somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝকঝকে ছবি আর চকচকে ভুটান । (ফাখানি গফর ব্লগ) । প্রথম পর্বের পরের পর্ব ।

২০ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



থিম্পু ভুটানের রাজধানী । হোটেলে এসে পৌঁছেই গোসল করে দুপুরের খাবার সাবার করে ফেললাম । Hotel Shangrila যে হোটেলটায় উঠেছি তার নাম । ছোট পরিপাটী আহামরি কিছু না । অধিকাংশ অতিথি ভারতীয় । কয়জন বাংলাদেশী ও আছেন । আন্তরিক অভ্যর্থনা আর সাথে, চাইলে পাইবেন টাইপের সেবা । যাই হোক বিশ্রাম নিয়েই বেড়িয়ে গেলাম শহর দেখতে । সন্ধ্যে হয়ে আসছে শহরের মার্কেট গুলো ও ফাঁকা । আসলে কম জনবহুল দেশ তাই শহর আমাদের মত কোলাহল পূর্ণ নয় । কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা সবাই এই শহরের প্রেমে পরে গেলাম। প্রথমেই যে জিনিসটা ভালো লাগলো তা হল, রাস্তায় কোন ট্র্যাফিক নেই । মানুষ জনের চেহারায় উদ্বিগ্নের চাপ নেই । এটা হয়ত এই দুনিয়ায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই বুঝতে পারবে । বিশেষ করে আমরা যারা ঢাকায় থাকি। ঘর থেকে বের হলেই আতংক গ্রস্থ থাকি । কোথায় কখন কি ঘটে ! সারাটাদিন উদ্ধিগ্ন থাকতে থাকতে একটা ছাপ বাহিরে চলাফেরা করা মনুষদের চেহারায় দেখা যায় ।



আমাদের ড্রাইভারকে দেখলাম একই এলাকায় তিনবার চক্কর কাটলো জিজ্ঞেস করতেই বলল, পার্কিং এর জায়গা পাচ্ছিনা । খেয়াল করে দেখলাম পার্কিং এর জায়গার বাহিরেও অনেক জায়গা আছে কিন্তু সে কিংবা কেউই সেখানে পার্ক করছে না । এমন কি তা করার কথা ভাবছেও না । অবাক হলাম । আমাদের চেয়ে অনুন্নত (!) দেশই বলা চলে । কিন্তু নিয়ম মানায় আমরা এদের কাছাকাছি ও না । এলোপাতারি রাস্তা পার হয়েছি অনেকবার রাস্তায় গাড়ী কম তাই এইক্ষেত্রে আমরা পটু । রাস্তা পার হওয়ার সময় লক্ষ্য করলাম যে গাড়ী যেখানে আছে ব্রেক করে দাড়িয়ে যাচ্ছে যদিও চলাচল করলেও আমরা ঠিকঠাক রাস্তা পার হতে পারতাম । যখন খেয়াল করলাম রাস্তা ফাঁকা থাকলেও তারা জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হয়না, লজ্জায় একেবারে একটুখানি হয়ে গেলাম । দেশটার মানুষদের প্রতি সম্মান বেড়ে গেল ।


Changangkha Lhakhang মন্দিরটি ১২শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত থিম্পুর সবচেয়ে পুরনো মন্দির গুলোর একটি ।


অনেকটা দুর্গের মত দেখতে মন্দিরটি থিম্পু শহরের একপাশে একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত তাই এখান থেকে শহরটা দেখা যায় স্পষ্টভাবে ।


এখানে এসে অপূর্ব এই শহরের ছবি নিতে কেউ ভুলে না ।



নবজাতকদের তাদের বাবা-মা’রা এখানে নিয়ে আসেন আশীর্বাদ প্রাপ্তির আশায়। এখানকার ধর্মগুরুরা শিশুদের নাম ও রেখে দেন ।



টাকিন ভুটানের জাতীয় প্রাণী ।


শহরের চিড়িয়াখানার দর্শনারথীদের সবচেয়ে পপুলার প্রাণী । কথিত আছে, Drukpa Kunley ও Devine Madman দুই ঋষিপুরুষ তাদের ইন্দ্রজালিক জাদুমন্ত্র দিয়ে একটি পবিত্র পশু পৃথিবীতে আনেন যার সামনের অংশ দেখতে ছাগল এবং পেছনের অংশ অনেকটা গাভীর মত । এটাই টাকিন ।

দুচলা পাস ।



থিম্পু থেকে পুনাখা যেতে পরবে এই দুচলা পাস । সমুদ্র থেকে প্রায় ৩১০০ মিটার উপরে অবস্থিত । Gangkar Puensum, ভুটান সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এই দুচলা পাস থেকে দেখা যায় ।


আবহাওয়া ভালো থাকলে এখান থেকে হিমালয়ের কয়েকটি উচ্চতম শৃঙ্গ স্পষ্ট দেখা যায় ।
পাশেই একজন গাইড কয়জন বিদেশী পর্যটকদের তথ্য দিচ্ছিল এখানকার কয়টা শৃঙ্গ এখনো ভার্জিন । ভার্জিন! শৃঙ্গ ও ভার্জিন হয় ? ক্যামতে ? তাদের কথায়ই বুঝলাম ওই শৃঙ্গগুলোতে এখনো কেউ উঠেনি, জয় করা হয়নি । হুম, মানুষের পা পড়া মাত্রই এঠি ভার্জিনত্ব হারাবে ।
যাই হোক, ভুটানের সৈন্য যারা ভারত থেকে আসমিয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ডিসেম্বর ২০০৩ সালে যুদ্ধে নিহতদের সম্মানে একটি স্মারক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল । এখানে মোট ১০৮ টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে ।


এর একটি স্তম্ভ

আরও কিছু ছবি-


স্তম্ভের একাংশে অঙ্কিত বুদ্ধের ছবি ।


পাশেই অবস্থিত একটি সুন্দর মন্দির (সম্ভবত)

পুনাখার পথে
এই পথ পুরোটাই পাহাড়ময়। পাহাড় কেটে কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে ।


মাঝে মাঝে পাহাড়ের এতো উপরে উঠে যেতে হয় যে, নিচে তাকালে রক্ত হিম হয়ে যায় । শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় । বড় বড় পাইন গাছে অপূর্ব সব পাখি আর বানরের দেখা মিলে ।


প্রায়ই পাহাড় ধসে চলাচল বন্ধ থাকে ।


ব্যাপক সংস্কার চলছে রাস্তাগুলোতে। দেশের রাজা / সরকার চাচ্ছেন চীন-> ভুটান>ভারত->বাংলাদেশ একটা সংযোগ রাস্তা হোক ।
পাহাড়ি ছোট ছোট ঝর্ণা মুগ্ধ করবে যে কাউকে।


চাষ যোগ্য সমতল ভূমির অভাব এদেশে ।


তাই পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ধান চাষ চলে এখানে।
দেখা যাবে আপেলের বাগানও । পেয়ারা, আপেল, পরসিমন, বিশাল আকারের মরিচের পসরা চোখে পরবে অনেক ।


মাঝে মাঝে লোকালয় । সুন্দর সব বাড়ী ঘর । দেয়ালে চিত্রাঙ্কন ।


একটা দেয়ালে আবারো দেখলাম কেমন জানি একটা চিত্র । নংরা চিন্তায় পেয়ে বসল আবার । ভালো করে খেয়াল করতে পারিনি গাড়ীতে থাকার কারনে । ভুল দেখেছি নিশ্চয়ই।
পুনাখা জং


এই ছবিটা নেট থেকে নেয়া ।

এটি ভুটানের প্রাচীন রাজধানী । ১৯৫৫ সালে বর্তমান থিম্পুতে রাজধানী স্থানাতর হওয়ার আগে এটি ই সে দেশের রাজধানী ও প্রাশাসনিক দপ্তর ছিল । পুনাখা জং এর অর্থ পরম সুখময় প্রাসাদ । পুছ্যা নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদ । কাঠের তৈরি প্রাসাদটি দেখার মত ।


স্রোতময় নদীতে রাফটিং এর সুবিধা আছে ।


এদ্ভাঞ্চারের সুযোগ নিইনি ।
ঘুরে বেড়িয়েছি ফটো তুলেছি । দূর থেকে দেখলে মনে হবে পাহাড় ঘেঁষা নদীর তীরে প্রাসাদটা যেন, মনভালো থাকা সদ্য প্রেমে পড়া এক শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটা ছবি ।


এই ছবিটাও নেট থেকে নেয়া ।

চলবে।

ঝকঝকে ছবি আর চকচকে ভুটান । (ফাখানি গফর ব্লগ)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৪২
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অসম বিবাহ ও পরকীয়া

লিখেছেন মাহাদী হাসান প্রেত, ২২ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৭


কলেজ লাইফ থেকেই মাথার চুলে পাক ধরেছিলো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতে করতে চুলের সাথে দাঁড়িও সাদাটে হয়ে গেছে। যদিও ইদানীং ক্লিন সেভড থাকি বলে সেটা বোঝা যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্যতার ছবি

লিখেছেন শাহরিয়ার কবীর, ২২ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৫৩



আজও শূন্যতার শূলে চড়ে ঘুরছি দিগন্তের এপারে-ওপারে,
কি যেন এক ব্যথার জ্বলনে জ্বলছে
এ হৃদয় চিতার অনলে ।
শতাব্দীরও আগে কি যেন এক মায়ার জালে
বেঁধেছিলে সেকি নিদারুন ছলে;
দিবসও রজনী যাচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরান ঢাকার বিয়েবাড়িতে হলুদ সন্ধ্যায় অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন!

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২২ শে মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০১

পুরান ঢাকায় এইগুলো আগে ছিল না। আগের দিনে বিয়ে বাড়িতে হলুদসন্ধ্যা বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটা হত অনেক সাদামাটা ভাবে। এত বিশাল বিশাল সাউন্ডবক্সের গগনবিদারী চিৎকার আর পেশাদার নর্তকীদের অশ্লীল নৃত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসেরা ৫০ শিক্ষকের একজন বাংলাদেশের

লিখেছেন তালপাতারসেপাই, ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ ভোর ৬:৫০


বিশ্বের শীর্ষ ৫০ জন শিক্ষকের একজন হিসেবে পুরস্কার নিয়েছেন বাংলাদেশের শাহনাজ পারভিন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘৫ম গ্লোবাল এডুকেশন ও স্কিলস ফোরাম’ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ‘গ্লোবাল টিচার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীণতার সংগ্রাম

লিখেছেন ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:১১

(কবি- শেখ মুজিবুর রহমান)


এবারের সংগ্রাম
আমাদের স্বাধীণতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম
মুক্তির সংগ্রম
আর যদি একটি গুলি চলে
আর যদি এক জন বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়
তবে মনে রাখবা-
রক্ত যখন দিয়েছি, তবে রক্ত আরো দেব
তবু এ দেশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×