এনটিভিতে আমি আছি বছর তিনেক। আতিকের সাথে পরিচয় হয়েছে একদিন। খুব সাদাসিধে আর সহজ সরল। খুবই সদালাপী আর অত্যন্ত মার্জিত তার ব্যবহার। কাজ করতো প্রোগাম এডিটে। তাই নিউজ রুমের সাথে অনেকটাই যোগাযোগ ব্চিছন্ন। কাজের ফাঁক পেলেই কোঅর্ডিনেশনের কাছে দেখা যেতো তাকে। আর খুব বেশি দেখা হতো আর্কাইভের এদিকে।
মগবাজারে ছিনতাইকারীর গুলিতে আহত এবং পরে, হাসপাতালে নিহত হওয়ার ঘটনাটা
যখন শুনলাম, চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো আতিকের সরল হাসি। খরচ বাঁচাতে খুব কষ্ট করে মোটরসাইকেলটা কিনেছিলো বেচারা। সেটাই কাল হলো তার। গাড়ির সাথে প্রানটাও গেলো।
একদিন আগেও যার সাথে দেখা হয়েছে, তাকে এভাবে চলে যেতে দেখা কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছেনা। গলা ভারী হয়ে আসছে। সুখ দু:খের সব খবরই যাকে আগে দিই, সেই বউকে যখন ফোন করে জানালাম, গলায় কান্না ভর করেছে। কিছুতেই বলতে পার্ছিনা, আমার এক কলিগ....আতিক ভাই মারা গেছে।...ছিনতাইকারীর গুলিতে।
পেশার খাতিরে রাত দুটোয়ও ফিরতে হয়। তাই বউ প্রথমেই বললো, সাবধানে থেকো। সাবধানে বাসায় এসো? আর ছিনতাইকারীর হাতে পর্লে তর্কো না করে সব দিয়ে দিও?
আমি কিছু বলতে পারিনা। যেনো জিম্মি। কেও আমার টুটি চেপে ধরেছে। আমি কান্নার্ত কন্ঠে বললাম...দেবো।
সে বললো..উহুমম..প্রমিজ করো।
আমি বললাম আচ্ছা, প্রমিজ।
ভাবছি, আতিকের তো বউ ছিলোনা। বিয়ের কথা হচ্ছিলো নাকি। কে তাকে এরকম করে সতর্ক করে দিতো...সব দিয়ে এসো, তাও যেনো জীবনটা দিতে না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



