প্রথম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন
প্রথমেই টেবিল থেকে চিঠি লেখার একটি খাম তুলে নিলাম। তুমি এর রঙটি লিখো কাগজের সর্ববামে। দেখতেই তো পাচ্ছো এর রঙ “নীল”।
আমার হাতে এখন একটা প্যারাসুট নারিকেল তেলের বোতল।আগের লেখা শব্দটির দেড়ইঞ্চি নিচে এই তেলের গন্ধসূচক একটি শব্দ লিখো।ধরে নিচ্ছি, তুমি লিখলে “সুগন্ধি”।
তোমার হাতটা একটু বাড়াও তো, এইতো হাতভর্তি লালচুড়ির টুংটাং আওয়াজ সমগ্র রুমটিতে যেন জলতরঙ্গ সৃষ্টি করেছে। গতবৈশাখী মেলায় এই চুড়িগুলো কিনে দিয়েছিলাম; তোমার সাথে কেনাকাটা করতে যাওযার চেয়ে বঙ্গবাজারে দিনভর জ্যামে আটকে থাকাও অনেক তৃপ্তিকর_ এত চুজি হয় মানুষ!ভাবতে অবাকই লাগে, আমার মত এক ৬৭শতাংশ উন্মাদ মানুষকে তুমি পছন্দ করেছো!অবশ্য, সেই বৈশাখী মেলায় লালশাড়ি-লালচুড়ি-লালটিপে তোমাকে দেখে ছেলেগুলোর কেমন হিংসা হচ্ছিল তা আমি ভালোই বুঝতে পারছিলাম; কারণ তুমি আসার আগে আমিও এভাবেই উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াতাম মেলা দিয়ে, আর রঙিন কপোতীদেরকে সাদাকালো কপোতদের বাহুলগ্না হতে দেখে দেখে মনে মনে “beauty with dirty” স্তবক আউড়াতাম।
এই যাহ,খেলার মাঝখানে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা শুরু করে দিয়েছি; এবারের মত মাফ চাই প্রিয় “perfect number”, আমার।প্রেয়সী-প্রিয়তমা শব্দগুলোকে জীর্ণ-সংকীর্ণ মনে হয়, তাই তুমি আমার শুধুই “perfect number”, এই সংক্রান্ত ব্যাখ্যাটা তোমার ভাল লাগতে পারে: দেখ ৬, ২৮, ৪৯৬, ৮১২৮....এরকম বেশকিছু সংখ্যা আছে গণিতের ভাষায় যাদেরকে বলা হয় “perfect number”। উদাহরণস্বরূপ ২৮; এর উৎপাদকগুলো হচ্ছে ১,২,৪,৭,১৪...এগুলো যোগ করে দেখ যোগফল সেই ২৮-ই হবে।অনুরূপভাবে, কোন মানুষের প্রতিইঞ্চি অনুভবের সমষ্টি যদি আর একটি ভিন্ন মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়,এবং অনুভবগুলোকে একেকেটি সংখ্যা ধরা হয়, সেক্ষেত্রে “ভিন্ন মানুষটিকে” “perfect number”বলাটাই সঙ্গত মনে করি; “প্রেয়সী” কি পারবে ভাবনাকে এত গভীরে ভাবাতে?যাইহোক, খেলায় ফিরে আসি। তোমার এই চুড়ির “shape”এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি শব্দ লিখো।
হুম, আমি মনে হয় তোমাকে বেশ ভালোই অনুভব করতে পারি প্রশ্বাসের মত করে; তাই জানতাম তুমি “বৃত্ত”-ই লিখবে।
এবার মুখটা তুলে আমার চোখের চশমাটা খেযাল করো।তুমি যেটা করবে তা হলো চশমার একটি প্রায়োগিক শব্দ লিখবে।
বাহ, “দৃষ্টি” লিখেছো!তোমার শব্দচয়নে মুগ্ধ হচ্ছি, বারেবারে কেবলই মনে হচ্ছে তোমার এই “তুমি”টা তোমার নিজেরও অচেনা ছিল এতকাল।
ওহো, তোমাকে তো বলা হয়নি, কাল রাতে ব্রতী আপুকে ফোন করেছিলাম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। তুমি করনি কেন?আপুটাকে আমার ব্যাপক লাগে; অসম প্রেমের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহটা তোমার কারণেই আর আলোর মুখ দেখতে পেলনা, নয়তো আপুর খবরই ছিল, হা হা হা। আচ্ছা, ব্রতী আপুর জন্য যথার্থ একটি শব্দ লিখতো।ওরে বাপস, একেবারে “প্রতিভা” লিখে ফেললে?
হাসছি কেন জানো?আমি এখন, তোমাকে পাঠানো আমার প্রথম sms টা পড়ছি। কেমন ভোম্বল যে ছিলাম, এত কাকুতি-মিনতি করে লেখা smsপড়ে তুমি নিশ্চয়ই আমার চেয়েও বেশি হেসেছিলে সেসময়; তোমার এখনকার এই মুচকি হাসি অবশ্য আমার বক্তব্যকেই সমর্থন করছে।তো,আমার সেই “হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসনের” কদাকার চেহারার মত sms পড়ে তোমার মনে সৃষ্ট অনুভূতিকে একশব্দে লিখো দেখি।
What a melancholy joke!তুমি “প্রার্থিত” লিখলে! এটা কি অবাধ-স্বচ্ছ অনুভূতির প্রকাশ, নাকি নিতান্তই মনরক্ষার জন্য লেখা?
ধুত্তরি, এইসময় তোমাকে আবার ফোন করে কে?একদম নড়বেনা, ফোনও রিসিভ করবেনা, নিয়ম নিয়মই।রাগ করোনা পাপড়িমণি, দেখো তুমি-আমি এইমুহূর্তে এক অপার্থিব সত্তা হয়ে উঠেছি, ফোনের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সেই সত্তার abstractness কে কিছুতেই ক্ষুণ্ন হতে দেয়া চলবেনা।সুতরাং ফোন বন্ধ কর।যা বলছিলাম, তোমার ফোনের রিঙটোনকে একটি শব্দে প্রকাশ কর।আ্যা, এটা কী লিখলে?তোমার রিংটোন “ছন্দোময়”?লেখ তোমার যা খুশি,তাতে কাকের রঙ যদি হলুদও লেখ তা-ই সই; আপাতত শব্দসংগ্রহই আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য।
একমিনিট, আজকে পেপারের বিনোদন পাতাটি পড়েছো?’দ্য লাস্ট ঠাকুর” সিনেমার উপরে একটা ফিচার লিখেছে, অনেক প্রশংসিত হয়েছে দেখলাম। যদিও প্রশংসিত চলচ্চিত্রের ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিমত ততটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়, তবুও এটি আমরা দেখবো স্টার সিনে কমপ্লেক্সের পর্দায় পাশাপাশি বসে।এ নিয়ে পরে বিস্তারিত কথা হবে; আপাতত খবরের কাগজের প্রতি তোমার মনোভাব লিখো।
বাহ, “আস্থা” শব্দটি সার্বিক বিবেচনায়ই ওজনে ভারী।তুমিই পারবে।ভালোবাসতে মনকে প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউ গুণতে শেখাতে হয়; তোমার মত যাদের মনের প্রতিকোণে সেই ঢেউয়ের নামতা লেখা আছে, তাদের হাতে লেখা
আসবেই।
ভালো কথা, তুমি কি “Next” মুভিটা দেখেছো?তুমি হ্যা সূচক মাথা নাড়ছো। হলিউডে এই থিমে প্রচুর মুভি হয়, আমার ততটা ভালো লাগেনি, যদিও আমার বন্ধু বলেছে এটা ৫বার দেখার পর বুঝতে হবে।আসলে আমার কোন মুভি ২য় বার দেখতে ইচ্ছা হয়না; সবঘটনা আগে থেকেই জানা থাকলে বা পূর্বানুমানের সাথে মিলে গেলে আমি সেই বই পড়া কিংবা মুভি দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। ঠিক আছে, একত্রে নাহয় আর একবার দেখা যাবে কোন একসময়।তার আগে, এই মুভিকে একটি শব্দে বিশ্লেষণ কর।
যত তোর কাছে আসি, যাই দূরে সরে।নাহ, তোমার মন বোঝা আমার কম্ম নয়; তুমি “কল্পনা”লিখলে কেন?
...........................( চলবে).............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

