গত ২২ মার্চ প্রথম আলোতে অরুণন্ধতী রায়ের ভারতে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পর্কে প্রকাশিত একটি লেখায় দেখলাম 'আদিবাসী' শব্দের পাশাপাশি একাধিক স্থানে 'উপজাতি' শব্দটিও অবলীলায় ব্যবহার হয়েছে। কোথাও কোটেশন আকারে আবার কোথাও কোটেশন ছাড়াই উপজাতি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ভারতের যেসব জনগোষ্ঠী সম্পর্কে এ লেখাটি লিখিত তাদের আদিবাসস্থান ভারত এবং এই সত্যটি ঐতিহাসিক দিক থেকেও প্রমাণিত। যদিও ভারত সরকার এখনো তাদের আদিবাসী বলে স্বীকার করেনি।
যাই হোক, প্রথম আলোর ভূমিকা দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি। কারণ তারা কখনো বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে উপজাতি বলে না। বরং তারা কাউকে উপজাতি বলতে দেখলে তাকেও ঘৃণা করে। বাংলাদেশে বসবাসকারী চাকমা, মার্মা, গারো, খাসিয়া, পাঙ্খো, লুসাই, মুরং, হাজং কেউ এদেশের আদিবাসী না হওয়া সত্তেও তাদের আদিবাসী বলে প্রচার করে প্রথম আলো। যদিও এসব জনগোষ্ঠীর সবাই বাইরে থেকে এদেশে এসেছে। এটা তাদের ইতিহাস এবং লোকগাথা থেকেও প্রমাণিত। তাই এদেরকে এদেশের আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে ইতিহাস বিকৃত না করতে সরকারের একাধিক প্রজ্ঞাপন থাকলেও যে প্রথম আলো এটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের মত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রথম আলো ভারতীয় মাওবাদীদের ক্ষেত্রে উপজাতি শব্দটি ব্যবহার করছে এর মাজেজাটা যে কি তাই বুঝতে পারছি না। কেউ কেউ হয়ত যুক্তি দেখাবেন যে লেখকের লেখাকে অবিকৃত রাখতেই হয়ত এটা করা হয়েছে। তাদের জন্য বলি, ২০০৬ সালের মাঝামাঝি পার্বত্য ইস্যুতে আমার একটা লেখার উপজাতি শব্দগুলো পরিবর্তন করে আদিবাসী হিসেবে ছেপেছিল প্রথমআলো। কিন্তু আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম কারণ আমার লেখায় উপজাতি শব্দটা এসেছিল প্রাসঙ্গিক আইন এবং অন্যান্য বিষয় আলোচনার অংশ হিসেবে আমার মন্তব্য হিসেবে নয়। আর আমি নিজেও কাউকে উপজাতি হিসেবে পরিচিত করার পক্ষপাতি নই।
তাই ভারত ও বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয়ের প্রশ্নে প্রথম আলোর দ্বৈত নীতি দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



