রাহেলা বিষয়ক দু'টো তথ্য
২২ শে মে, ২০০৮ সকাল ৮:৪৩
প্রথমতঃ রাহেলা হত্যা মামলাটি গত পরশু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের চাঞ্চল্যকর মামলা মনিটরিং সেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।চাঞ্চল্যকর মামলা মনিটরিং সেল তাদের আমলে আনা মামলাগুলো অগ্রগতি নিয়মিত ফলো করে।এবং দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে। মানবীসহ রাহেলা হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার সবার জন্য এটা হয়েছে নিশ্চয়ই।
২য়:রাহেলার করুণ জীবন ঘটনা ও খুনিদের শাস্তি চেয়ে মানবীর নতুন একটি লেখা ছাপা হয়েছে সচিত্র বাংলাদেশ পত্রিকায়।বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর প্রকাশিত এই পত্রিকাটির এপ্রিল সংখ্যায় লেখাটি আছে।লেখাটির স্ক্যান কপি আপাততঃ দিলাম।পরে পুরো লেখাটি দেয়ার চেষ্টা করবো।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ
সচিত্র বাংলাদেশ,এপ্রিল সংখ্যায় মানবীর লেখা:
রাহেলাদের দীর্ঘশ্বাস
আমরা মানবতার জয়গান গেয়ে যাই। কেউ ধর্মের নাম তুলে কেউ বা ধর্মহীনতার। ইরাকে নারী ধর্ষিতা হলে আমাদের শিউরে উঠি, ঘৃণা জানিয়ে বিচার চাই বিশ্ববাসীর কাছে। প্যালেস্টাইনে শিশু নির্যাতন, হত্যা হলে ক্ষত বিক্ষত হয় আমাদের বিবেক। আগুন ঝরা লেখায় সাধ্যমতো প্রতিবাদ জানাই, কেনই বা নয়!!! বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিমান রাষ্ট্রসমূহের এহেন কর্মে ঘৃণা জানানো ছাড়া আর কিইবা করার আছে আমাদের!!! বিশ্বমানবতা, ভাতৃত্ববোধও এমনটীই বলে..
অথচ, দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ক্রন্দনরত চার বছরের নির্যাতিতা শিশু বন্যার আর্তনাদ আমাদের কানে পৌঁছেনা! ইরাকে ধর্ষিতা নারীর চেয়ে বর্বরোচিত ধর্ষন নির্যাতনের শিকার রাহেলাদের দীর্ঘশ্বাস আমাদের সেভাবে ব্যথিত করেনা, আমাদের বিবেককে জাগ্রত করেনা! রাহেলার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আমাদের লজ্জাকর নীরবতা... এই নীরবতা কোন অক্ষমতা থেকে নয়, এই মৌনতা আমাদের মৃত বিবেকের জড়তা থেকে। অন্যায় অবিচার মেনে নিয়ে নিজেদের মাথা নত করে চলার প্রবণতা থেকে। আমরা জানি যে আমাদের প্রত্যেকের একটু প্রচেষ্টা সন্মিলিত ভাবে হয়তো একটি শক্তিতে রূপ নিবে, এই নরপশুদের বিচারে সাহায্য করবে। তবু, আমরা তা করিনা..
২০০৪ সালের ২২শে আগস্ট, ৪ নরপশু পাশবিক ভাবে ধর্ষন করে রাহেলাকে, অপকর্মের সাক্ষ্য মিটাতে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে রাহেলার শরীর। গলা কেটে দেয়, ছিন্ন ভিন্ন করে রাহেলার স্পাইনাল কর্ড! পচে মরার জন্য ক্ষতবিক্ষত দেহটিকে ফেলে আসে ময়লা জঙ্গলে!
মানুষ রাগের মাথায় বা আতংকিত হয়ে অনেক সময় তাৎক্ষনিক ভাবে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ভয়ংকর কাজ করে বসে, তবে কিছুক্ষণ পর অথবা কয়েক ঘন্টা পর সম্বিৎ ফিরে পেলে অনুতপ্ত হয়। এই কুলাঙ্গার ধর্ষকদের নীচতা ও পাশবিকতা এমন ভয়াবহ যে, দু'তিন দিন পর পরিত্যাক্ত দেহটির হাল জানতে গেলে যখন দেখে, রাহেলা জীবিত এবং আকন্ঠ পিপাসার্ত হয়ে তাদের কাছে পানি চাইছে তৃষ্ণা মেটাতে.. এই নরপশুরা পানির পরিবর্তে এসিড ঢেলে দেয় তৃষ্ণার্ত মেয়েটির গলে পচে যাওয়া শরীরের উপর।
টানা ৩৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রাহেলা।অভাগা দেশের হতভাগ্য এই তরুনীর অভিযুক্ত আসামীরা আজও সাজা পায় নি।বিভিন্ন পত্রিকার সূত্রমতে হাসপাতালে অবস্থানকালে আততায়ী সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল রাহেলা।(সূত্র:ডেইলি স্টার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৪)
দরিদ্র রাহেলারা মৃত্যুর সাথে সাথে বিস্মৃত হয়ে যায়।তার স্বামী দু'মাসের মধ্যে নতুন করে ঘর বাঁধেন।রাহেলার একমাত্র আপনজন হতদরিদ্র অসহায় মা এখন আর মামলার খোঁজ করেন না।অত্যন্ত দুঃখজনক যে,প্রধান আসামী আজো গেফতার হয়নি।অভিযুক্ত সহযোগীরা নেই কারাগারে।
রাহেলার মতো অসহায় নারীদের জীবন যেন এভাবেই নিভে যাওয়া স্বাভাবিক।তাদের মুত্যু হবে অপঘাতে,নরপশুদের হিংস্র বাসনা চরিতার্থ করার একটা উপলক্ষ মাত্র তারা।মানবাধিকার সংস্থাগুলো কিছুকাল মিছিল,মিটিং,সড়ক অবরোধ করে,হৈ চৈ হয় চারদিকে...পত্রিকার পাতার শিরোনাম হয়।মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যায় তাদের খবর।মানবাধিকার সংস্থা,সংবাদ সংস্থাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে নতুন খবর নিয়ে।আমরা ভুলে যাই মৃত রাহেলার সাথে করা অন্যায়ের কথা।তার ঘৃন্য হত্যাকারীদেরকে প্রাপ্ত শাস্তি দেবার কথা।
বিশ্ব মানবতাবোধের আবেগে উদ্বেলিত আমরা আমাদের দেশের নারীদের নির্যাতনকারীদের বিচার করতে পারছিনা।রাহেলা হত্যা মামলা কোন দিন সুবিচারের মুখ দেখবে কিনা বুঝতে পারছি না।এমন নয় যে অভিযুক্তরা খুব প্রতাপশালী কেউ তারপরও... এমন ভয়ংকর ধর্ষক,খুনিরা মুক্ত স্বাধীনভাবে হেসে খেলে আছে।ঘুরে বেড়ায় আমাদেরই মাঝে।
আমরা এদের বিচারে ব্যর্থ হই বলেই দিন দিন বেড়ে চলছে হত্যা।ধর্ষন আর নারী নির্যাতনের সংখ্যা।দিন দিন নির্ভীক আ বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব ঘৃন্য নরপশুর দল।আজ আমরা রাহেলাদের হত্যাকারী,ধর্ষকদের বিচারে ব্যর্থ হলে আগামীকাল এদের শিকার হবে অন্য কোন নারী।
মানবতাবোধ ডুকরে কাঁদবে আর উল্লাসে মেতে উঠবে হায়েনার দল।রাহেলাদের দীর্ঘশ্বাস আমাদের জর্জরিত করবে... যুগে যুগে...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
দূরন্ত বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
রাহেলা হত্যার বিচার বিষয়ক আপডেট দেবার জন্য ধন্যবাদ।
মু্ক্ত মানব বলেছেন:
আপডেট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
লাল দরজা বলেছেন:
আশার আলো দেখলাম। মানবীর লেখাটা পড়তে চাই। আপডেটের জন্য ধন্যবাদ।
আলফ্রেড খোকন বলেছেন:
আমি অপেক্ষায় আছি তোমার একটি পোস্টের জন্য, যেখানে লেখা থাকবে; রাহেলার খুনীদের বিচার শেষ এবং রায়.......?
লেখক বলেছেন: শাখামৃগ,এখান থেকে লিয়া লওখন![]()
রোডায়া বলেছেন:
স্ক্যান করা ছবিটা পড়া যাচ্ছে না৷
লেখক বলেছেন: এখন, লেখাটা এখানেই আছে।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
এভাবে আপডেট দিবেন ...ধন্যবাদ
মুনিয়া বলেছেন:
ধন্যবাদ।
মিহির সাঁওজাল বলেছেন:
ধন্যবাদ, ফয়সল নোইকে। মানবীর লেখাটি সংগ্রহ করে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। এটি একটি দৃষ্টান্ত বটে। বিষয়টি নিয়ে টানা প্রতিবাদের এই দৃষ্টান্ত অামাদের অাশান্বিত করে। অনুরোধ করবো, ধরে রাখুন.... দেখি শেষটা কি হয়।
মানবী বলেছেন:
"রাহেলা হত্যা মামলাটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের চাঞ্চল্যকর মামলা মনিটরিং সেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটি ব্লগে শেয়ার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ফয়সল নোই।
লেখাটির স্ক্রীন শট দেয়ার দূরে বসে দেখা সম্ভব হলো, সেজন্যও অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: মানবী,লেখাটি আপনার চোখে পড়েছে দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমি মনে প্রানে চাইছিলাম আপনি আপনাদের এই সাফল্যের খবরটি পান।মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মনিটরিং সেলে অন্তর্ভুক্তি একটা বড় খবর বলেই মনে হয় আমার কাছেও।
মামলার পরবর্তী তারিখ ২/১ দিনের মধ্যেই জানা যাবে বলে পিপি জানিয়েছেন।আশংকার ব্যপার হলো,রাহেলার মৃত্যুকালীন জবানবন্ধি গ্রহনকারী মেজিস্ট্রেট ও চিকিৎককে এখনও বের করা যায়নি।ওটা আদালতি গতিতে হচ্ছে।
আর আপনার লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।লেখাটি দেখে চমকে উঠেছিলাম।খুব ভাল লেগেছিল বলে ব্লগে দিয়ে দিয়েছিলাম।অনুমতি না নিয়ে ব্লগে দিয়ে দিয়েছি বলে কিছু মনে করবেন না আশা করি।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
উত্তর দিতে দেরি হলো ।এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
মানবী বলেছেন:
"মানবী,লেখাটি আপনার চোখে পড়েছে দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমি মনে প্রানে চাইছিলাম আপনি আপনাদের এই সাফল্যের খবরটি পান"- ফয়সল নোই, "আপনাদের এই সাফল্য" মানে কি বুঝাতে চাইছেন? আমার সাথে আর কে? মহান ফখরুদ্দইন না মাননীয় এম ইউ আহমেদ? নাকি, সচিত্রপ্রতিবেদনের সম্পাদক মন্ডলী???
আপনার বিনয়ের কোন শেষ নেই মনে হচ্ছে। বলা যায় প্রায় একক প্রচেষ্টায় এই মামলাটির জন্য আপনি লড়াই করছেন আর সাফল্য হলো আমাদের!!!
আর লেখাটি পড়ার সুযোগ করে দেয়ায় কৃতজ্ঞবোধ করছি, অনুমতির প্রশ্ন নেই এখানে।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: বললেইতো হবে না,মানবী
এই লেখাগুলো আমার নয়
-
Click This Link
Click This Link
তবে,আন্তরিক জবাবের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই মানবী![]()
মানবী বলেছেন:
জ্বি, ভালো বলেছেন। এই লেখাগুলোও আমার নয় Click This Link
Click This Link
Click This Link
পোস্টের জন্য আপানাকে আবারো ধন্যবাদ ফয়সল নোই।
লেখক বলেছেন: মানবী লিংকের কথা বলে লাভ নেই
Click This Link
এই লিংকে যাবার পর বাকি গুলো পড়ে দেখুন![]()
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
এগুলো ছাড়া বাকিগূলোও দেব।ওগুলোও আমার লেখা নয়।![]()
ফয়সল নোই বলেছেন:
রাহেলা হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের পরবর্তী তারিখ ৮ জুন।মানে পরশু।এদিন চিকিৎসক্ ও মামলার আইও স্বাক্ষ্য দেবেন।
মানবী বলেছেন:
আজ ৮ ই জুন, রাহেলা হত্যা মামলার শুনানীর আপডেট জানাবার অনুরোধ রইলো।
লেখক বলেছেন: রাহেলার ময়নাতদন্ত করেছেন যে ডাক্তার; তার এবং আইওর স্বাক্ষ্য নেয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিস্তারিত বিকেলে জানাব।
অনেকদিন পর আবার এলেন - নাইছ কামব্যাক।
কাজ কেমন হলো?
ফয়সল নোই বলেছেন:
কবিতাগুলো গ্যারেজে নিয়া রাখছিলাম।আমি কয় দিন থাকবো না।ওগুলো একা এখানে থাকবে এই জন্য লুকিয়ে রাখছিলাম।ড্রাফটে।এখন এসেছি।দেখে শুনে রাখতে পারবো।এজন্য আবার ওখান থেকে বের করে আনছি।আপনি কেমন আছেন?যতই কাজ করি, কখনো বসগো কি আর মন পাওয়া যায়
ভাল আছেন আশা করি
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















