আমার প্রিয় পোস্ট

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

আমেরিকা বদলাচ্ছে না, বদলাচ্ছেন ওবামা নিজেই

০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

শেয়ারঃ
0 6 0

গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দী নির্যাতনের ফটোগুলো দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। তা থেকেই বুঝি, কেন বারাক ওবামা চান না বিশ্ববাসী ছবিগুলো দেখুক। তিনি কি বিব্রত ও ব্যথিত? নাকি অপ্রিয় সত্যের সামনে বিরক্ত। জানতে সাধ হয়, গণতন্ত্রের বরপুত্র হার্ভার্ডের সাবেক আইনের অধ্যাপক কীভাবে একে জায়েজ করেন?

ওই একই খবরে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিকেও দেখায়। নাহ্, নির্যাতনের হুকুমদাতা মোটেই লজ্জিত ও অনুতপ্ত নন। ওবামার মতো তিনিও বিশ্বাস করেন, এসব প্রকাশ হলে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘৃণার ঝড় উঠবে। নিউজউইক ম্যাগাজিনে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির প্রভাবশালী প্রতিনিধি ফরিদ জাকারিয়া প্রশ্ন তুলেছিলেন ‘তারা কেন আমাদের ঘৃণা করে?’ ‘হোয়াই ডু দে হেট আস?’ আজ তাঁকে জানাই, মহাত্মন এইসব ছবি দেখুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

প্রশ্নটাকে ওভাবে সাজিয়ে শয়তানি করেছেন ফরিদ জাকারিয়া। তিনি বোঝাতে চান এই ‘তারা’ হলো মুসলমানরা আর ‘আমরা’ হলো গড়পরতা মার্কিনিরা। এটা বুশ আর লাদেনের মন্ত্র হতে পারে, কিন্তু সব মুসলিমই মার্কিন বিদ্বেষী আর বাকিরা আমেরিকার আশেক এমন কথা ডাঁহা মিথ্যা। গণহত্যা-আগ্রাসনকে ঘৃণা জানানো কারো একচেটিয়া ব্যাপার নয়, লক্ষ লক্ষ মার্কিনিও ইরাকে হামলার বিরোধী ছিলেন। তাদের সংখ্যা এখন কোটি কোটি; ওবামার বিজয়ই তার প্রমাণ।

ওবামার বিজয় প্রতিশ্রুতির বিজয়। ইরাক থেকে সৈন্য সরানো, গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করা, আমেরিকার গরিব-দুঃখী মানুষের দায়িত্ব নেওয়া, ইত্যাকার গণদাবি পূরণের ওয়াদার বলে ওবামা বীরের জয় পান। কিন্তু তিনি কথা রাখছেন না। রাখবেন যে সে ভরসাও নাই। বুশ আমলে যে দশ লক্ষ মার্কিনিকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখে নজরদারি করা হচ্ছিল, সরকারি কর্মচারি ও সেনাদের দেশে-বিদেশ গণবিরোধী কাজকে প্রকাশ বা বিচার করা যাবে না বলে যে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা আরো জোরদার হচ্ছে। তবে কি পুরোটাই পরিহাস? ওবামাও কি মার্কিন সামরিক-কর্পোরেট মহলের হাতের পুতুল? এর উত্তর ইতিহাসই দিক। আমরা কেবল ভাবছি ওইসব ছবির কথা। সাবেক মার্কিন জেনারেল আন্তোনিও তাগুবার ভাষায়, ‘বিশ্বাস করুন, ওই সব ছবির সামান্য বর্ণনাও সহ্য করা কঠিন।’ তাঁকে অবিশ্বাসের কিছু নেই। তিনি ইরাকের আবু গারাইবে বন্দী নির্যাতনের তদন্ত করেন এবং প্রতিবেদন জমা দেবার পর বরখাস্ত হন। যে নগ্ন, শেকল পরানো, চোঙ দিয়ে মুখ ঢাকা, রক্তাক্ত, নিজের বিষ্ঠা ও মূত্র খাওয়া ও মাখানো মানবদেহের মাংসপিণ্ড দেখেছি, তা ভোলা কঠিন। ইলেকট্রিক শক দেওয়া, কুকুর দিয়ে ছিন্নভিন্ন করা, হাত-পা ভাঙা, অসহনীয় পানির চাপের মধ্যে অজস্রবার চোবানো, মলদ্বারে লাঠি-টিউব-কাঁটাতার ঢোকানো, নখ উপড়ানো, এসিড গেলানো, গণধর্ষণ, যৌনাঙ্গে আঘাত করা, গলায় দড়ি বেঁধে কুকুরের মতো টেনে নেওয়া, এক বন্দীকে দিয়ে আরেক বন্দীকে ধর্ষণ করানো, একজনের যৌনাঙ্গ আরেকজনের মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া, নগ্নদেহগুলোকে মরা মুরগির মতো স্তূপ করে তার ওপর নাচা, দিনের পর দিন ঘুমাতে না দেওয়া; কী করা হয়নি তাদের ওপর?

মা-কে বন্দী করা হয়েছে। সঙ্গে নাবালক সন্তান। বোরকা পরা সেই মা-কে ১০-১২ জন মিলে ধর্ষণ করেছে। তাকে শেষ করে শিশুদের ধরেছে। সেসব দৃশ্য ভিডিও করে পর্নো সাইটগুলোতে তুলেও দেয়া হয়েছে! খেয়াল করুন, ঠাণ্ডা মাথায় নির্যাতনের পর তাদের লণ্ডভণ্ড-রক্ত-গু-মুত মাখা শরীরে পা তুলে হাসিমুখে ছবি তুলছেন আপনি_সদ্য শিকার করা বাঘকে পদানত করার তৃপ্তি ফুটে উঠছে আপনার চোখে-মুখে! আনন্দের ভাগ দিতে সেই সব ফটো বন্ধুকে পাঠাচ্ছেন, কিংবা দিচ্ছেন পর্নোসাইটে!!!
১৪ বছরের ইরাকি কিশোরী জানাবিকে বাবা-মা আর ছয় বছরের বোনের সামনে ধর্ষণ করা হয়। কাজ শেষে তাদের চারজনকেই গুলি করে মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া ১৭ বছর বয়সী ইয়েমেনি নাগরিক আলি আহমেদকে তার মেসের আরও ১৫ জনসহ আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় গুয়ানতানামো কারাগারে। সেই দোজখবাস পাঁচ বছর সহ্য করার পরপর ভাগ্যের জোরে মার্কিন আদালতের রায়ে সে নির্দোষ প্রমাণিত হয়। তত দিনে ওই ১৫ জনের ৫ জন আত্মহত্যা করে। এগুলো হরেদরে বলা উদাহরণ মাত্র।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে যুক্তিই থাক, তার সঙ্গে গণহত্যা, নির্যাতন ও পাশবিকতা অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে। ওবামা ও তাঁর দল বলেছিল, পরিবর্তন আসবে। সকলই গরল ভেল। বুশ-চেনি আর ওবামা-হিলারি যেন ব্যাটমান সিরিজের নতুন ছবি দা ডার্ক নাইট -এর ভিলেন আর নায়কের ভূমিকায়। সেখানে ভিলেন বলে ব্যাটম্যানকে, আমাতেই তুমি পূর্ণ হবে। হ্যাঁ, কালো ওবামা সাদা বুশ/চেনির কাজকেই সম্পূর্ণ করছেন। আমেরিকা বদলায়নি, ওবামাই বদলে যাচ্ছেন। বুশের কায়কারবারে আমেরিকার ভাব ও মূর্তি অর্থাৎ আদর্শ ও ক্ষমতার ভিত নড়ে গিয়েছিল। মানুষ বুশের মধ্যে এক রক্তপিপাসু খুনীকে দেখে যতটা না আঁতকে উঠেছিল, তার থেকে বেশি ত্রাসিত হয়েছে বুশ সরকারের যুদ্ধকে শান্তি, অন্যায়কে ন্যায়, দমনকে গণতন্ত্র বলে দাবি করার দম্ভ দেখে। ষাট দশক থেকে অনেক দেশেই সিআইএ গোপন কারাগার চালায়, বিভিন্ন দেশের সন্দেহভাজন শত্র“দের সেখানে রেখে শায়েস্তা করে। বিশ্বের অনেক দেশের সেনাবাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, ক্যু ইত্যাদির সবক দেওয়া বা মার্কিন সেনাদের প্রশিণ ম্যানুয়ালে ১৯ রকম নির্যাতনের পদ্ধতি থাকাও ওপেন সিক্রেট। কিন্তু তারা নিজেরা কখনো এসবকে বুশ গংয়ের মতো করে জাতীয় নিরাপত্তার ‘বৈধ অঙ্গ’ বলে খোলাখুলি দাবি করেনি। ওবামা এখন ন্যাংটো রাজার গায়ে পোশাক পরাতে নেমেছেন। বুশ আমেরিকাকে চোরাবালিতে টেনে নিয়েছিলেন, ওবামা সেটাকে আবার প্রশস্ত পথে আনতে চান। তাই অভিষেক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরকে পাথুরে ভিত্তি দিতে হবে।’ কেমন পাথুরে সেই ভিত?

গুয়ানতানামো ও বন্দী নির্যাতন বিষয়ে ওবামার নির্দেশের সারমর্ম হলো: ১. সন্ত্রাস, নির্যাতন, আটকাদেশের মেয়াদ ইত্যাদির সংজ্ঞাকে অস্পষ্ট রাখা যাতে তারা আগের ধারা বহাল রাখতে পারে, তবে গোপনে। ২. এসব কাজ নিজেরা না করে আউটসোর্সিং-য়ের পন্থায় তথা এমন দেশে করা যেখানে এগুলো নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে না। ৩. জর্ডান, কাতার, পোল্যান্ডের মতো দেশে গোপন বন্দিশিবিরগুলো বহাল রাখা এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে নতুন দুটি বিরাট সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা। এই হলো ওবামার ‘চেঞ্জের’ মাজেজা। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় চালানও তো একটা পরিবর্তন, তাই না?

বিশ্বের কোনো আইনেই বন্দী নির্যাতন জায়েজ নয়। ওবামাও সেটাই মনে করেন। তার পরও তা চলবে, কারণ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধে বিজয়ী হতে হবে, নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য দিয়ে আগাম সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে! যুদ্ধই যদি তা, তাহলে বন্দীরা যুদ্ধবন্দীর অধিকার পাবে না কেন? সাবেক মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড বলেন, তারা ‘বেআইনি যোদ্ধা’। কারণ তাদের পেছনে কোনো রাষ্ট্র নেই। তাই জেনেভা কনভেনশন তাদের বেলায় খাটবে না। যুক্তিটা এমন, আপনার চোখ তুলে নিয়ে আপনাকেই দোষানো হচ্ছে, আপনি দেখেন না কেন?

বিষয়টা যাচাই দাবি করে। প্রথমত, দেখা যাচ্ছে যে আটককৃতদের বেশির ভাগই নিরীহ বিদেশি নাগরিক, সুতরাং তাদের দেওয়া তথ্য দিয়ে কীভাবে সন্ত্রাস মোকাবিলা সম্ভব? দ্বিতীয়ত, নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য কতটা বিশ্বাস্য? মার্কিন আইনে এ ধরনের সাক্ষ্য ভিত্তিহীন। এর সঙ্গে যে অপরাধের বিচার বা শাস্তির সম্পর্ক নেই তা পেন্টাগনের আইনবিদরাই মানছেন।

এ ধরনের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন ঘটছে বন্দীরা ‘কিছু জানে’ এই অজুহাতে। কীরকম সেটা? একটি উদাহরণ দিই। গত ২৬ মে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় সংবাদ আসে যে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নাগরিককে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। জামিল রহমান নামের ওই ব্যক্তি ২০০৫ সালে বাংলাদেশের একটি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হন। তাঁকে তাদের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এমআই ফাইভের দুই এজেন্টের উপস্থিতিতে তাঁকে নগ্ন করে পেটানো হয়। ‘তথ্য না দিলে’ পাশের ঘরে আটক তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তি বলেন যে, তিনিই লন্ডনের পাতালরেলে বোমা হামলার হোতা। দুই বছর পর তিনি ছাড়া পান এবং ব্রিটেনে গিয়ে বেআইনি আটক ও নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে মামলা ঠুকে দেন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান-মিসর-কলম্বিয়া-সোমালিয়া প্রভৃতি দেশে রকম ঘটনা আকছার ঘটে চলেছে। র‌্যাব ও ডিজিএফআই-এর সঙ্গে মার্কিন-ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার প্রশিক্ষণ, বন্দী-হস্তান্তর ইত্যাদি ব্যাপারের মাখামাখিও এখন অনেকটা প্রকাশ্য।

স্রেফ সন্দেহের ভিত্তিতে নির্যাতন মানবতাবিরোধী। মুসলিম মানেই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী, এ রকম চিন্তা হিটলারি চিন্তা। কেউ খুন করতে পারে এই অনুমানে তাকে আগাম খুন করার বুশীয় নীতিও কি তেমন নয়? এসব ঘটনা আইনী বাহিনীর সন্ত্রাসমূলক আচরণেরই প্রমাণ। বুশ সন্দেহের বশে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, সেই সন্দেহের মূল্য দশ লাখ মানুষের মৃত্যু আর দেশটির ৫০ বছর পিছিয়ে যাওয়া। তেমন সন্দেহের বশে ড্রোন হামলা করে নিরীহ মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের মূল্য যে আইন ও নৈতিকতার ধ্বংস, তা কি তাঁরা বোঝেন? এ দুটো বাদ দিলে মানুষ আর পশুতে ফারাক ঘুচে যায়, সমাজে কায়েম হয় জংলি শাসন।

হাজার হাজার বছরে অনেক মূল্য দিয়ে মানবজাতি যেসব আইন ও নৈতিকতাকে অলঙ্ঘনীয় বলে প্রতিষ্ঠা করেছে, আজ সেসবের গোড়ায় কুড়াল পড়ছে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাসী হয়ে যেতে পারে, আইন ভাঙতে পারে কিন্তু রাষ্ট্র যখন খোলাখুলি রক্তপিপাসু আচরণ করে, তখনই ‘সব কিছু ভেঙে পড়া’র কেয়ামত নামে। কেননা রাষ্ট্র এই দাবিতেই প্রতিষ্ঠিত আছে যে তা জ্ঞানত অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না, প্রতিহিংসার রিপু দ্বারা চালিত হবে না। এই আস্থা নড়ে গেলে আমরা কিভাবে আর পরস্পরকে বিশ্বাস করবো? কীভাবে বিশ্বাস করবো আমারে রাষ্ট্রকে? অথচ কিনা গোপন আদালত, অপহরণ, নজরদারি ইত্যাদির মাধ্যমে আসলে দাবি করা হচ্ছে যে, তাদের সকল কাজই মহৎ উদ্দেশ্যের নিমিত্তে। ধার্মিকরা যেভাবে ঈশ্বরের কর্মে পরম আস্থা রাখে, রাষ্ট্রও আজ তেমন বিশ্বাস ও আনুগত্য দাবি করছে। সন্ত্রাস দমনের সকল আইন ও কাজের নিহিত অর্থ এটাই।

বন্দী নির্যাতন কোনো যুক্তিতেই বৈধ নয়, যেমন ধর্ষণের পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এটাই প্রগতি, এটাই সভ্যতা। এর পে সওয়াল করা বর্বরতার সমান। আজ একদিকে কিছু মানুষ মানবোত্তর দানব হয়ে বাদবাকিদের বানাচ্ছে মানবেতর। রোমান সাম্রাজ্যের আইনে এরকম বাতিল মানুষকে বলা হতো ‘হোমো সাসের’। এদের হত্যায় অপরাধ হতো না, আত্মপক্ষ সমর্থনের বালাই তাদের জন্য খাটতো না। এমনকি তাদের মৃত্যুও মহিমাহীন। আজ ‘সন্ত্রাসবাদী’রাই নয় কেবল; রুয়ান্ডা, বসনিয়া, আফগানিস্তান বা ফিলিস্তিনের মানুষ বা অশ্বেতাঙ্গ যুদ্ধবন্দীদের হোমো সাসেরের স্ট্যাটাসে নামানো হয়েছে। এদের নিয়ে যা খুশি তা-ই করা চলবে কিন্তু একেবারে ফেলেও দেওয়া হবে না। দুর্ভি-মহামারি বা গৃহযুদ্ধে তারা ‘মানবিক হস্তপে’ (আফগানিস্তান বা দারফুরের মতো) পাবে। এক হাতে কিছুকে মেরে কিছুকে রেখে ‘শান্তি’ কায়েম চলবে, আরেক হাতে দেওয়া হবে ত্রাণ। বোমারু বিমান আর মানবতাবাদী সাহায্যের বহর এক প্যাকেজেরই অংশ। এক আফগান হোমো সাসের এর রহস্য না বুঝে এক সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করে সে, যে বিমানটি চক্কর মারছে সেটা কী ফেলবে বোমা না রুটির বস্তা? এই হলো আমাদের অবস্থা।

এই বাস্তবতায় শান্তি ও যুদ্ধ সমার্থক। হিটলার যুদ্ধাবস্থাকে জার্মানির জন্য সাধারণ অবস্থায় পরিণত করেছিলেন, আর আজকের আমেরিকা যুদ্ধকেই শন্তির সহযোগী করে দাঁড় করাচ্ছে, শান্তির পর্দা ঝুলিয়ে রেখেই একের পর এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। মানবেতর হোমো সাসেরদের দেশে যখন যুদ্ধ চলে তখন নিউইয়র্ক-লন্ডন-প্যারিস-আমস্টারডামে বিরাজ করে শান্তি। এ তরিকা ক্ষমতাবান আর ক্ষমতাহীন উভয়কেই অ-মানুষ বানাচ্ছে। দৈত্য হতে গিয়ে একদল নীতি-নৈতিকতাকে ভাসিয়ে দিচ্ছে, আরেক দল অধিকার বর্জিত হয়ে ‘অবলা’ জীবের ভাগ্য বরণ করছে। দানবকে মানুষে পরিণত না করে তাই সম্ভব না মানবেতর হোমো সাসেরদেরও মানুষের জীবন দেওয়া।
এক অত্যাচারির পতনে দুটো মানুষ মুক্ত হয়। একজন সে নিজে, অপরজন যে নির্যাতিত। আসনু, আমরা উভয়েরই মুক্তি কামনা করি।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
রাজর্ষী বলেছেন: ভালো লাগলো না। বেশী বলে ফেলেছেন। কোনোভাবেই ওবামা আর বুশ এক জিনিষ না।
২. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: সেটা তো বলিনি যে, এক জিনিস? এক জিনিস হলে তো ওবামার প্রয়োজন ছিল না। মোটেই বেশি বলেছি বলে মনে হয় না, বলতে পারেন বেশি আগে বলে ফেলেছি।

মার্কিন প্ল্যানের মধ্য প্রাচ্য চ্যাপ্টার প্রায় সম্পূর্ণ। সেখানে এখন এক টুটাফাটা স্বাধীন ফিলিস্তিন দেখতে পেলেও আমরা খুশি। এর বাইরে আর কিছুই পাল্টাচ্ছে বলে মনে হয় না।

সম্রাটদের আমরা সমসময় আপন করে পেতে চাই, চাই যে তারা যেন আমাদের নৈতিক আশা আর বাস্তব অক্ষমতা পূরণ করেন। অতি-ক্ষমতার প্রতি আমাদের মন এমনতি্ই ঝুঁকে থাকে। সে যাহোক, আমি যা বুঝেছি তাতে পরিবর্তনের ভরসা আমার নাই। আপনি কীভাবে তা করছেন, সেটা কিন্তু জানা হলো না।
৩. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
সীমন্ত ইসলাম বলেছেন: ওবামা কথা বার্তা অন্তত: এখন পর্যন্ত ইতি বাচক। হয়তো বলতে পারেন মন্দার যুগে এটা একটা পররাষ্ট্র নীতির কৌশল - কিন্তু সে মন্তব্য হবে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের কারনে। অন্তত: পৃথিবীর মানুষ তার কথা শুনা মাত্র বিরক্তি আর ক্ষোভে কষ্ট পাচ্ছে না, যেমটি হয়েছিল পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর কথায়।
৪. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩৩
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: হুম, ওবামার অ্যাপ্রোচ একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদের আর বুশ হচ্ছে একটা ঘেয়ো কুকুর কিন্তু কথা বললে মনে হয় ইঁদুর।

পশ্চিমা বিশ্ব কয়েক দশকের মধ্যে ওবামার মধ্যে একজন রাজনৈতিক নেতাকে পেল।
৬. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: এমনটিও কি হওয়ার কথা ছিলো না!

ওবামা যে কোন পরিবর্তনই আনতে পারবেন না, এমনকি নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতিও যে রাখতে পারবেন না, এইটা তো জানা কথা।

মার্কিন কর্পোরেট-মিলিটারি কমপ্লেক্সে সাথে দরকষাকষিতে( যদি আদৌ সে সেটা চায়) মার্কিন প্রসিডেন্ট নিজেই অসহায়।

হাকিম নড়ে কিন্তু হুকুম নড়েনা।
৭. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৯
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ওবামার সঙ্গে বুশের পার্থক্য এখানেই যে, ওবামা মুসলিম দুনিয়াকে মানুষের সমাজ বলে স্বীকার করেছেন, বুশের মতো বলেনি তারা অপদার্থ, সন্ত্রাসী, পশ্চাদপদ এবং দুনিয়ার বোঝা।

এ ছাড়া মূল যে কারণগুলো পরস্পরকে মুখোমুখি করেছে সেসব ব্যাপারে কিছুই বদলায়নি। একেক করে আসি:

ইসরায়েল: আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক আনব্রেকেবল বলে ইসরায়েলের চলতি বসতিস্থাপনকে ছাড়পত্র দেওয়া। জেরুজালেম ইসরায়েলের চিরন্তন রাজধানী।

ফিলিস্তিন: গাজার মানবিক দুর্দশা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অনুকূল নয়। ফিলিস্তিনীদের অস্ত্র ত্যাগ করা উচিত। জেরুজালেমের ভাগ তারা পাবে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে, কবের মধ্যে তা নিযে কোনো কথা নয়। ১০ বছর পরেও হতে পারে, ১০০ বছর পরেও হতে পারে। গাজার অবরোধ, দখল ও ১৩০০ মানুষের গণহত্যা নিয়ে সামান্য সমবেদনাও ওবামা দেখাননি।

ইরাক-আফগানিস্তান-পাকিস্তান: মার্কিন যুদ্ধ চলবে।

ইরান: পারমানবিক বোমা বিষয়ে আমেরিকা যতটা নাছোড়, ফিলিস্তিনী জবরদখলী বসতি স্থাপন নিয়ে মোটেই নয়।

তারপরও মনে মনে কলা খাওয়ার কলাবিদরা বলতে থাকবেন, ওবামা বিশ্বের আশীর্বাদ।

৮. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:২১
সীমন্ত ইসলাম বলেছেন: আর একটা কথা, ওবামা যদি পরিবর্তন সত্যিই আনতে চান তবে তা তাকে করতে হবে মার্কিন রাজনিতিতে ক্রিয়াশীল শক্তিগুলোর আস্থা অর্জনের মাধ্যমে। দীর্ঘমেয়াদে প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা মাথায় রাখলেও, শুরুতে তাকে কিছুটা সরে আসতেই হবে এজন্য।
৯. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:২৮
ভাবারূ বলেছেন: আপনার সাথে পুরোপুরি একমত। কোনও বন্দির উপরই নির্যাতন কাম্য নয়। আর ওবামা পৃথিবীর সবচেয়ে উচু দরের বক্তাদের একজন। আমাদের পাবলিক কম্যুনিকেশনের ক্লাসগুলোতে শিক্ষকরাও বারে বারে ওবামার উদাহরণ দেন। কিন্তু নিতীগত ব্যাপারে সে যে বুশ কিংবা অন্যান্য আমেরিকান প্রেসিডেন্ট থেকে খুব বেশি আলাদা.. তারও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: ওবামা যে গ্রেট বক্তৃতা দিয়েছেন কিন্তু কোনো বুনিয়াদি পরিবর্তনের নির্দেশনা দেননি, তার জবাবে এখন লাদেন টেপওয়ালাদেরও উচিত একইরকম গ্রেট বক্তৃতা দেওয়া। বক্তৃতায় যদি দুনিয়া বদলাতো, আহা!

১০. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১
সীমন্ত ইসলাম বলেছেন: তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে মার্কিন জনগনের মতামতটাই অবশ্যই তার কাছে সবার আগে। অন্যরাষ্ট্রের স্বার্থ তো তারা দেখবে কিছু সুবিধা পাবার বিনিময়ে।
১১. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আর যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই হয়ে দাঁড়ায় তৃতীয় দুনিয়ার আরব-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে, সেক্ষেত্রে আমাদের কী করা উচিত। আমি মনে করি না, বৃহত্তর মার্কিন জনগণের স্বার্থ আর তাদের রাষ্ট্রের বিজনেস-মিলিটারি-ওলিগার্কিক এলিটদের স্বার্থ এক। তাই আমাদের জন্যই নয় কেবল, মার্কিন জনগণের স্বার্থেই আমেরিকাকে পাল্টাতেই হবে, নইলে বাকিসব সাম্রাজ্যের যা পরিণতি তারও তাই হবে, নাহলেও তা হতে হবে, করতে হবে।

যে রাষ্ট্র অপর জাতিকে শোষণ করে, সে কিন্তু নিজের জাতিরও উপকার করে না। করে কেবল জাতির অল্প কিছু মানুষের।
১২. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০০
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: আপনের মতো বুদ্ধিজীবীরা চায় ওবামা ঘোষণা দিক "আমি মুসলমান হয়া গেলাম"..তাইলেই পরিবর্তন চোখে পর্বো নাইলে পর্বোনা। স্বভাবত:ই পোষ্টে মাইনাস।
০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ভাই বায়েজীদ আমি খাঁটি বুদ্ধিজীবী এখনো হয়া উঠবার পারিনি। আপনাদের দোয়াতেও তা আমার পক্ষে হওয়া সম্ভব না। মাথার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত ও পা দুটোই চলে যে!

আমি চাই:

১. মুসলমান অমুসলমান ক্যাটেগরির বদলে জাতি ও শ্রেণী পরিচয়কে আমলে নেওয়া হোক। ফিলিস্তিনীরা মুসলমান বলেই নির্যাতিত তা ঠিক নয়, তারা সাম্রাজ্যবাদের শিকার। মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা সভ্যতার সহজাত ঘৃণার আলোচনা আসবে, তবে আগে তাকে সেকুলার প্যারাডাইমে আলোচনা করবার শর্ত পূরণের পর।

২. চাই না কোনো বর্বর প্রেসিডেন্ট কথায় কথায় মুসলমান-বিদ্বেষ ছড়ান। একইসঙ্গে ওবামার কাছ থেকে মুসলিমদের প্রশংসার নামে ঘুষ, কিংবা কোরানের ক্লাস নেওয়ার মশকরা। আমেরিকার সমস্যা তার ফরেন পলিসি, তার রিসোর্স দখল ও যুদ্ধবাণিজ্যের রিপু, সেগুলো তারা কীভাবে সামলাবে সেটাই আমাদের শোনার ইচ্ছা।

৩. আমরা তৃতীয় দুনিয়াবাসী, সাম্রাজ্যের শিকার জনগণ ঘৃণা ও প্রশংসা কোনোটাই চাই না, পরাশক্তি যেহেতু রয়েছেই, তার কাছ থেকে সুবিচার ও ন্যায় তো প্রত্যাশা করতেই পারি। না পেলে পারি রুখে দাঁড়াতেও। সেটা আমাদের অধিকার।

৪. আমি চাই না ওবামা তার গায়ের রং দিয়ে বিশ্বের কালো মানুষদের এবং মধ্যনাম 'হুসেইন'কে দিয়ে বিশ্বের মুসলিমদের সঙ্গে নতুন করে প্রতারণা করুক। ওবামার প্রধান পরিচয় সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির প্রেসিডেন্ট। ব্যস। তিনি যদি আমেরিকাকে সংযত করতে চেষ্টা করেন, তবে অবশ্যই আমাদের ভালবাসা পাবেন। তা না করে কথার ফুলঝুরিতে চিড়া ভিজবে না, ভেজাতে দেওয়া যাবেও না।

৫. ওবামার মুসলমান হওয়া বা ইউনূসের গরিব দরদী হওয়ার যাত্রাপালায় আমাগো কোনো আনন্দ নাই ভাইজান।

তা ভাইজান কি স্বভাবতই মাইনাস দিয়ে থাকেন, না এইখানেই দিলেন।

১৩. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯
রণবাজ বলেছেন: রেইপ এট গান পয়েনট = বুশ
রেইপ এট মিউচুয়াল পয়েনট = ওবামা
০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: ওবামার যে মিশন: বুশের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা, তা ভয় দেখিয়ে হবে না, আপসে হবে। সৌদি বাদশাহি, মিসরি স্বৈরশাহী, কাতারি আমিরাতি আর পাকিস্তানী ফৌজিশাহীর সঙ্গেই তো মাখামাখি হচ্ছে, তাই না? জাতীয়তাবাদী ইরান-ভেনেজুয়েলা-লেবানন বা মুক্তিকামী হামাস-জাপাতিস্তাদের বেলায় তো ওবামা বুশের মতোই যুদ্ধদানব।

১৪. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: "বক্তৃতায় যদি দুনিয়া বদলাতো, আহা! "

যথার্থ ।
১৫. ০৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৫
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: প্রথমআলো তেই পড়লাম!
আমেরিকা আমেরিকাই, ওবামা তো দুরে থাক স্বয়ং ইশ্বর ক্ষমতায় আসলেও আমেরিকা বদলাবেনা!!
১৬. ০৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আপনার সাথে পুরোপুরি একমত। কোন না নেই। দারুণ বলেছেন।
১৭. ০৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: এইটা আমেরিকানদের পলিসি। ১০ বছর রাজ্য দখল, পরের ১০ বছর আগের দখল করা রাজ্য ধইরা রাখা...বলা যায় কুলিং পিরিয়ড। পরের ১০ বছরের শান্তিকামী(!) প্রেসডেন্টদের কেউ কালো চামড়া আর মুসলমান নাকি মুসলমান না সেই প্রশ্ন দিয়া বিশ্বকে ব্যস্ত রাখে, কেউ মনিকারে নিয়া মাতায়া রাখে। তবে ওবামা ক্লিনটনরে মানুষ ভাল বলবেই... যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভালো বানায়া দাড়া করাইসে। বুশরে বানাইসে ভিলেন। ব্যাপার না। সবই ওদের পলিসি।
১৮. ০৬ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৩
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: ওবামা তার ভাষনে ইম্পর্টেন্ট দুইটা কথা বলছে, এক.আমেরিকা যে কোনো মূল্যে তার স্বার্থ রক্ষা কর্বে, ২ ইসরাইলের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক অবিচ্ছিন্ন। এইটা কি দোষের? আমেরিকা কেন, পাগলেও তো নিজের ভালো বুঝে, তাইনা? আমি ভাষন দিলেও তো কমু যে কোনো মূল্যে আমার দেশের স্বার্থ আগে। দরেন, টিপাইমুখ বাধ আমার দেশের জন্য ক্ষতি, আমি চাইনা, আবার এটা না করলে ইন্ডিয়ার মানুষের জন্য ক্ষতি, তাইলে উপায়টা কি?জোর যার দখল তার। ঠিক কিনা? সেখানে দরকষাকষি করে যতটুকু সুবিধা আদায় করা যায়। আমেরিকার ক্ষেত্রেও তাই। সে রাতারাতি সব পাল্টায়া দিবো, এইটা ভাবার কিছু নাই। সে তার বক্তৃতায় উল্লেখও করছে,সব কিছুই বদলাবে তবে রাতারাতি নয়।

আপনি বলেছেন.."মুসলমান অমুসলমান ক্যাটেগরির বদলে জাতি ও শ্রেণী পরিচয়কে আমলে নেওয়া হোক। ফিলিস্তিনীরা মুসলমান বলেই নির্যাতিত তা ঠিক নয়, তারা সাম্রাজ্যবাদের শিকার। মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা সভ্যতার সহজাত ঘৃণার আলোচনা আসবে, তবে আগে তাকে সেকুলার প্যারাডাইমে আলোচনা করবার শর্ত পূরণের পর।" এই লাইনকয়টারে আমার একদিকে "ইউটোপিয়ান" এবং আরেক দিকে "ফালতু" বকবক মনে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যাটা পুরাপুরিই ধর্ম ভিত্তিক। ইসরায়েলরে ইহুদি বইল্যা যতলুক গাইল দেয়, আমার মনে হয়না আমেরিকা বা ইসরাইলের ততলোক ফিলিস্তিনীগোরে মুসলিম বইল্যা গালি দেয়। সো, আমেরিকা মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা সভ্যতার সহজাত ঘৃণার আলোচনা আসবে আপনের এই বক্তব্যের সাথে একমত না। তারা সেকুলার প্যারাডাইমেই আছে, অন্তত: আমাদের (মুসলিম জাহানের) চেয়ে অনেক বেশি, না হলেও যে কোনো সময় সেকুলার প্যারাডাইমে যেতে পারবে। ওবামার বক্তব্যটাই তো তার উদাহরন। সব ধর্মের সহাবস্থানের কথাই তো সে বললো। কিন্তু আপনের তথাকথিত মুসলিম জাহানের কয়টা দেশ রেডি আচে সেকুলার আপনার তথাকথিত প্যারাডাইমে যায়া আলোচনার জন্যে প্রস্তুত?সো আমেরিকার বা বারাক ওবামারনা, বদরানো দর্কার মুসলিণম বিশ্বের এটিচুডও।


এইবার আসেন আপনের শিরোনামে "আমেরিকা বদলাবেনা, ওবামা নিজেই বদলাবে।" এক লাইনে এই প্রত্যাখ্যান নিয়েই আমার আপত্তি, আমেরিকা বদলানোর সংজ্ঞা কি? মোটা দাগে কিংবা এক লাইনে হয়না, তাইনা? আমেরিকার ওয়ার্ল্ড এনগেজমেন্ট এতো বেশি, যে একটা বই লিখতে হবে যে এই এই কাজগুলি সংশোধন করলে বোঝা গেলো আমেরিকা বদলাবে?

১. ওবামা পরিষ্কার বলেছেন গুয়ান্তানামো বে কারাগার আগামী বছরের গোঁড়াতে বন্ধ করে দেবেন। এইটা নিয়া বুশের আমলে যা কিছু হৈছে সেডির সমালোচনাও করছেন তিনি, এইটারে কি বদলানো কৈবেন না?
২.ইরাক থেকে ২০১২ সালে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলেছেন, এইটা একটা সুনির্দিষ্ট টাইম রাইন। আগের সরকার যা দেয়নাই। এইটারে কি বদলানো কৈবেন্না?

৩. নারীর স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে যে অবস্থানগুলি নিলো ওবামা, এইটারে কি পরিবর্তন কৈবেন্না?

তার ব্কতব্যে এরকম প্রতিটি ইস্যূতে তার দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, যার মাঝে বুশের চে অনেক স্বচ্ছতা এবং পরিবর্তন আছে। সে তো ক্ষমতায় আসছে ৩/৪ মাস। একটু দেখেন, ...তারপর বলেন তিনি বদরাবে নাকি আমেরিকা বদলাবে? আর গুরুত্ত্বপূর্ন একটা বিষয় এড়িয়ে গেছেন, আসলে আগে বদলেছে আমেরিকা, তাকে বদলেছে ওবামা। নাহলে কি একজন কালোকে প্রেসিডেন্ট বানাতো তারা?

স্ববাবত: না, দ্বিমত আছে বলেই মাইনাস।
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩১

লেখক বলেছেন: আপনি দেখতে থাকেন।

আমেরিকা তার স্বার্থে বলবে, মারবে, লড়বে এতে আমার আপত্তি নাই। কিন্তু যারা আমেরিকার হয়ে তর্ক করে তাদের ধান্ধাটা কী আসলে?

কালোকে প্রেসিডেন্ট বানানো সহজ না, আবার বানানোতে যখন কিছু বদলায়তো না-ই উপরূন্তু কালোর ইমেজকেও বিক্রি করা যায়। বাচ্চাদের জন্য সবসময়ই ঝুনঝুনি লাগে। তাই আর কি।

গুয়ানতানামো বন্ধের ফান্ড কংগ্রেস আটকে দিয়েছে। আর আমার লেখায় স্পষ্ট করেই বলেছি যে, নির্যাতন ইত্যাদি আগের থেকে জোরেশোরেই চলবে, তবে তা হবে আমাদের মতো দেশে। আউটসোর্সিং।
বাকি অনেক কথার উত্তর আমার লেখাতেই আছে।

১৯. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:২০
রাজর্ষী বলেছেন: সম্রাটদের আপন করে পাবার তত্ত্ব দিয়ে আপনে তো আমাকেও বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্তটাও মনে নিয়ে ফেলেছেন। কোন কিছু বোঝার নিরন্তর চেষ্টা করা ভালো কিন্তু চট করে সিদ্ধান্ত টানা ঠিক্না।
ওবামার পরিবর্তনের কথার উপর ভরসা করা বা না করার আগেই আমি বলবো ওবামা ক্ষমতায় যাওয়াটাই একটা বিশাল পরিবর্তন। এটা বুঝতে হলে তার ব্যাকগ্রাউন্ড এর একটা অংশ যা ম্যালকম এক্সদের সাথে সম্পর্কিত তা জানতে এবং বুঝতে হবে।

নির্যাতন সব সময় খারাপ তবে এটা মানব ইতিহাসের অংশ। মিউজিয়ামে গেলেই দেখতে পাবেন কত প্রাচীন যন্ত্র আছে। সব শক্তিশালী পক্ষই এটা ব্যবহার করেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা একে মানবতাবিরুদ্ধ হিসাবে চিনেছি এবং এটা ধীরে ধীরেই বন্ধ করা উচিৎ। আমি ওবামা তাই রাতকে দিন বানিয়ে ফেলবো রাতারাতি এ ধরনের চিন্তা বাড়াবাড়ি।


০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: আমার কথার মর্মটা এখানে যে, ওবামা বদলানোর জন্য আসেননি। তাকে আনা হয়েছে বুশের অসম্পূর্ণ কর্মসূচি শেষ করার জন্য। তার জন্য নতুন অ্যাপ্রোচ ও নতুন মানুষ দরকার। ওবামা সেটা।

আর সন্ত্রাস ইত্যাদি আমি মনে করি ওদের নিজেদেরই সৃষ্টি। ওরা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চূড়ান্ত নির্যাতনের বন্যা বইয়ে কিছু মুসলমানকে খেপিয়ে তুলে অকার্যকর সন্ত্রাসবাদী পথে নামাবে, তারপর তাদের অজুহাতে যুদ্ধকে জায়েজ করবে। এই খেলাটা বুঝলে অনেক কিছুই ফকফকা লাগবে।

২০. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:২৮
রাজর্ষী বলেছেন: ফিলিস্তিনে নারী, শিশুদের দুর্দশা লাঘব জরুরী হলে জেরুজালমে নিয়ে গোয়র্তুমী না করাই ভালো। পানি অনেক দুর চলে গেছে। ফিলিস্তিনিরা কিছুই পায়নি এখোনো কারন তাদের অনেক ঐতিহাসিক ভুল ছিলো। তারা তো ইসরাইলের অস্তিত্ত্ব ও স্বিকার করতে চায়নি যেখানে নিজেদের অস্তিত্ত্ব হলো না। ৪০ বছর আগে এটা স্বিকার করলে জেরুজালেম এর ভাগ পেতো। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা হলো পাবে না। এখন বাকি যা আছে সেটা নিয়া ভাবেন। যাতে আম, ছালা দুটোই না যায়। অস্তিত্ত্ব টিকে থাকলে সুযোগ একদিন আসবে যখন সময়ের চাকা উল্টো দিকে ঘুরবে। একজন ওবামা বর্তমান বাস্তবতা থেকেই শান্তি প্রচেষ্টা করবে। সব ঐতিহাসিক প্রতিকার করতে চাইলে কিছুই হবে না
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: এটা আপনার মত, শ্রদ্ধা রেখেই বলছি আজ যে অবস্থায় এসেছে ফিলিস্তিন তাতে এ ধরনের কিছু মেনে নেওয়া মানে রাষ্ট্র নামের এক পরিহাস কোলে নেওয়া। আর পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, ইসরায়েল আগের মতো চালাতে পারবে না। আলাপ ও প্রতিরোধ দুটোই তাই জরুরি। সব পথই খোলা রাখা দরকার।

২১. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:০৭
শুভ৭৭ বলেছেন: টিপাই মুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কারা আছেন? আওয়াজ তুলেন। আর চুপ থাকা নয়। শুরু হোক জোরালো প্রতিবাদ।
Click This Link

সিনিয়র জনপ্রিয় ব্লগার হিসাবে আপনার মন্তব্য আশা করছি ঐ পোষ্টে।
২২. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৩৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আচ্ছা, অবশ্যই জানাবো। আর এ নিয়ে লেখালেখি যারা করছেন তাদের অভিনন্দন।
২৩. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৯:৪৬
অদ্রোহ বলেছেন: কি আর বলব,সেই থোড় বড়ি খাড়া,খাড়া বড়ি থোড়।তাও ভালো,যতই চেইঞ্জ উই নিড বলে পরিবর্তনের ধুয়া তুলুন,ব্যাপারটি আগেই খানিকটা অনুমান করতে পেরেছিলাম।

Click This Link
২৪. ০৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আরেকটা কথা, নিজেরা না পাল্টিয়ে নিজেদের অক্ষমতা দাস্যভাব না কাটিয়ে বসে বসে আমেরিকার বদলের জন্য দোয়াখায়ের কিংবা শাপশাপান্ত করায় কোনো লাভ নাই।

আমরা আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন করতে না পারলে বাইরের আড়কাঠিরা এখানে কলকাঠি নাড়বেই। তাদের হয়ে আমাদের লোকেরা আমাদের চালাবেই।

সেকারণেই, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী তরিকা কীভাবে কোথায় কোথায় আমাদের দেশেও কায়েম হয়েছে ও হচ্ছে তা খেয়াল করা দরকার।
২৫. ০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১১
বিপ্লব রহমান বলেছেন: "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে যুক্তিই থাক, তার সঙ্গে গণহত্যা, নির্যাতন ও পাশবিকতা অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে। ওবামা ও তাঁর দল বলেছিল, পরিবর্তন আসবে। সকলই গরল ভেল।"...

একমত @ পোস্ট। সাম্রাজ্যবাদ তার নিজের অক্ষপথেই চলবে...এখানে আমাদের মতো আম-জনতার অহেতুক অতি-আকাঙ্খার কোনোই মূল্য নেই। ...

আবারো খুব সুন্দর করে লিখেছেন। চলুক।...
০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: সেটাই, যারা এখানে বসে ওবামার গুণ খোঁজে, তাদের উচিত নিজেদের দুর্দশার কারণ খোঁজার দিকে মনোনিবেশ করা। তাহলে বিশ্ব না পাল্টাক নিজের দেশ ও মানুষকে কিছুটা ভাল'র দিকে নেওয়া সম্ভব।

২৬. ০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আরেকটা কথা, নিজেরা না পাল্টিয়ে নিজেদের অক্ষমতা দাস্যভাব না কাটিয়ে বসে বসে আমেরিকার বদলের জন্য দোয়াখায়ের কিংবা শাপশাপান্ত করায় কোনো লাভ নাই।

ঠিক ।
ব্লগে অনেকের দাসত্ব মনোভাব দেখে ক্রুশ্চেভের একটা কথা মনে পড়ল ।
২৮. ০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:২০
পুতুল বলেছেন: "ওবামা বদলানোর জন্য আসেননি। তাকে আনা হয়েছে বুশের অসম্পূর্ণ কর্মসূচি শেষ করার জন্য। তার জন্য নতুন অ্যাপ্রোচ ও নতুন মানুষ দরকার। ওবামা সেটা।"

এটাই এই আলোচনার মূল কথা। অভিনন্দন কমরেড।
০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অভিনন্দন পুতুল।

২৯. ০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০
ফারহান দাউদ বলেছেন: ওবামার দিকে লোকজনের এমন অন্ধ ভক্তির কারণটা কি? ওবামার সাথে বুশের মূল পার্থক্য হইলো,ওবামা বক্তৃতা ভাল দেয়,বুশ ভুলভাল উগ্র বক্তৃতা দিত। কিন্তু আমেরিকা চলে সিস্টেমে,প্রেসিডেন্ট সেই জায়োনিস্ট নিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের অংশ মাত্র,সিস্টেম বদলাবে না,প্রেসিডেন্টও আসলে সিস্টেমকে বদলাতে আসে নাই। আর ওবামা বদলাচ্ছে কি? বরং ইহুদী লবির (বলা ভালো,জায়োনিস্ট লবি) সমর্থন আদায় করতেই কিন্তু জো বাইডেনকে রানিং মেট করেছিল,ইসারাইলি নীতির কট্টর সমর্থক হিসাবে যার পরিচিতি সারা বিশ্বে। ওবামা একটা সুগার কোটেড কুইনাইন,বাকি দুনিয়াকে আমেরিকান কুইনাইন গিলতেই হবে।
আর "আমেরিকা তার স্বার্থে বলবে, মারবে, লড়বে এতে আমার আপত্তি নাই। কিন্তু যারা আমেরিকার হয়ে তর্ক করে তাদের ধান্ধাটা কী আসলে?"--- সোজা জবাব,সুবিধা দেখে শক্তিশালী প্রভুর দালালী করা দুর্বলের চিরকালীন বৈশিষ্ট্য,এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে গেলে বিবমিষা জাগে।
৩০. ০৭ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ধন্যবাদ ফারহান, তবে আমি এদের মনস্তত্বটা বোঝার চেষ্টা করছি যে, আসলেই তা দুর্বলের আপস চেষ্টা, না নিজ সমাজের প্রতি ঘৃণা।
এই ঘৃণা একটা বড় ব্যাপার। অনেক সময় তারা নিজেরাও তা টের পায় না। কিন্তু এটা আছে। নইলে কিভাবে ২০০ বছরের উপনিবেশিক শাসনে তারা ইংরেজের অনুগত থাকে? কলোনিয়াল বাস্তবতার একটা উপসর্গ হলো, হীনম্মন্যতা। এটাও বোধহয় তাই। আমরা দুর্বল কিন্তু আত্মমর্যাদার সঙ্গে আমরাও আমাদের ইতিহাস গড়তে পারি এই বোধ ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি_ পশ্চিমভক্ত মডার্নিস্ট ও আত্মগর্বী মুসলিম উভয়ের জন্যই।
৩১. ০৯ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৪
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফ, প্রথম যে কমেন্টটা করছিলাম, সেটাই আসলে প্রযোজ্য আপনার জন্যে। নিজেরে আপডেট করেন মিয়া। আর ভালো কথা, অযথাই কথা জটিল করে তোলা বুদ্ধিজীবীর লক্ষন কেও কেও মনে করে, আমি মনে করি এইটা আহাম্মকির লক্ষণ।ভালো থাকুন।
৩২. ০৯ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আপনি আসলে কিছুই দ্যাখেন না, শোনেনও না। ইতিমধ্যে বুড়িগঙ্গায় অনেক জল বয়ে গেছে, অনেকে আলোচনা করেছেন, দ্বিমতও করেছেন কেউ কেউ। সেগুলি সবই হয়েছে যুক্তি ও তথ্য সমেত। আপনার সেসব নাই, যে রেকর্ড বাজাচ্ছেন সেটাও তো বহু পুরানা। আপডেট করেন মিয়া, খালি তাই না মাথার ভাইরাস আর পেটের ক্রিমিও আপনাকে জ্বালাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। তাই এখানে এসে নাটক করছেন।

দ্যাখেন আপনি বলেছেন,
''ইসরায়েলরে ইহুদি বইল্যা যতলুক গাইল দেয়, আমার মনে হয়না আমেরিকা বা ইসরাইলের ততলোক ফিলিস্তিনীগোরে মুসলিম বইল্যা গালি দেয়। সো, আমেরিকা মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা সভ্যতার সহজাত ঘৃণার আলোচনা আসবে আপনের এই বক্তব্যের সাথে একমত না।''

১. ইসরায়েলরে কেউ ইহুদি বলে গালি দেয় না, রাষ্ট্রটা স্বঘোষিত ইহুদিবাদী। ইহুদিবাদ (জায়োনিজম) আর ইহুদি ধর্ম (জুডাইজম) এক জিনিস নয়। অনেক ইহুদি আছেন, আছে ইহুদি ধর্মসংঘ যারা ইহুদিবাদকে ঘৃণা করে।

২. ইসরায়েল কেবল ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রই নয়, তা বর্ণবাদী। মুসলিম-আরবদের মতো ইহুদি-আরবরাও তাদের রাষ্ট্রে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। ইহুদি বলতে তারা বোঝাতে চায় প্রাচীন জেরুজালেম আর ঊনিশ শতকীয় ইউরোপের এক জগাখিচুরি। সব ইউটোপিয়াই অবশ্য জগাখিচুরি, তা সে ইসলামের নামেই হোক, হিন্দুত্বের নামেই হোক আর ডেভেলপমেন্টর নামেই হোক।

৩. ফিলিস্তিনীদের গালি দেওয়া কঠিন, কারণ তারা মৌলবাদী নয়, নয় ফ্যাসিস্ট। আপনি বলবেন হামাসের কথা। হামাস শরিয়া কায়েমের চিন্তা করে না এবং ফিলিস্তনী খ্রিস্টান বা ইহুদিদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো কথা নাই। সেজন্যই তারা এদের গালি দেয় সন্ত্রাসী বলে। সেটা তো বলবেই, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরও তো সন্ত্রাসী বলা হতো।

৪. মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমা সভ্যতার সহজাত ঘৃণার অনেক প্রমাণ এডওয়ার্দ সাইদ, একবাল আহমদ, তালাল আসাদ এরা দেখিয়ে দিয়েছেন। আপনি এই লাইনে কোনো কুতুব নন। গত চারশো বছর এমনকি গত এক হাজার বছরে ইউরোপ বারবারই যাদের সামরিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংষ্কৃতিক দাপটের মুখে বিপন্ন বোধ করেছে তারা কিন্তু আরব ও মুসলিম। দু দুটো ক্রুসেডেও তাদের সেই ব্যথা লাঘব হয়নি। স্পেনে মুসলিম সভ্যতা উচ্ছেদের পর লুন্ঠিত সম্পদ দিয়েই কিন্তু রাণী ইসাবেলা আমেরিকা অভিযানের খরচ যুগিয়েছিলেন কলম্বাসকে। তারপর থেকে আফ্রিকা থেকে ভূমধ্য সাগর হয়ে বারত মহাসাগরের তীরে তীরে একের পর এক মুসলিম বাণিজ্যকেন্দ্র ও জনবসতিতে তারা গণহত্যা ও ধ্বংস চালিয়েছে। ভারতের কালিকটে জাহাজ ভিড়িয়ে কথা নাই বার্তা নাই গোলা বর্ষণ করেছে ভাস্কো দা গামার পূর্বসূরীরা। অথচ রাজা ছিল হিন্দু, সেনাপতি মুসলিম। স্পেনেও রিকনকুইস্তার সময় মুসলমানদের সঙ্গে ৩০ হাজার ইহুদিকেও তাড়ানো হয়েছিল।
৫. পাশ্চাত্য কিন্তু তার উপনিবেশ প্রথম কায়েম করেছিল বিজিত মুসলিম সাম্রাজ্যের ওপর।

সুতরাং পাশ্চাত্যের শাসক বলয়ে এবং তাদের মাধ্যমে কিছুটা জনগণের মধ্যেও এক কাল্পনিক মুসলিম বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে পাশ্চাত্য বিদ্বেষও দাঁড়িয়েছে প্রাচ্যে। দুটোই সমস্যা। কিন্তু একটা হলো জবরদখলকারীর অস্ত্র আরেকটা নিপীড়িতের প্রতিক্রিয়া। দুটোকে এক পাল্লায় মাপা আহাম্মকি।

জটিল লাগছে নাকি ভাইজান? তাইলে আপনার জন্য ছোটোদের ওবামা জাতীয় কিছু একটা লিখে দেওয়া ওয়ান-টুয়ের ব্যাপার। লাগলে জানায়েন। আর আপনারে চিনি চিনি মনে হয় অবশ্য পাটালি গুড়ও হইতারেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৩১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই