হুমায়ুন আজাদ এর প্রেমিকার মৃত্যুতে কবিতাটি আমার প্রিয় কবিতাগুলির একটি। তার এক সাক্ষাৎকারে এই কবিতার কারণ আমি জানতে পারি। তিনি বলেন, "আমার তীব্র অনুরাগিনী ছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর ভাই এর মেয়ে। ওর নাম লিলিআন। জীবনে এই প্রথম আমি তার নামটি বললাম। ওকে নিয়ে আমি একটি কবিতাও লিখেছি। আমি যখন এডেনবোরায় ছিলাম-- ও ছিলো আমার ক্লাসমেট। ও আমার প্রচুর ছবি এঁকেছে। ও আমার জন্য চাইনিজ রান্না করে দিতো। লিলিআন শব্দের অর্থ ঘণ্টাধ্বনি। সেতো আমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলো। অসাধরণ সুন্দরী চাইনিজ তরুণী। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়তো। সে কখনো কবিতার কথা শুনে নি। আমার সঙ্গে পরিচয় হবার পর সে কবিতা পড়তে শুরু করেছে। যদিও সে ইংল্যান্ডে বড় হয়েছে। তার বাড়ি মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপে। আমার সাথে প্রথম ছাত্রাবাসের রান্নাঘরে তার পরিচয়। আমি তাকে মালার্মের কবিতা পড়ে শুনিয়েছি, বোদলেয়ারের কবিতা পড়ে শুনিয়েছি। সে খুব মুগ্ধ হয়েছে। একদিন সে আমাকে বললো, তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে পারো?
আর তখন থেকেই তার সাথে আমার বিচ্ছিনতা দেখা দেয়।"
Click This Link
প্রেমিকার মৃত্যুতে
খুব ভালো চমৎকার লাগছে লিলিআন,
মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে হবো না চৌচির।
তরঙ্গে তরঙ্গে ভ্রষ্ট অন্ধ জলযান
এখন চলবে জলে খুব ধীরস্থির।
অন্য কেউ ঢেলে নিচ্ছে ঠোঁট থেকে লাল
মাংস খুঁড়ে তুলে নিচ্ছে হীরেসোনামণি;
এই ভয়ে কাঁপবে না আকাশপাতাল,
থামবে অরণ্যে অগ্নি আকাশে অশনি।
আজ থেকে খুব ধীরে পুড়ে যাবে চাঁদ,
খুব সুস্থ হয়ে উঠবে জীবনযাপন।
অন্নে জলে ঘ্রাণে পাবো অবিকল স্বাদ,
চিনবো শত্রুর মুখে কারা-বা আপন।
বুঝবো নিদ্রার জন্যে রাত্রি চিরদিন,
যারা থাকে ঘুমহীন তারা গায় গান।
রঙিন রক্তের লক্ষ্য ঠাণ্ডা কফিন;
খুব ভালো চমৎকার লাগছে লিলিআন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩১