somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পূণ্যময় রজনীর পরে

০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল আমি অনেক কষ্ট করে একটা পোস্ট লিখছিলাম। মডু ভাইজানেরা পোস্ট মুছে দিছে। একবার ভাবলাম একটু চিল্লাপাল্লা করি, তাইলে আর কিছু না হোক মনের শান্তি। পরে ভেবে দেখলাম - এতে আমার মনের শান্তি আসবে না, মডারেটরকে হাতের কাছে পেলে যা যা কিছু করলে মনের শান্তি আসবে সেইটা করার সম্ভাবনা আপাতত নাই, সুতরাং নীরবতাই উত্তম পন্থা।

সন্ধ্যা থেকে শুরু হইছে চিল্লানী, আমার বাসা থেকে মসজিদ প্রায় ২০০ গজ দূরে, ঢাকা শহরের কোন মধ্যবিত্ত এলাকায় এটাই বাসা থেকে মসজিদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দূরত্ব। তারপরেও কানের অবস্থা ফর্দাফাই হয়ে গেল। সন্ধ্যা নামার পর থেকে শুরু হইল ওয়াজ, শেষ হইল রাত একটার দিকে। জানালা বন্ধ করার পরেও নিস্তার নেই। যাদের বাসা মসজিদের একেবারে সাথে তাদের অবস্থা ভেবে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ঐ সব বাসাতে যে কোন হৃদরোগী কিংবা উচ্চচাপের রোগী নেই সেটা আমাদের মোল্লারা কি জানেন নাকি সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন?

হালুয়া আমার পছন্দের খাবার তবে সেটা বুটের হালুয়া, সুজির হালুয়া আমার দুই চোক্ষের বিষ। দুর্ভাগ্য ক্রমে সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিবেশীদের বাসা থেকে সুজির হালুয়াই বেশি করে আসতে লাগল। আরো বিচিত্র অনেক হালুয়াই এসেছে বটে সেগুলো সম্ভবত নন্দন আগোরার রেডিমেড প্রোডাক্ট। বাঙালি এখন সব কিছুর শর্ট কাট বানাতে ওস্তাদ।

আগোরা নন্দনের হালুয়া এবং অন্যান্য প্রোডাক্ট আমার কাছে অখাদ্য লাগে তাই শেষ পর্যন্ত কোন হালুয়াই খাওয়া হল না। এক বাসা থেকে চালের রুটি আর গরুর মাংস পাঠিয়েছিল, তা দিয়েই রাতের খাবার সারলাম।

বন্ধু মহল থেকে অনেকেই এসেছে, সবারই প্রস্তুতি পূণ্যময় এই রজনীতে সারাটি সময় মসজিদে প্রার্থনারত অবস্থায় কাটাবে। আমি যাব কিনা এটাই ছিল তাদের জিজ্ঞাস্য। ও, যাবি না? বাসায় নামাজ পড়বি? ঠিক আছে পড়, আমি মসজিদে গেলাম। আমি আদৌ নামাজ পড়ব কি পড়ব না সে প্রশ্ন না করেই তারা দৃপ্ত পদক্ষেপে বের হয়ে যায়।

নামাজ পড়ি নি বহুকাল, এ নিয়ে আমার মায়ের আফসোসের শেষ নেই। তার ছেলের অন্য কোন দোষ আছে বলে তিনি জানেন না, তার চোখে শুধু এই একটি দোষই এত প্রকটভাবে ধরা পড়ে। পশ্চিম দিকে ফিরে মেঝেতে কপাল ঠোকাতে আমি কেন যেন আগ্রহ বোধ করি না, কিন্তু সেটা অনেকের কাছে ঈশ্বরে বিশ্বাস না করার নামান্তর মাত্র। আমাদের সমাজে অপশন খুবই কম, হয় তুমি আস্তিক এবং সে ক্ষেত্রে তুমি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, অথবা দ্বিতীয় এবং শেষ অপশন তুমি নাস্তিক। এর মাঝামাঝি কোন কিছু নেই, থাকতে পারে না।

ঈশ্বরে আমি বিশ্বাস করি খুব ভালমতই করি, তবে যে ঈশ্বর পৌরাণিক গল্পগাথা বলে মানুষকে আশু বিপদের ভয় দেখিয়ে প্রার্থনা করতে বাধ্য করেন এই ঈশ্বর সেই ঈশ্বর নন। এই ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টিও করেন নি, এই ঈশ্বর নেহায়েতই এক পর্যবেক্ষক যিনি শুধু দেখে যেতেই পছন্দ করেন, জাগতিক সকল বিষয়ে তার রয়েছে বিপুল পরিমাণে ঔদাসীন্য। নাস্তিক হব কিনা ভেবেছি, ভেবে কোন যুক্তি পাই নি, কারণ আমার কল্পিত ঈশ্বর আমার কাজে কর্মে কোন ব্যাঘাত ঘটান না। আমি চালিত হই আমার বিবেক দ্বারা, আমার জীবনে চলার পথে পৌরাণিক ভয় দেখানো ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই।

পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছে নিউটনের প্রিন্সিপালগুলো যেমন সত্য, তেমনি জীববিজ্ঞানীদের কাছে এখন ডারউইনের মতবাদ সত্য, যা কিনা ধ্বংস করে দেয় পৃথিবীর যাবতীয় পৌরাণিক ঈশ্বরদের উপস্থিতিকে। এই সত্য মেনে নিতে পারছে না কেউ, আমাদের দেশের অশিক্ষিত কাঠমোল্লাদের দোষ দেই না, তাদের মানসিক পরিপক্কতা শৈশবে নিপীড়নের শিকার হবার পরেই থেমে গেছে। আমেরিকার অনেক বড় বড় রিসার্চ ইন্সটিটিউট, সেখানেও বসে আছে আমাদের মোল্লাদের মতই মানসিকতার অনেক ব্যক্তি, তারাও দেখি উটপাখির মতই বালিতে মুখটা গুজে রেখেছে, তারা ভাবছে এতেই বুঝি প্রলয় থেমে যাবে। কিন্তু অন্ধ হলেই তো আর প্রলয় বন্ধ হবে না।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×