somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধান অথবা প্রাণ

২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সেখানে সবুজ ছিল, টলটলে জলের উৎস ছিল, নির্জনতা আর চঞ্চলতা ছিল। পাহাড়ের উপরে দাঁড়ালে সবুজ ধানক্ষেত ছিল। এসবের মাঝে বহুজনের মধ্যে সাহসী এক যুবক ছিল। ঘরে আলতা রাঙা যুগল পা আর ফুটফুটে এক মুখ ছিল। স্বপ্ন ছিল অবারিত, কষ্টি পাথরে যাচাই করা শুদ্ধ শ্রম ছিল।


পাহাড়ের পাদদেশের জমিগুলোতে আগে তেমন ফসল ফলত না। জমিগুলো খালি পড়ে থাকতে দেখতাম বছরের বেশীর ভাগ সময়। আধুনিকতা আর শ্রমের বিনিময়ে এখন চোখ ধাঁধাঁনো ধান ফলে। বেশীর ভাগ জমিতে মাতৃ প্রধান গারো সম্প্রদায়ের মেয়েরা জমির সব কাজ করে। এখন অবশ্য অনেকেই সমতল ছেড়ে এসে এদের পাশাপাশি জীবন শুরু করেছে। এদের মাঝেই রাঙা নামের এক যুবকের সংসার ও একখন্ড জমিন আছে। সেখানে এবার খুব ভাল ধানগাছ হয়েছে, ভারে নুয়ে পড়েছে ধানশীষ।

ধান পাকার মৌসুমে যাদের জমি আছে সবাই মিলে পালাক্রমে পাহারা দেয় ঐ জমিনগুলো। হাতে থাকে কেরোসিনের মশাল, দেশীয় রামদা ও লাঠি। এত আয়োজন চুরের জন্য না, বন্য হাতির জন্য। সন্ধ্যে নামার আগে একসাথে ৬০-৮০ টা হাতি দল বেঁধে ঝাপিয়ে পড়ে এসব ধানক্ষেতে। সারা রাত ধরে চলে তাণ্ডব লীলা। এদের হাত থেকে ধান বাঁচানোর একমাত্র উপায় কাছে যেয়ে এদের তাড়ানো। আগুন এরা ভয় পায়, তবে দেখে মনে হল আগুন দেখে হাতিরাও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আগে পটকা ফুটালেও দৌড়ে পালাত, এখন বন্দুকের গুলির শব্দ লাগে এদের তাড়াতে। হাতিকে মারাও যায় না শাস্তির ভয়ে, আইনে ১২ বছরের কারাদণ্ডের সাথে ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেরও বিধান আছে। অপর দিকে আছে কিছু মানুষের কান্না, স্বপ্নভঙ্গ ও হতাশা।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিতে নতুন ব্যায়ভার এই কেরোসিনের মশাল প্রতিদিনের খরচের তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাঙার জীবনে। সাথে আছে নির্ঘুম রাত ও কিছুটা বিরহ ব্যথা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও হাতির পাল এলো, গুগ্রাসে গিলতে শুরু করলো কাঁচা পাকা ধান। আকাশে তখন আবছা চাঁদের আলো ছিলো, বাতাসে স্বপ্ন পোড়ার গন্ধ ছিলো। একহাতে রামদা অন্যহাতে মশালটা নিয়ে চিৎকার করতে করতে খুব কাছে চলে গেল রাঙা। পেছনে তার স্বপ্নের সংসার, বাতাসে স্বপ্ন পোড়ার গন্ধ, সামনে মৃত্যু অথবা বিজয়!

হিংস্র হাতির দলের একটা হাতি প্রথমে রাঙাকে শুর দিয়ে ধরে একটা আছার দিল, তারপর ফুটবলের মতো খেললো কিছুক্ষন। সবশেষে পায়ের নিচে দিল। অন্য মানুষের চিৎকারে ততক্ষনে হাতির পাল বিদায় নিলো। মাটি নরম ছিলো, রাঙাকে মাটির ভেতর থেকে বের করা হয়। সে এখনো জীবিত আছে। এরকম ঘটনা প্রতি বছর ঘটে। আমাদের ঐ ছোট এলাকাতে এভাবে গত বছর চারজন মারা গেছে। তারা ধান বাঁচাবে নাকি প্রাণ - উত্তরটা বোধকরি তারা নিজেরাও ঠিকভাবে জানে না! ধান কাটা শেষ হলে হাতিরা বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। পাহাড়ে বন্য হাতি এক আতঙ্কের নাম।



সীমান্তে হত্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আমরা প্রতিবাদ করছি। কিন্তু এই পরোক্ষ হত্যা সম্পর্কে আমরা কমই জানি। ধানের মৌসুমে ইন্ডিয়ানরা এই হাতির পালগুলোকে কাঁটা তাদের বেড়া খুলে বাংলাদেশের ভেতরে পাঠিয়ে দেয়। এতে করে তাদের ফসলগুলো রক্ষা পায়। ধান খেয়ে, মানুষ মেরে, বাড়িঘর ভেঙে এই হাতিগুলো আবার ফিরে যায়। ইন্ডিয়ান মানুষগুলোর মত এই হাতিগুলোও আগ্রাসী ও স্বার্থপর। আমাদের পাহাড়ে যে হাতিগুলো আছে সেসব ভারতীয় দাদা। খাবে দাবে আর ল্যাদায়ে যাবে। কষ্টের ধানের বিনিময়ে আমরা সে ল্যাদা নিয়ে খুশি হব। নদী ভরাট করে রাস্তা দিবো, বিনিময়ে পাবো শুধু কালো ধোয়া। নদীগুলো শুকিয়ে কাঠ হবে একে একে, তৃষ্ণার্ত বাঙালী চৌচির মাঠে মথায় হাত রেখে প্রহর গুনবে বর্ষনের।

ভারতীয় আগ্রাসন ও শোষন বন্ধ হোক আজই। বন্ধ করতেই হবে। সোচ্চার হও বাঙালী প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে।।

৫৬টি মন্তব্য ৫৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×