চুন্নু ভাই বুয়েটে আমার ৫ বছরের সিনিয়র, আল্লাহর অশেষ করুণায়(!) দীর্ঘ ৯মাসের যে প্রথম সেমিস্টারটা পেয়েছিলাম, উনি সেসময় ফাইনাল ইয়ারে ছিলেন।
কেন যেন সমবয়সীদের সঙ্গে আমার কখনই সেভাবে সদ্ভাব গড়ে উঠেনা, তবে সিনিয়র এবং জুনিয়র উভয় গ্রুপের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে আমি স্বতঃস্ফূর্ত। তাই এতটা সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও চুন্নুভাইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে সমস্যা হয়নি।
বুয়েটে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিপ্ট লিখতেন শুনেছি, এরপর মাস্টার্স করতে স্কটল্যান্ড যান। প্রবাসের দিনগুলোতে লেখালিখির পুরনো অভ্যাসটা আবার ফিরে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্নসময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গল্প-ছড়া-কবিতা লিখে ফেলেন। মাস ছয়েক হল তিনি দেশে ফিরেছেন, এখন প্রায় প্রতিসপ্তাহেই হলে আসেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে।
সেদিন তার কিছু পুরনো লেখা আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন, তন্মধ্যে একটি অর্ধসমপ্ত গল্পও ছিল। আজ যেহেতু পরীক্ষা শেষ হল, তাই সেই অর্ধসমাপ্ত লেখাটি সবার সাথে শেয়ার করতে বন্ধুদের লেখা বিভাগে প্রকাশ করছি।
..................................... ....................................................
কী করব ভাবছি। কযেকদিন ধরে বেকার অবস্থায় অবস্থায় আছি, কাজ করতে ভাল লাগেনা। মজার কিছু করতে পারলে ভাল হত। জীবনে এত মজা পেয়েছি আর ধোকা খেয়েছি যে, ধোকা না খেলে মজাই লাগেনা। মনে আছে, সেই ছোটবেলায় বড়শিতে তেলাপিয়া মাছ পেয়ে ভেবেছিলাম খুব বড় কৈ মাছ পেয়েছি; গর্বে যখন পাশের বাসার এক আপুকে দেখাচ্ছিলাম তখনই ধোকা খেলাম- কী যে মজা লাগলো!
যখন ৫বছর বযস, মনে আছে, আব্বার হাতে তখনই প্রথম মার খেলাম- বাসার সামনের ছোট পুকুরে কাপড় ছাড়াই নেমছিলাম, এতে আব্বার সম্মানহানি হতে পারে এই বোধ আমার ছিলনা। আব্বার পিটুনি খেয়ে জীবনে প্রথম কাউকে শালার পুত
বললাম, দুটো বেতের ঘা বোনাস পেলাম। কিন্তু ব্যাপারটা এখনো আনন্দ দেয়। আমি যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি তখন বাংলাদেশ ফুটবলে ডানা কাপ বা গোথিয়া কাপ জিতেছিল- আমি আনন্দিত এবং গর্বিত। পরে জানলাম বাংলাদেশ বুড়োদের দিয়ে বাচ্চাদের কাপ জিতেছিল- আমি লজ্জিত এবং আনন্দিত!
বাবার চাকুরীর কারণে দেশের কয়েকটা জেলায় আমি ঘুরেছি, ধোকা খেয়েছি এখানেও। যখন লক্ষীপুরে ছিলাম, তখন ঐটা ছিল একটা থানা, আব্বা ট্রান্সফার হবার পর জেলা হয়ে গেল। যখন আমি হিসেব করি যে কয়টা জেলা ঘুরেছি, সেসময় চাইলেও লক্ষীপুরকে বাদ দিতে পারিনা।
ধোকার কি শেষ আছে?
ক্লাস নাইনে উঠেই দেখি নতুন বই, সব বই বাজারেও নেই, উচ্চতর গণিত বই পেলাম প্রথম সাময়িক পরীক্ষার কয়েকদিন আগে; এক বিষয়ে ফেল- আজ গর্বিত হওয়ায়।
একবার আমরা ঈদের সময় আতশবাজি ফুটানোর নতুন টেকনিক পেলাম- মশার কয়েলের সাহায্যে অনেকক্ষণ পরে ফুটানো হবে। গ্রামের এক চাচা এই কাজ করলেন, এই ভেবে যে, যদি কোন পথচারীকে ভয় দেখানো যায়! ঐ দিন রাতে চাচার বাবাই অজ্ঞান হয়েছিলো ভয়ে!
খেলাধুলা আর আড্ডা আমার খুবই ভাল লাগে। জীবনে দুইবার খেলায মেডেল পেয়েছি, অথচ দুবারই ছিলাম দ্বাদশ খেলোয়াড়- কী অদ্ভুত আনন্দ।
একবার বরিশাল গিয়ে বন্ধুদের মাঝে জোকস বলছিলাম, বলার পর দেখি রনি ভাই আমার প্রত্যাশার চেযে বেশি হাসছে। ব্যাপার কি জানতে চাইলাম, বলল ওনার বাড়ি বরিশাল- আবার ধোকা।
বুয়েটের শেষবর্ষে এসে কিছুদিন থ্রি কার্ডস খেলেছিলাম। একবার আমার হাতে টেনের ট্রয় পড়লো, বোর্ডে দুইশো টাকা। ভাবলাম প্রতিপক্ষ যেহেতু বন্ধু, বেশি টাকা নিয়ে কি করবো, show দিলাম। দেখি আমার বন্ধুর কাছে জ্যাক এর ট্রয়!
মজার কি শেষ আছে? আসলে মজা খুজতে জানতে হয়, নইলে আমারই কেন এত মজার ঘটনা ঘটে। ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময় আমরা দিনাজপুর থেকে নোয়াখালি আসলাম। ডাকটিকিট সংগ্রহ করতাম। খুব ভাল একটা বন্ধুকে চিঠির সাথে কয়েকটা ডাকটিকিট উপহার দিলাম। চিঠির খামে যত্ন করে ঠিকানা লিখে পোস্ট করে আসার পর দেখি চিঠিটা আমার পকেটেই!
জীবনটা এত মজার কেনো, নাকি এটাও ধোকা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



