somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩

০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩ হল ১৯৭৩ সালে পাশ হওয়া একটি আইন যার অধীনে বাংলাদেশের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত সকল সশস্ত্রবাহিনী, প্রতিরক্ষা ও এর সহায়ক কোন বাহিনীর সদস্যকে আটক ও ফৌজদারি আইনের অধীনে দণ্ডদান করতে পারে। আইনটিতে ট্রাইবুনাল গঠনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিতে আইনী সাহায্যের বিধান রাখা হয়। এই আইন প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ল’ কমিশনের প্রতিবেদনসমূহের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট যাতে এই আইনটিকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবার কারণ দেখিয়ে একে অসাংবিধানিক ঘোষণা না করতে পারে সেজন্য সংবিধান প্রথম সংশোধন আইনও পাশ করা হয়।

জিয়াউর রহমান একটা সামরিক ফরমান দিয়ে দালাল আইন বাতিল করেছে বলেই "দালাল"দের বিচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল (১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।)।

যে আইনে বিচার হচ্ছে তাও ১৯৭৩ সালে করা এবং সংবিধানের অংশ বটে। নতুন কোন আইন করা হয়নি। মুলত বিচারকে আরো বেশী ট্রান্সপারেন্ট করার জন্যে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ন্যুরেনবার্গ ট্রাইবুন্যাল থেকেও বেশী মানবিক ( ন্যুরেনবার্গের ট্রাইবুন্যালে আপীলের সুযোগ ছিলো না - এখানে আছে)।
--------------------------------------------------------------------
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩
আইনটির আনঅফিসিয়াল বাংলা ভার্সন : একরামুল হক শামীম
Click This Link
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল)আইন, ১৯৭৩

নিম্নোক্ত আইনটি ১৯শে জুলাই,১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির সম্মতিপ্রাপ্ত হয় এবং তদানুসারে সাধারণ তথ্যের জন্য প্রকাশিত হয়ঃ ১৯৭৩ এর আইন নং ১৯

গণহত্যা, মানবতার বিরোদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের অপরাধী ব্যক্তিদের আটক করা, ফৌজদারিতে সোপর্দ করা এবং দন্ডদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।

যেহেতু গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধ এবং এর সাথে সম্পর্কিত অপরাধের অপরাধীকে আটক করা, ফৌজদারিতে সোপর্দ করা এবং দন্ডদানের বিধান করা সমীচীন;
সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হলো :

১. সংক্ষিপ্ত শিরোনামা, ব্যাপ্তি এবং প্রবর্তন :

(১) এই আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন,১৯৭৩ নামে অভিহিত হবে।

(২) এটি সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী বিস্তৃত হবে।

(৩) এটি একসাথে বলবৎ হবে।

২. সংজ্ঞাঃ

বিষয় অথবা প্রসঙ্গের বিরোধী কোন কিছু না থাকলে, এই আইনে

ক) “সহযোগী বাহিনী” বলতে সামরিক অভিযান, প্রশাসনিক, স্থিতিশীল এবং অন্যান্য কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নিয়োজিত স্বশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকা সাহায্যকারী শক্তি অন্তর্ভুক্ত;

খ) “সরকার” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার;

গ) “প্রজাতন্ত্র” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ;

ঘ) “চাকুরী আইন” অর্থ সেনাবাহিনী আইন (১৯৫২ সালের ৩৪ নং আইন), বিমানবাহিনী আইন,১৯৫৩ (১৯৫৩ সালের ৬ নং আইন) অথবা নৌবাহিনী অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৩৫) এবং তাদের যেকোন একটির অধীনে প্রণীত বিধি ও প্রবিধান;

ঙ) “বাংলাদেশের সীমানা” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;

চ) “ট্রাইবুনাল” অর্থ এই আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইবুনাল।

৩. ট্রাইবুনালের এখতিয়ার এবং অপরাধসমূহ :

(১) যেকোন স্বশস্ত্র বাহিনী, প্রতিরক্ষা অথবা সাহায্যকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে, বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে নিচের যেকোন অপরাধ সংগঠন অথবা সংগঠিত করে থাকলে, জাতীয়তা নির্বিশেষে যেকোন ব্যক্তিকে বিচার এবং শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা ট্রাইবুনালের থাকবে।

(২)নিম্নোক্ত কাজসমূহ অথবা তাদের মধ্যে যেকোন একটি ট্রাইবুন্যালের এখতিয়ার অনুযায়ী অপরাধ হবে, যার জন্য ব্যক্তিগত দায়ভার থাকতে পারে,
যথা :
(ক)মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ : যথা, হত্যা, নিশ্চিহ্ন করণ, দাসকরণ, নির্বাসিত করা, কারারুদ্ধ করণ, অপহরণ, অবরোধ, নির্যাতন, ধর্ষণ অথবা বেসামরিক নাগরিকদের উপর অন্যান্য অমানবিক কাজ পরিচালনা করা অথবা সংগঠিত হওয়ার স্থানের অভ্যন্তরীন আইন ভঙ্গ করে বা না করে রাজনৈতিক, গোত্রগত, জাতিগত অথবা ধর্মীয় কারনে অভিশংসন করা।

(খ) শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ : যথা, আগ্রাসনমূলক যুদ্ধের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, সূত্রপাত করা বা লিপ্ত হওয়া অথবা আন্তর্জাতিক চুক্তি, ঐক্যমত্য বা নিশ্চয়তাসমূহের লঙ্ঘন করে যুদ্ধ করা;

(গ) গণহত্যাঃ কোন জাতীয়, গোত্রগত, গোষ্ঠীগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত যেকোন কাজ, অংশত বা পূর্ণত সংগঠিত করা বুঝাবে এবং অন্তভূক্ত হবে, যেমনঃ

১) দলের সদস্যদের হত্যা করা;

২) দলের সদস্যদের দৈহিক বা মানসিক দিক থেকে গুরুতর ক্ষতি করা;

৩) ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক বা পূর্ণভাবে দৈহিক ধ্বংস সাধনের পরিকল্পনা করে দলীয় জীবনে আঘাত হানা;

৪) দলের মধ্যে জন্মরোধ করার লক্ষ্যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ;

৫) এক দলের শিশুদের জোরপূর্বক অন্য দলে স্থানান্তর করা;

ঘ) যুদ্ধাপরাধঃ যুদ্ধের আইন বা প্রথা ভঙ্গ করা, এতে অন্তর্ভুক্ত তবে সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে বেসামরিক লোকদের হত্যা, তাদের প্রতি নির্দয় আচরণ অথবা ক্রীতদাসের মতো শ্রম বা অন্য যেকোন কাজে নিয়োজিত করা; যুদ্ধবন্দী বা নাবিকদের হত্যা বা তাদের প্রতি নির্দয় আচরণ করা, জিম্মী এবং বন্দীদের হত্যা করা, সরকারি এবং বেসরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে নগর, শহর বা গ্রামের ধ্বংস সাধন করা অথবা সামরিক প্রয়োজনকে ন্যায্যতা দেয় না এমন ধ্বংসযজ্ঞ করা;

ঙ) ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে বর্ণিত সামরিক সংঘর্ষে প্রয়োগযোগ্য যেকোন মানবিক বিধিমালার লঙ্ঘন;

চ) আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্য যেকোন অপরাধ;

ছ) এরকম অপরাধ সংগঠন করার জন্য ষড়যন্ত্র এবং সহায়তা করা;

জ) এ ধরণের অপরাধ ঘটন রোধ করতে ব্যর্থ করা বা এর সাথে সহযোগিতা করা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৪৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×