somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুন্নুভাইয়ের অর্ধনামচা..

০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুন্নু ভাই বুয়েটে আমার ৫ বছরের সিনিয়র, আল্লাহর অশেষ করুণায়(!) দীর্ঘ ৯মাসের যে প্রথম সেমিস্টারটা পেয়েছিলাম, উনি সেসময় ফাইনাল ইয়ারে ছিলেন।

কেন যেন সমবয়সীদের সঙ্গে আমার কখনই সেভাবে সদ্ভাব গড়ে উঠেনা, তবে সিনিয়র এবং জুনিয়র উভয় গ্রুপের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে আমি স্বতঃস্ফূর্ত। তাই এতটা সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও চুন্নুভাইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে সমস্যা হয়নি।
বুয়েটে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিপ্ট লিখতেন শুনেছি, এরপর মাস্টার্স করতে স্কটল্যান্ড যান। প্রবাসের দিনগুলোতে লেখালিখির পুরনো অভ্যাসটা আবার ফিরে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্নসময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গল্প-ছড়া-কবিতা লিখে ফেলেন। মাস ছয়েক হল তিনি দেশে ফিরেছেন, এখন প্রায় প্রতিসপ্তাহেই হলে আসেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে।
সেদিন তার কিছু পুরনো লেখা আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন, তন্মধ্যে একটি অর্ধসমপ্ত গল্পও ছিল। আজ যেহেতু পরীক্ষা শেষ হল, তাই সেই অর্ধসমাপ্ত লেখাটি সবার সাথে শেয়ার করতে বন্ধুদের লেখা বিভাগে প্রকাশ করছি।
..................................... ....................................................


কী করব ভাবছি। কযেকদিন ধরে বেকার অবস্থায় অবস্থায় আছি, কাজ করতে ভাল লাগেনা। মজার কিছু করতে পারলে ভাল হত। জীবনে এত মজা পেয়েছি আর ধোকা খেয়েছি যে, ধোকা না খেলে মজাই লাগেনা। মনে আছে, সেই ছোটবেলায় বড়শিতে তেলাপিয়া মাছ পেয়ে ভেবেছিলাম খুব বড় কৈ মাছ পেয়েছি; গর্বে যখন পাশের বাসার এক আপুকে দেখাচ্ছিলাম তখনই ধোকা খেলাম- কী যে মজা লাগলো!
যখন ৫বছর বযস, মনে আছে, আব্বার হাতে তখনই প্রথম মার খেলাম- বাসার সামনের ছোট পুকুরে কাপড় ছাড়াই নেমছিলাম, এতে আব্বার সম্মানহানি হতে পারে এই বোধ আমার ছিলনা। আব্বার পিটুনি খেয়ে জীবনে প্রথম কাউকে শালার পুত
বললাম, দুটো বেতের ঘা বোনাস পেলাম। কিন্তু ব্যাপারটা এখনো আনন্দ দেয়। আমি যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি তখন বাংলাদেশ ফুটবলে ডানা কাপ বা গোথিয়া কাপ জিতেছিল- আমি আনন্দিত এবং গর্বিত। পরে জানলাম বাংলাদেশ বুড়োদের দিয়ে বাচ্চাদের কাপ জিতেছিল- আমি লজ্জিত এবং আনন্দিত!

বাবার চাকুরীর কারণে দেশের কয়েকটা জেলায় আমি ঘুরেছি, ধোকা খেয়েছি এখানেও। যখন লক্ষীপুরে ছিলাম, তখন ঐটা ছিল একটা থানা, আব্বা ট্রান্সফার হবার পর জেলা হয়ে গেল। যখন আমি হিসেব করি যে কয়টা জেলা ঘুরেছি, সেসময় চাইলেও লক্ষীপুরকে বাদ দিতে পারিনা।
ধোকার কি শেষ আছে?
ক্লাস নাইনে উঠেই দেখি নতুন বই, সব বই বাজারেও নেই, উচ্চতর গণিত বই পেলাম প্রথম সাময়িক পরীক্ষার কয়েকদিন আগে; এক বিষয়ে ফেল- আজ গর্বিত হওয়ায়।
একবার আমরা ঈদের সময় আতশবাজি ফুটানোর নতুন টেকনিক পেলাম- মশার কয়েলের সাহায্যে অনেকক্ষণ পরে ফুটানো হবে। গ্রামের এক চাচা এই কাজ করলেন, এই ভেবে যে, যদি কোন পথচারীকে ভয় দেখানো যায়! ঐ দিন রাতে চাচার বাবাই অজ্ঞান হয়েছিলো ভয়ে!

খেলাধুলা আর আড্ডা আমার খুবই ভাল লাগে। জীবনে দুইবার খেলায মেডেল পেয়েছি, অথচ দুবারই ছিলাম দ্বাদশ খেলোয়াড়- কী অদ্ভুত আনন্দ।
একবার বরিশাল গিয়ে বন্ধুদের মাঝে জোকস বলছিলাম, বলার পর দেখি রনি ভাই আমার প্রত্যাশার চেযে বেশি হাসছে। ব্যাপার কি জানতে চাইলাম, বলল ওনার বাড়ি বরিশাল- আবার ধোকা।
বুয়েটের শেষবর্ষে এসে কিছুদিন থ্রি কার্ডস খেলেছিলাম। একবার আমার হাতে টেনের ট্রয় পড়লো, বোর্ডে দুইশো টাকা। ভাবলাম প্রতিপক্ষ যেহেতু বন্ধু, বেশি টাকা নিয়ে কি করবো, show দিলাম। দেখি আমার বন্ধুর কাছে জ্যাক এর ট্রয়!

মজার কি শেষ আছে? আসলে মজা খুজতে জানতে হয়, নইলে আমারই কেন এত মজার ঘটনা ঘটে। ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময় আমরা দিনাজপুর থেকে নোয়াখালি আসলাম। ডাকটিকিট সংগ্রহ করতাম। খুব ভাল একটা বন্ধুকে চিঠির সাথে কয়েকটা ডাকটিকিট উপহার দিলাম। চিঠির খামে যত্ন করে ঠিকানা লিখে পোস্ট করে আসার পর দেখি চিঠিটা আমার পকেটেই!

জীবনটা এত মজার কেনো, নাকি এটাও ধোকা?
২৮টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×