somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিশপ্ত মুহুর্তগুলো দিয়ে গাঁথা কিছু সময় ...

২৪ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের টেক্সট বা পড়াশোনাগুলো সব এ্যামেরিকান বিজনেস ম্যাগনেটদের মন্তব্য আর চিন্তাধারা নিয়ে লেখা। তাদের অসাধারণ জীবনের পিছনের রহস্য তারা অনেক ধরনের বড় বড় কথা বলে তুলে ধরেন। প্রতিদিনের মতো আজকেও "স্বনামধন্য" এক ইউ.এস. কোম্পানির সি.ই.ও.- র মহান বাণী দিয়ে স্যর ক্লাস শুরু করেছিলেন..."as long as your life seems to be going OK, you don't get on the personal growth. It often takes a Wake-Up Call." এই ভদ্রলোকের জীবন এতোটাই নির্ঝঞ্ঝাট আর সুখের ছিল যে তার ব্যবসায়ের একটা বিশাল ক্ষতি হবার পর-ও সে ব্যপারটার ধাক্কা নিতে পারে নি। ধাক্কাটা টের পাওয়ার পর তার মনে হয়েছে, তার ভেতরে ব্যক্তিগত ভাবে সে খুব উন্নতি করেছে। তারপর সে ভাবলো, প্রত্যেককেই এই জ্ঞান দেয়া অতি জরুরি। কথা হচ্ছে এই ভদ্রলোক চরম সফল একজন মানুষ, তার জীবনে কোন কিচ্ছুর অভাব ছিল না। কিন্তু তিনি বারবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন, এখনো করেন মাঝেমাঝে...জীবনের বিপুল অর্থ বা সাফল্যগুলো তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে নি। তিনি হতাশ হয়েছেন এই ভেবে যে তার কিসের অভাব...কিসের অভাব! তার কি লাভ হয়েছে সেই "Wake-Up Call"-গুলো পেয়ে ??

আমি নিজে আমার অভিশপ্ত সময়গুলোকে কয়েকভাগে ভাগ করেছি। যখন ভাল থাকি তখন মাঝে মাঝে ঐ সময়গুলো থেকে বাঁচার সামাধান খুঁজি। আজকে বেশ দমবন্ধ একটা সময় পাড় করার পর ভাবলাম লিখেই ফেলি কিছু এলোমেলো কথা। আমার মনে হয় কালো সময় তিন ধরনের হতে পারে। মন খারাপ করা সময়, মেজাজ খারাপ করা সময় আর ডিপ্রেশন বা হতাশার সময়টা। প্রথম সময়টা ছাড়া বাকি দু'টা সময় খুব বেশি কষ্ট দেয়।

মন খারাপ থাকলে তা ভালো হয়ার সম্ভাবনা থাকে। খুব সুন্দর কিছু স্মৃতি রোমান্থন বা জীবনের সাফল্যের কথা অথবা আশার সুন্দর কিছু বাণী ভাল করে দিতে পারে মন। খুব প্রিয় একটা গান বা এমনকি কাছের মানুষগুলোর গায়ের গন্ধ-ও ভাল করে দিতে পারে মন। হয়তো প্রিয় মানুষটার হাত ধরলে বা কন্ঠ শুনলেও আবার খিলখিল হেসে ওঠে মন!

ডিপ্রেশন এর সময় নিজের পিছিয়ে থাকা বা অতীত না-পাওয়া বা ব্যর্থতাগুলো ঘিরে ধরে...একটু একটু করে চেপে ধরে ভেতরটাকে। "তুমি তুচ্ছ, নিচু, নিকৃষ্ট, ব্যর্থ..." নানা ধরনের হীনমন্যতা নিজেকে লুকাতে চায় বাইরের খুব চকচকে পৃথিবীটার কাছে...কিন্তু নিজের থেকে তো পালিয়ে বেড়ানো যায় না! তাই ঐ অনুভূতিগুলো পাথরের মতো চেপে বসে... ক্রমাগত তলিয়ে যেতে থাকি গহীন থেকে গহীনতর অন্ধকারে। হাতড়ে ওপরে ওঠার শক্তিটা পর্যন্ত থাকে না!

মাথা গরম সময়টা এতোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যে সময়টাকে আমি একটু ভয়-ই পাই! যখন-ই আমার যুক্তি বা মূল্যবোধের বাইরে কিছু ঘটে তখন-ই এটা হয়। সে সময়টায় আমি খুব শক্তিশালী হয়ে যাই সত্যি! একটা অপার্থিব আক্রোশ এসে ভর করে আমার ওপর... দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ করে যাই কালোর সাথে!

ডিপ্রেশন বা মাথা গরম থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমি সবসময় যেটা করি সেটা হলো নিজেকে যেকোনো ভাবে খুব ব্যস্ত করে ফেলি... আমি চেষ্টা করি ঐ চিন্তাগুলো যাতে আমার ওপর চেপে না বসে, নিজের সাথে নিজের অভিনয়টা কাজে লেগে যায় মাঝে মাঝেই! এই যে এখনো লিখে যাচ্ছি... কিছুটা হলেও তো ব্যস্ত আমি! এতো কিছু করেও কেন যেন ঐ অসহ্য অনুভূতিগুলোকে ফেলে দিতে পারি না। ঠিক-ই চেপে বসে আমাকে থমকে দিতে চায় ওরা!!!

এখন আমার আশে-পাশের কাছের কিছু মানুষ যখন এই সময়গুলো পাড় করে তখন খুব কষ্ট পাই। নিজের কালো সময়গুলো-ও উঁকি দেয় ওদের কষ্টের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে! ঐ কালো পাথরের মতো ভারী আর ঘৃনিত কষ্টগুলো সুযোগ পেলেই ঝাপিয়ে পড়ে আমার ওপর!

এই লেখাটা তিনজনকে উৎসর্গ করছি। প্রথমতঃ আমার নিজেকে। তারপর আমার ঐ বন্ধুটাকে, যে খামখেয়ালি জীবনের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে সময়কে অভিশাপ দিয়ে যায় আর একটু আলোর জন্য ছটফট করতে থাকে। আর আমার সেই ভাইটাকে যে নিজের দুঃখ ঢাকতে সবসময় প্রানখোলা হাসি দেয়, আশেপাশের মানুষকে তার হাসি দিয়ে রঙিন করে দেয়। কিন্তু তার হতাশার সময়টায় খুব চুপচাপ নিজেকে আর নিজের কষ্টগুলোকে একটা ঘরে বন্দী করে বসে থাকে।

দেখো!!! আমাদের কারো জীবনেই Wake-Up Call এর দরকার নেই...তারপর-ও আমরা কেন জেগে উঠতে পারি না ???













_____________________________________________

ছবি কৃতজ্ঞতা : অভিজিৎ'দা : আমার দেখা খুব ডাইভার্সিফায়েড একজন ফটোগ্রাফার!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:১১
৩৮টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×