আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্টেল্যাকচুয়ালেরা একদিন কবিতা লিখবে - আমি ও আমরা
- আমারে পুরা শ্যাষ করছে রে
- রুখসানা তাজীন
- মেধাহীন 'করপোরেট' মেরুকরণ, গড্ডালিকার নর্দমা, ডিজুস তারুণ্য - সাঈফ শেরিফ
- শেষ বিকালের কিছু ছবি.. - সাইফুর
- ব্লগে চলতি কিছু ধারাবাহিক - একরামুল হক শামীম
- আবেগই সকল নষ্টের গোড়া, হাচা কতা
- চিকনমিয়া
- সামহয়ার বইমেলা Version 1.0 - সামহয়ারের ব্লগারদের কিছু অলিখিত বই (ভবিষ্যতে লিখতে পারেন)
(ফানপোস্ট) - নাফিস ইফতেখার
- ভাইরাস ধরতে ফাইল স্ক্যান করুন অনলাইনে - তারকে
- সামহয়ারইন ডিকশনারী V 2.0 - The Bible of Somewhereinblog - নোবেলজয়ী
- কোন কিছু আশা করি না - চিকনমিয়া
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- ধোঁয়াটে রূপকথা (শেষ অংশ) - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- ছায়াজীবি - কালপুরুষ
- নবীনদের জন্য - নাদান
- আমার বামহাতটা কব্জির নীচ থেকে উড়ে গিয়েছিলো ............... - হনলুলু
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- খিদে,অনেক খিদে - ফারহান দাউদ
- বাইনারি আবেগ আর ঝিঁঝিঁপোকারা - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- গল্পের শেষে - নিখুত ঝড়
- স্মৃতি হন্তারক বৃস্টিতে থ্যাঁতলানো কয়েকজন আর উড়াল সেতু জুড়ে ধাবমান কদম - আকাশচুরি
- ঘুরে বেড়ায়...ধর্ষণের স্মৃতি (এডিট পরবর্তীতে রিপোষ্ট) - শিমুল
- ব্যবহার করুন এনিমেটেড স্মাইলি (COOL) - ব্রাইট
- কবিতা: শীত - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- মরীচিকা সময় - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- তুষারকন্যা - সুলতানা শিরীন সাজি
- তোমার পায়ে দিলাম বৃষ্টির নূপুর ......... - হনলুলু
- কাজলাদিদি .............. উতসর্গ আউলাদি - হনলুলু
- এ চিঠি শুধু তার জন্য!!! - বিবর্তনবাদী
- আমি যেদিন নিজের হাতে খুন হয়েছিলাম - আকাশচুরি
- নগ্নিকা এবং মনন ভূমে কাঠঠোকরার কেরামতি - আকাশচুরি
- আমার ছোট্ট মেয়েটি - রেটিং
- সবার সেরা (ছেলেবেলা) - (অ)গাণিতিক
- বৈশাখী রঙ - রোডায়া
- অবাধ্য ইচ্ছা - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- কষ্ট - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- উৎসর্গ ....... আমার সতের বছর বয়স ...... - হনলুলু
আমার মৃত্যুগাথা . . .
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:১৮
যখন কোন মানুষ খুব বেশি প্রিয় হয়ে যায় তখন তারা কেমন যেন নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো হয়ে যায়। আমিতো আমার হাত-পা অথবা চোখকে আলাদা করে ভালবাসতে পারবো না। কিন্তু হাত-পা বা চোখটা হারালে একটা দিক থেকে সম্পূর্ণ অথর্ব হয়ে যাবো। ঠিক সেরকম একটা সম্পর্ক ছিল আমার... যেটা হারিয়ে যাবার পর আমার অস্তিত্বে চরম নাড়া পেয়েছিলাম...
ছোট থেকে থেকে একটা মানুষ আমার সওওওব কিছুতে পাশে পাশে ছিল। তার পায়ের পাতার ওপর খুব ছোট্ট পা রেখে হাঁটতে শিখেছিলাম আর তারপর থেকে আমার কোন্ স্মৃতিটা আছে যেটাতে সে নেই! আমার ধর্মশিক্ষা থেকে গান শোনা সব তার থেকে পাওয়া!
আমার দাদুটা আমার বন্ধু-বান্ধব বা বাকিদের দাদুদের থেকে একদম অন্যরকম ছিল। এখন পর্যন্ত আমার দেখা সবচেয়েএএএ স্মার্ট মহিলা। ঢাকার একটা কলেজে শিক্ষকতা করতো দাদু। বেশিদিন পারে নি, প্রচন্ড প্রানশক্তিতে ভরা মানুষটার হার্ট বোধহয় অস্থির হয়ে থেমে গিয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর বয়সে। তারপর ইন্জিন (পেসমেকার) দিয়ে চালাতে হতো চার কম্পার্টমেন্টের গাড়িটাকে। কিন্তু দাদুকে দেখে কেউ ভুলেও বুঝতো না যে মানুষটার ভেতরের সবচে' স্পর্শকাতর অংশটা কৃত্তিম!
আমার হাঁটাচলার পর থেকে সব ব্যপারে দাদুর অংশ ছিল। মা-বাবা দু'জন ডাক্তার হওয়ার পর-ও এক সেকেন্ড এর জন্যও একাকিত্ব বোধ করি নি। স্বরে-ও স্বরে আ ক খ ,আ বা কা ডা, সা রে গা মা পা - সবকিছুর শুরু দাদুর থেকে। আল্লাহ-র সাথে কথা বলার ব্যপারটা আমার মধ্য ঢুকিয়ে দিয়েছে দাদু। "শোন, কোন হুজুরকে কখনো বলবি না যে আমার জন্য আল্লাহ্-র কাছে দোয়া করে দাও। তুই যেভাবে আল্লাহর কাছে চাবি, হুজুর কখনো সেভাবে চাবে না। সবসময় সরাসরি সম্পর্ক রাখবি। ক্ষ্ট, ভয় বা কিছু ব্যপারে দ্বিধায় আল্লাহ্-র সাথে কথা বলবি আর বলবি যে তোর অধিকার আছে তাঁর সাহায্য পাওয়ার, কারন তুই কোন শক্তিকে বিশ্বাস না করে একমাত্র তাঁকে বিশ্বাস করেছিস। সাহায্য করতেই হবে তোকে আল্লাহ-র তখন। আর যখনি কোন প্রশ্ন আসবে আমাদের ধর্ম নিয়ে, তখন-ই যে ধর্মের ব্যপারে তোর চে' বেশি জানে তাকে জিজ্ঞেস করবি। অন্ধবিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা কিন্তু নাই!" আমি সেই তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোন বিপর্যয়ে পড়লেই বিড়বিড়িয়ে কথা বলি আমার আল্লাহ্-র সাথে!
আমার ভেতরে ছন্দ অথবা গানের প্রতি নেশাটাও দাদুর একটা অবদান! দাদু রবীন্দ্র, নজরুল, তপন চৌধুরী, ভূপেন, কিশোরকুমার, কুমার বিশ্বজিৎ, সুমনা, লতা, বাউল, মোহাম্মদ রাফি, পঙ্কজ, শচীনদেব, এ্যাবা, মাইকেল জ্যাকসন...কি না শুনতো !!! প্রিয় ছিল অমিতাভ বচ্চন..প্রায় ই বলতো... " ইস্! দেখ লোকটার কি ফিগার! তোকে এমন লম্বু একটার সাথে বিয়ে দিতে হবে!" আমি যেতাম রেগে..."হ্যা! ওমন লম্বু বিয়ে করবো তারপর আমাকে নিয়ে "জিসকো বিবি ছোটি"...গান গাবে!" দাদু ফিক করে হেসে দিতো। সে সময়টায় আমার পাগল প্রিয় ছিল ডেভিড ডুকভ্নি (এক্স ফাইল্স) আর টম ক্রুজ। মা অথবা বাবা একদিন রাতে পড়াশোনার জন্য এক্স ফাইল্স না দেখতে দিলে আমার জীবন রাখা দায় মনে হতো। দাদুকে জড়িয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলতাম , "তুমি আমাকে এক্স ফাইল্সের সময়টা কোন কাজে ডেকো তো। আমাকে ওরা দেখতে দিতে চায় না। আমার কি হবে পড়ালেখা করে যদি আমি মোল্ডারকে না দেখি!" দাদু খুব-ই গম্ভির হয়ে বলতো, "হুম...তা তো ঠিক-ই। চিন্তা করিস না, পড়তে যা সময় মতো ডাক দিবো।" ঠিক সময়ে ডাক পেয়ে যেতাম, "এই শুনে যা তো, রিমোট টা কাজ করে না কেনো!" মা-বাবা-ও মুচকি হাসতো!
এছাড়াও দাদু কখনো বসে থাকতো না। সারাক্ষণ প্ল্যান করায় আর সবার সময় মেলানোয় ব্যস্ত। একটা দিন আমার দুই ফুপ্পি আর চাচ্চুরা সহ আমাদের সবার সময় মিললেই ঘুরতে বের হয়ে যাওয়া। হৈ-চৈ-লাফালাফি... উৎসব লেগেই থাকতো আমাদের ফ্যামিলি পিকনিকগুলোতে! আমরা সওব ভাই-বোন মিলে দাদুকে ধরতাম,,,"প্লিজ একটা প্ল্যান নাও না! কত্তদিন ফ্যান্টাসি যাই না!" আমরা ভাই-বোন মিলে হাউমাউ করতে করতে ফ্যান্টাসিতে গিয়ে লাফালাফি করছি আর দাদু বেশ খুশিমাখা চোখে তাকিয়ে আছে...এমন দৃশ্য-ও বিরল ছিল না। দাদু পেসমেকারটার জন্য কোন রাইড-এ উঠতে পারতো না, আমাদের আনন্দটাই তার জন্য সব ছিল। এছাড়া-ও সারা রাস্তা গান গাওয়া, লাফালাফি, রাস্তার ইটালিয়ান হোটেলে চা খাওয়া... এসব তো ছিলোই! আর যদি অতদূর যাওয়া না হয় তাহলে ঢাকা-ই ঘুরাঘুরি-র ব্যবস্থা হয়ে যেত...হয়তো কোন সিনেমায় বা এক্সিভিশনে!
প্রতি বৃহস্পতি রাতে কিছু না কিছু একটা হতো আমাদের বাসায়। সেটা লুডু বা কার্ড বা ডমিনোজ বা মনোপলি কম্পিটিশন...যেকোনো কিছু হতে পারে! তাতে আমি বা আমার বোন কেউ জিতে গেলে দাদু পরদিন খাওয়াতো। আমি হেরে গেলে দাদুর শর্ত ছিল, আমাকে একটা গান গাইতে হবে নির্ভুল লিরিক আর স্কেলে। কত চেষ্টা করেছি আমরা দু'বোন মিলে! কিন্তু বেশিরভাগ সময় দাদুই জিতে যেত! মাঝে মাঝে আমরা জিতে গেলেও বুঝতাম না যে ওটা দাদু ইচ্ছা করেই জিতিয়ে দিয়েছেন! কি ঝগড়া যে করতাম মাঝে মাঝে কত তুচ্ছ কারনে! তারপর গিয়ে স্যরি-ও বলতাম...জড়াজড়ি করে কান্নাকাটি-ও হতো। আমার ফুপ্পি বা চাচ্চুরা দাদুকে অনেক বলতো ওদের বাসায় থাকতে কিন্তু দাদু কারো বাসায়-ই আমাদের দু'বোন ছাড়া বেশিদিন থাকতে পারে নি! সময়ে-অসময়ে দাদুর সাথে আড্ডা দিতাম। আমার এমন কোন গোপন কথা ছিল না যা দাদুকে বলি নি! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটা মুহুর্তকে প্রান দিয়ে রঙিন করে রাখতো দাদু!
২০০৪ এর বৃহস্পতিটা আমাদের বাসার বৃহস্পতির রুটিনটা মানে নি। সবসময়ের জন্য ভেঙে গিয়েছিল রুটিনটা! গত চার বছর আমি দাদুর প্রিয় গানগুলো শুনি নি... কারন যে গানগুলো একটা সময় ছন্দের গল্প শোনাতো সেগুলা কেমন অভিশাপের মতো লাগে শুনতে!...গত চার বছরে আমাদের কোন ফ্যামিলি পিকনিক হয়নি... কেন যেন সময় আর মেলে না সবার আর একসাথে! আমাদের বাসা থেকে উৎসবের বা ঝগড়া-অভিমানগুলোর শব্দগুলোও মুছে গেছে সবসময়ের জন্য!
আমার আঠারো বছরের পর থেকে জুলাই মাসটাকে আমি পাগলের মতো ভয় পাই! দাদুর পেসমেকার চতুর্থবারের মতো বদলে দেয়া হলো জুন এ। তারপর দাদু বেশ থমকে গেলেন... এমন মানুষগুলো থেমে গেলে সময় থেমে যায়। আমি দাদুর নার্সিং এর ব্যপারটা দেখতাম। অক্সিজেন দেয়া বা নেবুলাইজ করা এসব বেশ দক্ষ ভাবেই করতে পারতাম বাবার শিখিয়ে দেবার জন্য। জুলাই এর আট তারিখ আমার বেশ ভাল লাগছিলো যে দাদুকে আজকে বেশ সুস্থ দেখলাম। সন্ধ্যায় কোচিং থেকে ফিরে দাদুর সাথে কথা হলো...গান শুনলাম, টিভি দেখলাম। তারপর বললাম..."দাড়াও কাপড়টা বদলে আসি।" দাদু বললো, "তুই হলি আমার অক্সিজেন, বুঝলি! শোন্, তুই এসে আমার খাবারটা দিতে বল। আজকে ভাল লাগছে না টিভিটা!" আমি একটা "আচ্ছা" দিয়ে দৌড় দিলাম। নরম খিচুরিটা রেডি করে আমার চাচ্চি বললো আজকে সেই খাইয়ে দিবে। আমি সায় দিয়ে চলে আসলাম। দাদু এক চামচ খিচুরি খেতে না খেতে-ই চরম কাশি শুরু হলো। তারপর দাদু নিথর হয়ে গেলো...বাবা ছুটে আসলো। দাদুর পাল্স, হার্টবিট বা চোখের মণিটার রিফ্লেক্সন কিছুই পাচ্ছিলো না বাবা। কিন্তু ব্যপারটা বাবা বুঝলো না একজন বেশ দ্ক্ষ ডাক্তার হয়েও... এক হার্ট স্পেশালিস্ট কে ফোন করার পর সে বেশ অবাক হয়েই বাবা-কে বললো... "তুমি বুঝতে পারছো না কি হয়েছে?" বাবা বললো যে বাবা কিছুই বুঝতে পারছে না। ঐ ডাক্তারকে আমাদের বাসায় আসতে হলো ব্যপারটা বোঝানোর জন্য। আমার বাবা-ও আমার মতোই দাদুর মৃত্যুর ব্যপারটা ভাবতেই পারে নি। আমি ঐ সময়টা খুব স্বাভাবিকভাবেই দাদুকে অক্সিজেন দিয়ে গিয়েছি ক্রমাগত...আর মেডিক্যল টর্চ ফেলে পাগলের মতো মানুষটার চোখের মণিটার পরিবর্তন দেখতে চেয়েছি। আমার মাথায় নেয়া সম্ভব ছিল না পরিস্থিতিটা। এটা বুঝতে পেরেই কিনা জানি না, আমার এক দুঃসম্পর্কের খালা আমাকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে একটা কাজে লাগিয়ে দিলেন। তখন কিচেনে চুলোর ওপর বড়ই আর নিমের পাতাগুলো বিশাল দুটো হাড়ির পানিতে উথাল-পাথাল হয়ে ডুবছিলো আর ভাসছিলো।
আমি খানিকক্ষণ পরে এসি রুমটায় ঢুকে দেখি দাদু শুয়ে আছে, নাকে তুলা গোঁজা। আমি এগিয়ে গিয়েই তুলা খুলে দিয়ে তীব্র চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, "তুমি জানো না দাদু এসিতে থাকতে পারে না? সাফোকেশন হয়? নাকে তুলা কেনো দিলা?" তারপর অক্সিজেন মাস্কটা পরিয়ে মিটার ঘুড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিছুই হলো না, আমাকে বোঝানো হলো দাদুর এখনের কন্ডিশন ভাল না, তুলাটা খোলা যাবে না। আমি পাশে বসে মুখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে দিলাম তারপর আলতো করে কপালটা ছুঁয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে উঠলাম! কি ভয়াবহ নিষ্ঠুর-নৃশংস ঠান্ডা !!! এমন ঠান্ডার সাথে পরিচিত ছিলাম না তো আগে! আমি মানসিকভাবে ঐ ঠান্ডাটা নিজের ভেতর নিয়ে ফেলেছিলাম! এখন-ও ঐ দিনটার প্রতিটা মুহুর্ত, সেই ঠান্ডাটা টের পাই ...যদি স্মৃতিটা খুঁড়ে আনি! সারারাত-ই দাদুকে ছুঁয়ে স্থির হয়ে হয়ে ছিলাম... এক ফোঁটা কাঁদিনি, একটু-ও ফোঁপাই নি! পরদিন জুম্মার পর দাদুকে নিয়ে যাওয়া হয়, আমি একটুও টের পাইনি। কারন ওটা দেখার মতো জ্ঞান-ই আমার ছিল না ঐ সময়টায়।
সন্ধ্যাবেলায় একটু গুছিয়ে নেবার পর সবাই দেখলো আমি সম্পূর্ণ মানসিক রোগীর মতো আচরণ করছি। সবাইকে সন্দেহ করতাম আশেপাশের। চারপাশে দাদুর গন্ধ পেতাম, রাত-বিরাতে দাদুর ঘরে গিয়ে নাকি দাদুর সাথে কথাও বলেছি! ঘুমের মধ্যও আমার নাকি একভাবে হাতের আঙুলগুলো কাঁপতো! পরের প্রায় ৩-৪ মাস আমি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ছিলাম। পড়াশোনা করেছি, অন্যকিছুও ঠিক ছিল... কিন্তু আমার আশে-পাশে দাদুর কাল্পনিক বিচরণ ছিল...যেটা আর কারো ছিল না। একটা সময়ের পর বাস্তবতা বুঝতে শিখেছিলাম যেটা না বুঝলেই ভাল হতো হয়তো। দাদুর শূন্যতাটা ভেতরে টের পেতাম, ভেতরের একটা অংশ কেমন যেন ভয়ংকর খালি হয়ে গিয়েছিল। কারো খুব বেশি আপন কেউ হারিয়ে না গেলে এটা কেউ বুঝবে না। আর আমি খুব গভীরভাবে চাই যে আমার সবচে বড় শত্রুর-ও যাতে ঘুণাক্ষরেও এই অনুভূতিটা পেতে না হয়! আর এই সুস্থ হবার পরের সময়টায় আমি কেঁদেছিলাম। মাথা ছিঁড়ে ফেলা যন্ত্রণাময় কান্না...তারসাথে তীব্র চিৎকার দিয়ে আল্লাহ-কে বকে যেতাম! আর ঠিক করে ফেলেছিলাম যে কারো সাথে যেন জীবনে কখনো যেন এমন গাঢ় সম্পর্ক না হয়। যে হারিয়ে গেলে নিজের অস্তিত্বে এভাবে নাড়া লাগে।
আমি এখন খুব প্র্যাকটিক্যাল একটা মেয়ে... কারো সাহায্য চাই না, কোন কিছুর খুব গভীর প্রয়োজন বোধ করি না।...কিন্তু এখনো নেশাগ্রস্থের মতো হাতড়ে বেড়াই মৃত সময়গুলো... মাথার ওপর খুঁজে বেড়াই খুব শান্তির একটা ছায়া! আমি এখনো স্থির হয়ে বসলে ছবির মতো দেখতে পাই সেদিনের রাতটা... এখনো থরথর করে হাতটা কেঁপে ওঠে...না জানতেই সেই শূন্যতাটা চলে আসে ভেতরে...আর ভেতর থেকে উথলে ওঠে সেই ধমনী ছেঁড়া কান্নাটা... দাদুকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম, সেটা দিয়েই লেখা শেষ করছি...
--- বিমূর্ত কষ্ট ---
আমার একটা ঘর ছিল ...
যাতে আমার অপার্থিব-অদ্বিতীয় সব অনুভূতি জমা থাকতো।
আমার ঝগড়ার কিছু কারণ ছিল ...
যাতে সব ভালবাসা-অভিমান মিষ্টিভাবে মিশে থাকতো।
আমার কথার ঝর্ণাটার জন্য বয়ে যাওয়া এক নদী ছিল ...
যাতে ঝরঝর করে মায়ার ধারা ঝড়ে পড়তো।
আমার অজানা আশঙ্কার জন্য বিশাল এক আশ্রয় ছিল ...
যা পৃথিবীর অভিশাপ থেকে আমাকে আগলে রাখতো।
আমার একটা সমৃদ্ধ অভিধান ছিল ...
যা থেকে আমার জ্ঞানের পরিধি কোটিগুণ পূর্ণতা পেতো।
আমার সওওওওবকিছু ভাগ করে নেবার জন্য একটা মন ছিল ...
যাতে আমার আত্মা-প্রান মিশে-মিলে একাকার হয়ে যেত।
প্রায় দু'বছর হলো ...
সময় দ্রুত বদলে গেলো।
আমার সবটুকু দিয়ে ভুলতে চাই আট তারিখের রাত,
অস্বাভাবিক ঠান্ডা হওয়া তোমার কপাল-হাত !
আমার সব অনুভুতি এখন কঠিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বাঁকে,
ভেতরের জায়গাটায় তারা পাথরের মতো জমে থাকে।
পুরোনো আশ্রয়ের খোঁজে ক্রমাগত না-পাওয়ার ছবি আঁকে!
তুমি জানো ?
চিরস্থায়ী শূন্যতা আর বিমূর্ত কষ্ট বুকে এখনো বেঁচে আছি।
কিন্তু ...
সেই ঘর - নদী - আশ্রয় একদম্ হারিয়ে ফেলেছি !!!
৮ই জুলাই, ২০০৬
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আমার ভেতরের অন্ধকারটা খুঁড়ে বের করা কিছু কঠিন সময়... ;
নাফে মোহাম্মদ এনাম বলেছেন:
এই দীর্ঘ লেখা প্রমান করে আপনার লেখনি শক্তি। আমি কাহিনিটার চেয়ে লেখনিটাকে বেশি গুরত্ব দিলাম:+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। এটা কাহিনী না, আমার বায়োগ্রাফি-র অংশ বলতে পারেন।
অ্যামাটার বলেছেন:
চলে তো যেতে হবে সবাইকেই...বান্তবতাও মেনে নিতে হবে...
সময়ের ফেরে একদিন সবই স্বাভাবিক হয়ে আসে...
লেখক বলেছেন: সেটাই...ওটা এখনো কেনো যেনো মেনে নিতে পারি না। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: মন খারাপ করিয়ে দেয়ার জন্য অনেক স্যরি ভাইয়া! আমার মনটাও আসলেই খুব খারাপ। তুমি দোয়া করে দিও তো আমার জন্য একটু মন থেকে! আর শুভেচ্ছা থাকলো তোমার মনটাও তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যাক!
ইমরান মামা বলেছেন:
লেখার ধরনটা খুবই ভালো লাগল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মামা। ভাল থাকবেন।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
i empathize with you...কয়েক বছর আগে আমিও একটা অন্ধকার সুরঙ্গের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলেছিলুম...আমার এখনও মাঝে মাঝে বিশ্বাস হয় না যে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে আর আমি তোদের সাথে কথা বলছি...সামনাসামনি দেখা হলে বলবো...ভালো থাকিস...বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা...এটাই তোর জীবনের হিম হওয়া উচিত।লেখক বলেছেন: হুমম...আচ্ছা। তুমি ভাল থেকো।
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে নিজের দৈন্য আবারো টের পেলাম। প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: আপু প্রিয়তে রেখেছেন শুনে খুব ভাল লাগলো! দৈন্য বলবেন না আপু...আপনার লেখা পড়েও অবাক হয়েছি আমি...এতো সুন্দর আর নিখুঁত লেখেন!!! আমার এই লেখাটা নিজের খুব গভীর কিছু অনুভূতি নিয়ে লেখা, হয়তো সেজন্যই প্রকাশটাতেও গভীরতাটা এসেছে। অনেক ভালো থাকবেন আপু!!!
অরুনাভ বলেছেন:
থমকায় যাবার মতো লেখা.........তোর দাদু যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক ......তুইও ভাও থাকিস......খুব ভালো থাকিস.......
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ! তুমিও ভাল থেকো ভাইয়া আর তোমার অসাধারণ হাসি দিয়ে সবাইকে ভাল রেখো!
অরুনাভ বলেছেন:
ভাও = ভালো
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
পড়ে পড়ব অনেক বড় লেখা.............
লেখক বলেছেন: আচ্ছা। ভাল থাকবেন ভাইয়া।
~টক্স~ বলেছেন:
তোমার লেখা আসলেই খুব শক্তিশালী। আমি কিছু বলে সান্তনা দিতে যাইবোনা তোমাকে কারণ আমি বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছি কি অপূরণীয় ক্ষতি তোমার হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি তোমার দাদীর ভালোবাসা দেখে যে হিংসে হচ্ছেনা এমনটা একদম নয়। আমার যখন দুই বছর বয়েস তখন আমার দাদী মারা যান। তাই উনার কোনও স্মৃতিই আমার কাছে নেই কিছু ছবি ছাড়া। উনি থাকলে হয়তো তোমার দাদীর মত পুরোটা না হলেও সিকিভাগ ভালোবাসা যে পেতে পারতাম এমন করে তা বলাই বাহুল্য। সময় গড়িয়ে যায় আর সেই সাথে বদলে যায় মানুষ। জানিনা তুমি কিভাবে এত সুন্দর করে লিখে ফেলতে পারো তোমার অনুভূতিগুলোকে, এজন্যেই তোমার লেখা এত ভাল লাগে আমার। পড়তে পড়তে মনটা খুব নরম হয়ে গিয়েছিল তা অস্বীকার করতে যাবোনা। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তোমার দাদীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি আল্লাহ্র কাছে। তোমাদের পরিবারের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ! আসলে দাদুকে কখনো "দাদু" হিসেবে দেখি নি, ছোট থেকেই একটা অবলম্বন বা খুব কাছের একটা বন্ধু ছিল। আর এমনভাবে জীবনের সাথে মিশে ছিল যে চলে যাবার পর একটা ধাক্কা খেতে হয়েছে। অনেক ভাল থেকো।
লেখক বলেছেন: মন খারাপ করিয়ে দেয়ার জন্য দুঃখিত নোবেলভাই! ভাল থাকবেন!
ফারহান দাউদ বলেছেন:
লেখা পড়েছি,তবে সান্ত্বনা দিতে পারছি না,প্রিয় মানুষকে হারাবার সান্ত্বনা হয়না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আমারো সান্ত্বনা ভাল লাগে না ভাইয়া। অনেক ভাল থাকবেন।
একাকী বালক বলেছেন:
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
লেখক বলেছেন: মন খারাপ করিয়ে দেয়ার জন্য সত্যি দুঃখিত বালক ভাই। ভাল থাকুন।
ভাল থেকো।
লেখক বলেছেন: তোমার বোধটুকুর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ! সত্যি ভাল লাগলো। আসলে একটা মানুষের মৃত্যু মানে সে মানুষটার সাথে কাটানো সময়গুলার মৃত্যু, তার দেয়া অসাধারণ স্মৃতিগুলার মৃত্যু। আর দাদু ছিলেন খুব ছট-ফটে...তাই তার না-থাকাটা এত বেশি কষ্ট দেয়!!!
তুমিও অনেক বেশি ভাল থেকো।
মুহিব বলেছেন:
পড়ে ভাল লাগল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
এই আমি বলেছেন:
আপু কি বলব বুঝতে পারছিনা।পোষ্টটা পড়ার পর ১০ মিনিট চুপ করে বসে ছিলাম।আপনার অনুভুতিটা পড়ে আমার চোখে পানি চলে আসল। এটাই আসলে বাস্তবতা সবাইকে মেনে নিতে হয়। এজন্য কাউকে মনে হয় এত ভালবাসতে হয় না।আর এই কথাটা বলাই সহজ। কারন ভালবাসা তো আর বলে হয় না।লেখক বলেছেন: আয় তোকে শক্ত একটা hug দেই! "বাস্তবতা সবাইকে মেনে নিতে হয়"- এ বোধটাই তখন ছিল না। আর আমি ব্যপারটাকে বাস্তব ভাবি-ই নি তখন। এমন-কি মৃত্যুর ৩-৪ মাস পর পর্যন্ত-ও তিনি আমার খুব কাছে ছিলেন, তাই ভাবতাম। ভালবাসা বলে হয় না কিন্তু অন্ধ ভালবাসায় অনেক ত্রুটি থাকে।
শোন, আমাকে "তুমি" করে বলিস। আর শোন, আমি এমএসএন আর ইয়াহুতে চ্যাট করি তাই তোকে এখন এ্যাড করতে পারছি না। জিমেইল-এ একাউন্ট খুলে এ্যাড করবো। ভাল থাকিস।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
মৃত্যুর সাথে সাক্ষ্যাতের বর্ণনা পড়লাম। কেমন লাগল, কেমন লিখলে তা নিয়ে গতানুগতিক কমেন্টস করব না।আমার দাদি মারা যান ২০০৭ এর জানুয়ারির ১ তারিখ। আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম এই ব্লগে। চাইলে পড়তে পার।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া। আমি পড়েছি আপনার লেখাটা, মন্তব্য-ও রেখে এসেছি। ভাল থাকবেন।
শিরোনামহীন বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু! তুমি খুব ভাল থেকো।
এম্নিতেই বলেছেন:
এত চমৎকার করে লিখেন!! আচ্ছা চারিদিকে এত এত মন খারাপ করা পোস্ট কেন?? আরেকটা কথা আমার ব্লগে একবার আসলে খুবই খুশি হব।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। হয়তো সবার মন-ই খারাপ কোন না কোন ব্যপারে। সবারটা তো জানি না ভাইয়া, কিন্তু আমার মন এই লেখার বিষয়ের কারনেই খারাপ। আপনার ব্লগে অবশ্যই আসবো। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: দুঃখিত মন খারাপ করে দেয়ার জন্য। ভাল থাকবেন।
এই আমি বলেছেন:
আপ্পি আপনি কেমন আছেন?আপ্পি তুমি কেমন আছো?আপ্পি তুই কেমন আছিস?আপ্পি তোমাকে তুমি করেই বলি।তুমি আমাকে তুই করে বলবা।আমি আমার বড় ভাইকে তুমি করেই বলি।তোমাকেও তুমি করেই বলব
অনেক থ্যাংকসসসসস।এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য।আচ্ছা তুমি যখন এড খুলবে তখন আমাকে এড করো
লেখক বলেছেন: আচ্ছা ওকে! তুই ভাল থাকিস!
রুহী বলেছেন:
আপু! অনেক দিন পর ব্লগে বসে আপনার মর্মস্পর্শী লেখা পড়ে খুব খারাপ লাগলো।আমি দাদুর জন্য দোয়া করি -আল্লাহ তুমি তাঁকে জান্নাতবাসিনী করো।আপনি অনেক দিন দাদুর সোহাগী স্পর্শ পেয়েছেন।আমি কিন্তু কোনদিন দাদুকে দেখেনি।আমি দুনিয়ায় আসার আগে তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন।আপনার লেখাটি পড়ে- আমার দাদুকে দেখার তীব্র বাসনা সৃষ্টি হলো।একটি বারের জন্য কোনদিন কাউকে দাদু ডাকতে পারিনি। আপু! আপনি এখন কেমন আছেন?আমি ভালো নেই।দোয়া করবেন।ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া! তুমি ভালো নেই কেনো ? এখানে এসে খারাপ কিছু হয় নি তো ?? অবশ্যই দোয়া থাকবে ভাইয়া! ভালো হয়ে ওঠো তাড়াতাড়ি।
কালপুরুষ বলেছেন:
লেখার প্রতিটি শব্দ অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে গেল। এক দমে পড়ে গেলাম। বাকরুদ্ধ হয়ে আমার মৃত বাবার কথাই ভাবছিলাম। আমিও কাঁদিনি। এক ফোঁটাও কাঁদিনি। যারা কাঁদছিল সবাইকে বকছিলাম। এক রাতেই আমার পৃথিবী কেমন যেন আলাদা হয়ে গেল। আমার নির্ভরতার দেয়ালটা ধ্বসে গেল। আমি চিরদিনের মতো অসহায় হয়ে গেলাম। তোমার অসাধারণ বর্ণনায় নিজের হারিয়ে যাওয়া একটা মুহূর্তকে খুঁজে পেলাম। তোমার দাদুর জন্য মন থেকে দোয়া রইলো। প্রার্থনা রইলো তোমার জন্য। ভাল থেকো, অনেক ভাল।
অন্য এক প্রসঙ্গ নিয়ে একটু কথা বলছি। ৮ সংখ্যাকে আমার বিশেষ ভয়। জ্যোতিষ বা রাশিফল চর্চা যারা করেন তাদের কাছে ৮ সংখ্যাটা রীতিমত রহস্যজনক সংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত। তোমার দাদুর মৃত্যু তারিখ ৮, সাল ২০০৬ অর্থাৎ ২+০+০+৬ = ৮, সেদিন ছিল শনিবার, শনি গ্রহরের নিয়ন্ত্রক সংখ্যা হলো ৮। সব মিলিয়ে ৮ সংখ্যার বিশেষ একটা প্রভাব ছিল সেই দিনটিতে। তোমার জন্য একটা অনুরোধ বা উপদেশ রইলো, তুমি যে কোন শুভ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ৮, ১৭ বা ২৬ তারিখে না করার চেষ্টা করবে। এমন কি বিয়ের তারিখ পর্যন্ত। ।াশা করি তাতে শুভ ফল পাবে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া! কিন্তু সমস্যা হলো আমি এ ব্যপারগুলোতে বিশ্বাস খুব কম করি। এগুলোর সত্যি-ই কি কোন নির্ভরযোগ্যতা আছে ?!
নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন:
অস্বাভাবিক ঠান্ডা হওয়া তোমার কপাল-হাত! -- এ লাইনটা এবং লেখার মাঝে সম্পৃক্ত লাইনটা সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়ে গেলো। মনে পড়ে গেলো দুবছর আগের কথা। জুনের ৪ তারিখ, সকাল। বাবার কপালে হাত রেখে ছিলাম। কিন্তু আমি সহ্য কতে পারিনি। পাগলের মত কাঁদতে কাঁদতে ছিটকে সরে এসে ছিলাম। সেদিনের সে হিমস্পর্শ আজও যেন আমি আমার হাতের পাতায় অনুভব করি। আমার নিঃসঙ্গতার প্রতিটা মুহুর্তে বাবার স্মৃতি খুঁজে পাই। একটু হলেও বুঝতে পারছিলাম আপনার ভেতরের যন্ত্রনাটা। আপনার লেখাগুলো আমাকে অদ্ভুত ভাবে লিখতে উৎসাহ জোগায়। আগের লেখাটা পড়ার পর নটরডেমের স্মৃতি নিয়ে লেখার ইচ্ছেটা প্রবল হয়, এটাও নাড়া দিয়ে গেলো।
ভালো থাকুন, শক্ত থাকুন।
লেখক বলেছেন: আপনার বাবার কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো ভাইয়া। উনার জন্য দোয়া থাকবে।
আমার লেখা পড়ে কেউ উৎসাহিত শুনেই আমার ভাল লাগছে খুব! অনেক ধন্যবাদ! ভাইয়া লিখে ফেলবেন সব... পড়ে যাবো এসে আপনার ব্লগ বাসায়। আর আপনার শুভেচ্ছার প্রকাশটা খুব ভালো লাগলো। আপনিও খুব ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: কিছু লেখা ছোট করে লিখতে ভাল লাগে না। বড় লেখাটা পড়লেন দেখে ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
ঝড়, মৃত্যুগাঁথা বোধহয় মৃত্যুগাথা হবে
লেখক বলেছেন: তাই! অনেক ধন্যবাদ আপু! কিন্তু "গাঁথা"-টাই তো ঠিক! বই দেখলাম একটা।
ভাল থেকো সবসময়!!!
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
তুমি কোন গাঁথা দেখেছ বুঝতে পারছিনা। মালা গাঁথা ঠিকই আছে, কিন্তু শোকগাথা, মৃত্যুগাথা, কাব্যগাথা-ই বোধহয় ঠিক হবে।সামসাদ অভিধানে দেখলাম
গাথা (p. 0306) [ gāthā ] n a poem; a couplet, a distich; a verse; a ditty, a song; a ballad; narra tion (গুণগাথা).
লেখক বলেছেন: ও !!! স্যরি আপু তাহলে! আমারই ভুল হয়েছে। ঠিক করে দিচ্ছি । তুমি এত সুন্দর গাইড করলা দেখে অনেএএক ধন্যবাদ! ভাল থেকো।
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
হুমম....সামনা সামনি কাউকে মরতে দেখিনি, তবে মৃত্যুর কষ্টের সাথে যুগপৎ পরবর্তী জীবনের পরিণতি এতটাই ভাবিয়ে তোলে বার বার যে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে লোকাচারে মিশে পার্থিব জীবনটাকে উপভোগ করতে পারিনা।দীর্ঘ ৮ বছর পর.....
৯০ বছর বয়স্ক নানা কে গিয়ে দেখি চুপচাপ ঘরের এক কোণে বসে বই পড়েন, নানী ৪ বছর ধরে শয্যাশায়ী, আল ঝেইমারে আক্রান্ত কাউকে চিনতে পারেন না। চোখ ছলছল করে নানা বললেন বৃদ্ধ কালে যার সাথে দুটো কথা বলে মৃত্যুর দিন গুণে শান্তি পেতাম, সে আজ বেঁচে থেকেও মৃত। বাকিরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, কারো কথা বলার সময় নেই.....আমি এখানে আজ নিঃসঙ্গ।
চোখে জমে থাকা পানিটা আর বের হয়না শেষ পর্যন্ত। মানুষের মরণ দেখে ফিরে আসি পাপ আর অট্টহাসির পৃথিবীতে, অদ্ভুতভাবে বেচে থাকা।
২৫ বছর পরে আমি ৫১ বছরের বৃদ্ধ। কে চিনবে আমায়, কাকে চিনিয়ে লাভ হবে আমার, কে ধরে রাখবে আমার স্মৃতি? এ যেন পোকা মাকড়ের মত বেঁচে থাকা, অতঃপর মৃত্যুর প্রতীক্ষা.......আরেক পোকাকে স্থান করে দিতে......নিজের অদ্বিতীয় স্বত্ত্বার স্বীকৃতি কতজন পায় তার মৃত্যুর পরেও?
লেখক বলেছেন: খুব সুন্দর করে বললেন তো! চিন্তাগুলো আসলেই নাড়া দেয়। ভাল থাকার চেষ্টা করবেন ভাইয়া। সুখস্মৃতিগুলো অন্তত আপনার বেঁচে থাকাটাকে সুন্দর করে দিবে।
নিলা বলেছেন:
দাদিমা সেই দূরের দেশে অনেক অনেক ভালো থাকুক সেই প্রার্থনা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে।আর হ্যা, মনে রেখো দাদিমা সব সময় তোমার পাশেই আছে। দাদিমা তোমাকে দেখছে, তোমার সুখে উনি হাসছেন.....তোমার কান্না দেখলেই উনারও খুব কষ্ট হবে। সো মন খারাপ করো না। অনেক অনেক ভালো থেকো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু!!! তুমিও অনেক বেশি বেশি ভাল থেকো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকুন সবসময়।
কালপুরুষ বলেছেন:
সংখ্যাতত্ত্ব, রাশিফল, হস্তরেখা বিচার, জ্যোতিষ শাস্ত্র এসব একেবারে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিতে আপত্তি আছে। তবে বিশ্বাস অবিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। অনেকেই এসবকে কুসংস্কার বলে দাবি করে। তবে অনেক কিছু ঘটতেও দেখেছি- তাই একেবারেই অবিশ্বাস করিনা।
লেখক বলেছেন: হুমম। আসলে আমি প্রমান পাই নি কোন, তাই বিশ্বাস আসে না। ভাল থাকবেন ভাইয়া।
শুটকি, কালা বাঁশ(আমার পেপার হোল্ডারটাকে নানী এই নামে ডাকতো) নিয়ে ঘোরে! খায় না কিছু.. আম খা!
সারা

















