একজন নারী। ঠিক নারী বললে ভুল হবে- সে তো পুরুষের সমান হতে চায়। তবে তাকে পুরুষ বললে অসুবিধে কোথায়? চিত্কার দিয়ে উঠৈছিল-
পুরুষের মত আমরা কেন বাস থেকে নেমে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জরায়ুর চাপ নির্গত করতে পারবনা। মূলত, এটা ছিল তার সমান-সমান অধিকারের শ্লোগান। আর অমনি নারীরা জেগে উঠল; যেন কোনদিনই তারা আর ঘুমাবে না এই বলে দিব্য দিয়ে। সাথে সাথে বহিঃবিশ্বের হকাররাও পেয়ে গেল একটা বাড়তি সুবিধা। মানবতা লঙ্ঘন করা যাবে না- উদ্ধৃতি দিয়ে রাস্তায় নেমে আসল মানবতার ঠিকাদাররা। উগান্ডাতেও চলছে সেই একই কান্ড।
এটা সম্প্রতির ঘটনা। উগান্ডার পত্র-পত্রিকায় যতটা না স্থান পেয়েছ ঘটনাটি, তারচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য ভাবে স্থান পেয়েছে জোড় করে মতাব্বরের দায়িত্বে থাকা দু'দেশের পত্র-পত্রিকাগুলোতে। একেবারে ফন্ট পেজে। তাছাড়া, সমকামীর অধিকার রক্ষা হবে কি করে? হত্যার জন্য প্রতিবাদ নয়; তারা তো প্রতিবাদ করছে কেন সমকামী বৈধ করা হচ্ছে না- উগান্ডায়? সে তো গেল উগান্ডার কথা। যা বলতেছিলাম- ঐ যিনি সমান-সমান অধিকাররে পায়তারা করেছন; তিনার কথার ফিরে আসি। আচ্ছা, বলুন তো, আপনার ঘরের যুবতী কন্যা অথবা স্ত্রী অথবা আপনার পরম-প্রিয় বোনের জন্য কেউ কি এমন অধিকার চেয়ে বসবেন? তাছাড়া, সুস্থ্য বিবেকের কেউই তো এমন অধিকার পুরুষের জণ্যও চেয়ে বসবেন না। কারণ, বাস থেকে নেমে গিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে জরায়ুর স্বাধীনতা অধিকার করে পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আপনারা (উক্ত নারী) সমান-সমান অধিকার কার কাছে আবদার করছেন? সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে না ধর্মের কাছে? যদি বলেন- ধর্মের কাছে। তবে, বলতে বাধ্য হব? কোন ধর্মের কাছে? এটা তো এখন ধর্মনিরপেক্ষ দেশে (ঘোষণা করা হয়েছে)। তাছাড়া, আপন আপন ধর্মের কাছে অধিকার আদায়ের দাবি করে বোধ হয় সবাই সঠিকভাবে নাও পেতে পারেন। কারণ, এই দেশটির অধিক জনগোষ্ঠির পালিত ধর্ম নারীকে সমান অধিকার দেয়নি; বরং দিয়েছে পুরষের চেয়ে বেশী। নারী যে আপনারই অংশ; সেটা যেন অস্বীকার না করতে পারেন। আপনার নিজের প্রতি যতটা অধিকার ঠিক ততটাই অধিকার তার প্রতিও। কারণ সেটা তো আপানারই অংশ। অন্য বা ভিন্ন কিছু নয়। আপনি যাকে নারী বা পুরুষ অধিকার নামে ভাগ করছেন মূলত সেটা তো একই অধিকার। আপনার নিজের অধিকার। নারীর জন্যও যেটা; পুরুষের জন্যও সেটাই। কিন্তু সমাজে তো এটা পরিলক্ষিত হয় না। দু'জন মেয়ের সমান একজন ছেলে। এটা কি সম-অধিকার? আচ্ছা, বলুন তো, ছেলে কার সম্পত্তি পায়? নিশ্চয় বাবার। এবং দু'ইজন মেয়ে যা পায় একজন ছেলে একাই তাই পায়। বেশ, মেয়ে পায় অর্ধেক। কিন্তু, মেয়ে আরো তিনটি/চারটি জায়গা থেকে পায় যা ছেলেরা পায় না। প্রথমত, একজন মেয়ে তারা বাবার থেকে পায়, তার মায়ের অংশ পায়, স্বামীর অংশ পায় আবার যে ছেলেটা তাকে প্রনয়সুত্রে গ্রহণ করে তার থেকে পায়। আর মহরানা তো ঐ মেয়ের এমন হক যা ছেলে দিতে বাধ্য থাকে (এটা তো তার উপর ফরয হয়ে যায়, আর এটা দেওয়ার নিয়ম বাসরের পূর্বেই)। ছেলেরা কিন্তু তার স্ত্রীর অংশ থেকে কিছুই পায় না এবং দাবিও করতে পারবে না। কিন্তু স্বামীর দায়িত্ব এসে যায় তাদের ভরণ-পোষণের। চাই সে নারী নিজে ধন-সম্পদের মালিক হোক আর না হোক। কিন্তু, মেয়েদের দায়িত্ব নয় পুরুষের ভরণ-পোষণ আপন ঘারে তুলে নেয়া। বস্তুত, এ পর্যায়ে পুরুষেই অধিকার সমান-সমান দেওয়া হয়নি। পুরুষকে করা হয়েছে নারীর সার্ভেন্ট মাত্র। আর যদি বাতুলতার আশ্রয় নিয়ে বলেন- পর্দার কথা। তবে তো বলতেই হয়- সেটাও বাধ্যতামূল করা হয়েছে পুরুষের জন্য আগে। পুরুষদের নজরকেই কঠোরভাবে নত করতে বলা হয়েছে-নারী পর্দার বিধান দেওয়ার আগে। মা-ময়ী নারীর পায়ের নিচের জান্নাত; আর পুরুষের পায়ের নিচে চটি-জুতা বৈ ভিন্ন কিছুই নয়। তাছাড়া, পিতা চান আপন মেয়েটাকে বিবস্ত্র করতে? আপনারা, পশ্চিমা ক্যালচারের নামে যা আবদার করছেন- তা তো নিজেদের জন্য নয় বরং পুরুষদেরই জন্য। তবে কেন ধর্মের কাছে সমান-সমান অধিকার চেয়ে নিজের অধিকারকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন? আপনাদেরকে তো সমান অধিকারের চেয়ে বেশী দেওয়া হয়েছে। আর যদি এ অধিকার রাষ্ট্রের কাছে চান; তবে সেটা আপনাদের প্রাপ্র হক বটে; কারণ, রাষ্ট্র এখনো আপনাদের সমান অধিকার দিতে পারেনি। কারণ, রাষ্ট্র তো ইসলামী রাষ্ট্র নয়- ধর্মনিরপেক্ষ। তবে অনুরোধ, অধিকারের আধ্যিক্ষেতা রচনা করতে গিয়ে আপন অধিকারকে সংকোচন করে ফেলবেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝার তাউফিক দান করুন। আমীন.........
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



