somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের গ্রামের গল্প!

০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে। আরও কত কি! কিন্তু এক সময় বিক্রমপুর অন্য রকম ছিলো। সহজ সরল গ্রাম ছিলো। আগে কোনো পাকা রাস্তা ছিলো না। যাতায়াতের পথ ছিলো নদী পথ। সদরঘাট থেকে ইঞ্জিনওলা নৌকা করে যেতে হতো। প্রায় সারাদিন লেগে যেতো। এখন গ্রামে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। তবু যাই না। ঢাকা একবার যাদের আকড়ে ধরে, তারা আর গ্রামমূখী হয় না। বড়জোর এক-দুই দিনের জন্য যায়। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু'র বাড়ি পার হয়েই আমাদের গ্রামে যেতে হয়। জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন- পদার্থবিদ ও জীববিজ্ঞানী। উনার বাড়িতে একটা বিরাট পুকুর আছে। পুকুর বলা ঠিক না দীঘি বলা যেতে পারে। সে দীঘির পানি কি স্বচ্ছ! আমাদের বিক্রমপুর ঘিরে আছে বিশাল পদ্মানদী। সর্বনাশা পদ্মা নদী।

আমাদের গ্রামে একজন লোক ছিলেন-
তার নাম ছিলো- খোদা বক্স। কিন্তু তাকে সবাই ডাকতো 'যা বাক্স' নামে। আমার ধারনা, আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক লোক 'যা বাক্স'। খুবই গরীব মানুষ। তার বয়স হবে ৭০। তার দুই ছেলে আছে। দুটাই নেশা করে। সেই দুই ছেলে বিয়ে করেছে। কামকাজ কিছু করে না। সুযোগ পেলেই মাওয়া বা টঙ্গীবাড়ি গিয়ে চুরী করে। চুরীর টাকা দিয়ে নেশা করে। তাদের দুই বউ সারাদিন ঝগড়া করে। আর একে অন্যকে খারাপ গালি দেয়। খারাপ গালি গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভদ্র গালি হচ্ছে- ছিলান মাগী। যা বাক্স বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না। কিন্তু ক্ষুধা আছে। অবাক ব্যাপার হলো- দাঁত ঠিক আছে। ডায়বেটিকস নেই। এবং যে কোনো খাবার খেয়ে হজম করতে পারে। সমস্যা হলো তার কপালে খাবার জুটে না। কে দিবে তাকে খাবার? দুই ছেলে করে নেশা। বুড়ো বয়সে খাবারের কষ্ট। ক্ষুধা কিছু মানতে চায় না। অভাব মানুষকে অনেক নীচে নামিয়ে দেয়।

সকালবেলা যা বাক্স ঘর থেকে বের হয়ে যেতো।
পুরো গ্রাম তার মূখস্ত। প্রতিটা বাড়ি এবং বাড়ির মানুষজনকে সে চিনে। চিনে গাছপালা। ছোটবেলায় আমি যা বক্সকে দেখেছি। রোজ আমাদের বাড়িতে আসতো। আমার দাদা তাকে নাস্তা খাওয়াতো। ঐ নাস্তার লোভেই সে রোজ আসতো। দাদা বলতেন, খোদা বক্স তুমি পুরান লোক। তোমাকে দেখলে ভালো লাগে। এই গ্রামে তোমার মতো পুরান লোক আর কেউ নেই। দেশভাগের আগে থেকেই তুমি এই গ্রামে এসেছো। দাদী নাস্তা পাঠাতেন। নাস্তা দেখে যা বাক্স মুগ্ধ হয়ে যেতেন। বলতেন, পরোটার মধ্যে ঘি! সাথে আবার ফুলকপির তরকারী! একি বোয়া ভাতও আছে। এলাহি কান্ড দেখি! চার রকমের ভর্তা! আজ দেখি আমার রাজকপাল! যা বাক্স চেটেপুটে খেতেন। খাওয়া শেষে চা-পান। যা বক্স যাওয়ার সময় দাদাকে বলতেন- আপনার বাড়িতে এসে কোনোদিন না খেয়ে যাইনি! আমার দাদী তার নাতনীদের জন্য দুধ দিয়ে দিতেন। কোনো কাজের কথা বললে, যা বক্স কোনোদিন মানা করতো না।

আমাদের গ্রামের কাছে দুটা বাজার।
একটা কামারগাও বাজার। আরেকটা আলামিন বাজার। আমি গ্রামে গেলেই আলামিন বাজারে যাই। বেশ বড় বাজার। প্রায় সব কিছুই পাওয়া যায়। বিকেলে গরুর খাটি দুধ পাওয়া যায়। এখন অবশ্য খাটি দুধ পাওয়া যায় না। কিন্তু সকলেই দাবী করে খাটি দুধ। একদিন বিকেলে আমি আলামিন বাজারে গিয়েছি। দেখি, যা বাক্স একটা চায়ের দোকানে বসে আছেন। লোকজন চা খাচ্ছে, তিনি মুগ্ধ হয়ে দেখছেন। আমি নিশ্চিত তার চা খাওয়ার টাকা নেই। আমি যা বাক্সকে চা দিলাম। তিনি আবেগে আপ্লুতু হয়ে বললেন, চা দিলি। তুই আমায় চা দিলি! আনন্দে উনি কেদে ফেলবেন। আমি ফুটবল খেলা বাদ দিয়ে তার সাথে গল্প করলাম। জানলাম- উনি জীবনে অনেক কাজ করেছেন। অনেক কিছু শিখেছেন। কাঠ মিস্ত্রির কাজ, রাজ মিস্ত্রির কাজ, গাছির কাজ, জেলে, কামার, কুমার সব কাজ তিনি পারেন। শেষমেষ যা বাক্স বললেন, জীবনে অনেক কাজ করতে গিয়ে- আমার কিছুই হলো না! তিনবেলা খাবার জুটে না।

যা বাক্স আজ বেঁচে নেই।
কবে মারা গেছেন আমি জানি না। তার বংশধর কে কে বেঁচে আছেন, কোথায় আছেন- তাও জানি না। ঢাকায় থাকলে ইচ্ছা করে এবার যা বাক্সের বাড়ি খুঁজে বের করবো। কিন্তু গ্রামে গেলে মনে থাকে না। যা বাক্স আমায় একটা গোপন কথা বলেছিলেন। সেই কথা আমি কাউকে কোনোদিন বলি নাই। গোপন কথাটা হলো-। থাক, গোপন কথা গোপন'ই থাকুক। সবার জীবনেই কম বেশি গোপন কথা থাকে। চাঁদগাজীরও কিছু গোপন কথা আছে। আমার নিজেরই বেশ কিছু গোপন কথা আছে। যা কোনোদিন কাউকে বলি নাই। অথচ আমি মানুষকে বলে বেড়াই আমি খোলা বইয়ের মতোন। আমার কোনো কিছু গোপন নেই। যাইহোক, গ্রামে যাই না অনেকদিন হয়ে গেলো। অবশ্য গ্রামে কেউ আমাকে চিনেও না। আব্বাকে গ্রামে কবর দেওয়া হয়েছে। আব্বা মারা যাওয়ার পর গ্রামে যেতেই ইচ্ছে করে না। কন্যাকে নিয়ে গ্রামে যাওয়া উচিৎ। উঠানে সে খালি পায়ে খেলুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×