somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটুকরো বাংলাদেশ, আত্মোপলব্ধির মহড়া।

১৮ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আয়নাল চৌকিদারকে বুদ্ধিমানই বলতে হবে। বেচারা সারা জীবন বিয়ে করেনি। কেননা সে জানতো যে রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছে, তার ভবিষ্যত কখোনো শুভ হবেনা। তার পরিষ্কার বক্তব্য- খামোখা একটা মেয়েকে বিধবা বানাতে রাজি নই। আমার জীবন রাস্তাঘাটেই শেষ হবে। হয়েছেও তাই। অকস্মাত এক সকালে শোনা গেল নিজ বাড়িতে আয়নাল চৌকিদার ব্রাশফায়ারে খুন। খবরটা প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিকেই সিঙ্গেল কলামে হলেও এসেছিল।

মাটির রাস্তার পাশে সদ্য জেগে ওঠা আয়নাল চৌকিদারের সুরম্য কবরের পাশ দিয়ে রিক্সায় করে যাচ্ছি আর ভাবছি। প্রতাপশালী আয়নাল আজ পথিকের নিরব চাহনীর বস্তু। আর জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন। সন্ধ্যার এখনও ঘন্টাখানেক বাকি। তবু চারিদিকে অভুতপূর্ব নিরব। অনেকদিন পরে গ্রামে আসায় আরো বেশি নিরব লাগছে। প্রায় বছর দেড়েক তো হবেই। মৃদুমন্দ বাতাস গায়ে লাগছে। দুয়েকটি পাখির থেমে থেমে ডাক কানে আসছে। গ্রাম বাংলার নিবিড় সৌন্দর্য অনেকদিন পর মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছি। রিকশার খটখট আওয়াজ ছাড়া চারিদিকে আর কোন আওয়াজ নেই। মাঝে মধ্যে দুএকজন পথিক, বিপরিত দিক থেকে আসা দুএকটি সাইকেল চোখে পড়ছে। আর একটু পরেই আমার বাড়ি। আর একটু অপেক্ষা। অনেক কথাই মনে পড়ে। এই আয়নাল চৌকিদার ছিল এলাকার সময়ের দাপুটে সর্বহারা নেতা। এই তো সেদিনের কথা- ছোট চাচা দূর থেকে দেখাতেন দুইজন সঙ্গি নিয়ে লুঙ্গি পরিহিত আয়নাল হেটে যাচ্ছে মেঠো পথ ধরে। পিছনে উঁচু হয়ে থাকা ওটাই অটোমেশিনগান। কয়েকলাখ টাকা নাকি দাম। কিছুটা বিস্ময়, কিছুটা উৎসুক্য নিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। কখোনো মুখোমুখি হলে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করতো- কি মমিন, আছো কেমন, বাড়ির সবাই ভালো? চাচা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতেন, আমার ভাতিজা। আমি হা করে তাকিয়ে দেখতাম শ্মশ্রষামণ্ডিত অস্ত্রধারী আয়নাল চৌকিদারকে। অস্ত্র কোমড়ে নিয়ে কি ভাবলেশহীন পথচলা!

আয়নাল চৌকিদার সর্বহারা নেতা। এই সর্বহারার উত্থান কোত্থেকে? স্বাধীনতা পরবর্তী অস্ত্রবাজ সমাজতন্ত্রীদের হাতেই সর্বহারার উত্থান। বুর্জোয়া খতম করে সাম্যপ্রতিষ্ঠাকামীদের হাত ধরেই অসংখ্য জিয়া-কামরুল প্রতিষ্ঠিত হলো এলাকায় এলাকায়। কমিউনিস্টদের একটি অংশ সেই যে অস্ত্র ধরে প্রতিপক্ষ নিধনের কাজে নেমে গেল তার মাশুল আজো বাংলাদেশ দিচ্ছে। গ্রামগঞ্জের পনেরো বিশ বছরের ছেলেরা পর্যন্ত আজো সর্বহারাদের অন্ধকার জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ইনু মেননরা কি এই বিচ্যুত সমাজতন্ত্রীদের অস্ত্রবাজীর দায়ভার নিতে প্রস্তুত? প্রায়শই ঘটে যাওয়া গুপ্ত হত্যার রাজনীতির পুরোধা হিসেবে তারা কি নিজেদের পরিচয় দিতে রাজি? অবশ্যই না। কাজী আরেফ কিভাবে নিহত হলো, মেননকে কারা হত্যার চেষ্টা করেছিল, রাশেদখান মেনন কেন এখন আর এলাকায় যেতে পারেনা- এগুলো তাদের অজানা নয় কোনটাই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়- ইসলামের নামধারী কিছু বিকৃত পথে পা বাড়ানো জঙ্গিদের দায়ভার পুরোটাই নিয়মতান্ত্রিক ইসলামী রাজনীতিকদের ঘাড়ে চাপানোর জন্য এই রব-ইনুদের কি অসম্ভব চেষ্টা। এরই নাম রাজনীতি। এক আয়নালের কবর দেখে অনেক কথাই মনে পড়ছে, অনেক ক্ষোভ ঝড়ে পড়ছে। আবার মনেযোগ দিলাম সুনসান নিসর্গ দেখার কাজে। পরিচিত মুখের দেখা পাওয়া শুরু করলাম। বাড়ি এসে গেছি। খাল পার হলেই বাড়ি। এক অদ্ভুত শিহরণ।


০২.

আমাদের সামসুল হক মোবাইল কিনেছে । মাইকের মত বাজে। "সাথি তেরা পেয়ার হোতা হ্যায়"- এক ভদ্রমহিলার সুরেলা কণ্ঠে গাওয়া গানটি ওর মোবাইলে এ ক'দিন শুনতে শুনতে অনেকটা মুখস্ত হয়ে গিয়েছে। বাড়ির সব ঘর থেকেই সহজেই শোনা যায় সামসুল হকের মোবাইলে কল এসেছে। অবশ্য সে এখনও ভালিউম কমানোর পণ্থা শিখে উঠতে পারেনি। নাম সেভ করতেও পারেনা, তবে গান বের করতে পারে। বাড়িতে বিদ্যুত নেই তাতে কি, ওপারে গিয়ে চার্জ দিয়ে আসে। বয়সে আমার পাচঁ-ছ বছরের ছোট, তবে সম্পর্কে চাচা। কি জন্য সে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকয় মোবাইল কিনেছে- জিজ্ঞেস করলে হাসে। আমি তাকে কয়েকটি নম্বর সেভ করে দিয়েছি। রাত পেরিয়ে সকাল হতেই শুনলাম, সামসুল হক নাকি পাশের ঘরের রুবেল, ও বাড়ির আরো কয়েকজনের সাথে টমটম ভাড়া করে গিয়েছিল সেই দূরে, মেলায়, লটারী ধরতে। না টমটম ভাড়া করেনি, প্রতিরাতে টমটমের একটা ট্রিপ এমনিতেই পোলঘাটা থেকে মেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়, মাঝরাতে তাদের নিয়েই ফেরে। রাতের বেলা এতদূ. . র, আমি অবাক হই। মেলায় জমজমাট লটারী চলছে মাসব্যাপি। দশটাকার টিকেট কিনে ঢোকে , নগদ নগদ লটারীর ফলাফল। প্রথম পুরষ্কার হুণ্ডা। প্রতিদিন অসংখ্য সামসুল হক চকচকে হুন্ডার স্বপ্ন নিয়ে রাতের ঘুম হারাম করে দূর দূরান্ত থেকে টাকার থলে নিয়ে ছুটে যায় লটারী ধরতে। সকাল বেলা খালি হাতে ফেরে। অকস্মৎ খেয়াল করলাম, সেই জোক, সেই যে জোক গল্পের জোক, শক্ত করে সামসুল হকদের গা আকড়ে চুষে চুষে রক্ত খাচ্ছে- বোকারামগুলো কিছুই টের পাচ্ছেনা।

বিকেল বেলা পোলঘাটা গিয়ে দেখি ছোটখাট জটলা। মহিলার লাগাম ছাড়া গালি শুনে পুরষেরা সব কানে আঙ্গুল দিয়েছে। ঘটনা কি জিজ্ঞেস করতেই রুবেল খুব রসিয়ে রসিয়ে বর্ণনা করলো। মহিলার স্বামী মহিলার গরু বেচে দিয়েছে আমাদের গাঁয়ের কোন লোকের কাছে, তবে মহিলাকে না জানিয়ে। আর যায় কোথায়, হাতের কাছে স্বামীকে না পেয়ে ক্রেতার সাথে রফা করতে মহিলা ছুটে এসে শুরু করলো গালাগালী। কেনার সময় জুয়ার নেশায় মত্ত লোকটির গরু কিনতে অনেকেই নিষেধ করেছিল, তা সত্বেও কেন তারা গরু কিনলো? মহিলাকে ঠান্ড করে একটা রফা করার চেষ্টায় উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এল। - এখানেও সেই লটারী, সেই জুয়া। সেই জোক। জোকগুলো গ্রাম বাংলায় জালের মত ছড়িয়ে আছে। এই ভয়াবহ চিত্র দেখে গা কেঁপে উঠলো। অকর্মন্য অলস স্বপ্নবিলাসী মানুষগুলোকে পরিশ্রম বিমুখ করে হঠৎ বড়লোক বানানোর সমাজ বিদ্ধংসী জুয়াকে চৌদ্দশত বছর আগেই রসূল সা. কেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তার যৌক্তিকতা আরেকবার প্রাণভরে বেদনার সাথে উপলব্ধি করলাম। রসূল (সা.) স. এর প্রতিটি নির্দেশনাই তো মানবতার জন্য কল্যাণকর প্রমাণিত। তারপরও আমরা পদে পদে ঠোকর খেয়ে প্রতারিত হই, তবু ফেরার চিন্তা থাকে সামান্যই। এই লটারী তথা জুয়া কি প্রশাসনের অগোচরে হচ্ছে? মোটেই না, প্রসাশনের অনুমতি ক্রমে- এমনকি হতে পারে প্রশাসনেরই কেউ এসেছিল মেলার উদ্বোধন করতে।


০৩.

মাটির রাস্তা পেরিয়ে হঠাৎ ইটের রাস্তা শুরু। ঝাকুনিতে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। খাঁচার হাড় সব এলোমেলো হয়ে গেল বুঝি। কিছুক্ষণ পর আবার মাটির রাস্তা। ভ্যানে চড়ে নানাবাড়ি যাচ্ছি আর আলাপ চলছে ভ্যানওয়ালার সাথে। একটু একটু করে জীবনের কথা বলছে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে নাম সই করতে পারে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে বড় মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত গিয়ে আর যায়না। - কি করবো বাবা, মেয়েটার মাথা ভাল ছিল, কিন্তু খরচে কুলিয়ে উঠতে পারিনা। প্রাইভেট পড়াতে গেলে মাসে অন্তত তিনশ টাকা দিতে হয়। আমি মনে মনে হিসাব করি, সামসুল হকের সাড়ে পাচ হাজার টাকা বনাম এই পিতার তিনশত টাকা। হিসাব মেলেনা। তবে মাটির সাথে তাল মিলিয়ে ভ্যানের চাকাগুলো ঠিকই এগিয়ে যায় সামনে।

বড় মামার ঘরে দুপুরের খাবার খেয়ে মোড়ায় বসে আছি দরজার কাছে। এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল একটু আগে। রোদহীন আকাশ, হালকা বাতাস বইছে, ভালোই লাগছে। কর্দমাক্ত উঠোন পেরিয়ে এক মহিলা ঘরে উঠেই মামিকে বললো কেমন আছেন। ভিক্ষুক কি না বুঝতে পারলামনা। হাসিমুখে মহিলা বলে চললেন, কয়েকবাড়ি ঘুরে এক ঘর থেকে কিছু ভাত সংগ্রহ করেছেন। সাতটি মেয়ে। ২টিকে বিয়ে দিয়েছেন, আরো পাঁচটির চারটিতে স্কুলে যায়। এখন বাড়ি ফিরলেই স্কুল ফেরত মেয়েগুলো মা বলে জড়িয়ে ধরবে, বলবে মা ভাত দাও। কেবল কিছু ভাত সংগ্রহ হয়েছে, আর কিছু ভাত আর কিছু তরকারী যদি সংগ্রহ হয় তাহলেই বাড়ির দিকে ফিরবেন। সব ঘরে তো যাওয়া যায়না। মুণ্সিবাড়ি তার মামাবাড়ি। কিন্তু লজ্জায় সে বাড়ি যাননি। গেলে প্লেট ভর্তি ভাত পেতেন সত্য, কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধ আপনজনের কাছে হাত পাততে বাধা দেয়। তাদেরই তো খোঁজ নেবার কথা। মহিলা একটু নিশ্বাস ছাড়লেন। ঘরের সবার মধ্যে এক বিষাদের চাদর ছেয়ে গেল। মামি তখনই উঠে হাড়ির কাছে গেলেন ভাতের খবর নিতে। আমি স্থানু হয়ে বসে রইলাম। মহিলা বলে চলছেন, সবগুলো মেয়ে, বোঝেনই তো, জামাকাপড় লাগে অনেক। চিন্তায় থাকি, কোত্থেকে যোগাড় করবো। আমি শুনতে থাকি আর নিজের মধ্যে হারিয়ে যাই। ধোপদুরস্ত পোশাক পড়ে ফুলবাবু সেজে বসে আছি, আর গ্রাম বাংলার জনপদে অসংখ্য মানুষ পেটের দায়ে, লজ্জা নিবারণের চিন্তায় দিনগুলো পার করে দেয়। আমি মানবতার জন্য কতটুকু উপকারী, কি করতে পারলাম তাদের জন্য? মহিলার কথায় সম্বিত ফিরে পাই, জায়গা জমি যা ছিল কোনরকম চলে যেত, কিন্তু ওই বড় মিয়া আমার টিপসই নিল, ভিটা পর্যন্ত দখল করে বিশাল ঘর তুলছে, আমাকে একটা টাকাও দিলনা। আমি আরেকবার শিহরিত হই। একটুকরো বাংলাদেশ আমার চোখের সামনে দুলে ওঠে।


০৪.

কর্মী হয়েছো কবে?
-২০০২ এ
রিপোর্ট রাখো?
-রাখতাম। এখন রাখা হয়না। আসলে দায়িত্বশীলরা কেউ আসেনা অনেকদিন।
মামাবাড়ি গিয়ে শুনলাম মুন্সিবাড়িতে ফারুক মামার ছেলেটা আমাদের সংগঠনের কর্মী। মামাতো ভাইটাকে নিয়ে কাদামাটি পেরিয়ে অপরাহ্ণে হেটে এলাম ওদের বাড়িতে।

একজন কর্মীর কাজ কয়টি বলতে পারো?
- একটু মাথা চুলকে বললো আটটি।
কি কি?
- আসলে ভাইয়া অনেকদিন প্রোগামে যাওয়া হয়না তো ভুলে গেছি।

আমি বলি?

ওর সায় পেয়ে বলা শুরু করলাম।

প্রথমত, কোরআন ও হাদিস নিয়মিত বুঝে পড়ার চেষ্টা করা
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত ইসলামী সাহিত্য পড়া
তৃতীয়ত, ইসলামের প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ মেনে চলার চেষ্ট করা
চতুর্থত, বায়তুলমালে নিয়মিত এয়ানত দেয়া
পাঁচ. নিয়মিত ব্যাক্তিগত রিপোর্ট রাখা ও দেখানো
ছয়. কর্মীসভা সাধারণসভা প্রভৃতি অনুষ্ঠানসমূহে যোগদান করা
সাত. সংগঠন কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা
এবং আট, সক্রিয়ভাবে দাওয়াতী কাজ করা।

এখন বল তুমি কর্মী হিসেবে কতটুকু পরিপূর্ণ?

কয়েকটি কাজ তুমি সুযোগ পাওনা বলে করতে পারোনা, আর কিছু কাজ আছে যেগুলো করা সম্ভব। যেমন নিয়মিত কুরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য বুঝে পড়া। এছাড়া দাওয়াতি কাজ করা। তোমার আশে পাশে তোমার সমবয়সী অনেক ছাত্র আছেনা, তাদের ক'জন নামাজ পড়ে? তুমি ভাল দেখে কয়েকটি ছেলেকে টার্গেট নিয়ে নামাজে ডাকো। এর পর সপ্তাহে একদিন বাসায় এনে কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করতে পারো। দুয়েকটি হাদিস পড়তে পারো। কুরআন এমন এক জিনিস, সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে যে কেউ আগ্রহী হয়ে শুনবে। আর দেখবে তুমি ওদের মাঝে কথা কথা বলতে গেলে তোমার নিজের পড়ার কাজটিও হয়ে যাবে।

সমাজের ছেলেগুলো তুমি টার্গেট না নিলেও শয়তান তো ঠিকই টার্গেট নিয়েছে। দলবদ্ধভাবে তরুন সমাজ ছুটে চলছে জাহান্নামের দিকে। তুমি একা ভাল থেকে কি জান্নাতে যেতে পারবে? অবশ্যই না। কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে ওরা প্রত্যেকটি ছেলে তোমার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরাবারে বিচার দেবে, হে মাবুদ, ও নিজে দেখেছি ভাল ছিল, কিন্তু আমাদের তো কোনদিন ভালোর দিকে ডাকেনি? আজ আমাদের জাহান্নামে নিতে হলে ওকে আমাদের পায়ের নিচে পিষ্ঠ করে তার পরে আমরা যাব। সুতরাং আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হলে, সমাজের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকতে হবে। থানা সভাপতি, ইউনিয়ন সভাপতি তোমার কাছে আসুক বা না আসুক, তোমার দায়িত্ব তুমি যথাযথভাবে পালন করে যাও, ছেলেগুলোকে নিয়ে বস, তোমার আব্বুকে কখোনো কথা বলার জন্য ডাকো, সুন্দরের আহ্বান জানাও, দেখবে চমৎকার একটি সাড়া পাবে। এর পর দায়িত্বশীলদের খবর দাও, ভাই আপনারা না এলেও এখানে ঠিকই প্রোগ্রাম চলছে। দেখবে তারা নিজের গরজে হাজির হবে।

চুপচাপ শুনছিল ও। আমি প্লেটের মুড়ি সব শেষ করে যাওয়ার জন্য উঠলাম। শাহীন বললো, ভাইয়া আবার কবে আসবেন? এভাবে যদি মাঝে মধ্যে কেউ আমাদের বলতো, তবে ভাল হতো। বললাম, শুরু কর তুমি, দেখবে আল্লাহর সাহায্য এসে যাবে। সুযোগ পেলে খবর নেব। আমার জন্যও দোয়া কর, যে কথাগুলো তোমাকে বললাম, আমি নিজে যেন তা সর্বপ্রথম আমল করতে পারি।

আবার বেড়িয়ে পড়লাম কাদামাটির রাস্তায়। বুকটা একটু হালকা মনে হলো। কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি এই মনে করে। সাথের মামাতো ভাইটা আস্তে আস্তে বললো, ভাইয়া চিন্তা করছি, পরীক্ষার পর আপানার কাছে গিয়ে কিছুদিন থাকবো। ইংলিশটা আর কোরআন হাদিসের চর্চাটা একটু শুরু করবো। আসলে একা একা এগুলো হয়না। আমি মনে মনে হাসলাম। ইহারই নাম সঙ্গদোষ।

দেখতে দেখতে দিন শেষ। সপ্তাহ পার হয়ে গেল। পাঠকের ধৈর্যও নিশ্চই শেষ হলো। সুতরাং আমি এখন রাজধানীতে, কম্পিউটারের সামনে। এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আরো কিছু টুকরো কথা ছিল, কিন্তু তেমন চুম্বক লেখনি লেখার শক্তি এখনও অর্জন করতে পারিনি। তাছাড়া ওয়াজ বেশি করা ঠিকনা। তাই এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:১২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×