
আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসছে তখন সাধারণ মানুষের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি গাজীপুরের এক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ যখন দুই হুজুরকে আটক করল তখন ফেসবুকে শুরু হলো নতুন নাটক। একদল দরদী ভক্ত সঙ্গে সঙ্গে ময়দানে নেমে পড়লেন আবেগঘন বয়ান নিয়ে।
তারা সশব্দে প্রচার করতে লাগলেন যে হুজুররা নাকি নিজেদের স্ত্রীকে নিয়ে সফর শেষ করে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আর এই সুযোগে নাকি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তে যখন বের হয়ে আসল যে সঙ্গে থাকা নারীরা মোটেও তাদের নিজেদের স্ত্রী নন বরং একজনের বন্ধুর বউ আর অন্যজনের আত্মীয়ের বউ তখন সেই একই ভক্তকুল হঠাৎ একদম চুপ মেরে গেলেন। এখন আবার শোরগোল শুরু করেছেন এবং প্রাইভেসির বয়ান দিচ্ছেন।
এর আগে একজন হুজুরের সেই বিখ্যাত রিসোর্টকাণ্ডে আমরা দেখেছিলাম নানা রকম মারফতি ব্যাখ্যা। কখনো কাবিন ছাড়া গোপন বিয়ে আবার কখনো প্রথম স্ত্রীর কাছে গোপন রাখার নানাবিধ কৌশল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখন তো মনে হচ্ছে অন্যজনের স্ত্রীকে নিয়ে ধরা পড়াটাও এক ধরনের বিশেষ অর্জন। তাদের কাছে এখন ৫০১ নম্বর ঘর এক ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ধরা খাওয়ার পর তারা যখন এই নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে তাদের নীতি ও নৈতিকতা কতটা নিচে নেমে গেছে । তারা অন্যদের ছোটখাটো ভুল পেলেই শাহবাগী বা নাস্তিক ট্যাগ মেরে বিচার বসিয়ে দেন অথচ নিজেদের লোক ধরা পড়লে সাথে সাথে শান্তির বাণী আর প্রাইভেসির অধিকারে সরব হন। এই ভণ্ডামি দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষ এখন তাদের পরামর্শ দিচ্ছে ; হুজুর স্ত্রীকে নিয়ে সফর করছেন ভালো কথা , স্ত্রীটা যেন নিজের হয় ।
photocard courtesy : the dissent

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
