somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে, সাফল্য-বিফলতা এবং বিরাজনীতিকরণের কামেলগণ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ভার্চুয়াল বন্ধু ফেসবুকে লিখেছেন, 'যারা বলে হরতাল তাদের মাথায় পানি ঢাল।' অন্যদিকে সহযোদ্ধা বন্ধু মনজুরুল হক মনে করেন, ''হরতাল "সফল" হবে কি হবে না তার চেয়েও জরুরী হরতাল কেন ডাকা হয়েছে সেটি দেশের মানুষ অন্তত জেনেছেন। এবার তাদেরই কর্তব্য তারা ঠিক করবেন। তারা রুখে দাঁড়াবেন না মাথা নত করে মেনে নেবেন সেই ভার তাদের উপরই রইল।''

গতকালের হরতাল বিষয়ে মনজুরুল হকের এই মূল্যায়নই ঘটনার নির্যাস হিসেবে মনে করি। বাধ্য না হলে করার দরকার নাই। হরতাল ডাকলেও মানুষকে বাধ্য করা চলবে না এটা আমি সর্বাংশে মানি। তারপরও এবারের:

হরতাল ডাকাই মোক্ষম ছিল, কারণ, সরকার চুক্তি করে ফেলেছে গোপনে। জেনেভা থেকে ফিরে গত আট তারিখে হাসিনা চুক্তি সই করেছেন। তার মানে আলোচানর প্রয়োজন বা সুযোগ তিনি খোলা রাখার প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর ওপর নিশ্চয়ই প্রবল চাপ ছিল এবং তাঁর দলের মেরুদণ্ড ছিল ইলাস্টিকের মতো কোমল।

কিন্তু যারা জনস্বার্থ রক্ষার রাজনীতি করে, এটা তাদের কাছে দেশের বুকে ছুরিকাঘাত। এতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হবে, কিন্তু মরবে না। এখন ঘাতককে ঝটকা ধাক্কা দেওয়াই একমাত্র করণীয় আরেকবার ছুরি খাওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে। হরতালটা ছিল সেই চেষ্টা। অনেকে অপেক্ষা করতে বলেন, তাদের ধৈর্য অসীম কারণ তাদের হারাবার কিছু নাই। অথবা তারা এ মুহূর্তে ব্ড় সংগ্রামে যাবার সাহস রাখেন না।

সফল বলবার কারণ:
১. জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রশ্নকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় করা গেছে। জাতীয় কমিটি জনস্বার্থের বলকে সরকারের কোর্টে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সাফল্য এটাই যে, গত ক'দিনে জাতীয় গণমাধ্যমে এবং মানুষের মনেও একটাই, প্রশ্ন এটাই গ্যাস নিয়ে কী হচ্ছে? সরকারের ভূমিকা কি সঠিক? সরকার এত রাখঢাক করছে কেন? মানুষের এই আগ্রহ জাগানো মিটিং-মিছিল করে বা প্রচারপত্র বিলিয়ে সম্ভব ছিল না।

২. সরকারকে এখন ডিফেন্সিভ অবস্থানে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হচ্ছে। হরতাল ঘোষণা এবং তার আংশিক পালনের এটাই নৈতিক বিজয়। হরতাল এক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ না হয়ে নৈতিক চাপ ও প্রচারকৌশল হিসেবে অনেকটাই সফল। বলাবাহুল্য সরকারের ব্যাখ্যা ইতিমধ্যেই তোতলা ভাষাভঙ্গিমা অর্জন করেছে।
বিপদ একটাই ছিল, সেটা হলো সরকার বা অন্য কোনো অপশক্তির স্যাবোটাজ, আগুন ও খুনের সম্ভাবনা। সেটা হয় নি বলে রক্ষা।

৩. জনস্বার্থে হরতাল ডাকা যায়, সেই হরতাল পালনে কাউকে বাধ্য না করেও আবেদন জানানো যায়, পথের মানুষের কাছে কীসের বিরুদ্ধে হরতাল সেটা ব্যাখ্যা করার এই বিনয়ী কিন্তু সবল ধরন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্ঠান্ত। জাতীয় কমিটির সংযম এবং সরকারের বাধা না দেওয়ার মনোভাব এবং বিএনটিকে স্যাবোটাজ না করার জন্য ধন্যবাদ।

পরোক্ষ লাভ

*দক্ষিণ এশিয় ও মার্কিন-চীন ইত্যাদি কারণে পানি অনেক দূর গড়াবে। ট্রানজিট-বন্দর-সেনা ঘাঁটি ইত্যাদির ঢেউও এতে যোগ হবে। এই আন্দোলনে বামপন্থি সেকুলার ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের জোট জাতীয় কমিটি এক ধাপ এগিয়ে থাকলো পথ দেখানোয়।

*বামপন্থি অনৈক্যের মধ্যে আশা ও উদ্দীপনা দিয়ে ঐক্য আরো বাড়লো।

*বামের যারা সংগ্রাম করবে আর যারা সাইনবোর্ড বেচে এমপি হবে/হয়েছে তাদের পার্থক্য করা গেল।

দোদুল্য মান, সুবিধাবাদী ও পাতি-আমলীগারদের মুখোশও খসলো কিছুটা। বিদেশি বিনিয়োগের মৌলবাদের জসমে জলুসে কিছুটা গোচনাও পড়লো।

পরিশেষে বিপদের দিনে মানুষকে বাঁচাতে না পারলেও, তাদের হুশিয়ারি জানানো, তাদের হয়ে লড়াই করার মানুষের যে একেবারে অভাব পড়ে নাই, সেই জানান দেওয়াটা দেওয়া হল। পরের বার আর এবিসিডি বুঝিয়ে কাজ শুরু করতে আর হবে না। নানান জায়গায় অনেক ছোটো ছোটো গ্রুপ, ব্যক্তি, গোষ্ঠী জানতে জানাতে ও লড়তে তৈরি হচ্ছে সেই খবর লুটেরাদের গদিবালিশে বসত করা ছারপোকারা টের পেয়েছে। এদের নাচটাও আমরা দেখলাম, সেটাই বা মন্দ কী! আবার অনেক মিত্রও যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে হরতাল বিরোধিতা করেও আন্দোলনের ইস্যুকে সমর্থন করেছেন। এদের শত্রু বানানো বা সেটা ভাবা আহাম্মকি। কিন্তু কাক ও কোকিলের পার্থক্য ভোলা চলবে না।

তাদের জানিয়ে দেওয়া চাই, এদেশটা গোলটেবিল মিটিং করে প্রতিষ্ঠা পায় নাই, বাপের তালুকের উত্তরাধিকারও কেউ নয়। এর প্রতিষ্ঠা হয়েছে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও রাজনৈতিক জাতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে। হরতাল কোনোভাবেই করা যাবে না এমন বিরাজনীতিকরণের চিন্তা সিভিল-মিলিটারি-কর্পোরেট চিন্তা। পুতুপুতু মুখোশের আড়ালে নৃশংস দখল ও যুদ্ধ এদের কমূসূচি। লিবারেলিজম এদের নতুন রাজনৈতিক ধর্ম। একে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এরা সবকিছু বণিক আর বিশ্বব্যাংকীয় আমলা এবং মার্কিন-ভারতের প্রভুদের কথাতেই হবে বলে বিশ্বাস করে। পার্থক্য যে, আমরা তা করি না।

আগের লেখা : কন্সপিরেসি অব সাইলেন্সের মধ্যে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় একটি মরিয়া হরতাল : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১০
২৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×