আহারে আজকে মালিক বাড়ীত নাই। কালু না জানি কি করে। আজকে আমারে সময়মত ছাড়বো তো। ঐ বাড়ীর গাইনির লগে ভালো ভাব জমাইছিলাম। গোপাট এর ঐখানে খুব সুন্দর ঘাস হইছে একবার যদি আমার গলার রশি খুলিয়া দিত মনের সুখে ঐ ঘাস খাইতে যাইতাম।ঃ
বাহবা কাল্লু মিয়া দেখি সময়ের আগেই হাজির। সুর্য টা কোন দিকে উঠলো কে জানে। মালিক কাইল বলাবলি করছিল তার কোন এক আত্মিয় এর বাড়ীত বেড়াইতে যাইবো। মালিক থাকতে তো এতো ভোরে কাল্লু আসে না।
কাল্লুর আজ কি হইলো আমারে এতো সকালে পুকুরে নামাইয়া , দামী শেম্পু দিয় গোসল করাইতেছে। আহরে কাল্লু মিয়া আমারে প্রতিদিন যদি এই রকম শেম্পুদিয়া গোসল করাই তো।
শেম্পুর গন্ধে মাতাল হইতেছি। আইজকা যদি ঐ বাড়ীর গাইনির ধারে যাইতে পারলে ভাবখান আরো ভালো হইতো।
এই মিয়া এ কি ঐ লোক কে। তারে তো কোন দিন এই খানে দেখি নাই। কাল্লুর লগে কি জানি কানাকানি করলো। আয়না দেখেতো অবাক ,আমারে খুব সুন্দর লাগছে। আমি আমারে চিনতে পারছি না।
কি ব্যাপার আমার গলার রশি খুলে দিলো। আর গায়ে কি যেন মেখে দিল।
বাহ আমি স্বাধীন। তবে মালিক এর প্রতি মায়া হচ্ছে সন্ধা হওয়ার আগেই ফিরে আসতে হবে।
যাই গোপাট এর ঐ খানে দামি ঘাস খেতে হবে।
ঐ বাড়ীর গাইনি আমাকে দেখে যেন ভয় পেলো। চিনতে পারেনি মনে হয়।
যাই আগে মনের সুখে ঘাস খেয়ে আসি। তারপর গাইনিকে খোঁজে বের করে একটু ভাব বিনিময় করবো।
আহ কত সুন্দর ঘাস এখানে আর কোন সহজাতি আসে না। গাইনীকে সাথে নিয়ে আসলে ভালো হত।
আচ্ছা মালিক আমারে দেখলে চিনতে পারবে তো। মনে হয় মালিক আজকে আমারে দেখলে চিনবে না।
আরে ঐ তো আমার মালিক গোপাট এর পাশ দিয়ে যাচ্ছে। তার পাশে এক চক্কর দিলাম। মালিক আমাকে দুর দুর বললো কেন। মালিক আমাকে সুন্দর বলল। এবং না দেখার মতো করে চলে গেল।
আচ্ছা বাড়ীতে দেখা যাবে নে। বেচারা মালিক তার জন্যে বড় মায়া হচ্ছে। গেল দু বছর আগে হাট থেকে আমাকে একদামে কিনে এনেছিল। বাচ্চার জন্ম উপলক্ষে উপহার হিসাবে। দুই বছরে এই বাড়ীর প্রতি, তাদের প্রতি বেশ মায়া হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে আমাকে খাইয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী।
সন্ধা হয়ে গেল এখনো কাল্লু আসছে না। যাই বাড়ীর দিকে। আরে সকালের ঐ বিশ্রি চেহারার লোক।
আমার গলায় দড়ি পড়িয়ে টানতে টানতে উত্তরদিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি জোর জবরদস্তি করে পারছি না। তার সাথে শক্তিশালি কালো কালো আরো তিনজন। বলাবলি করছে আমার গোয়াল থেকে পালিয়ে এসে এখানে ঘাস খাওয়া হচ্ছে। তোমাকে আজকেই যা করার করতে হবে।
পিছন থেকে একজন মারছে আর অন্য একজন খুব শক্ত করে দড়ি ধরে টানছে। জীবনেও এতো জোরে হাটিনি। আহরে গাইনীর সাথে আর মনে হয় কোনদিন দেখা হবে না।
ভালো থেকো গাইনী । মালিক আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার না বুঝে এদিকে আসা ঠিক হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



