দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। তাতে পুরস্কার পাবে একজন। দুর্ভাগ্যবশত প্রতিযোগিও একজন। কাজেই দৌড় শুরুর আগেই সবাই জানে কে পুরস্কার পাবে। তাই খেলা আর হলো না। নির্ধারিত দিনে একমাত্র প্রতিযোগিকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হলো। কিন্তু কিছু চামচা জুটে গেলো। তারা মহা উৎসাহ শুরু করলো। তারা নাকি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিলেন এই মুহুর্তের। তাই পুরস্কার ঘোষণার পর তারা শুরু করলো মিষ্টি বিতরন।
না এটি কেবলই কৌতুক নয়। সত্যি ঘটনা। গত দুইদিন বাঙ্গালি জাতি সেই কৌতুকটিই দেখলো। খালেদা জিয়া বিএনপির একমাত্র চেয়ারপার্সন পদপ্রার্থী। কাজেই কার সাহস আছে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একমাত্র প্রার্থী যেহেতু কাজেই তিনিই চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত দুদিনে বিএনপির নাটকের পর শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উল্লাস আর মন্তব্য ছিলো উল্টো। তারা সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। তাই টেলিভিশন ক্যামেরাগুলোর সামনে যখন নাটকের মহড়ার মতো ঘোষনা করা হলো খালেদা জিয়াই বিএনপির চেয়ারপার্সন শুরু হয়ে গেলো নাচানাচি। ভাবটা যেন হাজার হাজার প্রার্থীদের মধ্যে থেকে খালেদা নির্বাচিত হলেন। শুরু হলো মিস্টি বিতরন। রাস্তা বন্ধ করে মিছিল। কে কার চেয়ে বেশি খালেদার স্তুতি করবেন সেই নিয়ে শুরু হলো প্রতিযোগিতা। দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি সেগুলোর আবার ব্যাপক কাভারেজ দিলো। এসব স্তুতিই এদেশে বারবার ডোবায় হাসিনা আর খালেদাকে।
এ ধরনের নাটক না করলেই জাতি খুশি হয়। সবাই জানে আওয়ামী লীগে হাসিনা বিএনপিতে খালেদা দলের হাল ধরবেন। বেশিরভাগ সমর্থকই হয়তো সেটা চায়। কিন্তু এ নিয়ে গত দুইদিন বিএনপি যেভাবে নাটক করলো তাতে গোপালভাড়ও ফেল। বুঝতে বাকি থাকে না এসবই করা সম্মেলনে ভালো পদের জন্য। কিন্তু মজা পেলাম খালেদার প্রতিক্রিয়া দেখে। তিনি বললেন, তাকে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করায় তিনি ব্যাপাক খুশি। ভবিষ্যতেও দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাঁর ভাবখানা যেন, হাজারখানেক প্রার্থীর মধ্যে থেকে নির্বাচন করে তিনি জিতে এসেছেন।
রাজনীতির এসব কৌতুক যে কবে এ দেশ থেকে বন্ধ হবে কে জানে? এ দেশে গণতন্ত্র কয়েকজন নেতা নেত্রীর হাতে বন্দি। এখানে সম্মেলন, কাউন্সিল এসব সাজানো নাটক। সেই নাটকের মঞ্চায়নটা স্রেফ কৌতুক ছাড়া আর কি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



