আমার প্রিয় পোস্ট
- সময় - রথো রাফি
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- ওই বুট ওই লাথি, ওই আমাদের শিক্ষক, ওই পড়ে মার খায় জনতার লোক - ফারুক ওয়াসিফ
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইস্নিপস থেকে ডাউনলোডের নয়া সিস্টেম! - রাশেদ
- গৌরাঙ্গ নামা- বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর পরাজয় - রাসেল ( ........)
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- রিফাত হাসানের 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারেফত দর্শন - ফারুক ওয়াসিফ
- উপমহাদেশে হিংসার হাওয়া : ভারতের ফ্যাসিবাদের উত্থান - ফারুক ওয়াসিফ
- 'সামনে আসছে শুভ দিন'...কিন্ত কার জন্য? - ফারুক ওয়াসিফ
- আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করছি... - ফারুক ওয়াসিফ
- চমস্কির সাক্ষাতকার: আমি কোণঠাসা নই, আমাকে চালিত করে সংগ্রামী আশাবাদ - ফারুক ওয়াসিফ
- পরশুরামের কুঠার অথবা জিন্দা লাশের আয়ুষ্কাল - ফারুক ওয়াসিফ
- অনিঃশেষ দেশভাগের কথকতা : সুধা কি সাদিয়ার কথা শুনছে - ফারুক ওয়াসিফ
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

কল্পনা অপহরণের ১৩ বছর : ঐ পাহাড়ে জুলুম চলে
১১ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮
ঐ পাহাড়ে জুলুম চলে এই কথা আর গল্প না
পাই না খুঁজে কোথায় আছে পাহাড়ি বোন কল্পনা।'
মাত্র ষোল বছর বয়সে কল্পনা চাকমা হারিয়ে গেছে। তার সম্পর্কে সরকারি ভাষ্যে বলা হয়, 'নিখোঁজ'। মানুষ অনেক ভাবেই হারিয়ে যায়, কত মানুষই তো হারিয়ে যায়! কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন স্বাধিকারকামী তরুণ-তরুণীরা হারিয়ে যায়, তখন আর একটি বিশেষ অর্থ থাকে। তখন তারা আর কোথাও নয় বিশেষ একটি জায়গাতেই হারিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যেমন একাত্তরেও হারিয়ে যাওয়াদের বিশেষ কিছু জায়গায় পাওয়া যেত। সেই স্থানটি কোথায়? কারা তাদের নিয়ে যায়? কেন নিয়ে যায়? নিয়ে গিয়ে কী করে? বালকের মতো এইরকম অনেক প্রশ্ন মনে জাগে। উত্তরহীন প্রশ্নে প্রশ্নে আমাদের আকাশ কালো হয়ে আসে। কিন্তু কে দেবে উত্তর? কিংবা কে চাইবে এত এত ভয়ঙ্কর সব প্রশ্নের জবাব?
একটা উত্তর দিয়েছে সুইডেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের রোজালিন ডি কস্তা। তিনি বলেছেন, ''কল্পনা চাকমা (১৬), এক উপজাতীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী বান্দরবানের আলিকদম থেকে অপহৃত হয়। অপহরণটি চালায় স্থানীয় বিএনপি ক্যাডারেরা এবং তাদের সহযোগিতা করে বিএনপির জোটভুক্ত অন্য কর্মীরা। আজো তার খোঁজ মেলেনি। (সুইডেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের প্রতিবেদন, ২০০২)
ভাসুরের নাম তারা যে মুখে আনতে পারেনি তা-ই নয়, সন্দেহের তীরকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
সেসময় এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ে। সেই চাপ সামাল দেওয়ার জন্য সরকার বিচারপতি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তার রিপোর্ট কল্পনার মতোই কোনো গোপন গর্তে চাপা পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেমা খ্যাত ড. নাজমুল ইসলাম কলিমুল্লাহ-র নেতৃত্বে একটি দল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে চড়ে কল্পনা-সন্ধান পিকনিক সেরে ঢাকা প্রেসক্লাবে (৮ আগস্ট, ১৯৯৬) ঘোষণা করে যে, কল্পনা ভারতের গণ্ডাছড়া নামের এক গ্রামে ভালই আছে এবং তার মায়ের সঙ্গে নাকি তার দুবার যোগাযোগও হয়েছে। অথচ কল্পনার মা বাঁধুনী চাকমা ঢাকা প্রেস ক্লাবে এসে এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়েকে ফেরত চান। (১৯ আগস্ট, ১৯৯৬, ভোরের কাগজ)
কোনো কোনো পত্রিকায় রটানো হয়েছিল, কল্পনা চাকমা সীমান্তের ওপারে আরাম-আয়েশেই আছে। যেদিন কল্পনা অপহৃত হয়, সেদিন ছিল ১৯৯৬ সালের ১১ জুন। ঐদিন দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনী ডামাডোলে হারিয়ে গিয়েছিল কল্পনা অপহৃত হওয়ার সংবাদ। শোনা কথা যে, আমরা গণতন্ত্র পেয়েছি কিন্তু কল্পনাকে হারিয়েছি। কিন্তু পাহাড়ের মানুষ জানে, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, পাহাড়ে চলে সামরিক শাসন। কল্পনার অপহরণকারী হিসাবে জনৈক লেফটেনান্ট ফেরদৌসের নাম আসে। হিল উইমেনস ফেডারেশনও একইরকম অভিযোগই তুলেছিল। কল্পনা ছিল এ সংগঠনটির সাংগাঠনিক সম্পাদক। ওদিকে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সামরিক দায়িত্বে ছিলেন, এমন একজন এখন গণতন্ত্রের মহান পূজারি। তাঁকে নিয়মিত দেখা যায় টিভি টক শোতে এবং হালে তিনি একটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেছেন। এখন হয়তো সেই ফেরদৌস আরো বড় পদে আসীন হয়ে 'দেশসেবা' করে যাচ্ছে! যখন শুনেছিলাম ঐ বীরপুঙ্গব আমার জেলাশহরের লোক, তখন ক্রোধ আরো বেড়েছিল, সঙ্কল্পও জন্ম হয়েছিল একটা। ওয়ার্ডসওয়ার্থ লিখেছিলেন, 'এ বয়েজ উইল ইজ উইন্ডস উইল'। আমার বায়বীয় সঙ্কল্প বায়ুতেই উড়ে গেছে। কিন্তু কল্পনার নাম আজো জ্বলজ্বল করছে নিখোঁজ তালিকায়।
না আমি তাকে দেখিনি। কিংবা হয়তো দেখেছি, পার্বত্য ইস্যুতে ঢাকার কোনো যৌথ মিছিলে। হয়তো হেঁটেছি তার পাশে, একসঙ্গে গলা তুলেছি। কিন্তু খেয়াল করিনি, কে কল্পনা। ছোট্ট একটি মেয়ে, কিন্তু কী বিরাট ছিল তার সাহস ও প্রতিজ্ঞা; তা শ্রাবণ থেকে প্রকাশিত কল্পনা চাকমার ডায়রি পড়লে বোঝা যায়। না, আমি শোক করতে বসিনি। জানি, এদেশে কল্পনারা হারায়। পাহাড়ি বিপ্লবী কল্পনা চাকমা কিংবা ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী কল্পনা দত্তরা থাকতে আসেন না। তারা আসেন আমাদের মুমূর্ষ সংকল্পকে জাগাতে। কিন্তু হায়! এদেশের জলীয় আবহাওয়ায় রাগ-সংকল্পও জলো হয়ে যায়। আর্দ্র বাতাসে স্মৃতির রং দ্রুত বিবর্ণ হয়। আরামের নোনা বাষ্পঘামে ফেঁসে যায় তার বুনট। কল্পনা হারিয়ে যাওয়ার এক যুগ পরে তাই মনে আর কোনো তাপ-জ্বালা নাই। কিন্তু গ্লানির ঘুণপোকা অক্ষয়-অমর-অজর। সেটা কুট কুট করে দাঁত ফুটিয়েই চলেছে আত্মার গহীনে, ইতিহাসে আর পার্বত্য জনপদে।
জাবিতে পড়বার দ্বিতীয় বর্ষের কোনো এক সন্ধ্যায় আমরা তিনজন তিনটি কাকের মতো বসেছিলাম লেকপাড়ের কালভার্টের ওপর। আমি, জাঈদ আজিজ আর সঞ্চয় চাকমা। তিনি তখন ছাত্র ফেডারেশনের সহসভাপতি আর ইউপিডিএফের দ্বিতীয় নেতা। ইউপিডিএফ শান্তি চুক্তির প্রতারণার বিরুদ্ধে সন্তু লারমাদের সঙ্গে দ্বিমত করে সদ্য আলাদা দল গঠন করেছে। সঞ্চয়দার মতো এর নেতারাও সবাই তরুণ। সেদিন সন্ধ্যায় সঞ্চয়দা-ই কল্পনা-কাহিনী শুনিয়েছিলেন। শুনে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম তিনজনই। তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। একটু আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে। লেকে লেকে অজস্র পাখি সান্ধ্য আরতি করছে। আর কালো পানিতে তাদের ডানার একেকটা ঝাপট যেন আগুনের তরঙ্গ হয়ে আছড়ে পড়ছিল আমাদের গায়ে। আমরা তিনজন অন্ধকারে বসে সেই আগুনে পোকার মতো পুড়ছিলাম।
কল্পনা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই প্রেসকাবের সামনে আমাদের এক যৌথ প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছিল। সেই সমাবেশে আমার উদ্বাস্তু জীবনের বন্ধু রবিন আহসান পাঠ করেছিল এই প্রতিবাদপত্রটি।
'ঐ পাহাড়ে জুলুম চলে এই কথা আর গল্প না
পাই না খুঁজে কোথায় আছে পাহাড়ি বোন কল্পনা
যে স্বাধিকার চাইতে গিয়ে কল্পনারা হারায়
প্রতিবাদে স্লোগানে রুখে ওরা দাঁড়ায়।
সেই পাহাড়ি জনগণের বন্ধু আমি ভাই
কল্পনা বোন হারালো কই, রাষ্ট্র জবাব চাই!'
রাষ্ট্র জবাব দেয় নাই। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে খবর পাই, আমাদের জাবি'র বন্ধু, আরেক পাহাড়ি নেতা রূপক চাকমা অপহৃত ও নিহত হন, নিখোঁজ হন আরো তিন ছাত্র ।
কল্পনার অপহরণের বিরুদ্ধের আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন আজকের মন্ত্রী দীপু মণি, দিলীপ বড়ুয়া, দীপঙ্কর তালুকদার। আজ কল্পনা অপহরণের ১৩ বছর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দীপু মণি সেই দাবি কাকে জানাবেন? নিজের আসনকে নাকি খোদার আরশকে?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সচেতন বলেছেন:
বুকের মধ্যে কেমন যেন লাগছে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
অনেক পুরনো ব্যথা তো, আমার দিলে দাগা পড়ে পড়ে আর কিছু লাগে না মনে হয়। কত মানুষও তো হারায়, মারা যায়, গুম হয়, পঙ্গু হয়। কিন্তু যার যায়, তার পুরোটাই যায়_ একটা আস্ত জীবন, যা একবারের জন্যই আসে, সেই জীবনকে ওরা অকাতরে পিষে মারে।
রাসেল ( ........) বলেছেন:
আজ কল্পনা অপহরণের ১৩ বছর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দীপু মণি সেই দাবি কাকে জানাবেন? এইটা ঠিক করতে হবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রী করতে হবে।
লেখক বলেছেন: দুঃখিত। ঠিক করে দিয়েছি। একেই হয়তো বলে ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ। ভুল করে ঠিখ ইঙ্গিত করা! দেশ যখন পর' রাই চালায়, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীই বা কি আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বা কি?
বিপ্লব রহমান বলেছেন:
১. "...একটা উত্তর দিয়েছে সুইডেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের রোজালিন ডি কস্তা। তিনি বলেছেন, ''কল্পনা চাকমা (১৬), এক উপজাতীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী বান্দরবানের আলিকদম থেকে অপহৃত হয়। অপহরণটি চালায় স্থানীয় বিএনপি ক্যাডারেরা এবং তাদের সহযোগিতা করে বিএনপির জোটভুক্ত অন্য কর্মীরা। আজো তার খোঁজ মেলেনি। (সুইডেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের প্রতিবেদন, ২০০২)"...প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি: এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার। রোজালিন ডি. কস্টা লোগাং গণহত্যা নিয়ে এমন মিথ্যাচার আগেও করেছেন।...
হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠিনিক সম্পাদিকা কল্পনা চাকমা ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাইল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হয়েছিলেন। তাঁকে অপহরণ করেছিলো বিএনপি ক্যাডাররা নয়; লাইল্যাগোনা সেনা ক্যম্পের ইনচার্জ লেফটেনেন্ট ফেরদৌস।
২. আপনার লেখার বাকী তথ্য ঠিকই আছে। লেখাটিও বেশ ভালো।
৩. কল্পনাকে নিয়ে আমারো কিছু কথা ছিলো। সেগুলো এখানে http://www.sachalayatan.com/biplobr/24938।
--
অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিপ্লব দা। এ বিষয়ে আপনিই পাইওনিয়ার। আমি ওটা উল্লেখ করেছি সেটা যে ভূল তা প্রমাণের জন্যই। এ ধরনের মানবাধিকার ওয়ালাদের শয়তানিটা বোঝাবার জন্যই।
আপনার লেখাটা দেখেছি বিপ্লব দা। অভিনন্দন।
লেখক বলেছেন: এই তীক্ষ্ণ স্কেচটি শিল্পী শিশির ভট্টাচার্যের আঁকা। তাঁকে কৃতজ্ঞতা।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অবিলম্বে বন্ধ হোক।
নামটা দেখেই মনে হল কল্পনা চাকমার কথা বলা হচ্ছে কি?
ঠিক তাই ---কল্পনা চাকমাই। বহুদিন পর আবারও মনটা তিক্ততায় ভরে গেল। বুকে চেপে বসা কষ্টটার ধুলার আস্তর সরে গিয়ে দগদগে ঘা এর মত বেড় হয়ে এল।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ হোক। গুপ্ত হত্যা আর ক্রসফায়ারও বন্ধ হোক।
অ্যামাটার বলেছেন:
" জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কল্পনার নির্দেশিত আঙুলটাকে তীরের চেয়েও ধারালো মনে হচ্ছে .."---কল্পনার অপহরণ এবং ধামাচাপা, পুরো ঘটনাটা অবশ্যই দেশের জন্য সুখকর নয়;
তবে, এটাকে কেবলই একটা 'অপহরণ' হিসেবে দেখাই কি বাঞ্ছনীয় নয়? গত ১৩বছরে পাহাড়ী কল্পনার মত হাজারো নাম না জানা তরুনী অপহৃত হয়েছে সমতলে, আমরা কিন্তু তখন 'ফারুক ওয়াসিফ'-এর কাছথেকে হাজারটা লেখা পাইনি ব্লগে-পত্রিকায়...!
যা হোক, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড, তবুও আশা রাখি, বিচারের বাণী যেন আর নিভৃতে না কাঁদে।
রোবোট বলেছেন:
অ্যামাটার বলেছেন: " জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কল্পনার নির্দেশিত আঙুলটাকে তীরের চেয়েও ধারালো মনে হচ্ছে .."---কল্পনার অপহরণ এবং ধামাচাপা, পুরো ঘটনাটা অবশ্যই দেশের জন্য সুখকর নয়;
তবে, এটাকে কেবলই একটা 'অপহরণ' হিসেবে দেখাই কি বাঞ্ছনীয় নয়? গত ১৩বছরে পাহাড়ী কল্পনার মত হাজারো নাম না জানা তরুনী অপহৃত হয়েছে সমতলে, আমরা কিন্তু তখন 'ফারুক ওয়াসিফ'-এর কাছথেকে হাজারটা লেখা পাইনি ব্লগে-পত্রিকায়...!
হাজারো নাম না জানা তরুণীর কতজন সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহৃত?
অ্যামাটার বলেছেন:
@রোবোট: আমি বলেছি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। এই লেখাটার প্রভাবক কিন্তু অপহরণকারী নয়, অপহৃত! কোনও উপজাতি'র উপর টর্চার হোক আর না হোক, সামান্য পান থেকে চুন খসলেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো কুমিরের কান্না জুড়ে দেয়। কল্পনার কেস-টা এত হাইলাইটেড কেন? অপহরণকারী লেফটেন্যান্টের জন্য? নাকি কল্পনার জাতিগত পরিচয়? বাংলাদেশে প্রতিদিন কতগুলো খুন হয়? রাজদঃানী ঢায়ায়-ও খুনের সংখ্যা কম না, অথচ আমাদের মানবাধিকার সংস্থাগুলো মেতে আছে কোথাকার সন্ত্রাসী চলেশ রিছিল-কে নিয়ে।
যা হোক, অন্যায় হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিচার চাই, তবে এ'সব নিয়ে বেশি ঢাক-ঢোল পেটালে রাষ্ট্রবিরোধী পাহাড়ী মুভমেন্টকেই প্রকারান্তে উসকে দেওয়ার শামিল।
লেখক বলেছেন: প্রিয় অ্যামাটার, নীচের প্রতিক্রিয়াটি লেখার পর আপনার নতুন মন্তব্যটি পেলাম।
কল্পনার জাতিগত পরিচয়, সাংগাঠনিক ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাকে অপহরণকারী সেনা অফিসারের পরিচয় মিলিয়ে ঘটনাটা অনেক ঘন অপরাধ হয়ে উঠেছে। কল্পনা পাহাড়ি হিসেবে/নারী হিসেবে/ পাহাড়িদের মুক্তিকামী কর্মী হিসেবে এবং প্রগতিশীল হিসেবে নির্যাতিত হয়েছে। এবং সেই নির্যাতনটা করেছে জনগণের প্রহরীরা। কল্পনার কথা বাদ দিলেও, কোনো ভাবেই একজন সেনা অফিসারকে অপহরণকারী হিসেবে মানা যায় কি?
শেষ লাইনে, আপনার রিজার্ভেশনটা স্পষ্ট। ধরুন কোনো কাশ্মীরীর প্রতি ভারত রাষ্ট্রের কোনো অনুগত ব্যক্তি এমন অভিযোগ তুলল যে, এগুলো রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। সেক্ষেত্রে আপনার মত কী? কারা তাদের রাষ্ট্রবিরোধী করে? আসলে পাহাড়িদের আন্দোলন স্বায়ত্তশাসনের জন্য ছিল। শান্তি চুক্তি করে তাদের বড় অংশ সেই দাবি থেকে সরে এসে জমি-বসতি-জমি ও শান্তির দাবিতে সক্রিয় আছে। সেটা কিভাবে রাষ্ট্রবিরোধী হয়? তাদের হত্যা-নির্যাতন করা, তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া, শান্তি চুক্তি করে সেটা না মানার বেইমানি করা, তাদের জমি কেড়ে নেওয়া কি ইসরাইল স্টাইলের কাজ নয়? এটাই কি তাদের মরিয়া পথ বেছে নেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ উস্কানি নয়?
মনের আগুনকে ছাই দিয়ে চাপা দিয়ে রাষ্ট্রকে টেকানো যায় না। বরং ক্ষোভ প্রশমনের ব্যবস্থা নিলেই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের সংহতি আরো পাকা হয়।
এই ধরেন, আমার মতো কেউ কেউ এই দেশের ওপর অধিকার ও জনগণের প্রতি দায় এবং নিজের মূল্যবোধ থেকে এই রাষ্ট্রকে বন্ধু মনে করি না। এটা অভ্যন্তরীণভাবে, অর্থাৎ এক সংসারভুক্ত লোক হিসেবে সংসার পরিচালনার নিয়মের বিরোধিতা। একই কাজ পাহাড়ি বা সাঁওতালরা করলে তাদের দেশদ্রোহী বলা হবে কেন? তারা আলাদা জাত বলে? একে কি দৃষ্টির জাতিগত সংকীর্ণতা বলা যাবে না?
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
রোবোট: আপনাকে ধন্যবাদ। @ প্রিয় অ্যামাটার রোবোটই উত্তরটা দিয়ে দিয়েছেন।
তবে আমার প্রতি একটু অবিচার হয়ে গেল না? আমি আমার সাধ্যের মধ্যে কিঞ্চিত বেশিরকমই সেনসিটিভ হয়ে প্রতিক্রিয়া করি, প্রতিবাদ জানাই। এরকম অজস্র লেখা ব্লগে ও পত্রিকায় ছড়িয়ে রয়েছে। রয়েছে কয়েক ডজন লিফলেট। যাক সেসব কথা।
এ ঘটনা হাজারো অপহরণের মতো নয়। প্রতিটি ঘটনাই মর্মান্তিক সত্য। কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনী করে, যখন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে করা হয় তখন আমরা টলে যাই। মানুষ টলে যায়। সেকারণে অজস্র ধর্ষণ আর হত্যার মধ্যে ইয়াসমিনের ঘটনা বেশি ধাক্কা দেয়। অজস্র মানুষ রাস্তায় নেমে বুক পেতে গুলি নিয়ে প্রতিকার চায়।
পাহাড়ে অজস্র অপহরণ হওয়ার সংবাদ আমরা পাই। সবই হয়তো এক পক্ষ করে না। কিন্তু কল্পনা অপহরণ পাহাড়িদের ওপর সার্বিক নিপীড়নের প্রতীক হয়ে ওঠায় এর গুরুত্ব বেশি। হরে-দরে এক করা বলে একটা কথা আছে। আশা করি সেটা আমরা বুঝি।
আপনাকে প্রশ্নটা তোলার জরন্য অভিনন্দন জানাই।
আলমগীর কুমকুম বলেছেন:
পোস্টে সহমত। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। ... ছ্যাগাটারের ম্যাৎকারকে পাত্তা দেয়ার কিছু নাই, ঐটা চিহ্নিত ছাগু।
লেখক বলেছেন: তাই নাকি?
শয়তান বলেছেন:
ড. নাজমুল আহাসান ( ইসলাম নন ) কলিমুল্লাহ-র সংঘঠনটির নাম জানিপপ , ফেমা নয় ।
আর ড.কলিমুল্লাহ কে তো ভাল মানুষ হিসেবেই চিনতাম ( সহপাঠির চাচা হন সম্পর্কে )। উনিও তাহলে এরকম
হতাশ ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ঠিক আছে আপনার তথ্য। উনি এখন জানিপপ-ই করেন। তবে গোড়ায় উনি ফেমাতেই ছিলেন। সেখান থেকে বিতর্ক করে বেরিয়ে যান। পার্বত্য ইস্যুতে আমাদের অনেক ভালমানুষই কিন্তু অন্যরকম কথাবার্তা বলেন।
ধন্যবাদ।
ফিরোজ জামান চৌধুরী বলেছেন:
খুবই ভালো লেখা। ধন্যবাদ ফারুক।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ধন্যবাদ ফিরোজ ভাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...













