somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

!!! একটা দিন হোক কাছিময় !!!

৩১ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ব্লগজীবনের শুরুতে লেখালিখিটা বেশ রোমাঞ্চকর ছিল আমার কাছে। সারাক্ষণ পিসি-র সামনে ঘুরঘুর করতাম... একটু পর পর রিফ্রেশ বাটন্‌ দাবাতাম আর কোনো কমেন্ট পেলে তো কথাই নাই! সেসময়ের অনেক ব্লগারের নাম বা প্রোফাইল ছবি দেখেও ব্যপক মজা পেতাম।যেমন হয়তোবা প্রোফাইল ছবিতে বুড়োমানুষের ছবি দেয়া তাই তাকে "বুড়াভাই" (বিবর্তনবাদী) ডাকতাম ; তিনিও বেশ বুড়া বুড়া ভাব নিয়েই রিপলাই দিতেন! ব্যপারটায় একটা ছেলেমানুষি মজা পেয়ে গিয়েছিলাম তখন! তখন তখন-ই খোলসের ভেতর থেকে উঁকি দিয়েছিল একটা কাছিম!!!

তেমন একদিন আমার ব্লগবাসায় দেখলাম নতুন একটা মুখ... বেশ গোবেচারা-ঢুলু ঢুলু একটা কাছিম। দেখে মনে হয় বেচারা কাছিম পৃথিবীর যন্ত্রণায় কাহিল! বেশ গুরু-গম্ভির কমেন্ট পেতাম তার থেকে... "কবিতাটা ভাল লাগলো"... "হুমম,,, লেখাটা ভাল লেগেছে" ... এ ধরনের কমেন্ট। ভাবলাম খুব চুপচাপ ভদ্র গোছের কেউ হবেন তাই ছবিটা দিয়েছেন কাছিমের। নাম " সাইফুর "। উনাকে "কাচ্ছু" বা "টারটু" ডাকার ইচ্ছা থাকলেও তার গাম্ভীর্য দেখে সেটা করি নি। :P কিন্তু মানুষটা তার কাছিম অবয়ব-কে এতোটাই গেঁথে দিয়েছিলেন মানুষের মনে যে তাকে কেউ "সাইফুর" বলে মনে রাখতো না।



কৌতুহলের ঠেলা খেয়ে তার ব্লগে গিয়ে দেখি কাছিম আসলেই বেশ খোলসে থাকে! তার ছবিব্লগগুলো দেখে চিটাগং-এর কিছু অচেনা রূপ পেয়েছিলাম অথবা ভাইয়াদের ফুলগাছের ছবিগুলো দেখে ভাবতাম... "বাঃ! বাগানটা সুন্দর তো! আকাশের ছবি দেখে একদিন বলে আসলাম, "ভাইয়া, খোলসের ভেতর থেকে কিভাবে আকাশ ছুঁয়ে দিলেন!?"

তারপর তার টেকিপোস্ট দেখে বুঝলাম মানুষটা বেশ মুখিয়ে থাকে অন্যদের সাহায্য করার জন্য! অনেকে টেকি হেল্প চাচ্ছে পোস্টে এসে বা কেউ হয়তো পোস্ট দিতে বলছে কোন সমস্যা নিয়ে। ভাইয়াও বেশ খুশি আর দ্বিগুণ আগ্রহ নিয়ে সেসবের প্রতি-উত্তর দিতো।



এরপর দেখলাম কাছিমটার আরেকটা কিউট রূপ। সে বেশ সুন্দর এনিমেশনের কাজ করতে পারতো। সব পছন্দের ব্লগারদের জন্মদিনে কাছিম বেশ সুন্দর আর অন্যরকম একেকটা শুভেচ্ছা পোস্ট দিতো। আর ভাইয়া যেহেতু সত্যিই খুব হাসি-খুশি বা প্রানখোলা তাই তার পছন্দের ব্লগারদের তালিকাও বেশ বিশাল। তাই ব্লগারদের বিশাল একটা অংশ ভাইয়ার শুভেচ্ছা পোস্ট পেয়েছে। সেসব পোস্ট দিয়ে কাছিম বা যারজন্য পোস্টটা দেয়া তারা সমান আনন্দ পেতো!

কাছিমের আরো একটা মজার ব্যপার হলো যেকোনো উৎসব বা বিশেষ দিনে অথবা তার মুডের ওপর ভিত্তি করে তার চেহারা বা রূপ বেশ মজার ভাবে বদলে যেতো। ঈদের সময় কাছিম টুপি পড়ে আছে, আবার বাংলাদেশের খেলার সময় কাছিম জার্সি-ক্রিকেট হেলমেট পড়ে আছে; নাহলে কাছিম সানগ্লাস পড়ে বেশ "কু-উ-ল" হয়ে গেছে!

এই কাছিম ভাইয়াটার সাথে অন্তর্জালের ভেতর দিয়ে আমার এখন খুব খুব ভাল একটা সম্পর্ক! আমি খুব অবাক হয়ে যাই যে কিভাবে একজন মানুষ এতো ভাল আর বিশাল মনের হয়! আমার ভাইটা খুব অসাধারণ একটা ভাই। এতোটা দায়িত্ব খুব কম মানুষের মধ্যই দেখেছি আমি। আমার ভার্সিটির কাজ থেকে শুরু করে অনেক ব্যপারে এই ভাইয়াটা আমাকে খুব খুব সাপোর্ট দিয়েছে। কিছু মানুষের ঋণ শোধ করলে তাঁকে কষ্ট দেয়া হয়, তাই ভাইয়ার ঋণ শোধের চেষ্টাই করবো না হয়তো। কিন্তু আমার টারটু ভাইয়াটার স্বার্থহীন আর অসাধারণ ভালবাসার জন্য আমি যে খুব খুব কৃতজ্ঞ সেটা আজকের দিনটায় জানিয়ে দিলাম।



আজকে আমার অন্যতম প্রিয় ব্লগারদের একজন আর আমার খুব খুব কিউট, প্রচন্ড অভিমানী বা খামখেয়ালী "টারটু" ভাইটার জন্মদিন!

ভাইয়া, দিনটা তোমার জন্য খুব খুব সুন্দর হয়ে যাক... আর খুব প্রিয় মানুষদের সাথে কাটুক! আর প্রতিটা দিন-প্রত্যেকটা মুহূর্তে অনেক অনেক ভালবাসা তোমাকে ঘিরে থাকুক! আর হ্যা! আমার জন্য তোমার মতো অসাধারণ একটা ভাইয়ের সাপোর্ট খুব খুব দরকার তাই আমার সাথে সবসময় থেকো... যতই জ্বালাই আর মাথা খাই!!! আমার কিউট ভাইটা অনেক অনেক ভাল থাকুক!

!!! শুভ জন্মদিন ভাইয়া !!!






[ভার্সিটির কাজ আর ফালতু ক্যাচালের জন্য লেইট পোস্ট দেয়ার খুব খুব দুঃখিত ভাইয়া... আমি অনেক স্যরি! :(( :(( :(( ]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৫
৫৫টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×