সচল বিষয়ে আগের পোস্ট: যে কারণে আমি সচলায়তনের সদস্যপদ পরিত্যাগ করছি: একটি বিবৃতি
চিরকালই যে যায় সে একাই যায়। কেউ খুশি হয় কেউ কষ্ট পায় কেউবা সে চলে যেতেই চেয়েছিল বলে যাওয়ার দাগটা আরো দ্রুত মুছে দিতে চায়। কেউ অশ্র“তে মোছে, কেউ সেই দাগের ওপর ধুলো-ময়লা-কালি দিয়ে দাগটাকে ক্ষত বানিয়ে তোলে।
কিন্তু যে যায় সে একা যেতে পারে না কখনো। মনের মধ্যে তাকে নিয়ে যেতে হয় কষ্ট, স্মৃতি, সঙ্গসুখস্মৃতি, ফেলে আসতে হয় উদ্দীপনার আভা। ওগুলো দেখানো যায় না। বলা যায় না যে, দেখো তোমরা কী করেছো? কারণ তারা নিজেরাও জানে না তারা তাদেরই ক্ষতি করেছে। বৃক্ষের প্রতিটি পাতাঝরা মাটি টের পায়, বৃক্ষও টের পায় যা ঝরলো তা তারই আত্মজ। এরা বোঝে না। বৃক্ষ মানে এদের কাছে কাঠ প্রাণ নয়, ব্লগার মানে প্রজা, মানুষী মন নয়।
তাজউদ্দীনকে ছুঁড়ে ফেলার জন্য কম লোকই শেখ মুজিবকে প্রশ্ন করে। ট্রটস্কি রাশিয়ার বিপ্লবের অন্যতম কারিগর। জীবিতাবস্থায় তিনিই ছিলেন স্ট্যালিনের প্রধানতম সমালোচক। নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রথম শহীদ তিনিই। কিন্তু আজ যারা স্ট্যালিনের সমালোচক, তারা কিন্তু ট্রটস্কির অবস্থানের সঠিকতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে ভুলে যায়। সত্য ও মতা পাশাপাশি বাস করে না কখনো। কিন্তু রাষ্ট্র যার হাতে, নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, মাউথপিস যার হাতে সেই ঠিক করে কোন সত্য ক্ষমতার সঙ্গে সহবাসী হবে। সত্য তাই অধরাই থেকে যায় বা ধর্ষিত হয়।
তাহলেও আমাদের সত্য বলে কিছু একটা ধরে নিতে হয়। তার নিরিখেই পরস্পরের বিচারও করতে হয়। আমিও করি। কিন্তু তা নিজের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করি। কারণ, আমার সত্য তো আমার সত্য। তা সবার মুখে চেপে ধরি কোন সাহসে?
কথা হচ্ছিল, ব্লগপরিসরের গণতন্ত্র, একনায়কত্ব ইত্যাদি নিয়ে। ব্লগাররা মডারেটরদের মজুর নয় সেই দাবি নিয়ে। কিন্তু অনেকেই দেখলাম, আমার চরিত্র বিচার করতে বসেছেন। আমার উপকারই হলো বরং। আমি শিখলাম। তা থেকে আমার আমিত্বকে নাহয় আরো গুহাবাসী করবো। কিন্তু ভুল জিনিসকে মহিমা দিয়ে বসিয়ে রাখবো না। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদীদের গুহায় পুরে গুম করা হয়, তার বিরুদ্ধে কথা বলবার প্রয়োজন নাই? ভিক্টিমকেই দোষী করা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মোক্ষম নীতি। দেখছি, তার ব্যবহার ব্লগেও বহুল হয়েছে। দেখছি, সামনে এসে একরকম আর রাজ দরবারে গিয়ে সুর পাল্টানোর টেকটিক্যাল এ্যাক্রোবেটিস। দেখছি, আক্রমণকারী ও আক্রান্তকে এক পাল্লায় মাপার বিমানবিক নিরপেক্ষতা!!! আমার বর্ম নাই। আমি নাঙ্গা হয়েই হাজির হয়েছি। আক্রমণগুলো চামড়ায় মিশিয়ে নিয়েছি।
যাঁর যা অস্ত্র তিনি তো তা-ই ব্যবহার করবেন। আমি যুক্তি থেকে কথা তুলেছি, যুক্তি দিয়েই শেষ করি।
১. বলা হচ্ছে, ছবি ছোটো করায় আমি নাকি আপত্তি করেছি। ঘটনা হচ্ছে, ছবিটা নিজে ছোটো করতে না পারায় আমিই অনুরোধ করেছি, ভাই ছোটো করে দ্যান। তার জবাবে তিনি ছোটো করতে না জানার জন্য কান ধরে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। এখান থেকেই শুরু। শুরুটা আমার না, শেষটাও আমার না। আমি কেবল সমান পাল্টা প্রতিক্রিয়া করেছি। এককাঠিও বেশি বাড়িনি এবং ছাড়ও দেইনি। অতীতে দিয়ে দেখেছি, কোনো লাভ হয় না। সামনে না পেরে পেছনে গিয়ে স্যাটায়ার লেখে, ছড়া লিখে প্রতিহিংসার বিকৃত আনন্দ সদলবলে উপভোগ করে।
২. বিষয়টা একদিনের না, দিনে দিনে অজস্র অপমান আর অগণতান্ত্রিকতা জমে ছিল। কতবার কর্তাদের বা তাদের নিকটজনদের বিভিন্ন লেখায় আমার বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী পরিহাস, ছড়া ও গল্প দেখেছি। দেখেছি, অন্য ব্লগারদের ঝাড়ি দেওয়া। সেটা সয়ে যাওয়া সুবিধাবাদীতা হতো আমার জন্য। আবার এও ঠিক যে, ওই মডারেটরদেরও অনেক বড় কাজের উদ্যোগ, সহমর্মিতা, শুভেচ্ছাবোধের প্রকাশ দেখেছি। তারা হয়তো আমার থেকে উচ্চতর মানুষ। তাই উচ্চতায় রেখেই আমি চলে এসেছি।
৩. সচলে অনেকেই আমার লেখাকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেন। অনেকেই ভালবাসেন। তাদের প্রতি আমার অনুভবের প্রতিদান দেবার সামর্থ্য আমার নাই। কীভাবে বলি, আমি আমার অনেক মানসিক বিনিয়োগ সেখানে রেখে এসেছি। কীভাবে বলি, নিজেকে অকপট ভাবে প্রকাশ করার একটি মঞ্চ হারানো কী বেদনার। সেসব বলবার প্রয়োজন নাই। আবারো বলি, কারো কান্না মহত আর কারো কান্না উপেক্ষণীয় তা নয়।
৪. আমি কথা তুলেছিলাম চিন্তা ও কাজ নিয়ে। জবাব এল আমার চরিত্র নিয়ে। একেই বলে পাঁজরায় আঘাত। সচলে আমি মৃত। মৃতের মূল্যায়ন হয়, বিষোদগার করাটা কতটা শোভন? আমাকে কি সেসবের উত্তর দেওয়ার সমান সুযোগ দেওয়া হবে? আমি কি সচলে অবাধ প্রবেশাধিকার পাব? যে কাজটি অনেকে মিলে একা একজনের বিরুদ্ধে করছেন সেটা বেশ। এদেশে গণপিটুনি জনপ্রিয়। মানুষ সম্পর্কেও নতুন শিক্ষা হলো। শিক্ষা কখনো মুফতে আসে না, দাম দিতে হয়। দিলাম।
৫. কেউ কেউ বলছেন, আমি কেন প্রতিবাদটা অন্য ব্লগে দিলাম। এর আগে যখনই সচলে বিতর্ক চালানোর সুযোগ ছিল, তার বাইরে যাইনি। বরং বাইরে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে নিজে গিয়ে সামাল দিয়ে এসেছি। সববারই। কিন্তু এবার যখন আমার কমেন্ট মডারেশন কিউতে জমা দেওয়া হলো। যখন আমাকে অতিথি স্ট্যাটাসে নামিয়ে দেওয়া হলো, তার থেকে বড় কথা, U r no vip here, stay or get lost বলে বিদায় ও মুখবন্ধ করা হলো, তখন আমার কী করণীয় ছিল তা আমি জাতির বিবেক বনে যাওয়া ঐ ব্লগারদের কাছে জানতে চাই। আমার কি বলা উচিত ছিল, 'হুজুর সবসময়ই ঠিক। ভুল আমারই? যেখানে কমেন্ট নেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কিভাবে প্রতিবাদ করতাম? অতীতে মেসেজ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ করেও তেমন ফল পাইনি। আমার আস্থা নড়ে গেছে। সেটা ফিরিয়ে আনা আর সম্ভব নয়। ফলে বিদায়।
৬. খুবই অবাক হই, যখন দেখি ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ না নিয়েই বিভিন্নজন ‘ও আচ্ছা’ বলে রায় দিয়ে দেয়। এবং অবশ্যই তা ক্ষমতাকে তুষ্ট করার জন্য। মনে রাখবেন, ক্ষমতার সামনে উচ্চারিত কথা কদাচ সত্য নয়। সত্য তা-ই যা প্রতিকূলে বসে উচ্চারিত হয়।
৭. অবশ্যই আমার শত্রু আছে। রাজনৈতিক আলোচনা-বিশ্লেষণে যদি কেউ আহত হন আমার কিছু করার নাই। যদি আমার ব্যক্তিগত আচরণে কাউকে আহত হতে হয়, তার জন্য আমি মাপ্রার্থী। কিন্তু যিনি আহত হলেন বলছেন, তিনি কি ক্ষোভের জন্যই বলছেন নাকি ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছেন। আরেকজন জানিয়েছেন, আমি নিয়ম লংঘন করেছি। বেশ নিয়মকে নিগড় বানানো যারা ভালবাসে, শেকলকে ভালবাসার লোকও তারা পেয়ে যায়। তারা দুজনে দুজনার হয়ে সুখে থাকুক।
৮. কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। কারণ, ধাক্কা ছাড়া জগদ্দল পাথর নড়ে না। রাজরথের তলে কেউ পিষ্ট না হলে সেই রথ থামে না। আমার তোলা প্রশ্ন থেকে সচলায়তন যদি কিছুটা শেখে, যদি তা আরো বেশি ব্লগারবান্ধব হয়, যদি ব্লগারদের অনুভূতিগুলোকে মান্য করে, যদি তাদের একাত্মতাকে পরকিয়া না ভেবে আপনকীয়া করে, তাহলে আমার কোনো দুঃখ থাকবে না।
৯. সবচেয়ে খারাপ লাগলো, সুবজ বাঘের একটি স্পর্শকাতর কমেন্টকে পুঁজি করে আমার বিরুদ্ধে সাইকোলজিক্যাল ও মোরাল প্রেসার তৈরি করা। এটা অনৈতিক। সবুজ বাঘ ঠিক বলেননি। কিন্তু সেটাকে খুঁচিয়ে বাড়িয়ে তুলে অন্যরা কি ঠিক করলেন? এক ঢিলে কত পাখি মারতে চান তাঁরা?
সামুতে আমি অনেক আগে থেকে লিখি। সুতরাং সামুতে কথা বলা আচানক ব্যাপার নয় এবং অন্যায়ো নয়।
.....................................
পরিশিষ্ট: এই ছিল সেই অনিষ্টকর আলাপ। এর মাঝখানে কয়টা কমেন্ট ছিল, যেগুলো সেভ করার আগেই মুছে দেওয়া হয়।
১. | মামুন হক [অতিথি] | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৬:০৩
কি ভয়ংকর!!
আত্নধ্বংসী এই লোভী কর্পোরেট দুনিয়াকে জানাই শত ধিক!
উদ্ধৃতি | জবাব
২
২ | ফারুক ওয়াসিফ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৬:৪৭
জ্বি মামুন, আমরা আসলেই তাদের গিনিপিগ। আমাদের মগজ তাদের নানান ভাইরাসে আসক্ত আর আমাদের শরীরের সার্বভৌমত্ব হারিয়ে যায় তাদের নানান ব্যবসার মুনাফার উপাদান হিসেবে। আমার শরীর-মন-যৌনতা-রাগ-বিকার-ক্ষোভ সব কিছুর ওপরই তাদের নিয়ন্ত্রণ। সেকারণে বিশ্বের নতুন-পুরাতন মুক্তিকামী আন্দোলনগুলো এইসব কর্পোরেট আর তাদের প্রেডেটর সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেই আগে দানা বাঁধবে। পুরাতন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ব্যকরণও তাই পাল্টাচ্ছে।
উদ্ধৃতি | সম্পাদনা | জবাব
৩
৩ | নুরুজ্জামান মানিক | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৬:৫০
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
উদ্ধৃতি | জবাব
৪
৪ | অরূপ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৯:৪২
মুছে দিলাম.. সাম্বালকে!
উদ্ধৃতি | জবাব
৫
৫ | ফারুক ওয়াসিফ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ২১:১১
সাম্বালকে! ভাষাটা সাম্বালকে! অ্যাপ্রোচটা সাম্বালকে! আমি এসব বিষয়ে স্পর্শকাতর।
আমার কমেন্ট করার সুযোগ কি বন্ধ রেখেছিলেন?
উদ্ধৃতি | সম্পাদনা | জবাব
৬
৬ | হিমু | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ২১:১৩
বাংলাদেশে বিমানবন্দরের পাশে কোয়ারানটাইনের জন্য কোন ব্যবস্থা কি আছে? আমার জানামতে নেই। এ ব্যাপারে মনে হয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বিদেশ থেকে আগত সংক্রামিত কেউ যদি জনস্রোতে মিশে যাবার সুযোগই পেয়ে যান, তাহলে তো ফ্লু মহামারী আকার ধারণের সুযোগ পেয়ে যাবে।
________________________________________
হাঁটুপানির জলদস্যু
আলো দিয়ে লিখি
উদ্ধৃতি | জবাব
৭
৭ | অরূপ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ২১:২৩
ফারুক ওয়াসিফ,
This is a warning.. Behave or get lost..
You are no VIP here..
............................................................
এটুকু আমি সেভ করতে পেরেছিলাম। তার আগেই আমার আর অরূপের পাল্টাপাল্টি রসিকতার ঢংয়ে কমেন্ট ছিল। অরূপ বড় ছবি ছোটো করে দিতে বললে, আমি বলি 'আমি চেষ্টা করেও পারছি না আপনি কি কাজটা করে দেবেন জনাব?'
যতদূর মনে আছে, অরূপ কাজটা করে দিয়ে যৌনগন্ধি ইঙ্গিত করে বলেন,
বিশালাকায় হয়ে বেরিয়ে ছিল ছোট করে দিলাম। চোখ টিপির আইকন।
আমি জবাব দিই:
বড় জিনিস ছোট করে দেওয়া আপনার বহুদিনের অর্জিত জ্ঞান। ধন্যবাদ। চোখ টিপির আইকন।
তারপর তিনি জবাব দেন,
আপনি যেহেতু পারেননি, সেহেতু কান ধরে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন।
আমি বলি,
প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারি করার খায়েশ আপনার যায়নি দেখছি। অসুবিধা নাই, দেশে আসলে ভর্তি করে দেবনে। আর তর না সইলে আয়নার সামনে গিয়ে যেখানে ইচ্ছা ধরে টানাটানি করেন, ভাল লাগবে।
এরপর অরূপ কী যেন একটা ধমক দিয়ে বলে, আর তারপর ঐ কমেন্টগুলি (যেগুলি এখানে নাই) মুছে দেয়। দিয়ে জানায়, সাম্বালকে! ভাষা সাম্বালকে! মুছে দিলাম।
আমি বলি, বুঝেছেন তো এই ভাবে না এগনোই শ্রেয়।
অরূপ জবাবে তার স্বভাবসুলভ দাপুটে উক্তি বরে আমাকে নিপাত যাও করে দেয়।
আমি এখন নিপতিতই আছি মনে হচ্ছে সচলে তাদের মিথ্যাচার দেখে। দেবতারা আমায় পরিত্যাগ করেছেন। আমার বোধহয় এখন ক্রুশকাষ্ঠে চড়া উচিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

