somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবারো চুন্নু ভাই এবং তার রম্য নামচার কিয়দাংশ...

৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুন্নুভাইয়ের সম্পর্কে আগের একটা পোস্টে বলেছিলাম, তাই ২য় বার তার পরিচয় দেয়াটা নিষ্প্রয়োজন। তার আরোও দুটি লেখা প্রকাশ করছি "বন্ধুদের লেখা" বিভাগে।।
..................................
১. মোবাইল হাতে হাশরের মাঠে

হাশরের মাঠে কোটি কোটি মানুষ, বিচার চলছে সেই আদিম মানুষ থেকে শুরু করে সিনিয়রটি অনুসারে। একসময় ২০০৯ এ যারা যৌবনে ছিল, তাদের পালা এল। সবার সাথে আমিও আছি, আর ভাবছি কি কি করেছি জীবনে। হিসেব কষে দেখলাম ভাল-মন্দ প্রায় সমান সমান। যখনই দাড়িপাল্লার একটিতে ভাল রেখে অন্যটিতে মন্দকাজ তুলে দিল, দেখলাম ভালো কাজের পাল্লাটি ৮-১০ফুট লাফিয়ে উঠল। অবাক এবং কিছুটা হতাশ হয়ে পাপূণ্যের হিসাব দেখতে চাইলাম। ১ সেকেন্ডের মধ্যে পাপ পূণ্যের স্টেটমেন্ট চলে এল। সব মিলিয়ে পূণ্য ৮ বিলিয়ন, পাপ ১৮ বিলিয়ন; পরিমাণ ঋণাত্মক। ভালমত খেযাল করে দেখলাম শুধু মোবাইলটা না দেখলেই বেহেশতে চলে যেতাম। রাগে-দুঃখে চুল ছিড়ছি এমন সমযে ছোট ভাইয়ের ফোন ( মোবাইলের নেটওয়ার্ক ততদিনে হাশর পর্যন্ত)। বললাম- রেজাল্ট কী? সে বলল- তোমার গিফট করা মোবাইল ফেরত দিতে আসছি, তাহলেই বেহেশতে চলে যাব। এরপর বউ, আদরের শালীসহ পরিচিত ৮-১০জনের মোবাইল পাপ ঘাড়ে নিয়ে আমি দোযখের মোটামুটি উপরের দিকেই আসলাম। সমসাময়িক অনেক বন্ধু, ছোটভাইদের পেয়ে দোযখেও কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কিভাবে সবার এত পাপ হল এনালাইসিস এ বসলাম। দেখা গেল যার মোবাইল যত পুরনো তার পাপ তত বেশি। গ্রামীন ব্যবহারকারীরা কবীরা গুণাহর সাথে সগীরা গুণাহ ফ্রী পেয়েছে। একটেল জয় ব্যবহারকারীরা সব পাপেই সমান বোনাস পেয়েছে। বাঙলা লিংকের বন্ধ সিম চালু করলেই পেযেছে দোযখে একটা আগুনের চুলা। কয়েকজন টিএনটি পাপীকেও দেখলাম আমাদের বেশ কিছু নিচের দোযখে। উপরের দিকে কারা আছেন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম আমার খুবই এক বন্ধুকে। বললাম, তুই এখনে কেন। দুঃখের সাথে জানালো যে ওর সব সিমই ছিল, যখন যেটাতে অফার থাকত সেটাই ব্যবহার করত। তাই সব অপারেটরের বোনাস পেয়ে ও এখানে এস পৌছেছে। আরও জানলাম, তার উপরের প্রত্যকেই বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডার। আর এত শাস্তির মধ্যেও এনালাইসিস চালানো সম্ভব হযেছে নেটওয়ার্ক ফেইলারের কারণে..

২.লিখার হাত

আমার ২-৪টা লেখা দেখে কযেক বন্ধু মন্তব্য করল আমার নাকি লেখার হাত আছে। কি লিখবো ভাবতে বসে দেখি যে, হাত আছে কিন্তু মাথা নেই। তবে হাত যেহেতু আছে, হাতের লেখা নিয়েই তো লেখা যায়।
প্রথমে নিজের হাতের লেকা দিযেই শুরু করি। এখন আমার লেখা অনেকেই সুন্দর বলে, অথচ এই সুন্দরের লেখা নিয়েই আমার বাবার আপত্তি ছিল। ক্লাম এইট পর্যন্ত হাতের লেখার জন্য কম যন্ত্রণা পোহাইনি। ক্লাস নাইন পর্যন্ত খ লিখতাম ঘ এর মত, বাবা বলতেন খুশি লিখলে নাকি ঘুশি হযে যায়। আর এই ঘুষি খেয়েই আজ খ লেখা শিখেছি। একদিন মামা খ লিখে বললেন ৫ বার প্র্যাকটিশ করতে, খেপে গিয়ে বললাম, পারবোনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাবা শুনে ফেললেন কথাটা। ২টা চড় (ঘুষিও বলা যায়) মেরে বললেন একশোবার লিখতে। ঘাড় বাকা করে সম্মতি দিয়ে ভাবলাম, আগেরটাই ভাল ছিল। আমার প্রতিভাবান ছোটভাই আমার লেখা হুবুহু নকল করে জনৈক তরুণীকে প্রেমপত্র লিখে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে একাধিকবার।

এক কলেজ ফ্রেন্ড তার বোনের হাতের লেখা দেখে বলেছিল হাতের লেখা মুক্তার মত। মুক্তা ওদের উপর তলায় থাকতো যার হাতের লেখা ভয়াবহ বিচ্ছিরি। ছোটবেলায় কৌতুক শুনেছিলাম, এক কৃষক গ্রামের এক লোকের কাচে এসেছে তার ছেলেকে চিঠি লিখবে বলে। লোকটি জানালো তার পাযে ব্যথা, লিখতে পারবেনা। কৃষক বললো, লেখাতো হাতের কাজ। তখন জবাব পাওয়া গেল, তার লেখা অন্য কেউ পড়তে পারেনা, নিজে গিয়ে পড়ে দিয়ে আসতে হয়।
হাতের লেখা দিয়ে অনেক কিছুই যাচাই বা বিচার করা যায়। কৃপণ মানুষ যেমন খুব ছোট ছোট অক্ষরে লিখে কাগজ বাঁচান, তেমনি আমার এক বন্ধৃ (রাজন) পরীক্ষার হলে বারবার কাগজ নিয়ে আমার বুকে কাপন ধরাতো। খাতার চারদিকে মার্জিন তো টানতই, মনে হয় মাঝেও কিছু ফাঁকা রাখত। ( সেই ছোটবেলায় যেমন পুকুরের চারধারে ৪ফুট চওড়া রাস্তার অংক করতাম)।
হাতের লেখা কতটা খারাপ এর মাধ্যমে ডাক্তারের কোয়ালিফিকেশন সম্পর্কে ধারণা করে নেয়া যায়। যতবড় ডাক্তার, হাতের লেখা তত খারাপ, তা নাহলে মনের মধ্যে অস্বস্তি থেকে যায়।
আজকাল প্রেমের বাজারেও হাতের লেখার কদর কমে এসেছে। ই-মেইল, এসএমএসের কল্যাণে এখন চিঠিই লেখা হয়না। তবে টাইপ করে প্রেমপত্রের প্রচলনের ফলে ভয়ও বেম কমে এসেছে। ভাবছি প্রিন্টার, ফটোকপি এগুলো যদি না থাকত, আর লক্ষ লক্ষ কপি নিউজপেপার হাতেই লিখতে হত তাহলে কেমন হত। তাহলে হয়ত লেখাই জীবিকা নির্বাহের সবচেযে বড় মাধ্যম হত। আমি হয়ত কুলখানি বা পাত্রী চাই এর ছোট ছোট বিজ্ঞাপন লিখতাম, সবারই ডান হাতের মাসল ভাল থাকত , আর মারামারি কমে আসতো ( সারাদিন লিখে কে-ই বা বাঁশ, লাঠি, এগুলো হাতে নিত)....
২৬টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×