চুন্নুভাইয়ের সম্পর্কে আগের একটা পোস্টে বলেছিলাম, তাই ২য় বার তার পরিচয় দেয়াটা নিষ্প্রয়োজন। তার আরোও দুটি লেখা প্রকাশ করছি "বন্ধুদের লেখা" বিভাগে।।
..................................
১. মোবাইল হাতে হাশরের মাঠে
হাশরের মাঠে কোটি কোটি মানুষ, বিচার চলছে সেই আদিম মানুষ থেকে শুরু করে সিনিয়রটি অনুসারে। একসময় ২০০৯ এ যারা যৌবনে ছিল, তাদের পালা এল। সবার সাথে আমিও আছি, আর ভাবছি কি কি করেছি জীবনে। হিসেব কষে দেখলাম ভাল-মন্দ প্রায় সমান সমান। যখনই দাড়িপাল্লার একটিতে ভাল রেখে অন্যটিতে মন্দকাজ তুলে দিল, দেখলাম ভালো কাজের পাল্লাটি ৮-১০ফুট লাফিয়ে উঠল। অবাক এবং কিছুটা হতাশ হয়ে পাপূণ্যের হিসাব দেখতে চাইলাম। ১ সেকেন্ডের মধ্যে পাপ পূণ্যের স্টেটমেন্ট চলে এল। সব মিলিয়ে পূণ্য ৮ বিলিয়ন, পাপ ১৮ বিলিয়ন; পরিমাণ ঋণাত্মক। ভালমত খেযাল করে দেখলাম শুধু মোবাইলটা না দেখলেই বেহেশতে চলে যেতাম। রাগে-দুঃখে চুল ছিড়ছি এমন সমযে ছোট ভাইয়ের ফোন ( মোবাইলের নেটওয়ার্ক ততদিনে হাশর পর্যন্ত)। বললাম- রেজাল্ট কী? সে বলল- তোমার গিফট করা মোবাইল ফেরত দিতে আসছি, তাহলেই বেহেশতে চলে যাব। এরপর বউ, আদরের শালীসহ পরিচিত ৮-১০জনের মোবাইল পাপ ঘাড়ে নিয়ে আমি দোযখের মোটামুটি উপরের দিকেই আসলাম। সমসাময়িক অনেক বন্ধু, ছোটভাইদের পেয়ে দোযখেও কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কিভাবে সবার এত পাপ হল এনালাইসিস এ বসলাম। দেখা গেল যার মোবাইল যত পুরনো তার পাপ তত বেশি। গ্রামীন ব্যবহারকারীরা কবীরা গুণাহর সাথে সগীরা গুণাহ ফ্রী পেয়েছে। একটেল জয় ব্যবহারকারীরা সব পাপেই সমান বোনাস পেয়েছে। বাঙলা লিংকের বন্ধ সিম চালু করলেই পেযেছে দোযখে একটা আগুনের চুলা। কয়েকজন টিএনটি পাপীকেও দেখলাম আমাদের বেশ কিছু নিচের দোযখে। উপরের দিকে কারা আছেন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম আমার খুবই এক বন্ধুকে। বললাম, তুই এখনে কেন। দুঃখের সাথে জানালো যে ওর সব সিমই ছিল, যখন যেটাতে অফার থাকত সেটাই ব্যবহার করত। তাই সব অপারেটরের বোনাস পেয়ে ও এখানে এস পৌছেছে। আরও জানলাম, তার উপরের প্রত্যকেই বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডার। আর এত শাস্তির মধ্যেও এনালাইসিস চালানো সম্ভব হযেছে নেটওয়ার্ক ফেইলারের কারণে..
২.লিখার হাত
আমার ২-৪টা লেখা দেখে কযেক বন্ধু মন্তব্য করল আমার নাকি লেখার হাত আছে। কি লিখবো ভাবতে বসে দেখি যে, হাত আছে কিন্তু মাথা নেই। তবে হাত যেহেতু আছে, হাতের লেখা নিয়েই তো লেখা যায়।
প্রথমে নিজের হাতের লেকা দিযেই শুরু করি। এখন আমার লেখা অনেকেই সুন্দর বলে, অথচ এই সুন্দরের স লেখা নিয়েই আমার বাবার আপত্তি ছিল। ক্লাম এইট পর্যন্ত হাতের লেখার জন্য কম যন্ত্রণা পোহাইনি। ক্লাস নাইন পর্যন্ত খ লিখতাম ঘ এর মত, বাবা বলতেন খুশি লিখলে নাকি ঘুশি হযে যায়। আর এই ঘুষি খেয়েই আজ খ লেখা শিখেছি। একদিন মামা খ লিখে বললেন ৫ বার প্র্যাকটিশ করতে, খেপে গিয়ে বললাম, পারবোনা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাবা শুনে ফেললেন কথাটা। ২টা চড় (ঘুষিও বলা যায়) মেরে বললেন একশোবার লিখতে। ঘাড় বাকা করে সম্মতি দিয়ে ভাবলাম, আগেরটাই ভাল ছিল। আমার প্রতিভাবান ছোটভাই আমার লেখা হুবুহু নকল করে জনৈক তরুণীকে প্রেমপত্র লিখে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে একাধিকবার।
এক কলেজ ফ্রেন্ড তার বোনের হাতের লেখা দেখে বলেছিল হাতের লেখা মুক্তার মত। মুক্তা ওদের উপর তলায় থাকতো যার হাতের লেখা ভয়াবহ বিচ্ছিরি। ছোটবেলায় কৌতুক শুনেছিলাম, এক কৃষক গ্রামের এক লোকের কাচে এসেছে তার ছেলেকে চিঠি লিখবে বলে। লোকটি জানালো তার পাযে ব্যথা, লিখতে পারবেনা। কৃষক বললো, লেখাতো হাতের কাজ। তখন জবাব পাওয়া গেল, তার লেখা অন্য কেউ পড়তে পারেনা, নিজে গিয়ে পড়ে দিয়ে আসতে হয়।
হাতের লেখা দিয়ে অনেক কিছুই যাচাই বা বিচার করা যায়। কৃপণ মানুষ যেমন খুব ছোট ছোট অক্ষরে লিখে কাগজ বাঁচান, তেমনি আমার এক বন্ধৃ (রাজন) পরীক্ষার হলে বারবার কাগজ নিয়ে আমার বুকে কাপন ধরাতো। খাতার চারদিকে মার্জিন তো টানতই, মনে হয় মাঝেও কিছু ফাঁকা রাখত। ( সেই ছোটবেলায় যেমন পুকুরের চারধারে ৪ফুট চওড়া রাস্তার অংক করতাম)।
হাতের লেখা কতটা খারাপ এর মাধ্যমে ডাক্তারের কোয়ালিফিকেশন সম্পর্কে ধারণা করে নেয়া যায়। যতবড় ডাক্তার, হাতের লেখা তত খারাপ, তা নাহলে মনের মধ্যে অস্বস্তি থেকে যায়।
আজকাল প্রেমের বাজারেও হাতের লেখার কদর কমে এসেছে। ই-মেইল, এসএমএসের কল্যাণে এখন চিঠিই লেখা হয়না। তবে টাইপ করে প্রেমপত্রের প্রচলনের ফলে ভয়ও বেম কমে এসেছে। ভাবছি প্রিন্টার, ফটোকপি এগুলো যদি না থাকত, আর লক্ষ লক্ষ কপি নিউজপেপার হাতেই লিখতে হত তাহলে কেমন হত। তাহলে হয়ত লেখাই জীবিকা নির্বাহের সবচেযে বড় মাধ্যম হত। আমি হয়ত কুলখানি বা পাত্রী চাই এর ছোট ছোট বিজ্ঞাপন লিখতাম, সবারই ডান হাতের মাসল ভাল থাকত , আর মারামারি কমে আসতো ( সারাদিন লিখে কে-ই বা বাঁশ, লাঠি, এগুলো হাতে নিত)....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



