কবিতার সাথে আমার হাতের ঘনিষ্টতা বেশ কম, ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতে বলতে কবিতা লেখার সাহস করেছিলাম একসময়। কিন্তু কবিতা পড়েছি প্রচুর। লিখতে না পারার অপারগতায় বা অসাধারন কিছু কবিতা পড়ে দীর্ঘনিঃশ্বাসের জবাবেই কি না জানি না, কবিতাটা প্রিয় বিষয় হয়ে গেছে। খুব অচেনা, রহস্যময় আর আকর্ষণীয় লাগে ওকে আমার কাছে। নিজের রক্ত-গন্ধ মেশানো কবি ছাড়া অন্য দেশীয়দের মধ্য শেলী, টেড হিউজ, ক্রিস্টীনা রোজেট্টি বা রোমারিও-র লেখা পড়েছি, এখনো পড়ি হাতে পেলেই সবকাজ ঠেলে দিয়ে।
শেলী-র Ode to a Skylark খুব পছন্দের কবিতা... কবিতার বিষয়টা খুব টানে আমাকে সবসময়-ই। হতাশা-নৈরাশ্য-হাহাকার।
কবিতাটার লিংক...
বেশ আকাঙ্ক্ষা নিয়েই দুঃখবিলাস করা হয় আমার। ফাঁকা-ফাঁপা সময় পেলেই ঘুমন্ত বিলাসিতা আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়ায়। জীবনের একটা পর্যায়ে অর্থবহ কিছু না করার ভারী ক্লান্তিটা মাথায় চেপে বসে। ফেলে-ছুড়ে আসা অপারগতা বা জীবনে আসা অনর্থক উপস্থিতিগুলো টগবগিয়ে প্রান পেয়ে বসে... তীব্র চিৎকারে আশপাশ চিড়ে বলে ওঠে... "তুমি মৃত... নিকৃষ্ট... হেরে যাওয়া অথর্ব আত্মা বৈ কিছুই না।"
Waking or asleep,
Thou of death must deem
Things more true and deep
Than we mortals dream,
Or how could thy notes flow in such a crystal stream?
তাও সময়ের দংশনে জীবনঘনিষ্ট নৈরাশ্যেরা লুকিয়ে যায়, কালোর ছায়ায় আড়াল নেয়। মৃত আত্মাটাও সত্য-সুন্দরের স্বপ্ন দেখে বিকারহীন-অশিক্ষিত চোখ মেলে। যত্নে রাখা হতাশারা গুটিশুটি হয়ে জড়াজড়ি করে ভেতরে বন্দী হয়ে থাকে... অসহায়...স্থির...
We look before and after,
And pine for what is not:
Our sincerest laughter
With some pain is fraught;
Our sweetest songs are those that tell of saddest thought.
জীবন সংগ্রামে বা সঙ্গমে দুঃখবোধ বা ঐ হতাশাগুলোই মিশে থাকে খুব আপন কারো মতো নিজের সাথে। একটা না একটা সময় ফিরে আসে সম্পূর্ণ উৎসর্গিত হয়ে, কখনো ছেড়ে যায় না বিশ্বাসঘাতকের মতো। অন্ততঃ সে জন্য হলেও আমি নৈরাশ্যকে ভালবাসি, ওর মাঝে ডুবিয়ে দেই নিজেকে। আমি যত-ই পাই, ততই হাহাকার করি না-পাওয়াগুলোকে নিয়ে, আমার সাবধানী-হাল্কা হাসির পর্দার পেছনে ঘন-মজবুত করে বোনা থাকে নিখাদ ব্যথার চাদরটা। বিলাসের আতিশয্যে এবার আলতো হাতে অডিও থেকে চারপাশে ছড়িয়ে দেই একটা চিনচিনে ব্যথার সুর... প্রচন্ড প্রিয় ছন্দবদ্ধ হাহাকারেরা আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেয় ওদের প্রবল বাহুবন্ধনে...
Teach me half the gladness
That thy brain must know;
Such harmonious madness
From my lips would flow,
The world should listen then, as I am listening now.
কিছু পাওয়ার সাথে সাথেই নাকি তার মূল্য বা ওজন বেশ তড়িঘড়ি নিচে নেমে যায়। হতাশার বা নৈরাশ্যের ওজন-ও তাই নেমে গেছে আমার কাছে... ও বড় নিয়মিত হয়ে গিয়েছিল একটা সময় আমার কাছে। পাশে তাকালে, হাতে স্পর্শ টের পেলে বা নিজেকে পেছনে ছেড়ে দিলে সবভাবে ওকে পেয়েছি। পাবার আকাঙ্ক্ষা এতোটাই মিটে গেছে যে এবার ওর থেকে মুক্তি কাম্য হয়ে গেছে... এখন আলোর জন্য হন্য হয়ে আছি... উৎসর্গিত হয়ে আছি...
বিভ্রান্ত বিলাসিতায় কন্ঠরোধ হয়ে একসময় আত্মাটার ইচ্ছামৃত্যু হয় ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




