আমার প্রিয় পোস্ট

হাঁটা পথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে হে সভ্যতা। আমরা সাত ভাই চম্পা মাতৃকাচিহ্ন কপালে দঁড়িয়েছি এসে _এই বিপাকে, পরিণামে। আমরা কথা বলি আর আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

ইসলাম, সম্প্রদায় ও পরিচয় বিষয়ে দশটি নোক্তা

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

শেয়ারঃ
0 16 0

১. আজকের বিশ্বে ধর্মবিশ্বাস আর আইডেন্টিটি আবার একাকার হওয়া শুরু করেছে মনে হয়। সনাতন সব নীতি ও মূল্যবোধ যখন বিশ্বায়িত পুঁজি, প্রযুক্তি আর জীবীকার সংগ্রামের কাছে পরাজিত হয়ে ভেসে যাচ্ছে, তখন ধর্মকেও এর আদলে বদলে যেতে হয়। পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্রীস্টধর্ম অনেক আগেই এই চাপে বদলে গেছে। রিফর্মেশন-এনলাইটেনমেন্ট-এর যুগে। ট্রিনিটি-তে ইমান থাক বা না থাক, শ্বেতবরণ নীলচক্ষু যীশু এবং তার পিতা ঈশ্বরকে তারা ছাড়ে নাই আত্মপরিচয়ের ঠেকা আছে বলে। ধর্মবোধ এখানে আত্মপরিচয়ের মধ্যে দ্বান্দিকভাবে মিলে গেছে। ঊনিশ শতকের শেষ দিকে বিকশিত হওয়া ভারতীয় জাতীয়তাবাদগুলোর সমস্যাও ছিল এটা। এখনো কম্যুনিটি বা জাত আর জাতীয়তা আমাদর চোখে একাকার।

২. ভারতে বিজেপি বা জার্মান নাৎসিরাও কিন্তু ক্যাথলিসিজম ও আর্যবাদের মিশ্রণে ফ্যাসিবাদের আদর্শিক ভিত্তি নির্মাণ করছিল। শিল্পায়ন ও তার ভিতের ওপর দাঁড়ানো সামরিক সক্ষমতা তাদের অভিলাষী করেছিল। আমেরিকায় বা ইউরোপের বাকি অংশে এটা এখনো কঠিন। তিনশ বছরের মানবতাবাদী সংগ্রাম, শ্রেণী সংগ্রাম ও পুরুষতন্ত্র ও বর্ণবাদবিরোধী ঐতিহ্য। ভারতেও একইসঙ্গে উপমহাদেশের সবচে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক চেতনা আছে আবার এই ভারতই এখন ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক ঘৃণার শক্ত আশ্রয়। ইসলাম বাংলাদেশে মেইনস্ট্রিমে নাই, ভারত-পাকিস্তানে আছে।

৩. পশ্চিমা এলিট এমনকি গরিবদেরও আত্মপরিচয় নিয়ে সংকট এখনো জাগে নাই। সেখানকার গরিব ও কালো মানুষটিও সভ্য দুনিয়ার অহংকার আর ক্রাইস্টের ছত্রছায়া অনুভব করে জাতগর্ব উপভোগ করে। এই মনের জোর বাদবাকি বিশ্বে নাই তাদের মাজার জোর কম থাকার জন্য। । ফলে তাদের হয় জাতি বা ধর্মের কাছে ফিরতে হয় অথবা এসব ছেড়ে কাল্পনিক বিশ্বজনীনতার নামে সাদা-জুডিও-খ্রিস্টান-সাম্রাজ্যের মাস্তুলে লটকে থাকার নিয়তি নিতে হয়। তারা ইতিহাস-ভূগোল ও সংস্কৃতি থেকে বিতারিত বা পরিত্যক্ত হয়। আমাদের সুশীল সেকুলারদের বড় অংশই এই পথ ধরেছেন। মধ্যবিত্তের 'আধুনিক' অংশ কর্পোরেট পুঁজি ও তার বাজারের মধ্যে এতই আত্তীকৃত হয়ে গেছে যে, এদের কোনো প্রতিবাদ করার মতাই নাই। এরা বরং দেশ ছেড়ে যাবে অথবা দেশে মার্কিন বাহিনীকে স্বাগত জানাবে। এ অংশটির সুবিধাবাদীতাই তাদের ধর্মীয় বা সেকুলার পথে সংগ্রামী হতে বাধা দেবে।

৪. অন্যদিকে জামাতি ইসলাম বা ব্রাদারহুডের মতো যারা তারাও এক প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া ইসলামকে বিকশিত করছে। এদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক ভিশন এটা প্রমাণ করে। এরা মোটাদাগে পরাশক্তি ও দেশীয় শাসকদের সঙ্গে কোলাবরেশন করে ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আমিনী গংও কিন্তু এখানকার বিত্তবানদের মধ্যেই পড়ে। আর অন্য একদল আছে রাজনীতিতে যারা কৃষক-সামন্ত ইসলামের প্রতিভূ। এরা অবক্ষয়শীল আবার চরম শোষিত। প্রায়শই এরা কোনো গোপন বা প্রকাশ্য খুঁটি এমনকি আইএসআই-র-সিআইএ-মোসাদ এদের হাতিয়ার হয়, জেনে না জেনে। আবার এদের শ্রেণী থেকেই কিন্তু ভারতে মাওবাদীরা আসছে। বাংলাদেশে শ্রেণীসংগ্রাম তীব্র হলে এই শ্রেণীর একটা লড়াকু ভূমিকা পাওয়া যাবে। জেএমবি যারা গঠন করে তারা এদের এই প্রবণতাকেই এক্সপ্লয়েট করে এবং ধ্বংস করে।
কার্যত অধিকাংশ মাদ্রাসা ছাত্র মানবতের জীবন-যাপন করে। সবকিছু থেকে বঞ্চনার পর ধর্ম ছাড়া তাদের আর কিছু থাকে না। তারওপর তাদের একটা গহ্বরের মধ্যে আমরাই তো আটকে থাকতে দিয়েছি। তাদের সুপ্ত শ্রেণীক্রোধ বিকৃতপথে জেহাদের মধ্যে ভাষা খুঁজে পায়। এইটুকু না থাকলে তারা নিজেকে মানুষই বলে গণ্য করতে পারতো না। মানুষ হওয়ার পর তারা দেখে কিছুই তাদের নয়। তখন যা কিছু তাদের নয়, তাকে তারা ঘৃণা করতে শেখে। তাই তাদের বিপক্ষে চালনা করা কারো কারো জন্য সম্ভব হয়।

৫. বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলামের প্রধান ধারাটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত নির্ভর। জামাতের বেশিরভাগও অ-মাদ্রাসায় শিক্ষিত। এরা সুবিধাবাদী ও সংস্কারবাদী। তাদের মধ্যপন্থায় নিজেদের মতো মডার্নিটি সৃষ্টি করতে চায়। বিশ্বায়ন পরবর্তী আত্মপরিচয় সংকটও এদের ইসলামের দিকে ঝুঁকিয়েছে। ধর্মের বৈষয়িক ভিত সরে যাওয়ায় রাজনীতির মাধ্যমেই সে আবার নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। রাজনীতি ছাড়া তা সম্ভবও নয়। এটা সকল ধর্মের বেলাতেই কমবেশি সত্য।

৬.এদেশের লোককে ধর্মভীরু বলে আসলে কী বোঝানো হয়? তাহলে তো শরিয়াই কায়েম হতো। এই বলাটাও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার। ধর্মভীরু জনগণ কার্টুন বা ভাস্কর্য নিয়ে মাতে নাই। এটা যারা বলে তারা একদিকে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে তোয়াজ করে ধর্মের ভয় দেখিয়ে নিজেদের কোনো কার্যসিদ্ধি চায়। বরং নিম্নবর্গের ধর্মচর্চা অপ্রাতিষ্ঠানিক ও খোলামেলা হওয়ায় তা মানবিক সংস্কৃতিতে বাধ সাধে না। উচ্চবর্গ জ্ঞান, বিত্ত, অবস্থান সবকিছুকেই সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুঁজি বানিয়ে নিজেদের ক্ষমতায়ন ঘটায়। ধর্ম তাদের বাহন। উভয়ের ধর্মবোধ আপাতভাবে মিললেও বাস্তব মতাদর্শিক সংগ্রাম জারি থাকলে তার মধ্যে ভেদ আনা সম্ভব।


৭. সত্তর আর আশির দশকে ইসলামের দুটো সংস্করণ হয় : মৌলবাদী আর লোকায়ত। আবার তাদের প্রয়োজনেই আজকে তা ইসলামো-ফ্যাসিস্ট আর মডারেট ধারায় বিভাজিত। সবই তাদের লীলা। অথচ বিশ্বের একমাত্র আত্মস্বীকৃত ধর্মরাষ্ট ইসরাইলকে বর্ণবাদী ও ফ্যাসিস্ট বলা যাবে না। তাকে রার বুশীয় দাপট, তার প্রতি পাশ্চাত্য সিভিল সমাজের বড় অংশের সমর্থন কোনো সাম্প্রদায়িকতা নয়? হলিউডি সিনেমায় অজস্র ক্রুশের ব্যবহার থেকে শুরু করে মার্কিন সমাজে পাদ্রীদের প্রাধান্য কখনোও বিবেচিত হবে না রক্ষণশীলতা বলে। বুশ বা গোর বা ওবামার মুখে 'দুনিয়ায় ঈশ্বরের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব' কথা এলেও তাদের সেকুলারিজমের সতীত্ব যায় না। বৈশ্বিক পোপতন্ত্রকে বলা যাবে না প্রতিক্রিয়াশীলতার দুর্গ। (ভাগ্যিস মুসলিমরা এরকম কোনো বৈশ্বিক ধর্মতাত্ত্বিক ঘাঁটি এখনও বানাতে সম হয়নি। তাহলে তাদের যাত্রা আরো দূর অস্তই হতো কেবল) আর হিজবুল্লাহর মতো জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক দলকে বলা হবে ধর্মীয় সন্ত্রাসী। আমাদের বিবেক হিজবুল্লাহ বা হামাসের প্রতিরোধে সামিল হতে চায়, কিনতু চিন্তা বলে, ‘ও তো মৌলবাদী’। ঔপনিবেশিক ঠুলি পড়া চোখে আমরা কেবল তাদের দাড়ি বা টুপিই দেখি। যে সেক্যুলার বাস্তব জাতীয় সংগ্রামের মাটিতে তাদের পা পোঁতা সে জমিনে আমাদের নজর পড়ে না। লেবাননি প্রতিরোধ ধর্মীয় জেহাদ নয়, তা জাতীয় প্রতিরোধ। যদিও এ ফেকড়া তুলেই পশ্চিমা মিডিয়া ঔপনিবেশিক শিায় শিতিদের প্রতিবাদস্পৃহাকে আধুনিকতার আংটা দিয়ে লটকে রাখে শূণ্যে। জনগণের ফরিয়াদকে যদি আমরা ধর্মের জিম্মায় রেখেই খুশি থাকি, তবে জনগণ ‘মৌলবাদের’ দলে গেলে আমাদের আপত্তি থাকবে কেন? জনগণের দায়িত্ব কী চেতনায় আর কী আমলে আমরা নিচ্ছি?

৮. বৈশ্বিক মিডিয়া-এনজিও ও ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরায়েলি-ভারতীয় মিডিয়া মিলে ইসলাম> নিরাময় অযোগ্য অসুখ> জঙ্গও> জনসংখ্যা সমস্যা> প্রগতি ও গণতন্ত্রের বাধা = বিশ্বসমস্যা; এরকম এক সমীকরণ প্রচারের মাধ্যমে অনেকটুকু প্রতিষ্ঠা করতে সম হয়েছে। সেই কার্য যেভাবে কারণ জন্ম দেয় সেভাবে এদের ইন্ধনে যেমন আল কায়েদা-তালেবান তৈরি হয়েছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে হুজি-জেমমবি-লস্কর ইত্যাদি। এভাবে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোকে অস্থির, হীনম্মন্য, আত্মদ্বন্দ্বে দীর্ণ এবং কাবু রাখার ফাঁদ সক্রিয় আছে। এর বিপরীতে আরেক জিঘাংসার রস চোঁয়াতে দেখি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। আরবের প্রতিরোধ দেখিয়ে বঙ্গীয় প্রাতিষ্ঠানিক ইসলাম,তথা শরিয়াবাদীদের উত্থানকে মজলুমের উত্থান বলে চালাবার চেষ্টাও দেখি। বুঝি যে, একাত্তরের প্রত্যাঘাতের জমিন তৈরি চলছে।

১০. ইসলাম নামক জুজুর ভয় যে প্রায়শই তা ইহুদী-বিদ্বেষের মতো জায়গায় চলে যায়, তা নিয়ে হুশিয়ার হওয়া দরকার। বুশের ডকট্রিন বা ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন তত্ত্বের দিন শেষ হয়নি। সেকারণেই ইরাক-আফগানিস্তান-সোমালিয়া-গুয়ানতানামো প্রভৃতির মধ্যে মুসলিম হলোকস্টের পদধ্বনি কিন্তু শোনা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে এখনই সচেতন না হলে রমা রঁল্যারা যে ফাঁদে পড়েছিলেন সেই ফাঁদে আমাদেরও পড়তে হবে।

১১. মুসলিম দেশগুলো আসলে সাবেক উপনিবেশিত এবং বর্তমানে নয়া উপনিবেশবাদের প্রত্য শিকার বা দখলাধীন দেশ। এদের শাসকরা দুনিয়ার নিকৃষ্ট গোছের (জাতীয়তাবাদী তুরস্ক-ইরান বা মিসরের নাসের এরকম কিছু ব্যতিক্রম বাদে)। এদেও সমাজে শিল্পায়ন ও ভূমিসংস্কার এবং সার্বজনীন সেকুলার শিক্ষা না আসার সব কুফলই প্রায় পেকে গেছে। এখানে বাইরে থেকে আঘাত করলে সংগ্রামের রক্ত বরং পুঁজ হয়ে বেরুবে। একদিকে ভেতরের সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগ্রাম অন্যদিকে রাজনীতিতে কৃষক-শ্রমিক-মধ্যবিত্ত-আদিবাসী-নারী জনসমষ্ঠির জাতীয় সংগ্রাম প্রয়োজন। দরকার বিউপনিবেশন আর রাজনীতিতে বিকেন্দ্রীকৃত সংগ্রামী ক্ষমতার গঠন।

*** কোনো ধর্মই তার নিজের গুণে বা গ্রন্থের জোরে বলবান এই বিশ্বাসও একধরনের অলৌকিকতায় বিশ্বাস। বরং তা সমাজ-ইতিহাস-স্বার্থ ও মনোজগতের জটিল বিন্যাসে সক্রিয় থাকে। বাস্তবের ভাল-মন্দ প্রয়োজনই তা মেটায়। তাই ধর্মীয় জগতের সমালোচনাকে শেষপর্যন্ত বাস্তবজগতের সমালোচনা হিসেবে দাঁড় করাবার প্রয়োজন থেকেই যায়। এবং ঐ বাস্তবের মধ্যেই খুঁজতে হয় তার শেকড়বাকর; বেদ-কোরান-পুরান-টেস্টামেন্টের পাতায় বা কোনো বিশ্বাসীর মনের জটিল গুহায় অভিযান চালাবার পথ অনেকসময়ই সর্পকে রজ্জু আর রজ্জুকে সর্প ভ্রমে গিয়ে দাঁড়ায় কিংবা আপন লেজ গিলবার মতো বিপদে গিয়ে শেষ হয়।

*লিখতে গিয়েছিলাম মন্তব্য হয়ে গেল এই জিনিস।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২৯
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: প্লাস ছাড়া কোন কথা নাই।
২. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৫০
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: দেশের মানুষকে ধর্মভীরু বলাটাও রাজনীতি.....জটিল জটিল....প্রিয়তে নিলাম।
৪. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০২
রাস্তার ছেলে বলেছেন: কতগুলো প্রশ্নের উদ্রেক করলেন।

১। কাদের উদ্দেশ্য করে এই লেখা?/ লেখার উদ্দেশ্য কি?

২। সুনির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য থাকলে, এই লেখা দিয়ে কিছু অর্জনের ইচ্ছা আছে, নাকি শুধু লেখার জন্যেই লেখা?

৩। কোনটা মুখ্য আলোচনা? ধর্ম না রাজনীতি? অর্থাৎ, কোনটাকে প্রধাণ মনে করেন?

৪। ৭ নং নোক্তায় -"জনগণের দায়িত্ব কী চেতনায় আর কী আমলে আমরা নিচ্ছি?" জনগণ আর আপনি/আমরা কি আলাদা?

এইসব প্রশ্নের কারণ যেসব প্রশ্নে নিহিত:

৫। অনেক 'যা ঘটা অনুচিত' এবং কিছু 'যা ঘটা উচিতের' কথা বললেন। কিন্তু কি করতে হবে তা বললেন না। উচিতটা ঘটাতে কি করতে হবে? কিভাবে করতে হবে? যেমন: 'বিউপনিবেশন' কিভাবে করতে চান?

৬। বর্তমান সিস্টেমটাকে কোন নতুন সিস্টেম দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চান নাকি বর্তমান সিস্টেমকে সংস্কার করতে চান?

৭। আপনার পরিষ্কার মতবাদিক অবস্থান কি?

এই প্রশ্নগুলোর জবাব লেখার ভেতর থাকা দরকার ছিল। না থাকার কারণে সুখপাঠ্য হল না। অস্পষ্টতা রয়ে গেল।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১. এটা একটা বিতর্কের জবাবে লেখা। বিতর্কটা পাবেন এখানে...

২. এটা ঠিক লেখা নয়, অগোছালোভাবে তোলা কয়েকটি পয়েন্ট।

৩. ধর্ম-রাজনীতি-আত্মপরিচয়ের সংস্কৃতি যেখানে একাকার, সেখান থেকেই এর শুরু।

৪. আমরা শিক্ষিত, মধ্যবিত্তরা জনগণ নই। আমরা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর অংশ তাদের তুলনায়। সেই অর্থেই বলেছি, আমরা আমাদের ওপরতলার সঙ্গে কোলাবরেট করব নাকি জনগণের সঙ্গে একাত্ম হব। জনগণ অস্পষ্ট কথা ঠিক। এ নিয়ে এই ব্লগেই আমার একটি আলোচনা আছে।

পরের প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা আশা করি পরে দিতে পারব।

৫. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: দুর্দান্ত। আরেকটু আলোচনা হোক।
৬. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আলোচনাটা শুরু হয়েছিল এখানে।

http://www.nirmaaan.com/blog/sushanta/5618

@ ফারহান> আমি পয়েন্টগুলো তুললাম খসড়া আকারে, আপনারাও এগিয়ে নিতে পারেন।
৭. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ঔপনিবেশিক ঠুলি পড়া চোখে আমরা কেবল তাদের দাড়ি বা টুপিই দেখি।



এই ঠুলি এক ভয়ংকর ঠুলি। দীর্ঘ সময়ও সহজে এই ঠুলিটা সরাতে পারে না। একধরনের মাদক এটা।
৮. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: লেখাটা পড়ে মাথার উপর দিয়ে গেল। নাজিকে আপনি ধর্মীয় আদর্শ সম্পন্ন বলছেন, কিন্তু আমি জানতাম যে নাজিরা ধর্মকে অস্বীকার করে ক্ষমতায় এসেছিল।

এটা ঠিক যে পশ্চিমে ধর্মের প্রভাব খুব বেশী। আমেরিকার ইতিহাসের সাথে অবশ্য ধর্ম জড়িত। পিলগ্রিমরা নিজেদের দেশে ধর্ম পালন করতে না পেরে আমেরিকাতে আসে।

ধর্ম অনেকাংশে সমাজকে নিয়ন্ত্রন করে বলে ধর্মের রাজনৈতিক প্রয়োগ কিংবা অপপ্রয়োগ থাকবেই। সব সমাজেই এটা থাকে। তবে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি অনেক কারনে জন সমর্থন পায় না। প্রথমত: তারা অনেক বেশী অসহিষ্ণু এবং ফলশ্রুতিতে জন বিচ্ছিন্ন। দ্বিতীয়ত: ধর্ম মূলত ব্যখা নির্ভর। বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে ব্যখা দেবার ফলে ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে একমত হওয়া খুব বড় রকমের কঠিন।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:০৫

লেখক বলেছেন: অসহিষ্নুত ধর্ম বা সেকুলার রাজনীতি উভয়েই কম করেনি। মূল সমস্যা ধর্ম নিয়ে হলো, এগুলো যে অবস্থায় আছে তা আজকের মানুষের নৈতিক বা বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যাকেই তেমন সমাধান দিতে পারে না। একারণেই ধর্ম জীবনবিধান থেকে অনেক ক্ষেত্রেই আত্মপরিচয় নির্ধারণে , আমরা বনাম তারা'র বিভাজনে কাজে লাগছে।

আপনার কথা এক অর্থে ঠিক। তবে নাৎসিদের সেকুলার বাগাড়ম্বরের তলে আর্য-খ্রীস্টিয় ভ্যালুজ গুলো ছিল। ইহুদি নিধনে তাদের সঙ্গে রোমান চার্চের যোগসাজশও সুবিদিত। সাম্প্রদায়িকতার জায়গায় তারা ঠিকই ধর্মকে কাজে লাগিয়েছে।

৯. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: পর্যবেক্ষনে থাকলো
১০. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩২
মনির হাসান বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষন । তবে মোট ১১ টি নোক্তা ...


যদিও সুশান্তের পোস্টের ঠিক কোন অংশের প্রতিক্রিয়ায় এই পোস্ট তা বুঝতে পারছিনা ।

আপনার বিশ্লেষনাত্বক পোস্ট'টি চমৎকার একটি মৌলিক পোস্ট হতে পারত কোন প্রকার মুখাপেক্ষি'তা ছাড়াই ।

যাই হোক, লালনের নিজস্ব লোকধর্ম ছিল, সেটা চর্চার জন্য হয়তো জরুরী ছিল, কিন্তু সার্বিক দর্শনে লালন ধর্মনিরেপেক্ষ ছিল ।
সেটাও কি বিশ্বায়ন সংকটের ইম্প্যাক্ট ছিল ?

বাংলার (বোধকরি সারাবিশ্বের মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের) মারফতি চর্চায় "যার ঘড়ি সে বানাইয়া লুকাইয়াছে ঘরির ভেতর" টাইপের সেমি-নাস্তিক কথাবার্তাও কি সেই সংকট প্রভাবিত ?

একজন আরজ আলি মাতব্বর ? ? ?


পরিশিষ্ঠঃ মানুষ আমরা, আমাদের সব কিছু একটা গণিতের ছাচে ফেলে তার পর সেটাকে সমাধান করতে যাওয়া'টা কি যথেষ্ঠ বুদ্ধিমানের কাজ ?
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: ১. বিশ্বায়নের সংকট থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা নয় বরং ধর্মের একদিকে ক্ষয় অন্যদিকে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিকীকরণ ঘটেছে. এটা আমি বলেছি। এর বেশিও নয় কমও নয়।

২. লালনের সময় (তার আগের এক শতাব্দীজুড়ে বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভেদের বিরুদ্ধে সারা ভারতে তো বটেই, বিশেষ করে বাংলায় অনেকগুলো লোকায়ত ধর্মমত এসেছে। এসব এসেছে সুফী চিন্তা, পীরালি ধারা, বাউল-বৈষ্ণব ইত্যাদি প্রতিবাদী সৃষ্টিশীল ধারা থেকে। লালন এই ধারার শেষ এবং আমাদের জানা মতে সর্বোচ্চ প্রতিনিধি। তাঁর মধ্যে বাংলার বিপ্লবী দর্শনচর্চার ধারাটি অনেকদূর এগিয়েছে।

৩, উপনিবেশবাদের ধাক্কা লালনকে আরো সজাগ ও সতর্ক করেছিল। এবং তিনিই একমাত্র সেইসময়ের বিউপনিবেশিত ব্যক্তি_ রবীন্দ্রনাথ নন।

৪. আমাদের চৈতন্যদোয়ের ধারাকে কেন পাশ্চাত্য দর্শনের নাস্তিক্য বা সেইমতো ম্যাটেরিয়ালিস্ট হতেই হবে? ম্যাটেরিয়ালিস্ট মানে জড়বাদী, বস্তবাদ নয়। আরজ আলী মাতুব্বুর বা হুমায়ুন আজাদরা বড়জোর জড়বাদী। জড়বাদ নিয়ে আমাদের কাজ নাই। তবে তাঁদের সংগ্রাম গ্রামীণ কৃষক শ্রেণীর ভেতর থেকে কিংবা মধ্যবিত্তের ভেতর থেকে চিন্তার স্পর্ধার প্রকাশ সেটাকে অভিবাদন জানানো জরুরি, মান্য করা নয়।

১১. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
রাস্তার ছেলে বলেছেন: 'জনগণ' সংক্রান্ত আপনার এই ব্লগের লেখাটার লিংক থাকলে ভাল হত। তবে আসলে যেটা দরকার ছিল সেটা হল আমার ৭ নং প্রশ্নের উত্তর।

মুক্তাঙ্গনের সাথে আমি আসলে জড়িত নই। ফলে ওখানে আপনার সাথে জয়েন করতে পারছি না। তাই এখানেই আলোচনা চালাচ্ছি। আলোচনার আগে আমার অবস্থান ক্লিয়ার করে নেই। আমি কমিউনিস্ট (সুতরাং বাই ডিফল্ট নাস্তিক)।

["আমি মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েও পরিপূর্ণভাবে ইহজাগতিক-বস্তুবাদী, নাস্তিক নই। কারণ ধর্মের সাপেক্ষে আমি নিজেকে সনাক্ত করি না। আমি সনাক্ত হতে চাই সর্বমানবীয় ইতিহাস আর সকল মানুষের প্রতি দায়ের কাছে। নাস্তিকতার ব্যক্তিগত বিলাস আমাকে কোনো সুখ দেয় না। তার চেয়ে বলেন, এমন কোনো গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার কথা,যার বিকাশ ঘৃণা থেকে নয়, আত্মঅহমিকা থেকে নয়, তাকে আমি স্যালুট জানাব।"] -

আসলে নাস্তিকতা একটা স্বাধীন মতবাদ। বস্তুবাদ এর দর্শন। এটা কোন ধর্মের সাপেক্ষে আসেনি। আদিম সাম্যবাদের পরিসমাপ্তির সময়থেকেই শুরু হওয়া শোষণের হাতিয়ার, ধর্মের বিরুদ্ধে এর অবস্থান। আস্তিকতা আর নাস্তিকতার জন্ম একই সাথে। আমি কোন অপরাধ করলে তার দায় আমারই, শয়তানের বা কোন অসুরের নয় এই চিন্তাকে ধারন করা নাস্তিকতা। আমি মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে চাই কোন ঐশ্বরীক প্রতিফলের লোভে নয় বরং মানুষকে ভালবাসি বলেই, এই চিন্তাকে ধারন করা নাস্তিকতা। যুগে যুগে শোষণের বিরুদ্ধে শোষিতের যে লড়াই তার হাতিয়ার এই নাস্তিকতা। "ঈশ্বর গোটা বিশ্বকে তার ইচ্ছায় তৈরী করেছেন, কাজেই তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যাবে না, গরীব গরীব থাকবে, ধনীরা ধনী" অথবা "আমার ধন সম্পদ সব সৃষ্টিকর্তার দেয়া"- এই বিশ্বাসের মূলে আঘাত করাই নাস্তিকতা। নইলে মানুষ কি করে ফরাসী বিপ্লব করত? কি করে অক্টোবর বিপ্লব হত? আস্তিকতার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের জীবনিশক্তিকে নিঃশেষ করে ফেলতে থাকা সিস্টেমের বিরুদ্ধে মানুষ না হলে কি নিয়ে দাঁড়াতো? ইদানিংকার ব্যক্তিত্ববাদকে আপনি নাস্তিকতার সাথে কেন মেলাবেন যখন তা পুঁজিবাদের মত একটা শোষণমন্ত্রের তৈরী অলীক কল্পনা মাত্র যার একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষকে বিভাজিত করা? বরং এ দুটোকে আলাদা করাই আপনার দায়ীত্ব। এই বিষয়ে বলে রাখা ভাল, আমি দুটো দর্শনকে আলাদা করতে বলছি, মানুষকে নয়।

দাস প্রথা, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ তাদের শক্তি দিয়ে সব বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরী করে আস্তিকতাকে, ঈশ্বরকে নিঃশর্ত ভাবে আমাদের মনে গেঁড়ে দিয়েছে বা দেবার চেষ্টা করে চলেছে এবং এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে নাস্তিকতাকে আপনার আনতে হবে না, নাস্তিকতা নিজেই এসে যাবে।

জনগণের ব্যাপারে আসলে যা বলতে চাই; আমার হিসাবে শোষিত সর্বহারা শ্রেণীই আসল জনগণ। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত হিসাবে আমার দায়ীত্ব তার সাথে একাত্ব হওয়া। সেটা হতে হবে দর্শনগত ভাবে। জনগণ যতটা ভাবতে পারে, তার চেয়ে বেশি ভাবাটা আমাদের জন্য হবে ভুল পদক্ষেপ যদি আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। কাজেই জনগণথেকে আলাদা ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার ব্যাপারটা আমার কাছে অপছ্ন্দনীয়।

অনেক সংক্ষেপ করার চেষ্টা করেও বেশি লম্বা হয়ে যাচ্ছে বোধ হয়! এখানেই রাখলাম।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: জনগণ নিয়ে লেখাটা পাবেন এখানে : সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট গণতন্ত্রে জনগণ কি আছেন?http://www.somewhereinblog.net/blog/farukwasifblog/page/10


আপনার আলোচনা আমাকে দারুণ উৎসাহিত করছে। কিন্তু হাতে সময় খুবই অল্প। চকিতে কিছু কথা বলে যাই।

প্রথমত, মার্কসবাদের সঙ্গে নাস্তিকতা কোথায় মেলে সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ গভীর। কেবল আল্লাবিরোধিতা করার মধ্যে মার্কসের দর্শনের কাজ নয়, কুমিউনিস্টদেরও কাজ নয়। রাশিয়া-চিন বা আর কোথাও কমিউনিস্টদের এটা নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা করতে হয়নি। এবং বলশেভিকদের সবাই কিংবা মাওবাদীদের সবাই নিরীশ্বরবাদী হয়ে বিপ্লব করেননি। সেটা করতে গেলে কোটি মানুষের সমর্থন পেছনে আসতো না। তারা যেটা করেছেন প্রতিষ্ঠিত চার্চ বা পুরোহিততন্ত্রের সরাসরি বিরোধিতা। আবার চার্চ বা পুরোহিততন্ত্রের অনেকে তাদের সঙ্গে যোগও দিয়েছিলেন।

একজন মার্কসবাদী ঈশ্বরের জায়গায় ইতিহাসকে ও মানুষকে স্থাপন করেন ঠিক, কিন্তু ঐতিহাসিক নির্ধারণবাদ বা ইতিহাসই সব করে দেবে কিংবা মানুষ মাত্রই পূজ্য এরকম চিন্তাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না। এর মাধ্যমে তা আরেকটা ধর্ম হয়ে ওঠে। ধর্মকে হঠিয়ে ধর্ম কায়েম করা মার্কসবাদীর কাজ নয়।

আমি মনে করি, যে যে বিশ্বাসেই থাকেন তিনি সমাজ পরিবর্তনের সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেই তাঁকে আমরা মোটাদাগে কমিইনিস্ট বলতে পারি। কমিউনিজমকে কোনো বুদ্ধিবাদী আন্দোলন গণ্য করা যেতে পারে না। এ জন্যই এটা মধ্যবিত্তের রাগী উচ্চিংরে তরুণদের বাইরে যেতে পারছে না।
মানুষের পক্ষে যে কারণে চরম নেতিতে যাওয়া সম্ভব নয় সেকারণে নাস্তিমূলক সত্তা হওয়াও সম্ভবও নয়। এটা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে মাঝে মাঝে বাড়ে। বিশেষত বুর্জোয়া ব্যক্তিস্বাতন্ত্র আর বুদ্ধিবৃত্তিক নাস্তিকতা প্রায় এক কথা। আমাদের দেশে এই জিনিস বুর্জোয়া আধুনিকতা আর তার অস্তিত্ববাদী প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে।

অন্যদিকে প্রাচীন ভারতে নাস্তিকতার দর্শন বেদ-এর বিরোধিতা করে দাঁড়িয়েছে। সেটা কিন্তু ধর্ম-বিরোধী নয়: বেদবিরোধী।

ধর্ম যদি আপাদমস্তক মানববিকাশের পক্ষে ক্ষতিকর হতো, তাহলে তা টিকতোই না। মানুষ তো আর পাগল নয় কিংবা তাদের মাথা মাটিতে ভর করে দাঁড়ানো নয়। ধর্মের আবির্ভাব ইহজাগতিক প্রয়োজন এবং ইহজাগতিক মানুষের জগতকে ভালবেসে তাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন থেকে। তার হিত-অহিত আছে। ধর্ম এসেছে টিকেছে বা আজকেও যে তা বিবর্তিত হয়ে টিকে আছে তার কারণ হলো পুঁজিবাদের পণ্যপূজার আধ্যাত্মিকতার থেকে মানুষ-মহাজগত-প্রকৃতি ও ভূত-ভবিষ্যতের তাৎপর্যের প্রতি মানুষের টান বেশি। এটা কোন পথে আরো বিকশিত হবে সেটা অন্য আলোচনা।

আপাতত এই যে, নাস্তিকতার কর্মসূচি জনগণের জন্য বা বিপ্লবের জন্য কেবল ক্ষতিকরই না, তা বুর্জোয়া নৈরাজ্যবাদের ভাববিলাস। সেকারণে মার্কস-এঙ্গেলস লেনিন নিজেদের নাস্তিক দেখানোর থেকে মানুষের প্রতি তাদের দায় ও দায়িত্বের সংবাদটাই বেশি রটিয়েছেন_সেটাই ছিল তাঁদের আস্তিক্য, যার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ। তাই মার্কস বলেন এক সাক্ষাৎকারে :

'নাথিং হিউম্যান ইজ অ্যালিয়েন টু মি'।

আমি এর বাংলা করতে চাই, ‌'আমার মন পড়ে রয় মানবের তরে।'

১২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
মনির হাসান বলেছেন: ৩, উপনিবেশবাদের ধাক্কা লালনকে আরো সজাগ ও সতর্ক করেছিল। এবং তিনিই একমাত্র সেইসময়ের বিউপনিবেশিত ব্যক্তি_ রবীন্দ্রনাথ নন।

==>> একমত ।
লালন জ্ঞান খুব কম তারপরো বলতে চাই ... এই সর্বোচ্চ প্রতিনিধির বিপ্লবী দর্শনচর্চাটা সামগ্রিক অর্থে মুক্তই ছিল ... লালনের দর্শন একশ বছর ... হাজার বছর তারতম্য হলেও খুব বেশি এদিক ওদিক হতনা ... যা শ্বাশত তা আজ কাল পরশু সর্বতাই শ্বাশত ...

মানুষ পরিবেশ বহির্ভুত প্রানী নয় .. তাই বলে সব কিছু'কে বিশ্ব পরিবেশের প্রভাব ধরে নিয়ে গবেষনায় আগানোটা আমার কাছে "টেম্পলেট ফলো করে হিন্দী ছবি তৈরির" মতোই সস্তা মনে হয়।

১৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৪২
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: লালনকে আমি সর্বোচ্চ প্রতিনিধি বলেছি একটি ধারার, যে ধারাটি তাঁর তিরোধানের পরে অবক্ষয়ে পড়েছে। যে কৃষক সমাজ ও তার ভাব-সম্পর্কের আধারে এটা বেড়ে উঠেছিল, সেটা লোপ পাওয়ায় এই ভাবুকতার ধারা শেকড় হারায়। নতুন যুগ যেসব নতুন সমস্যা ও ভাবনা নিয়ে আসে তা মোকাবেলার সামর্থ্য এর ভেতরে আর ছিল না।
এ কারণে কোনো চিন্তাকেই শাস্বত বলা যায় না।

আর আমি বর্তমান সময়ের ধর্ম-ভাবনার গঠনে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবটা দেখিয়েছি। কিন্তু একটি ধর্মের নিজস্ব সিস্টেম, তার ইতিহাস, দেশকাল ভেদে তার আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা এগুলোর ভূমিকা এখানে আনিনি। সেগুলোও ক্রিয়া করে। কোনো একটিকে আলাদা করে প্রধান না করেও বলা যায়, ইসলামপ্রধান দেশগুলোর সমস্যা সাবেক উপনিবেশিত দেশের যে সমস্যা সেটাই। তারা এখনো তাদের স্বাধীনতা অর্জন করেনি। ফলে তাদের নিজস্ব অ্যাকশন ও জীবনগঠন এখনো শুরুই করতে পারা যায়নি।
১৪. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮
রাস্তার ছেলে বলেছেন: আপনার লেখা (লিংক সহ) পড়লাম। আমার ৭ নং প্রশ্নের উত্তরটা আরো জরুরী হয়ে গেল। কারণ আপনি কোন মতাবস্থানথেকে কথা বলছেন তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না বা পারলেও চাইছিনা আপনার কাছথেকেই জানার জন্য।

আপনার কমেন্টের জবাব পরে (বেশি পরে না) দেব।
১৫. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: আমি নিজেকে মার্কসবাদী মনে করি। কিন্তু এত ধূলা আর কাদায় ঢেকে গেছে যে এতে করে কি কিছু বুঝবেন?
১৬. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯
ব্রুটাস বলেছেন: খ্রীষ্টানরা সাম্প্রদায়িক এই কথা জানি। তাই বইলা কি আপনে সেকুলারিটিরে অস্বীকার করবেন? আমিও তো নিজেরে সেকুলার মনে করি।
১৭. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: ‌'খ্রীষ্টানরা সাম্প্রদায়িক '

এই ঢালাও কথাটাও সাম্প্রদায়িক নয় কি?
১৮. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
ব্রুটাস বলেছেন: হুম এই কথাটা সাম্প্রদায়িক হয়। শব্দের ভূল প্রয়োগ হয়েছে। বলতে চেয়েছিলাম প্রচুর সাম্প্রদায়িক খ্রীষ্টান দেখেছি। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক মুসলমান,ইহুদি, হিন্দুও দেখেছি। সব থেকে কম সাম্প্রদায়িকতা দেখেছি বৌদ্ধদের মধ্যে।
১৯. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: একখান কুশ্চেন, মাদ্রাসায় পড়লেই কি ধর্ম সম্পর্কে সম্যাক জ্ঞান আহরন কি সম্ভব? আপনার ভিউ টা জানতে চাই!
২০. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: না, তা মনে করি না। আবার পড়লেই বাতিল তাও না। আম না খেলে আমের একরকম জ্ঞান, আবার খেলে খাওয়ার মজায় আসক্ত জ্ঞান। দুটোই জ্ঞান। কথা হলো, বিশ্বাসীর জ্ঞান আর সেকুলারের জ্ঞান একটা জায়গায় মিলতে পারে, তা হলো পর্যালোচনার মধ্যে। ধর্মকে পর্যালোচনা করার অধিকার নাস্তিকেরও থাকতে পারে, যেমন বিশ্বাসীর থাকে তা চর্চার অধিকার। জ্ঞান ততক্ষণ সহনীয় যতক্ষণ তা অপরকে হেয় না করে, বিশ্বাস গ্রহণীয় যদি না আক্রমণাত্মক হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৩৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই