কাল আমি অনেক কষ্ট করে একটা পোস্ট লিখছিলাম। মডু ভাইজানেরা পোস্ট মুছে দিছে। একবার ভাবলাম একটু চিল্লাপাল্লা করি, তাইলে আর কিছু না হোক মনের শান্তি। পরে ভেবে দেখলাম - এতে আমার মনের শান্তি আসবে না, মডারেটরকে হাতের কাছে পেলে যা যা কিছু করলে মনের শান্তি আসবে সেইটা করার সম্ভাবনা আপাতত নাই, সুতরাং নীরবতাই উত্তম পন্থা।
সন্ধ্যা থেকে শুরু হইছে চিল্লানী, আমার বাসা থেকে মসজিদ প্রায় ২০০ গজ দূরে, ঢাকা শহরের কোন মধ্যবিত্ত এলাকায় এটাই বাসা থেকে মসজিদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দূরত্ব। তারপরেও কানের অবস্থা ফর্দাফাই হয়ে গেল। সন্ধ্যা নামার পর থেকে শুরু হইল ওয়াজ, শেষ হইল রাত একটার দিকে। জানালা বন্ধ করার পরেও নিস্তার নেই। যাদের বাসা মসজিদের একেবারে সাথে তাদের অবস্থা ভেবে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ঐ সব বাসাতে যে কোন হৃদরোগী কিংবা উচ্চচাপের রোগী নেই সেটা আমাদের মোল্লারা কি জানেন নাকি সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন?
হালুয়া আমার পছন্দের খাবার তবে সেটা বুটের হালুয়া, সুজির হালুয়া আমার দুই চোক্ষের বিষ। দুর্ভাগ্য ক্রমে সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিবেশীদের বাসা থেকে সুজির হালুয়াই বেশি করে আসতে লাগল। আরো বিচিত্র অনেক হালুয়াই এসেছে বটে সেগুলো সম্ভবত নন্দন আগোরার রেডিমেড প্রোডাক্ট। বাঙালি এখন সব কিছুর শর্ট কাট বানাতে ওস্তাদ।
আগোরা নন্দনের হালুয়া এবং অন্যান্য প্রোডাক্ট আমার কাছে অখাদ্য লাগে তাই শেষ পর্যন্ত কোন হালুয়াই খাওয়া হল না। এক বাসা থেকে চালের রুটি আর গরুর মাংস পাঠিয়েছিল, তা দিয়েই রাতের খাবার সারলাম।
বন্ধু মহল থেকে অনেকেই এসেছে, সবারই প্রস্তুতি পূণ্যময় এই রজনীতে সারাটি সময় মসজিদে প্রার্থনারত অবস্থায় কাটাবে। আমি যাব কিনা এটাই ছিল তাদের জিজ্ঞাস্য। ও, যাবি না? বাসায় নামাজ পড়বি? ঠিক আছে পড়, আমি মসজিদে গেলাম। আমি আদৌ নামাজ পড়ব কি পড়ব না সে প্রশ্ন না করেই তারা দৃপ্ত পদক্ষেপে বের হয়ে যায়।
নামাজ পড়ি নি বহুকাল, এ নিয়ে আমার মায়ের আফসোসের শেষ নেই। তার ছেলের অন্য কোন দোষ আছে বলে তিনি জানেন না, তার চোখে শুধু এই একটি দোষই এত প্রকটভাবে ধরা পড়ে। পশ্চিম দিকে ফিরে মেঝেতে কপাল ঠোকাতে আমি কেন যেন আগ্রহ বোধ করি না, কিন্তু সেটা অনেকের কাছে ঈশ্বরে বিশ্বাস না করার নামান্তর মাত্র। আমাদের সমাজে অপশন খুবই কম, হয় তুমি আস্তিক এবং সে ক্ষেত্রে তুমি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, অথবা দ্বিতীয় এবং শেষ অপশন তুমি নাস্তিক। এর মাঝামাঝি কোন কিছু নেই, থাকতে পারে না।
ঈশ্বরে আমি বিশ্বাস করি খুব ভালমতই করি, তবে যে ঈশ্বর পৌরাণিক গল্পগাথা বলে মানুষকে আশু বিপদের ভয় দেখিয়ে প্রার্থনা করতে বাধ্য করেন এই ঈশ্বর সেই ঈশ্বর নন। এই ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টিও করেন নি, এই ঈশ্বর নেহায়েতই এক পর্যবেক্ষক যিনি শুধু দেখে যেতেই পছন্দ করেন, জাগতিক সকল বিষয়ে তার রয়েছে বিপুল পরিমাণে ঔদাসীন্য। নাস্তিক হব কিনা ভেবেছি, ভেবে কোন যুক্তি পাই নি, কারণ আমার কল্পিত ঈশ্বর আমার কাজে কর্মে কোন ব্যাঘাত ঘটান না। আমি চালিত হই আমার বিবেক দ্বারা, আমার জীবনে চলার পথে পৌরাণিক ভয় দেখানো ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই।
পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছে নিউটনের প্রিন্সিপালগুলো যেমন সত্য, তেমনি জীববিজ্ঞানীদের কাছে এখন ডারউইনের মতবাদ সত্য, যা কিনা ধ্বংস করে দেয় পৃথিবীর যাবতীয় পৌরাণিক ঈশ্বরদের উপস্থিতিকে। এই সত্য মেনে নিতে পারছে না কেউ, আমাদের দেশের অশিক্ষিত কাঠমোল্লাদের দোষ দেই না, তাদের মানসিক পরিপক্কতা শৈশবে নিপীড়নের শিকার হবার পরেই থেমে গেছে। আমেরিকার অনেক বড় বড় রিসার্চ ইন্সটিটিউট, সেখানেও বসে আছে আমাদের মোল্লাদের মতই মানসিকতার অনেক ব্যক্তি, তারাও দেখি উটপাখির মতই বালিতে মুখটা গুজে রেখেছে, তারা ভাবছে এতেই বুঝি প্রলয় থেমে যাবে। কিন্তু অন্ধ হলেই তো আর প্রলয় বন্ধ হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



