somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্পগল্প: যাত্রা শুরু

২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমাদের এয়ারক্রাফ্টটা দিগন্তরেখার আড়ালে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমার কিছুই মনে হয়নি। তারপর হঠাৎ করেই একটা বিশাল শুন্যতা চেপে ধরল আমাকে।এই পুরো ফোবস উপগ্রহে এখন আমি একা। তবু মনে ভরসা যেকোন সময় তোমাদের সাথে রেডিওতে যোগাযোগ করতে পারব।
মাথার উপর এখন মঙ্গলের পূর্নিমা। ডিমোস কে অবশ্য দেখা যাচ্ছেনা। ভারি পোষাক সত্ত্বেও হালকাই লাগছে নিজেকে। লাফিয়ে এগোলাম আমার তাবুটার দিকে। এই কদিন এখানেই থাকতে হবে। মনিটরগুলোর সামনে বসলাম। আমাদের রোবটগুলো ফটো পাঠানো শুরু করেছে। আমি নির্দেশ দেওয়া মাত্র ওরা স্যাম্পল কালেক্ট করবে।

ক্লান্তিতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা। ঘুম ভেঙ্গে হঠাৎ খুব মন খারাপ হয়ে গেল। নিঃসঙ্গ, বিষন্ন একটা অনুভূতি।
মনিটরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম রোবটগুলো ফটো পাঠিয়ে চলেছে। কিন্তু কি যেনো একটা অন্য রকম! মনটা খচখচ করে উঠল। রাডারে রোবটগলোর অবস্থান দেখাচ্ছে। ওরা কি ঠিক পথে চলছে? ওদের দূরত্বটা কি কমে আসছে? মনে হচ্ছে ওরা কোথায় যেন যাচ্ছে। কি অদ্ভুত কথা !!!
তুমি তো জানো রোবটগুলোকে একটা কাজের জন্যই প্রোগ্রাম করা, আর তা হল, একেঅপরের সমদূরত্বে ঘুরে ঘুরে ফটো তুলে পাঠানো আর সিগনাল পেলে নমুনা সংগ্রহ করা। ওরা তো একেঅপরের কাছাকাছি আসার কথা নয়!!

আমি ঢোক গিলে শুকনো গলাটা ভেজানোর চেষ্টা করলাম। রাডারে রোবটগুলোর গতিপথ দেখে গন্তব্য আন্দাজ করার চেষ্টা করছি।ওরা যেভাবে কাছাকছি চলে আসছে তাতে মনে হচ্ছে জায়গাটা বেশি দূরে নেই। মনিটরের দিকে তাকালাম। গত পনের মিনিটে ওরা কোন নতুন ছবি পাঠায়নি। অথচ ওদের প্রতি পাঁচ মিনিটে একটা ছবি পাঠানোর কথা।
তুমি থাকলে মনে সাহস পেতাম। যাই হোক, রোবটগুলো এখন ফোবসের তৃতীয় বৃহত্তম খাদটার কাছে জড়ো হচ্ছে। মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে।


নিশ্বাস টানলাম জোরে জোরে। তোমাদের কাছে একটা রেডিও সিগনাল পাঠালাম। পোষাক পরলাম ধীরে ধীরে। আমার আজ কোন তাড়া নেই। তাবু থেকে বেরিয়ে হেটেই এগোলাম খাদটার দিকে।
সমভূমিটা পেরিয়ে খাদে নামতেই দূর থেকে আমাদের রোবটগুলোকে চোখে পড়ল। ওগুলো এখন গোল হয়ে লোহার বস্তার মত দাড়িয়ে আছে। বৃত্তের মাঝখানে প্রায় ৫০ মিটার মত জায়গা কেমন মসৃণ মনে হচ্ছে।
আরো কাছে এগোলাম। জিনিসটা এখন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। গোলএকটা বড় পাথর নাকি ঘর, মনে হচ্ছে মাটি ফুড়ে বের হয়ে এসেছে। দেওয়ালগুলো মসৃণ, ধাতব কিনা বুঝতে পারছিনা। কোন ফাকফোকর চোখে পড়ছেনা। কেজানে, কত হাজার বছরের মহাজাগতিক ধুলো জমে আছে ওটার উপর। কেমন যেন অবাস্তব মনে হল ওটার অস্তিত্ব।

আলো কমে আসছে। মঙ্গল ডুবছে দিগন্তের আড়ালে। খেয়াল করলাম, অদ্ভুত অবয়বটা থেকে হালকা সবুজ আলো বের হচ্ছে। এটার এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল অরিজিন নিয়ে আমার মনে আর কোন সন্দেহ নেই।


পিছন ফিরলাম। আমাকে তাবুতে ফিরতে হবে। উপরে দেখতে পাচ্ছি তোমাদের এয়ার ক্রাফট। আমার সিগনাল পেয়েছো তা হলে?
মঙ্গল ডুবে গেছে তাতে সমস্যা নেই। দূরের আকাশে সূর্য উঠছে। নতুন দিন শুরু হবে এখনই। আমাদের হাতে এখন অনেক কাজ, অনেক কিছু এখনো জানতে বাকী। চলো, শুরু করা যাক।


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৫০
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×