নয় - আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী মূল ঘটনা ও প্রভাব তৈরি করে, এর আছর পড়ে। ফলে মূল শত্রু-মিত্রের ভেদাভেদ ওখানে থেকে ঠিক করতে হবে। পড়শি হিসাবে বাংলাদেশে ওর প্রভাব কী হবে তা ওখান থেকে বুঝা, অনুমান করা যেতে পারে।

যেমন, ১. বিজেপি "ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী" এর দিকে যাচ্ছে কেন? এর উত্তর কী! ওর জন্মের দোষ আছে, ভোটের রাজনীতি আছে - যেগুলো আপনি বলেছেন সেগুলো সবই ভারতের দেশের ভিতরের ঘটনা। বাইরের কোন ঘটনা কী কোন প্রভাব বা উপাদান তৈরি করে আছে এর মধ্যে? নাকি তেমন কিছুই না? ২. আপনার মত করে শ্রেণীর বিচারে যদি যাই তবে, সবচেয়ে প্রভাবশালী শ্রেণী/গুলোর দিক থেকে কংগ্রেসে কাকে আর বিজেপিই বা কাকে প্রতিনিধিত্ত্ব করে, এদের তফাৎ কী? কে কাকে প্রতিনিধিত্ত্ব করছে এটা ব্যাখ্যা করতে পারতে হবে। ৩. যদি বলেন এটা বিজেপি "ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী" আর কংগ্রেস সেক্যুলার - এই হল দুয়ের তফাৎ, তো বলব - এটা দিয়ে হয়ত আশির দশকের রাজনীতি ব্যাখ্যা করা যেত আমরা করতামও, কাজ চলত - এখন এটা একেবারে অচল। নিচে দেখুন কংগ্রেস কী!

আপনি যে রিপোর্ট থেকে ইসলামের নামে চালিয়ে দেয়া বিজেপির সন্ত্রাস, সেনাসদস্যের জড়িত হবার তথ্য, বোমাবাজির দায়ে বিজেপি নেত্রীর গ্রেফতারের সংবাদ ইত্যাদি পড়েছেন ওখানেই ঘটনার একটা ব্যাকগ্রাউন্ডও দেয়া আছে, আপনার নজর পরেনি হয়ত। সে ঘটনাটা হলো, "হিন্দু জনজাগরণ মঞ্চ, পানভেলের সান্তনা আশ্রম এবং সেন্ট্রাল হিন্দু মিলিটারি এডুকেশন সোসাইটির ভোনশালা মিলিটারি স্কুল" যেখানে বিজেপির নেতৃত্ত্বে ট্রেনিং চলছিল ও বোমাবাজির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, ঐ অস্ত্র ও বোমা কী করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের কাছে কিভাবে আসলো - সে বর্ণনা আছে। তদন্ত রিপোর্ট খুবই ইন্টারেষ্টিং একটা তথ্য দিচ্ছে। বলছে, কাশ্মীরে স্হানীয় হিন্দু নাগরিকদেরকে সশস্ত্র করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী একটা প্রোগ্রাম ছিল (এবং আছেও আশা করি)। ঐ অস্ত্রের একটা চালান বিজেপির নেত্রী প্রজ্ঞা ঠাকুরের পরিচালনায় সশস্ত্র সংগঠন "অভিনব গ্রুপ" পেয়ে যায় এবং ওগুলো দিয়েই ট্রেনিং ও সিরিজ বোমাবাজিগুলো ঘটান হয়।
এই তথ্যে যেটা সবার দৃষ্টির বাইরে থেকে যাচ্ছে তা হলো, আমরা এখন জানতে পারলাম হিন্দু সিভিলিয়ান জনগণকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সশস্ত্র করা হয়েছিল। এবং তা দিয়ে নিশ্চয় নিরস্ত্র মুসলিম জনগণের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানকে মোকাবিলার চেষ্টাও হয়েছিল - আমরা অনুমান করতে পারি।
এখন হিন্দু সিভিলিয়ান জনগণকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সশস্ত্র করার মানে কী আমার বুঝেছি? সেক্যুলার কংগ্রেস সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিজেপি নয়। একটা জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে অপর এক জনগোষ্ঠিকে সেনাবাহিনী দিয়ে অস্ত্র বিলানোর কাজ ঐ একই দেশের সরকার কীভাবে নেয়? এ কোন গণতন্ত্র? এর তাৎপর্য আমরা কী বুঝেছি? আমরা কী এখান থেকে কাশ্মীরের অবস্হা কিছু হলেও বুঝতে পারি?
বিজেপিকে আমরা চিনি, জানি। আবার প্রজ্ঞা ঠাকুরের কারবারও দেখছি। কিন্তু কংগ্রেস? যাকে আমরা সেক্যুলার ভাবছি? মুসলমান নাগরিকদের প্রতি কংগ্রেসের এই অবস্হান বিজেপির চেয়ে মারাত্মক নয় কি? কংগ্রেসের হাতের ভারতীয় রাষ্ট্র নিজেরই একটা জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে অপর এক জনগোষ্ঠিকে সেনাবাহিনী দিয়ে সশস্ত্র করছে। অথচ এটাই মূল ঘটনা নয় কী?

এখন এবার কংগ্রেসের এই ঘটনাসহ ভার‌্ত রাষ্ট্রকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন, বাংলাদেশের প্রেক্ষিত থেকে। তবেই বিজেপির "ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ" এর ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হতে পারে, হয়ত।



২৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬
রাজীব_নন্দী বলেছেন: প্রিয়তে তুলে রাখলাম। পরে কথা হবে।
২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২

লেখক বলেছেন: রাজিব এই লেখায় েতামার প্রতিক্রিয়া আশা করছি।

২৮. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আপনার অংশগ্রহণ আলোচনাটিকে আরো সারবত্তা দেবে সন্দেহ নাই।

১. কংগ্রেস এবং তার আচরিত সেক্যুলারিজম নিয়ে আমার কোনো মোহ নাই, সেক্যুলার প্রত্যয়টির চালু বৈশ্বিক ব্যাখ্যা এবং ইতিহাসে এর ভূমিকা নিয়েও আমি ক্রিটিকাল। এর ছাপ আপনি এই ব্লগে আমার বিভিন্ন লেখায় গুরুত্বের সঙ্গে পাবেন। এটা আমার প্রথম স্টেটমেন্ট।

২. বিজেপির ফ্যাসিবাদ প্রকারান্তরে ভারতীয় শাসকশ্রেণীরই ফ্যাসিবাদ। এবং তা বিশ্ব-পুঁজির কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক আদলকেই পরিপুষ্ট করছে। এই এই ফ্যাসিবাদ নিছক অর্থনৈতিক অনিবার্যতা নয়, বিদ্যমান সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য টিকিয়ে রাখবার অবিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়। এখানে খেয়াল করবার বিষয় এটিই যে, সেটা যে রাষ্ট্রকেই করদ করছে সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও স্বার্থের ভেতর থেকে ফ্যাসিবাদ উপাদানকে বলবান করে সেভাবে রাজনীতি সাজাচ্ছে। সেকারণে ভরতে তা সনাতন সমাজের বর্ণাশ্রম প্রথা কেন্দ্রিক চরম প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শকে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তা ও শক্তিকেও চাহিদামতো বদলে নিয়ে ব্যবহার করতে পারছে। ইসরায়েলে তা জায়োনিজমকে এবং খোদ পাশ্চাত্যে শ্বেতাঙ্গ-খ্রিস্টান বর্ণবাদকে চাঙ্গা করেছে। এখানে বিশ্বপুঁজির চাহিদা ও স্থানীয় গড়নের একটা সন্ধি হচ্ছে। তার মানে এই যে, এই সন্ধির বাইরে আর কিছু বিরাজ করে না। একইসঙ্গে খেয়াল করা দরকার ওউপনিবেশিত ও অকরায়ত্ত ইরান-ফিলিস্তিন-লেবাননে ধর্ম স্বাধীনভাবে জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক বিকাশের সঙ্গি হচ্ছে, আরো ভাল ভাবে বললে ধর্মের একধরনের ডিথিওলাইজেশনের মাধ্যমে ধর্ম ও সমাজ উভয়ে উভয়ের রাজনৈতিকে শানিত করছে।

৩. আপনি বৈশ্বিক ও স্থানীয়র মধ্যে স্থানীয় শর্তের ওপর আমার অতি নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন। আমি বরং পুঁজির বেড়ে ওঠা ও যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এবং তার নিয়ণ্ত্রক শ্রেণীগুলির রাজনীতির দিকে জোর দিতে চেয়েছি। খোলাসা করে তা বলা যায়নি টেকনিক্যাল কারণে। এটি তৈরি করা হয়েছে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের জন্য। বৈশ্বিকভাবে ফ্যাসিবাদ দাঁড়াচ্ছে এবং উপমহাদেশে তার চেহারাচরিত্র ভালভাবেই দৃশ্যমান এই বাক্যবন্ধের দ্বিতীয় দিকটি বলা হয়েছে আমার লেখায়। প্রথম অংশটির ইঙ্গত রাখা হয়েছে এসব বাক্যে। দেখুন দয়া করে:

ক.বেশিরভাগ বিশ্লেষকই 'ওয়ার অন টেররের’ বাঁধা বুলি মোতাবেক চলেছেন
খ. এই মোদী বাদশা’র রাজ্যে মুক্তবাজার, বহুজাতিক বিনিয়োগ আর কর্পোরেট মডেলের সঙ্গে উগ্র ধর্মীয় আদর্শ একাকার হয়ে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে।
গ. ফ্যাসিবাদ ও বড় কর্পোরেশনের সম্পর্ক সুবিদিত। টাটা, রিল্যায়েন্সও বলছে, গুজরাত হলো পুঁজিপতিদের স্বপ্নের গন্তব্য।
ঘ. সনাতন ভারতীয় উচ্চবর্ণের আধিপত্যবাদী মতাদর্শ আর দেশি-বিদেশি পুঁজির বাসনা সেখানে গলাগলি করি পরস্পরকে পুষ্টি যোগাচ্ছে।
ঙ. অন্যদিকে ভারত যেহারে ইসরায়েল ও আমেরিকার অক্ষে ঢুকছে, তাতে ঐ দুটি পরাশক্তির জাতবিদ্বেষের সঙ্গে ভারতীয় মুসলিম বিদ্বেষও একাকার হওয়ার মওকা পাচ্ছে।

এটুকুই মাত্র বলা হয়েছে এবং আমি স্বীকার করে এটুকু বলাই যথেষ্ঠ নয়। একে বৈশ্বিক ব্যাপারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে না দেখালে দেখাটা অপূর্ণ থাকে, তাও মানি। কিন্তু উপাদানগুলির কোনো একটিকে অর্থাৎ স্থানীয়র ওপরে বৈশ্বিককে, কিংবা বৈশ্বিকের ওপরে স্থানীয়কে একচেটিয়া গুরুত্ব দিলে ভুল হতে বাধ্য। আপনার লেখায় এ প্রবণতা আমি দেখেছি। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম সরাসরি রাজনৈতিক ভাবে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে যে দ্বন্দ্বে আবির্ভূত হয়েছে, বিশ্বের অন্য অন্য দেশে তা একইভাবে ঘটছে না। ঘটছে না, স্থানীয় শর্ত তথা স্থানীয় শ্রেণী, রাষ্ট্র, মতাদর্শ ইত্যাদির জন্য। এ বিষয়ে বেহুঁশ থাকা সরলীকরণ হয়ে যায়।
২৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০২
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ভারতের সমাজের মধ্যে সবসময়ই ফ্যাসিবাদী উপাদান বহাল ছিল। বিশেষত, ইংরেজের আবির্ভাবের মধ্যে দিয়ে এই উপাদানগুলি চাঙ্গা ও পুনরূৎপাদিত হতে শুরু করে অনেক বেশি হারে। ভারতের জাতপাত, ভারতের ক্ষুদ্র জাতির ওপর বড় জাতির আধিপত্য, ভারতের সম্প্রদায়গত বিভাজন এবং হাজার বছরের সনাতন ব্রাহ্মণ্যবাদী মতাদর্শ সবসময়ই মজুদ ছিল। উপনিবেশ ও পুঁজির যোগসাজশে তা নতুন আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায় পেয়েছে। সুতরাং ভারতীয় শাসকশ্রেণীর সকল অংশে এমনকি বামদের কারো কারো মধ্যেও এমন প্রবণতার আছর রয়েছে কম-বেশি। শাসকশ্রেণীর সকল অংশের মধ্যে যখন কোনো বিষয়ে সাধারণ সমঝোতা থাকে বুঝতে হবে তা সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের হেজিমনিক আইডিয়া। আমি এই পত্রে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে এই স্থানীয় ডাইনামিকসটাকেও আলোর নীচে আনতে চেয়েছি।

ছত্তিশগড়ে কিংবা নন্দীগ্রামে সিভিলিয়ানদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কংগ্রেস বামফ্রন্ট একইরকম আচরণ করেছে। ফলে এটা নতুন নয়। কাশ্মীরেও তারা একই কাজ করে আসছে।

সুতরাং বিতর্কের গোড়াটা এখানেই আমি দেখতে পাচ্ছি যে, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় কর্পোরেট ক্যাপিটালিজম, সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক স্ট্রাকচার, পাশ্চাত্যবাদীতা ইত্যাদি একাকার হয়ে বিশ্বকে যে প্রতিবিপ্লবী গড়ন দিচ্ছে তার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শর্তগুলোর ডাইনামিকস কোন পথে গড়াবে। নির্ধারক কোনটা আর কোনটা গৌণ এই আলোচনায় বিশেষ লাভ নাই। কারণ, উত্তরোত্তর এটা এক দেহ একাত্মা হয়ে উঠেছে। কারণ তারা একই আদলের একটা বৈশ্বিক শাসকশ্রেণী এবং তাদের বশংবদ মধ্যশ্রেণী সৃষ্টি করে নিয়েছে। অরূন্ধতি রায় এদেরই উন্নয়নবাদী কর্পোরেট ফ্যাসিজম বলে চিনেছেন।

যাহোক, আপনার প্রশ্ন উত্থাপন আমার বিশ্লেষণের অসম্পূর্ণতাকে নির্দেশ করেছে। তবে আবারো বলি, এটা ব্লগের জন্য লেখা হয়নি, এটা এমন এক জায়গার জন্য লেখা হয়েছে যেখানে এই লেখা প্রকাশের সুযোগ সবচে কম। দেখা যাক, বৃহত্তর পাঠকদের কাছে পৌঁছবার আর কোনো সহায় এই মুহূর্ত আমার নাই। তাই পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চেয়ে মূল প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে পারছি কিনা, মানুষকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিতে পারছি কিনা, সেদিকেই বেশি ব্যগ্র থাকি। সমালোচনা শিরোধার্য।
৩০. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
চাণক্য বলেছেন: বৎস, তোমার লিখনের ভাল হাত আছে। তবে অনুগ্রহ করিয়া এহেন গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দুটি বা তিনটি পোস্টে ভাঙিয়া দিলে, দৈনন্দিন কাজে ক্লান্ত জনগন পোস্ট পাঠে অধিক আনন্দ লাভ করিত।
৩১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৩
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: পিতঃ, তখন কী আর লোকজন খুঁজে খুঁজে ভাঙ্গা লেখার টুকরা খুঁজে নিত? সমস্যাটা আমিও বোধ করি। ভবিষ্যতে খেয়াল রাখব পিতঃ।
৩২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭
নরাধম বলেছেন: প্রিয় পোস্ট।
৩৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৮
নরাধম বলেছেন: গুজরাটে কিন্তু মুসলিমরা ঈদুল আযহাতে গরু কুরবানী দিতে পারেনা।
৩৪. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪০
রাজর্ষী বলেছেন: গুজরাট? ওয়ান অফ দ্য মৌলহিন্দু এরিয়া।
৩৫. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এই গুজরাত কিন্তু গান্ধি-জিন্নাহ উভয়েরই জন্মস্থল। গুজরাতের লোকজ সংষ্কৃতরি মধ্যে উভয় ধর্মের সমন্বয়ের ধারা শক্তিশালী ছিল এখনও তাদের সংগ্রাম জারি আছে। এগুলোও দেখা দরকার।

নইলে আমাদের চিন্তাও সাম্প্রদায়িক দোষে দুষ্ট হতে পারে।
৩৬. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৮
রাস্তার ছেলে বলেছেন: ভাল পোস্ট। অনেকেই এই মোহেই আচ্ছন্ন যে, সন্ত্রাসবাদ কেবলই মুসলমানদের পেশা। এটা এর আগে অনেকের পোস্টেই খন্ডনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ বুঝতেই চায় না। আসলে ধর্ম নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানই যে প্রধাণ সমস্যা সেটা বোঝাটাই সমস্যার আসল সমাধান।

পি মুন্সীর লেখা পড়ে আরেকটা জিনিস মাথায় এল। পৃথিবীতে বর্তমানে প্রচলিত গণতন্ত্রের আরেকটা বৈশিষ্ট হল, অধিকাংশ দেশেই একটা তথাকথিত সেকুলার আর একটা স্বঘোষীত রক্ষণশীল দলই নির্বাচনের প্রধাণ প্রতিদ্বন্দ্বী। এরা বাই টার্নস ক্ষমতায় আরোহন করে। এগুলো করে রাষ্ট্র ধর্মের আশ্রয় নেয় না সেটা বোঝানোর জন্য। আসলে উভয় পক্ষই সাম্প্রদায়ীক অস্থিরতাকে বাড়তে দেয়। নিঃসন্দেহে সেটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিরই একটা অংশ। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মূল রাজনীতি বৈদেশিক নীতি। আর ৩য় বিশ্বের দেশের মূল রাজনীতি হল সাম্রাজ্যবাদীদের বৈদেশিক নীতির স্বরাষ্ট্রীকরণের রাজনীতি।
৩৭. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: সন্ত্রাসবাদ বলে যাকে ডাকা হয় তা একটা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। একসময় ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাদাতের নামে পোস্টার দিয়ে সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিন বলে পোস্টার ছেপেছিল ব্রিটিশরা। তখন সন্ত্রাসের পথে তারা তাদের রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিল। এখন তারাই আবার অন্যদের সন্ত্রাসী বলছে। সুতরাং কোন রাজনীতি কোন স্বার্থে কেন এ পথে যাচ্ছে, সেটার দিকে খেয়াল দেয়া জরুরি।

এ বিষয়ে অনেকেই লিখেছেন: তালাল আসাদের সুইসাইড বোম্বিং বইটি দেখা যেতে পারে।
৩৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্যটি প্রকাশ করেছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া। পুলিশের হাতে আটক হিন্দু জঙ্গিবাদী সংগঠন অভিনব ভারতের সদস্যরা স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশেও তাদের শাখা রয়েছে এবং বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে এখানেও তারা আক্রমণ চালাবার চেষ্টা করেছে।
এই হলো খবরটার লিংক Click This Link

ওদিকে জালনা বোমা হামলা এবং আসামে সিরিজ বোমা হামলার হোতারা বাংলাদেশি এমন অভিযোগ মহারাষ্ট্র পুলিশ এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গোগই তুলেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে, জালনায় হিন্দু সন্ত্রাসবাদীরা জড়িত ছিল। আসামের বিষয়টি এখন দেখার অপেক্ষা।
৩৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৬
আবদুল্লাহ মামুন বলেছেন: বস, আপনার লেখা ভালো লেগেছে।
কিন্তু একটা বিষয়ে দ্বিমত পোষন করছি, বাংলাদেশ ও ভারত এর অবস্থা এক নয়। বাংলাদেশ এ কোন সাম্প্রদায়িক দাংগা হয়নি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৩৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই