somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঠাল পাতা খাইবার আগে ও পরে (একটি অনুরোধে কাঠাল পাতা গিলা পোস্ট)

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্লগে সুলেখক বেশী নাই। যাহারা আছেন, সকলেই চিন্তার খোড়াক জাগাইতে বিশেষ পারঙ্গম বলিয়া বোধ হয় না। ব্যতিক্রম যিনি তাহার সুলেখনী উপভোগ করিতে শুরুতে ভারি সমস্যা হইত। বুদ্ধিপরিমাপক সূচকে একশত পঞ্চাশের বহু নিম্নে অবস্থান করিলে ইহাই অবধারিত। সমস্যার সমাধান দিলেন ষোলকলা সিদ্ধা এক রমণী। তাহারই সুপরামর্শ মানিয়া বিশেষ লেখনীকালে লেখকের মনস্তত্ব বিচারে প্রবৃত্ত হই এবং হাতে নাতে ফল লাভ করি। সেই সূত্র স্বতসিদ্ধ কিনা এই নিরীক্ষাকালেই বিচিত্র এক অভিজ্ঞতার শিকার হইতে হইয়াছে আমাকে। ভাবিয়াছিলাম চাপিয়া যাইব। কিন্তু যাহাকে বুঝিতে নিজের সহিত এত বড় বিপজ্জনক ঝুকি নিয়াছিলাম, তিনিই অনুরোধ করিলেন অভিজ্ঞতাটির বর্ণনা দিতে। ধারণা করি তিনি নিজ মুখে বলিলে দুমূর্খেরা রং-তামাশা করিবে, কিন্তু ফেলুদার মুখ হইতে শুনিলে পাঠকেরা ভিন্ন চিন্তায় ভাবিত হইবেন। সে ভাবনাতেই এই পোস্ট, বাকি বিচারের ভার পাঠকের হাতেই।


তিনি কেন এহেন প্রলাপ বকেন, এই নিযা মতভেদ আছে। পাঠকদের একটি বড় অংশ তাহাকে অবয়বে না হইলেও ভাবনাতে রামযুক্ত-শিংধারী চতুষ্পদ বলিয়া রায় দিয়াছেন। উপজাত হিসেবেই তাহারা এই উপসিদ্ধান্তে উপনত হইয়াছেন যে তাহাদের প্রিয় ছাগুরাম নিশ্চিত কাঠাল পাতা ভক্ষণ করিয়া এই রোগ বাধাইয়াছে। কি রোগ তাহা একজন ধরাইয়া দিয়াছেন, বলিয়াছেন : আমার ধারণা সে একই সঙ্গে Phobatrivaphobia এবং Automatonomania রোগে ভুগছে। প্রথমটি তথ্যপ্রমানভিততিক দলিল মেনে নিতে ভীতি এবং দ্বিতীয়টিতে কল্পনার রং চড়িয়ে চিত্রনাট্যের ভুমিকা বদলে দেওয়ার পাগলামী। ভদ্রলোক ভুল বলিয়াছেন। একটি লক্ষণ উনি গোলমাল করিযাছেন। অটোম্যাটোনোম্যানিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিলেও অন্য উপসর্গটি মোটেও ফোবাট্রিভিয়াফোবিয়া নহে। উহা আসলে ম্যানিট্রিভিয়াম্যানিয়া এবং এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত ব্যক্তি কুইজাকারে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন, সে প্রশ্নের যে উত্তরই আসুক,এমনকি তাহার ভ্রম সংশোধন করিয়া একই দলীয় চেতনাভুক্ত কেহ মিনমিনে গলায় কিছু বলিলেও তাহা সে বাতিল করিয়া দেয়। এইভাবে সে বৃত্তাকারে চক্কর পারিতে থাকে, সুশীলগন কেহ বেকুব, কেহ বিহ্বল হয়। এবং তাহাদের দুর্দশায় মন খারাপ করেন বাকিরা। দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া কেহ কেহ বলে- আহারে ছাগুর লাদিতে আরেকজন পিছল খাইল।
এতবড় ভূমিকার পর আসল কথায় আসি। শুরুতেই বলা জ্যামিতিক সূত্র মানিয়া এবং লোকমানসে প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে ধারণ করিয়া আমি নিজের জীবনের উপর একটি ঝুকি নিয়া ফেলিলাম। ম্যাতকার বুঝিতে হ্ইলে তাহার মানসনেত্রে উকি দিতে হইবে, ভাবিতে হ্ইবে তাহার মতো করিয়া। আর তাহা সম্ভব কাঠাল পাতা খাইলেই। সমস্যা হইলো বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদিতা। মনুষ্য এবং পশুর পরিপাকতন্ত্র এক প্রকার নহে এবং তাহাতে জারক রসের বিভেদও আছে। সত্য হইতেছে গবাদি সকল পশুই কাঠাল পাতায় আসক্ত নহে। গরু-মহিষ-ঘোড়া-ভেড়া-কুকুর-বিড়ালেরা কি এক বিচিত্র কারণে এই পত্রটি এড়াইয়া চলে। তাই কৃষ্ঞকায় বঙ্গীয় চতুষ্পদীর এই খাদ্যে একক অধিকার। কিন্তু মনুষ্য তাহা কিভাবে খাইবে? সিদ্ধ করিয়া? গুড়া করিয়া? কাচা পত্র, নাকি হলুদাভ, নাকি আধকাচা বা আধপাকা? গাছেরটা নাকি তলারটা? ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি এইখানে কাজে আসিলো। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর জানিলাম বিচিত্র এক রেসিপি অনুসরণ করিয়া এই পত্র ভক্ষণ করা হয় যাহাতে পরিপাকে সমস্যা না হয়, মনুষচর্ম ভেদ করিয়া চতুষ্পদি রোম না উঠে, পেলভিক গার্ডল হইতে স্যাকরাম নামক অস্থিটি ত্বক ফুরিয়া প্রলম্বিত লেজের রূপ না লয়, জনমানসে সর্বদা ভাসিয়া ওঠা শিঙ দুখানি নিরেট মষ্তিষ্ক ভেদিয়া সত্যি সত্যি উদ্ধমূর্খী এন্টিনা না সাজে। বুদ্ধি এবং ম্যাতকার একই থাকিবে। সেই রেসিপিও সহজ নহে। (চলিবে)
এই পোস্ট বুঝিতে হইলে অবশ্য পাঠ্য :
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:৪১
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×