পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্লগে সুলেখক বেশী নাই। যাহারা আছেন, সকলেই চিন্তার খোড়াক জাগাইতে বিশেষ পারঙ্গম বলিয়া বোধ হয় না। ব্যতিক্রম যিনি তাহার সুলেখনী উপভোগ করিতে শুরুতে ভারি সমস্যা হইত। বুদ্ধিপরিমাপক সূচকে একশত পঞ্চাশের বহু নিম্নে অবস্থান করিলে ইহাই অবধারিত। সমস্যার সমাধান দিলেন ষোলকলা সিদ্ধা এক রমণী। তাহারই সুপরামর্শ মানিয়া বিশেষ লেখনীকালে লেখকের মনস্তত্ব বিচারে প্রবৃত্ত হই এবং হাতে নাতে ফল লাভ করি। সেই সূত্র স্বতসিদ্ধ কিনা এই নিরীক্ষাকালেই বিচিত্র এক অভিজ্ঞতার শিকার হইতে হইয়াছে আমাকে। ভাবিয়াছিলাম চাপিয়া যাইব। কিন্তু যাহাকে বুঝিতে নিজের সহিত এত বড় বিপজ্জনক ঝুকি নিয়াছিলাম, তিনিই অনুরোধ করিলেন অভিজ্ঞতাটির বর্ণনা দিতে। ধারণা করি তিনি নিজ মুখে বলিলে দুমূর্খেরা রং-তামাশা করিবে, কিন্তু ফেলুদার মুখ হইতে শুনিলে পাঠকেরা ভিন্ন চিন্তায় ভাবিত হইবেন। সে ভাবনাতেই এই পোস্ট, বাকি বিচারের ভার পাঠকের হাতেই।
তিনি কেন এহেন প্রলাপ বকেন, এই নিযা মতভেদ আছে। পাঠকদের একটি বড় অংশ তাহাকে অবয়বে না হইলেও ভাবনাতে রামযুক্ত-শিংধারী চতুষ্পদ বলিয়া রায় দিয়াছেন। উপজাত হিসেবেই তাহারা এই উপসিদ্ধান্তে উপনত হইয়াছেন যে তাহাদের প্রিয় ছাগুরাম নিশ্চিত কাঠাল পাতা ভক্ষণ করিয়া এই রোগ বাধাইয়াছে। কি রোগ তাহা একজন ধরাইয়া দিয়াছেন, বলিয়াছেন : আমার ধারণা সে একই সঙ্গে Phobatrivaphobia এবং Automatonomania রোগে ভুগছে। প্রথমটি তথ্যপ্রমানভিততিক দলিল মেনে নিতে ভীতি এবং দ্বিতীয়টিতে কল্পনার রং চড়িয়ে চিত্রনাট্যের ভুমিকা বদলে দেওয়ার পাগলামী। ভদ্রলোক ভুল বলিয়াছেন। একটি লক্ষণ উনি গোলমাল করিযাছেন। অটোম্যাটোনোম্যানিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিলেও অন্য উপসর্গটি মোটেও ফোবাট্রিভিয়াফোবিয়া নহে। উহা আসলে ম্যানিট্রিভিয়াম্যানিয়া এবং এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত ব্যক্তি কুইজাকারে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন, সে প্রশ্নের যে উত্তরই আসুক,এমনকি তাহার ভ্রম সংশোধন করিয়া একই দলীয় চেতনাভুক্ত কেহ মিনমিনে গলায় কিছু বলিলেও তাহা সে বাতিল করিয়া দেয়। এইভাবে সে বৃত্তাকারে চক্কর পারিতে থাকে, সুশীলগন কেহ বেকুব, কেহ বিহ্বল হয়। এবং তাহাদের দুর্দশায় মন খারাপ করেন বাকিরা। দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া কেহ কেহ বলে- আহারে ছাগুর লাদিতে আরেকজন পিছল খাইল।
এতবড় ভূমিকার পর আসল কথায় আসি। শুরুতেই বলা জ্যামিতিক সূত্র মানিয়া এবং লোকমানসে প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে ধারণ করিয়া আমি নিজের জীবনের উপর একটি ঝুকি নিয়া ফেলিলাম। ম্যাতকার বুঝিতে হ্ইলে তাহার মানসনেত্রে উকি দিতে হইবে, ভাবিতে হ্ইবে তাহার মতো করিয়া। আর তাহা সম্ভব কাঠাল পাতা খাইলেই। সমস্যা হইলো বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদিতা। মনুষ্য এবং পশুর পরিপাকতন্ত্র এক প্রকার নহে এবং তাহাতে জারক রসের বিভেদও আছে। সত্য হইতেছে গবাদি সকল পশুই কাঠাল পাতায় আসক্ত নহে। গরু-মহিষ-ঘোড়া-ভেড়া-কুকুর-বিড়ালেরা কি এক বিচিত্র কারণে এই পত্রটি এড়াইয়া চলে। তাই কৃষ্ঞকায় বঙ্গীয় চতুষ্পদীর এই খাদ্যে একক অধিকার। কিন্তু মনুষ্য তাহা কিভাবে খাইবে? সিদ্ধ করিয়া? গুড়া করিয়া? কাচা পত্র, নাকি হলুদাভ, নাকি আধকাচা বা আধপাকা? গাছেরটা নাকি তলারটা? ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি এইখানে কাজে আসিলো। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর জানিলাম বিচিত্র এক রেসিপি অনুসরণ করিয়া এই পত্র ভক্ষণ করা হয় যাহাতে পরিপাকে সমস্যা না হয়, মনুষচর্ম ভেদ করিয়া চতুষ্পদি রোম না উঠে, পেলভিক গার্ডল হইতে স্যাকরাম নামক অস্থিটি ত্বক ফুরিয়া প্রলম্বিত লেজের রূপ না লয়, জনমানসে সর্বদা ভাসিয়া ওঠা শিঙ দুখানি নিরেট মষ্তিষ্ক ভেদিয়া সত্যি সত্যি উদ্ধমূর্খী এন্টিনা না সাজে। বুদ্ধি এবং ম্যাতকার একই থাকিবে। সেই রেসিপিও সহজ নহে। (চলিবে)
এই পোস্ট বুঝিতে হইলে অবশ্য পাঠ্য :
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


