somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাজউদ্দীনের নাতিকে পেটাল পুলিশ

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘তুই সোহেল তাজের ভাগনে, এমন শিক্ষা দিব যে জীবনেও ভুলবি না—এই কথা বলেই একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার ছেলেকে হাজতে ঢোকাতে বলেন। এরপর এক পুলিশ সদস্য টানাহেঁচড়া করে আমার ছেলেকে গুলশান থানার হাজতে ঢুকিয়ে দেয়।’
গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে কেবিনে চিকিৎসাধীন ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন মা সিমিন হোসেন রিমি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর ছোট ছেলে রাকিব হোসেনকে নির্যাতন করে বিনা অভিযোগে গুলশান থানায় আটকে রাখা হয়। আহত রাকিব এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাকিব স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জোহরা তাজউদ্দীনের নাতি। রাকিবের মামা সোহেল তাজ বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
আহত সন্তানের শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে গতকাল শনিবার রাতে সিমিন হোসেন বলেন, ‘বিনা কারণে ছেলেকে আটক করার পর আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,পুলিশের মহাপরিদর্শক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার পরও তিন ঘণ্টা রাকিবকে আটক রাখে পুলিশ।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের মতো লোকদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে যাদের ওপরে যোগাযোগ করার কেউ নেই, তাদের অবস্থা কী হবে!’

চিকিৎসাধীন রাকিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধু হিমেলকে নিয়ে গুলশানে একটি খাবারের দোকানের সামনে আমি গাড়ি পার্ক করছিলাম। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই পুলিশ সদস্য আমাকে ডাক দিয়ে বলেন, “এই, তুই এদিকে আয়।” আমি ভদ্রভাবে বললাম, আমাকে তুই করে বলছেন কেন? এতে পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “তোর কাছ থেকে ভদ্র কথা শিখতে হবে?” কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তাঁরা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে টহল পুলিশকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর টহল পুলিশের একটি দল এলে আমি একপর্যায়ে নিজেকে সোহেল তাজের ভাগনে পরিচয় দিই। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য বলেন, “সোহেল তাজের ভাগনে! দাঁড়া, তোর মামাগিরি ছুুটাই।”’
রাকিবের মা সিমিন হোসেন জানান, টহল দলের পাঁচ-ছয়জন পুলিশ রাকিবকে মাটিতে শুইয়ে পেটাতে থাকেন। বুট দিয়ে তার বুকে লাথি মারে। শটগান দিয়ে তাকে আঘাত করে। কিছুক্ষণ মারধরের পর তাকে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তুলে গুলশান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
রাকিবের বাবা মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে আমি গুলশান থানায় যাই। গিয়ে দেখি রাকিব ও হিমেলকে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তখন ওসি থানায় ছিলেন না। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর একজন কর্মকর্তা আসেন। তিনি কোনো কথা না শুনেই আমাকে বকাঝকা শুরু করেন। এ সময় তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনকল শেষে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সোহেল তাজের ভাগনে! জন্মের শিক্ষা দিচ্ছি। দুজনকেই থানায় ঢুকা। এরপর আমার ছেলে রাকিব ও তার বন্ধুকে টানাহেঁচড়া করে হাজতখানায় ঢুকায় পুলিশ। রাত সোয়া নয়টার সময় ওসি এসে মুচলেকা নিয়ে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেন।’
রাকিবের খালা মাহজাবিন আহমেদ বলেন, ‘রাকিবকে আটকের খবর শুনে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, কমিশনার, ডিসিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা বলেন, থানা থেকে এক্ষুনি ছেড়ে দেওয়া হবে। এর পরও তিন ঘণ্টা তাকে আটক রাখা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের অভিযোগ আনতে পারেনি। আটকের সময় পুলিশ তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেয়। পরে সে তার বন্ধু হিমেলের মুঠোফোন দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’
রাকিবের বয়স ১৯। তিনি এ লেভেলে পড়ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। তার পরও তাঁকে কেন নির্যাতন করা হলো—জানতে চাইলে গুলশান থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘অনেকগুলো গাড়ি আটকের সময় ওই দুই ছেলেকেও আটক করা হয়। থানায় আনার পর ছেলেটি পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।’ নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের অভিযোগ সত্যি নয়।’
গুলশান বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার চৌধুরী লুৎফুল কবির বলেন, ‘বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাকিবের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাঁর শরীরে মারধরের আঘাত রয়েছে। তাঁকে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আগের চেয়ে এখন অবস্থা ভালো।
রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও ড. কামাল হোসেন আহত রাকিবকে দেখতে হাসপাতালে যান।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৫৫
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×