বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ করেছে, আর কে কতবার করেনি!
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা প্রায় ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের মাটিতে অবতরণ করেছেন। যে টাকার অঙ্ক শুনে আমাদের অর্থনীতিবিদরা ক্যালকুলেটর খুঁজছেন, আর সাধারণ মানুষ খুঁজছে চাকরি।
আমরা ভেবেছিলাম, বিদেশে সফল হওয়া বাংলাদেশিরা একদিন প্লেনভর্তি বিনিয়োগ নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু দেখা গেল, প্লেন ঠিকই উড়েছে, শুধু রানওয়েটা অন্য দেশে।
এরপরও চিন্তার কিছু নেই। কারণ আমরা এখনও গোলটেবিল বৈঠকে ব্যস্ত— কোন বক্তৃতায় কতটুকু আবেগ ছিল, কোন ব্যানারে কোন ছবি বড় ছিল, আর কে কাকে যথেষ্ট সম্মান দিল না।
অন্যদিকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন আমানতকারীরা, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগকারীরা হিসাব কষছেন, আর শ্রমিকেরা হিসাব কষছেন আগামী মাসে চাকরিটা থাকবে কি না।
কিন্তু এসব তো খুবই সাধারণ বিষয়।
জাতীয়ভাবে আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।
কারণ ইতিহাস সাক্ষী— বেকার যুবক ভোট দিতে পারে, মিছিলও করতে পারে; কিন্তু চাকরি ছাড়া সে সংসার চালাতে পারে না। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কর্মসংস্থান নিয়ে এখনো তেমন কোনো টকশো হয় না!
তাই প্রস্তাব করছি, আগামী জাতীয় আলোচনার বিষয় হোক— “কেন বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে যাচ্ছে?” তবে শর্ত একটাই, আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই যেন কেউ বিষয় পরিবর্তন করে না ফেলে।
নইলে একদিন ঘুম ভেঙে দেখব, বিনিয়োগ গেছে, শিল্প গেছে, কর্মসংস্থান গেছে— শুধু আলোচনা রয়ে গেছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



