কবি সুফিয়া কামালের মেজ মেয়ে সুলতানা কামালের জম্ম পুরান ঢাকার তারাবাগে। এই বইতে তিনি যে ছবির মত সুন্দর পুরান ঢাকার বর্ননা দিয়েছেন-তা বাস্তবে নেই।পুকুর, খেলার মাঠ, বিভিন্ন ধরনের ফুল-ফলের গাছে সুশোভিত সেই পুরান ঢাকার গ্রামীন চিত্র বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে ও দখলে হারিয়ে গেছে। সুলতানা কামাল লিখেছেন, তারা প্রায়ই মতিঝিল থেকে নৌকায় চেপে বুড়িগংগায় হাওয়া খেতে যেতেন। আমি বহু চেষ্টা করেও মতিঝিল থেকে বুড়িগংগায় যাওয়া খালের অস্তিত্ব উদ্ধার করতে পারিনি।
এই বইতে প্রথমেই যে গুনি মানুষটি সম্বন্ধে জানা যায়- তিনি হলেন কামাল আহমেদ।সুলতানা কামালের পিতা ও সুফিয়া কামালের স্বামী। দু’জনের প্রতিভা বিকাশে এই মানুষটির ভুমিকা অপরিসীম। আর এই জন্যই বোধহয় লেখিকা মায়ের কথা বেশি না লিখে বাবার কথাই বেশি লিখেছেন। আর আমরাও দুজন বিখ্যাত মানুষের পিছনের কারিগরের কথা জানতে পারি।
লেখিকার জবানিতে জানা যায় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহপাঠিনী।শেখ মুজিবের রাজনীতির কারনে পাকিস্তান সরকার(রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস!!) একবার শেখ হাসিনাকে স্কুল ছাড়া করে।আর তখনই শেখ হাসিনার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসেন সুফিয়া কামাল।তাদের মাঝে ছিল পারিবারিক সম্পর্ক। এজন্য শালা-দুলাভাই বংগবন্ধু ও কামাল আহমেদ – দুজনেই দুজনকে নিয়ে প্রায়ই ঠাট্টা-মস্করায় মেতে উঠতেন।
ছন্নছাড়া-বাউন্ডুলে গোছের সিকান্দার আবু জাফরের কথা বলেছেন বিশদভাবে। ইটের ব্যবসা করে লস হওয়া, সুফিয়া কামালকে নিয়ে মহিলা পীরের ব্যবসা করারকথা বলা, রেসকোর্সে ঘোড়ার দৌড়ে বাজি ধরে টাকা উড়ানো, সব কিছুতেই তার আগোছালো জীবনের চিত্র ফুটে উঠে।এছাড়া আরেকজন বাউন্ডুলে মানুষের কথা বলেছেন, তিনি আমাদের বিখ্যাত সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদ।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে লেখিকা ছিলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরজন্য নির্মিত হাসপাতালের সেবিকা হিসেবে। সেখানে জিয়াউর রহমান,খালেদ মোশাররফ প্রমুখ সেক্টর কমান্ডারদের সাথে তার পরিচয় হয়। মক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ের আরো বিশদ বিবরন দেয়া উচিত ছিল। হয়তবা লেখিকা এ স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পুরো একটা বই লিখবেন- এই আশা রাখি।
যে তথ্য জানার জন্য আমি খুবই উতসুখ ছিলাম- তা হল লেখিকার তত্তাবধায়ক সরকারের দিনগুলো নিয়ে। তিনি প্রায় চল্লিশ দিনের মত ক্ষমতায় ছিলেন।তিনি বিশদভাবে সেই দিনগুলোতে তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ননা করতে পারতেন।তা করেননি।চার-পাঁচ পৃষ্টাতেই শেষ করেছেন। ফলে পাঠকরা টান টান উত্তেজনার সেই দিনগুলোতে কি ঘটেছিল- তা আর জানতে পারেনি। হয়ত বিতর্ক হবে ভেবে সেই বিতর্কিত দিনগুলোর ভেতরের কথা এড়িয়ে গেছেন।
ছোটবেলা থেকেই তিনি কচিকাঁচার মেলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। আর এ জন্য দেখা যায় বড় হয়েও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অন্যায় সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে সংগঠিত।
তার এ চলার পথ কুসুমাস্তীন্য হবে না জানি, তবে দীর্ঘ হোক। যে মানুষগুলোর জন্য তার এ সংগ্রাম তাদের জীবন সুন্দর হোক, সার্থক হোক।
প্রকাশকঃ পার্ল পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশঃ বইমেলা ২০১০
মুল্যঃ১২৫ টাকা
পৃষ্টাঃ ৯৫+ ৮ পৃষ্টার ছবিযুক্ত পারিবারিক এলবাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



