
যে কেউ যে কোনো ধরনের পোশাক পরে যে কোনো সমাজে যেতে পারেন, সাধারণত কেউ বাধা দেয় না। তবে সর্বসাধারণের ক্ষেত্রে “দৃষ্টিকটু” বলে একটি বিষয় উল্লেখ্যযোগ্য। যা সময় স্থান কাল পাত্র ভেদে - পরিবেশ পরিস্থিতি ও সমাজ হিসেবে যে কোনো দেশে, উক্ত দেশের সমাজই নিয়ম নীতি তৈরি করে দেয়।
দৃষ্টিকটু পোষাক:
১। আমাদের দেশে সাধারণত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন সকালে সুপারশপগুলোতে দেখা যায় কিছু চল্লিশোর্ধ্ব - পঞ্চাশোর্ধ পুরুষ পুরাতন অপরিষ্কার হাফপেন্ট ও টিশার্ট পরে চলে এসেছে শপিং করতে। হাতে পায়ে কাঁচাপাকা বড় বড় পশম এমনকি টিশার্টের বোতাম খোলা বুকেও কাঁচাপাকা বড় বড় পশম। শরীরে সিগারেট ও লিকারের গন্ধ - পাশে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় মনে হয় কোনো মানুষ না, হয়তো কোনো নোংরা জলহস্তী হেটে যাচ্ছে।
২। মৃত্যুবাড়িতে দেখা যায় কোনো না কোনো নারী খুব সম্ভব তার মূল্যবান পোশাক ও সকল অলংকার পরে চলে এসেছেন। বাড়িতে লাশ। গ্লসি মেকআপে তিনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মরা বাড়িতে নিজেদের উচ্চবিলাসী জীবন যাপনের গল্প করছেন। গত মাসে মোলডিপ (মালদ্বীপ) ভ্রমণে কোন রিজোর্টে ছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
দৃষ্টিকটু আচরণ:
১। মোটামোটি ভালো রেস্টুরেন্ট যেমন: বিরিয়ানী হাউজ ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সবাই খাওয়া দাওয়া করছেন - কাউকে না কাউকে দেখা যাবে সকলের সামনে হা করে কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছেন। হাত মুখ ধোয়ার বেসিনে গিয়ে ভৌতিক শব্দে গড়গড়া কুলি করছেন।
২। কোনো অনুষ্ঠানে, বাসে ট্রেনে এমনকি ফ্লাইটে বসে কাউকে না কাউকে দেখা যাবে ভয়ঙ্কর মুখের দৃশ্য তৈরি করে নাক কান পরিস্কার করছেন। ছোট বাচ্চারা এই দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিক কান্না শুরু করে দেয়।
৩। বাসে ট্রেনে ফ্লাইটে হাসপাতালে এমনকি মৃত্যুবাড়িতে উচ্চস্বরে কথা বলা। বাংলার সাথে কিছু ইংলিশ বলা - খুব সম্ভব, এই গুলো এখন আর দৃষ্টিকটু আচরণ না! দেশে রাতের ট্রেনে কি পরিমাণ চিৎকার চেচামেচি আর গান বাদ্য হয়! - তা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুভব করা সম্ভব না।
হাফপেন্ট সমাচার: হাফপেন্ট পরে কে কোথায় দৌড়াবেন তাতে আমাদের দেশে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। সড়ক-মহাসড়ক, চন্দ্রিমা, রমনা, হকার মার্কেট, গুলিস্তান যাত্রাবাড়ি শনির আখড়া - যে কোনো পথে দৌড়াতে পারেন। তবে যখন কেউ নিজের পরিচয় দিবেন “সে একজন স্পোর্টসম্যান”। তখন জানতে হবে তিনি কি তালিকাভূক্ত স্পোর্টসম্যান? কারণ, স্পোর্টসম্যানদের জন্য স্টেডিয়ামে যাবতীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা আছে - লকার, বাথরুম, শাওয়ার, ড্রেসিং রুম ইত্যাদি ইত্যাদি। এতোসব সুযোগ সুবিধা থাকার পর একজন স্পোর্টসম্যানকে কেনো স্পোর্টস ড্রেস পরে ট্রেনে মেট্রোতে চড়তে হবে? তারপরও সমস্যা হলে মেট্রোতে অফিসগামী যাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া উচিত ছিলো “হাফপেন্ট পরিহিত ঘর্মাক্ত একজন যাত্রী” সাধারণ যাত্রীদের কোনো সমস্যা হবে কিনা? নাকি মেট্রো ট্রেনে যাত্রীরা পক্ষে বিপক্ষে মারপিট লেগে যাবে! একজন স্পোর্টসম্যানকে হাফপেন্টের অজুহাতে ভিডিও করে হুলুস্থুল করার প্রয়োজন নেই। স্পোর্টসম্যান যেইভাবে চিৎকার চেচামেচি করেছেন তাতে তার নিজের ইমেজ নষ্ট হওয়ার কথা। এবং ক্রীড়া অধিদপ্তরের উচিত উক্ত স্পোর্টসম্যানের ডোপ টেস্ট ও মেডিক্যাল টেস্ট করা। আর দুইজন পুলিশের আচরণ ছিলো খুবই অদক্ষ আচরণ। তাদের উচিত ছিলো একজন সার্কেল অফিসারের সাথে ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ করা। তাতে করে নেগেটিভ/পজেটিভ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যেতো।
আইন: আইন হচ্ছে খাদ্যে লবণের পরিমাণের মতো। কমও না বেশিও না। তারপরও খাবারের পাশে লবনের ছোট পট থাকে প্রয়োজনে মানুষ যার যার মতো লবন খাবারে যোগ করে নেন। এখন খাবার না খেয়ে বা লবনের পরিমাণ না বুঝে তাতে বাড়তি লবন যোগ করা যায় না। ঠিক তেমনই, নাগরিক জীবন যাপনের গতির সাথে একই গতিতে আইনও চলমান থাকে। তাই যে কোনো সমস্যার আগেই আইনী হস্তক্ষেপ হতে পারে একটি ভুল হস্তক্ষেপ। আইনী হস্তক্ষেপ হতে হবে সমস্যা তৈরির পর। সমস্যা তৈরির আগে না।
ড্রেসকোড: যে কোনো স্থানে পোশাকের কিছু নিয়ম নীতি থাকে, আর তা জানতে হলে উক্ত বিষয়ে ট্রেইনিং ও কোর্স করতে হয়। ব্লগে এই বিষয়ে কথা বলার মতো তেমন কিছু নেই, সকলেই এই বিষয়ে কমবেশি জানেন। দুইজন পুলিশের উচিত ছিলো স্পোর্টসম্যানকে অন্ততপক্ষে বাংলাদেশের সহজ পোশাক একটি লুঙ্গি পরিয়ে মেট্রোতে উঠিয়ে দেওয়া। ৯০% মুসলিম উম্মাহর দেশে শুধুমাত্র নারী কেনো আব্রু করবেন। পুরুষদেরও আব্রু করা ও আব্রু মেনে চলা উচিত।
মক্কাহ চুক্তি: মক্কাহ চুক্তি সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ বুঝুক আর না বুঝুক! মক্কাহ চুক্তিতে প্রচুর আগ্রহ এবং সম্ভব হলে আরব সাগর লোহিত সাগর সাতার দিয়ে দুর্গম পাহাড় আর মরুভূমি পায়ে হেটে মক্কাহ যেতে আগ্রহী। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শুধুমাত্র মক্কাহ না, সমগ্র সৌদি আরবে প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ হাফপেন্ট পরে ট্রেনে বাসে এয়ারে ভ্রমণ করতে পারবেন না। সম্ভব না। সম্ভব না বলতে, সম্ভব না।
পরিশিষ্ট: নতুন বাংলাদেশ নতুন স্বাধীন দেশ। মানুষ হাফপেন্ট পরে শুধুমাত্র যাতায়াত না, সম্ভব হলে অফিস আদালতও করতে পারেন। আগামীকাল হয়তো দেখা যাবে কোনো বিয়ে বাড়িতে বর কনে হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন। বর কনের মাতা পিতাও হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন - নতুন ট্রেন্ড। অথবা ইউনিভার্সিটির কোনো শিক্ষক শিক্ষিকা ক্লাসে হাফপেন্ট পরে চলে এসেছেন অথবা ধর্ম প্রচারক। যার যা চয়েজ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


