মাথাটাকে একা বালিশে রেখে বাকিসব ক'টা অংশ ধাই ধাই করে উড়ে গেল! হাত-পা- গলা সব কয়টার পাখা গজিয়ে গেছে কিছুক্ষণের মাঝেই, সেই পাখা ঝটপটিয়ে উড়ে গেল! ভারী ভারী ঘোলাটে সাদায় কালো বলপ্রিন্ট চোখের গোলক গুলা ড্যাবড্যাব করে নিচে পড়ে থেকে তামাশা দেখছে! হাতের আঙুলগুলা সর সর করে কাঁপছে বাতাসে, পা-গুলাও গ্যাস বেলুন হয়ে গেছে নিমেষেই! কেউ নিটোল-নিপুণ হাতে শরীরের ভেতরের উনানটার আঁচ আরেকটু বাড়িয়ে দিল। এবার মাথাটা যত চেপে বসছে ভার হয়ে, বাকি সব ক'টা অংশের ভেতরে ততোই হিলিয়াম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে যেন!
ভেতরের রক্ত কণিকাগুলোর মাঝেও অস্থিরতার উল্টো দৌড় শুরু হয়ে গেল। শরীর জুড়ে নির্ভার প্রশান্তি আর ফুরফুরে স্বাধীনতা। মাথাটা একা মহা বিপদে পড়ে গেছে; উড়তে থাকা শরীরটার পাত্তা না পেয়ে মাথাটার নিজেকেই গোছাতে হচ্ছে ভেতরের জরূরী কাজগুলো... কিন্তু ধুর! কাজ গুছাতে করতে পারছে কই!... চিন্তাই জোড়া লাগছে না! গোত্তা খেয়ে খেয়ে একেকটা চিন্তা ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে যেমন-তেমনভাবে!
এই যেমন এখন মাথাটা ভাবছে তার হাত বা পায়ের রেখাগুলার কথা... ওগুলো সব জীবন্ত হলে কেমন হতো? যখন কারো হাত জড়াতো আমার হাতে, তখন ওর কিলবিলে জীবন পাওয়া হাতের তারগুলো জড়িয়ে যেত আমার চঞ্চল আঁকাবাকা নাচরত আকর্ষিগুলোর সাথে! ওদের হয়তো একটা বক্র-দীর্ঘ-গভীর আলিঙ্গন হতো! পাগুলো হাঁটার সময় মাটি আঁকড়ে ধরতো ওদের শিকড়ের মতো জীবন্ত রেখাগুলো দিয়ে। হয়তো আমরা আমাদের শুঁড়গুলো দিয়ে নিজেদের রক্ষা করতাম... অথবা অন্যকে শিকার করতাম...
...ভাবনা শেষ না হতেই উড়তে থাকা হাত-পাগুলো নেতিয়ে পড়ে নিচে। মাথা ভাবে... কি হলো! ... ওরা নিশ্চল-নিশ্চুপ হয়ে জানায়... তারা ক্লান্ত, বিশ্রাম দরকার... ওরা হালকা হতে চায়। দায়িত্ব ছাড়তে চায়। মাথা অবাক হয়!... "এখনো কত কাজ বাকি!..." ওরা বলে, "তুমি করো কাজ, আমরা ক্লান্ত... বিশ্রাম দরকার।"
আস্তে আস্তে একে একে শরীরের বাকি অংশগুলো-ও আত্মসমর্পন করে। ওরা মাথা নিচু করে জানায়, তারা ক্লান্ত। মাথা আবারো চেষ্টা করে... এখনো অনেক পরিস্থিতি মুখোমুখি করা বাকি, জীবনের অনেক ধাপ বাকি এখনো। এতো তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হলে কিভাবে হবে?! এবার ওরা ক্ষেপে যায় একটু, "হাত-পা নিশ্চল হলে চলবে কি করে? হৃৎপিন্ড ভালবাসবে না কাউকে... অনুভূতি মরে সাদা হয়ে যাবে। বাঁচো এখন... ঐ অথর্ব বাঁচা বেঁচে কি লাভ ?? প্রকৃতির প্রয়োজন হলে ডেকে তুলবে তোমাকে... না হলে তোমার শূণ্য সিংহাসনে বসবে অন্য কেউ। অনেকদিনের দাপিয়ে চলা জীবন থেকে এবার ক্ষান্ত দাও... হয়তো তোমারো ঘুমানো প্রয়োজন।" কথোপথনের পর মাথা হঠাৎ তীব্র ক্লান্তি বোধ করে। সে ওদের সাথে তাল মিলিয়ে গভীর ঘুমের প্রস্তুতি নেয়। গনগনে তাপে-ছোঁয়াচে আমি হালকা হই, ভারী হই... একসময় বোধহীন হয়ে যাই।
সকালের হলুদ এক টুকরো আলোতে আমার নিথর দেহটা কমলাটে হয়ে যায়... কোন ফাঁকে ঐ উনানটা নিভে গেলে ভেতরটা শূণ্যের বেশ নিচে নামতে থাকে... আরো নিচে... আরো নিচে...
::::::::::::::::::::::::::::::
:::::::::::::::::::::::::
:::::::::::::::::::
:::::::::::::
::::::::
::::
::
:
ছবিসূত্র : গুগল চাচ্চুর ইমেজ আর্কাইভ (`!`) (-.-)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


