somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাজে গল্প 02

৩০ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তিনি মনের কষ্ট কাহাকেও বলিতে না পারিয়া গুম হইয়া বসিয়া রহিলেন। ভাবিতে লাগিলেন, ছাগুরামের মতো ত্রিভূজ হইতে পারিলেই ভালো ছিলো। লোকে গালাগালি করিলেও কোন বড় কাজ দিয়া বাটে ফেলিতে সাহস করিতো না। তাছাড়া আজ তাহার হাতে তিনটি দন্ড ধারণের দায়িত্ব আসিয়া চাপিয়াছে। এতদিন বহুকষ্টে তিনি ঈশ্বরপ্রদত্ত দুটি হাতে দুটি দন্ড নিয়া চলাচল করিয়াছেন, সেই পরিশ্রমে একবার তাহার হৃৎপিন্ড উষ্টা খাইয়া মরিতে চলিতেছিলো, নাকবোঁচা চীনা ডাক্তার ওষুধ ঠুকিয়া যমকে খেদাইয়াছে। এখন আবার তিন লম্বর দন্ডটি ধরাই দিলো মান্নু সদাগর। ত্রিভূজ না হইয়া গতি নাই।

লোকজনকে উপদেশ তিনি বহুই বিলাইয়াছেন, কিন্তু উপদেশ বিলানোকে জীবিকা করেন নাই। উপদেশ মাগনা বিলাইতেই মজা। আগে ভগিনেয় ভ্রাতুষ্পুত্রদের ফুটবল খেলার সময়ে তাহাদের ডাকিয়া ঘন্টাব্যাপী নানা উপদেশ বিলাইতেন, সদা সত্য কথা বলিবে, সৎ পথে চলিবে, তাহার গা মোচড়াইতো, দেখিয়া ভালো লাগিতো। উপদেশ ঐভাবে দিয়াই না মজা। কিন্তু মান্নু সদাগর আজ তাহাকে উপদেশের পাইকার বানাইয়া ছাড়িয়াছে। শয়ে শয়ে লোককে এখন উপদেশ দিয়া তাহাকে সামলাইতে হবে।

তিনি খোনা গলায় গান ধরিলেন, আগে কী সোন্দর দিন কাটাইতাম ... কিন্তু নিজের কানেই বেসুরা ঠেকিলো। কী কুক্ষণেই যে তখন সম্মত হইয়াছিলেন, ইহাদের কুপ্রস্তাবে। স্ত্রী বলিয়াছিলো, ওগো, তুমি মাটি ঘাঁটো, আমি পোকা কাটি, ইহা করিয়াই কি দিন ফুরাইবে? বড় একটা বাড়িতে হাত পা ছড়াইয়া কি থাকা হইবে না? স্ত্রীবুদ্ধি সর্বনাশা, তাহারই নিরন্তর পীড়াপীড়িতে অতিষ্ঠ হইয়া অবশেষে তিনি রাজি হইয়াছিলেন। দুষ্টরা তাহাকে দিয়া কম উৎপাত করাইয়া লয় নাই। উচ্চশিক্ষিত লোক হইয়া তাহাকে কয়েকটি অনৈতিক কাজে সায় দিতে হইয়াছে। হায়রে কপালের মুদ্রণ।

আজ সারাদিন তিনি অনেক বাঘা বাঘা পাজির সহিত বাক্যালাপ করিয়া হেদাইয়া পড়িয়াছেন। একেকজনের একেক আব্দার। কেহ বলে নমক খাইয়াছেন ভালোয় ভালোয় ঠমক দ্যাখান, নতুবা ঝামেলায় পস্তাইবেন। কেহ বলে আমার বচপানকা দোস্ত আবুল কয়েদিকে আপনার উপদেশের ব্যবসায় পার্টনার করিয়া লউন, তাহার কুবুদ্ধিদানের দক্ষতা ঈর্ষণীয়। কয়েদি নাম শুনিয়াই তিনি ঘাবড়াইয়া গিয়াছেন, প্রস্তাবক হাসিয়া বলিয়াছে হাঁ, উহাদের বংশের পুরুষেরা সকলেই কয়েদখাটা বনেদী, আবুলও ছোটকালে খাটিয়াছে কয়েকবছর। একজন আসিয়া নৃশংসভঙ্গিতে আঙ্গুল ফুটাইয়া কহিয়াছে, ঈশ্বরের রাস্তায় চলিতেছি আমরা, ওভারটেক করিতে গেলে একদম চাপা খাইয়া মরিবেন। শুনিয়া তাহার বক্ষের আরোপিত যন্ত্রপাতি বিকল হইবার যোগাড়। বউ তো বড় বাড়িতে থাকিয়া মহানন্দে আছে, এদিকে তাহার প্রাণটি লুটিয়া লইলো।

এখন তাহাকে নিজের ব্যবসায় আরো দশটিকে টানিতে হইবে। কোন দশটি, তিনি বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছেন না। এক এক দুষ্ট আসিয়া এক এক কথা বলে। কেহ দাগাইয়া দেয় দাগীদের নাম, কেহ ফুসমন্তর দেয় ততোধিক ওঁছার ঠিকুজি। তিনি যে এখন কী করিবেন বুঝিতে পারিতেছেন না।

সখেদে তিনি গাহন, মানুষ যেন কোরো না আমায়, ত্রিভূজ করে দাও আমায় ত্রিভূজ করে দাও ...।

স্রষ্টাও যেন ব্যঙ্গ করেন তাহার সহিত, টিভিতে ডিসকভারি চ্যানেলে এক ছাগু তারস্বরে বলিয়া ওঠে, ম্যাঅ্যাঅ্যা ...।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×