somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রচ্ছদ : আনন্দ পাগলের হস্তলিপি

২৫ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আহা কি অদ্ভুত ব্যাপার ! একই যায়গায় এক মাসের মধ্যে তার সঙ্গে দুই বার দেখা। অবশ্য দেখেছি শুধু আমি। সে চোখ তুলে তাকায় নি। নিজ মনে হেঁটে চলে গেছে। দেখলেও চিনতো না নিশ্চিত। আমাকে কি আর মনে রেখেছে ? দরকার কি তার !

সেই অর্থে আনন্দ পাগলের সঙ্গে আমার ঘনিষ্টতা কখনোই ছিল না। যতটা কিছু ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে ছিল। সব সময়ই তাকে সন্দেহ আর ভয় মিশ্রিত কৌতুহলের সঙ্গে দেখেছি। এলাকায় কিভাবে কিভাবে তার নাম আনন্দ পাগল হলো জানি না। কখনো কাউকে নিজের নাম বলেছে এমন শোনা যায় নি।এলাকায় তার হঠাৎ আগমনে বেশ রহস্যের জন্ম হয়েছিল।

ছোট বেলায় কখনো লোকজনকে দেখতাম তাকে খাবার দেয়ার ছুঁতো করে কথা বের করার চেষ্টা করতো। কিন্তু সে চিঁহি চিঁহি মসৃন গলায় হিন্দি উর্দু ধরনের কি কি শব্দে কি বলতো কারো সাধ্য ছিলনা। তখন সন্দেহ আরো গাঢ় হতো সবার। বেটা গোয়েন্দা না হয়ে যায় না। তথ্য পাচার করছে। কোন বড় ঘটনা ঘটলে দেখা যাবে কাঁধের ঝোলা থেকে পিস্তল বের করে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি করছে ।

এক রাতে বাস স্ট্যাণ্ড ঘুমিয়ে থাকার সময় তার ময়লা ঝোলাটি চুরির ঘটনাও ঘটেছিল। পরের কয়েক দিন আনন্দ পাগলাকে খুব মন খারাপ করে ছিল। উধাও ছিল মাস খানেক । অনেকে বলাবলি করেছিল , কারো আবার কোন ক্ষতি হয় কিনা! এমন মানুষদের অনেক আধ্যাতিক ক্ষমতা থাকে।

ন‘টার কিছু আগে আগে এই রাস্তা ধরে যাই। শেরাটন হোটেলের উল্টো দিকের বাঁকে। যে রাস্তাটা মন্ত্রী পাড়ার দিকে ঢুকলো ; তার মাথায় আজো দেখলাম আনন্দ পাগল হেঁটে সব্জিবাগানের রাস্তার দিকে যাচ্ছে। খুব দ্রুত,ব্যস্ত সমস্ত। মুখ ভরা হাসি চিকমিক করছে। যেন যেতে খুব ভালো লাগছে । বা যেখানে যাবে , পৌঁছলে খুব ভালো লাগবে। মাস খানেক আগে কাকতালীয় ভাবে একই যায়গায় দেখেছিলাম। তার চির-পরিচিত নিশ্চিন্ত মুখভরা হাসি আমাকে একটা ভুলে থাকা সুখের সময় ফেরত দিয়ে গেল !

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দৌঁড়ে উপর দিকে একটা লাফ মেরে মেরে রাস্তা এগিয়ে নিচ্ছিল আনন্দ। আমার চিনতে মোটেও দেরি হয়নি। সম্বিৎ ফিরে চালককে থামাতে বলতে বলতে অনেক পেছনে চলে যায়। যেই দ্রুত হাঁটছে তাকে পেতে দৌঁড়াতে হতো। এই মোড়ে হঠাৎ করে থামাও যায়না। মোড় এড়িয়ে অনেক সামনে থামতে হয়। আজও এমনটিই ঘটলো। কালো গলা কাটা গেঞ্জি , নিচের দিকে গুটানো প্যান্ট। খালি পা । মুখে সব সময়ের মতো লম্বা দাড়ি। একই রকম দেখতে। ছোট বেলায় যেমন দেখেছি। শুধু ঝোলাটা সঙ্গে নেই।

আনন্দকে এর আগে কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। বারো বছরতো বটেই,পনের? কুড়ি ? হতে পারে! এর মাঝে একটি দিনের জন্যও তাকে মনে না করে থাকলাম কি করে !

ছয়-সাত বছর আগে বন্ধু ইমরান মাঝি একটা ছোট কাগজ দিয়েছিল। নাম, ঘাসফড়িং। অন্য বন্ধু মহিবুল্লাহ শাওয়াল’র সম্পাদনায় একটা ছোট কাগজ। সঙ্গে রোদের মতো চিকচিকে কয়েকজন,মঞ্জু,রিপন,সুমন। চমকে উঠেছিলাম প্রচ্ছদ দেখে। আনন্দ পাগলের হাতের লেখা দিয়ে প্রচ্ছদ করেছে ওরা। এক অসম্ভব ভালো লাগায় মন ছেয়ে গিয়েছিল। মাঝি জানিয়েছিল ওরা অনেক চেষ্টা করে কয়েক দিনে একটু একটু করে এটুকু লিখিয়েছে।

প্রথম বার দেখা হওয়ার পর আনন্দকে চেনে এমন বন্ধুদের ফোন করে জানিয়েছিলাম।অল্প খুঁজে কাগজটাও পেয়ে গেলাম।

সে মনে হয় কিছু নির্দিষ্ট রাস্তায় বার বার ঘুরছে। শাহবাগ- বাংলামোটর- ফার্ম গেইট-মহাখালী-মগবাজার-মৎস্য ভবন শাহবাগ বা এমন কিছু। আগেও এমন করতো । বিভিন্ন এলাকা ঘুরে থানা শহরে এসে কিছু দিন থাকতো।



আনন্দ পাগল ঢাকা এসেছে কেন ! যতবারই মনে পড়ছে সে এখন ঢাকায় খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে অনাত্মীয় এই রুক্ষ্ম শহরে প্রিয় একজন বন্ধু আছে কাছাকাছি। আবার কবে দেখা
হবে ? এবার দেখা হলে কথা বলবো। কি কথা বলবো !
কি পরিচয় দেব নিজের ? কি সাধ্য ও শক্তিতে তাকে কাছে রাখা যায় ...

আর কোন দিন দেখা না হলেও আনন্দকে যাতে ভুলে না যাই নিজের প্রানের শশ্রুষার স্বার্থে এজন্য তাকে ঘিরে থাকা কিছু স্মৃতি লিখে রাখলাম।





২৬/০৬/১০ ইং
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×