আমি অনেক দিন কথা বলি না। আজকে টুকরো টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সময়গুলো জড় করে কিছু কথা বলেই ফেলি নিজের ব্যপারে।
আমার নিজের রং গন্ধ ক্ষমতা বা অস্তিত্ব সব-ই আছে। এতোকিছুর পর-ও আমাকে কেন যেন আগাগোড়া একটা চরিত্র ভাবতে পারে না কেউ! আসলে মানুষ এমন-ই! এঁদের দাবিয়ে রাখার একটা বাজে প্রবণতা আছে। আরো একটা প্রবণতা আছে এই গোত্রের, যার জন্য আমার আজকের এই জবানবন্দী।
মানুষগুলো টকটকে একটা পৃথিবী থেকে বের হয়ে সেখানকার অন্যতম চরিত্রটাকে ভুলে যায় খুব সহজে। নির্দ্বিধায়। বাকি জীবনটা কিন্তু আমার ওপর নির্ভর করেই নির্লজ্জ্বের মতো কাটিয়ে দেয়! শোকে-আনন্দে-প্রেমে-রাগে-ক্ষোভে আমাকে নিয়ে অসভ্য টানাটানি পরে যায় ওদের!
এই আমার অভাবে কতো ব্যাংকে ব্যাংকে খবর রটে যায়। মহা ক্ষমতাধর থেকে সাধারন- সবাই নিজের থেকে আমার অস্তিত্ব লুকিয়ে রাখে, ভয় পায়। কেউ কেউ আবার আমার অস্তিত্বকে নিজের অহম বানিয়ে ফেলে, বংশের পর বংশ আমার উপস্থিতি তাদের মাঝে বেঁচে থাকে। হ্যা! আমার ক্ষমতা সত্যি-ই অসামান্য!
সূর্যের প্রথম বা শেষের আলোতে আমার অস্তিত্ব ফুঁটে ওঠে। প্রচন্ড রেগে যাওয়া বা প্রচন্ড অসহায় মানুষটার চোখের আঁকাবাঁকা ফুলে ওঠা শিরাগুলোয় আমি থাকি। আমি আমার গন্ধে মানুষকে মাতাল বানিয়ে দিতে পারি, আমি পারি মানুষের নানান দুর্বলতা ফাঁস করে দিতে। আইনের ঐ মোহনীয় রমনী চোখে কালো কাপড় বেঁধেও আমার প্রমানে নত হয়। আমার শরীরের গন্ধ মানুষকে মানুষ থেকে বন্য করে দেয়। নিজেদের অস্তিত্ব ভুলে তারা আমার নেশায় আসক্ত হয়, লীন হয়, অপরাধী হয়। আমি সেজন্যই ওদের কাছে বেশ নমস্য!
শুধুমাত্র একটু আমার উপস্থিতির অভাবে অন্তঃসত্ত্বা থেকে ক্ষত-বিক্ষতের থরথরে মৃত্যু হয়। আমার রঙে-গন্ধে উন্মাতাল মানুষগুলোর মাঝে কখনো উৎসব, তো কখনো শোক জমে যায়। প্রতিটা নারীকে নিয়মমাফিক আমি দুমড়ে-মুচড়ে দেই; থরথরে ব্যথা আর ছোবলে ওরা নিথর-স্থবির-অনুগত হয়। আমার গন্ধ-রং দিয়েই পরিচয় দেয়া হয় একটা নবজাতকের। ওতে অপবিত্রতা থাকলে পুরো জীবন দিয়ে তার মাশুল দিতে হয় মানুষগুলোকে। আমার সাক্ষরে ওদের প্রতিজ্ঞাগুলোতে তীব্রতা-গভীরতা-নিশ্চয়তা আসে। ওরা কেন যেন নিজেতে বিশ্বাস করে না, আমার শরীরের গনগনে রংটাই ওদের মনে অদ্ভুত বিশ্বাস-আশ্বাসের জন্মদাত্রী! আমার নিজেকে নিয়ে সত্যি অনেক অহম!... অনেক সন্তুষ্টি!!!
সবকিছুর পর-ও একটা ব্যপারে খুব কষ্ট পাই। নিজেকে কেমন অপরাধী মনে হয়। প্রচন্ড ছোট মনে হয়। দোষী মনে হয়। অনুশোচনা করতে ইচ্ছা হয়। নিজের অহম, বড়্ত্ব বা ক্ষমতাটা প্রচন্ড অপমানিত হয়ে, হন্য হয়ে লুকানোর জায়গা খোঁজে। নিজেকে স্ব-সমাধিস্থ করি শক্ত চামড়ার চাদরের নিচে গহীন কোন আঁকা-বাকা টানেলে! কোন মানুষ কোন নোংরামী দেখাক, কোন অপরাধ করুক, খুব নিচে নেমে যাক, বর্বরতা দেখাক, অসভ্যতা দেখাক... সমাজের গণ্য-মান্য জনেরা নির্বিকারভাবে আমার দিকে আঙ্গুল তুলে বলে... "সব-ই রক্তের দোষ!"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

