
ছোট বেলা থেকেই মহাশুন্যের প্রতি আমার ছিল অপরিসীম কৌতূহল।
মহাশুন্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি অনেক, নগন্য মানুষ আমি,তেমন কিছু বুঝিনা।
মানবজাতির সবচেয়ে আকাঙ্খিত প্রশ্ন এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হল– কিভাবে এই মহাবিশ্ব এর সৃষ্টি হল? বিগ ব্যাং থিওরি সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্যাখা করল মহাবিশ্ব এর সৃষ্টি। মহাবিশ্বকে আর অসীম না বলে সসীমে ব্যাখা করলো বিগ ব্যাং।

প্রায় ১৫ বিলিয়ন বছর আগে এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিলো মহাবিশ্ব। এই বিস্ফোরণের সময় পদার্থের সকল শক্তি একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে ঘনীভূত ছিল বলে ধরা হয়। এই বিস্ফোরণের প্রারম্ভের কোন ঘটনাই ব্যাখা করা হয়না। বিস্ফোরণের ফলে একত্রে ঘনীভূত থাকা পদার্থ এবং বস্তুর শক্তি ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্র বিমুখী বলের কারনে এবং এভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়।
হাবল হলেন সেই বিজ্ঞানী যিনি প্রমান করেছেন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। তিনি দেখাতে সমর্থ হন যে গ্যালাক্সি গুলোর বেগ তাদের দূরত্ব এর সাথে সমানুপাতিক। যে গ্যালাক্সি আমাদের কাছে থেকে তিনগুন দূরে , তাদের বেগ ও সমানুপাতিক ভাবেই তিনগুন বেশি। এটা প্রমান করে মহাবিশ্ব সবদিকেই সর্বসম ভাবে প্রসারিত হচ্ছে। সুতরাং তার প্রসারন দেখে মহাবিশ্ব এর বয়স নির্ধারণ করা যায়।

বিগ ব্যাং থেকে মহাবিশ্ব এর প্রসারন
গ্যালাক্সি গুলোর এই একে অপরের থেকে দূরে সরে যাওয়া কে বলা হয় Red Shift . এই Red Shift এর প্রমান পাওয়া যায় গ্যালাক্সি থেকে আসা আলোর WAVELENGTH পরিবর্তনের মাধ্যমে। এটি পরীক্ষিত সত্য।

Red Shift: গ্যালাক্সি দের বিন্যাস দেখানো হল কালার কোড এর মাধ্যমে।
একক বিন্দু থেকে বিস্ফোরণ কে ব্যাখা করার জন্যে ১৯৬৪ সালে দুইজন বিজ্ঞানি Arno Penzias এবং Robert Wilson আরেকটি সফল পরীক্ষা করতে সমর্থ হলেন। তারা মহাবিশ্বে সুষমভাবে খুব শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ পাঠালেন যা একসময় ঠিক সুষমভাবেই ফেরত আসলো। এর দ্বারা প্রমানিত হয় যে প্রসারনটা আসলেই সবদিকে সমান বা সুষম।
এমনকি বর্তমান সময়ে NASA এর COBE স্যাটেলাইট cosmic microwaves এর মাধ্যমে বিগ ব্যাং কে প্রমান করেছে। এই স্যাটেলাইট আরও বলছে , মহাবিশ্ব এখনো সম্প্রসারণশীল এবং ক্রমাগত শীতল হচ্ছে।

COBE স্যাটেলাইট থেকে নিরুপন করা cosmic microwaves
প্রথম পরমানুর সৃষ্টিঃ
ঠিক মহাবিস্ফোরণের পর, প্রথম সেকেন্ড এর এক ভগ্নাংশে প্রচণ্ড উত্তপ্ত ঘনীভূত শক্তি ছড়িয়ে পরে সুষমভাবে। এর 10^-43 সেকেন্ডের মাথায় অসমপরিমান matter এবং antimatter energy তৈরি হয়। যেহেতু দুটি শক্তি একইসময়ে তৈরি এবং সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী , তাই তারা একে অপরকে ধ্বংস করে একটি নিট শক্তি বা matter তৈরি করে। প্রসারন এর সাথে সাথে সবকিছুই শীতলতর হয় এবং কিছু common particle এর সৃষ্টি হয়। এগুলোকে বলা হয় baryons যার মধ্যে ইলেকট্রন , ফোটন , নিউট্রন এবং কোয়ার্কস অন্তর্ভুক্ত। baryon genesis সময়ে অবশ্য কোয়ার্কস এর সংখ্যাই বেশি ছিল।

বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের বয়সঃ
বিগ ব্যাং থিওরির সাথে সাথে যে প্রশ্ন চলে আসে সেটি হল- যদি মহাবিশ্ব এর নির্দিষ্ট একটা জন্মই থাকে, তবে সেটার বয়স কতো? রেড শিফট এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব এর বয়স বের করা যায়। সমীকরণটা হল-
(distance of a particular galaxy) / (that galaxys velocity) = (time)
অথবা
4.6 x 10^26 cm / 1 x 10^9 cm/sec = 4.6 x 10^17 sec
হিসেব করে মহাবিশ্ব এর বয়স ১৫ বিলিয়ন পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়। প্রতিটা গতিশীল গ্যালাক্সি এর দূরত্ব হিসেব করলেও মোটামুটি একই ফল পাওয়া যায়।
কিন্তু বিগ ব্যাং মহাবিশ্ব এর জন্মকে ব্যাখা করলেও কিছু জিনিস আমার কাছে ঠিক স্পষ্ট নয়।
আমার প্রশ্ন হল– যেকোনো জিনিস সম্প্রসারনের জন্য আরেকটা জায়গা দরকার। কোন সন্দেহ নাই যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। বিগ ব্যাং তত্ত্ব এর মাধ্যমে তা প্রমানিত। কিন্তু আরও বড় কোন স্পেস বা জায়গা ছাড়া কোন একটা জিনিস সম্প্রসারিত হলে সেটা স্থান পায় কিভাবে? তার মানে কি এই না যে মহাশুন্যের বাইরেও এমন একটা ফাকা শুন্যতা আছে যেখানে সম্প্রসারিত মহাবিশ্ব তার জায়গা করে নিচ্ছে?

বিগ ব্যাং শুধুমাত্র একটা বিন্দু থেকে সৃষ্টি ব্যাখা করে। বিন্দুটার অবস্থান তাহলে ছিল কোথায়? নিশ্চয়ই কোন এক শূন্যতায়। সেই শূন্যতার সৃষ্টি কিভাবে সে সম্পর্কে এই থিওরি কিছুই বলেনা। সে শূন্যতার মাত্রা কি সেটাও বিজ্ঞান এড়িয়ে গেছে।
বিজ্ঞান মহাবিশ্বকে সসীম বলছে। কিন্তু একটা জিনিস সসীম হতে হলে তার শেষ থাকতে হবে, তার শেষ সীমানার ওপাশে অন্য কিছু থাকতে হবে। এমন তো হতে পারেনা যে সসীমের পরে কিছু নাই। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম কিছু নাই। কিছু না থাকলে সেটা শূন্যতা। সেই শূন্যতাকে কেন বিজ্ঞান ব্যাখা করতে পারে না?
আপনারা তো অনেক জ্ঞানী মানুষ আছেন এখানে, আশা করছি যারা সাহায্য করতে পারেন আমার প্রশ্নের উত্তরগুলি দিবেন।
রেফারেন্সঃ
http://www.umich.edu/~gs265/bigbang.h
# ^ "Origins: CERN: Ideas: The Big Bang". The Exploratorium. 2000. Click This Link. Retrieved 2010-09-03.
# ^ Keohane, J. (November 8, 1997). "Big Bang theory". Ask an astrophysicist.
http://en.wikipedia.org/wiki/Big_Bang
http://www.umich.edu/~gs265/bigbang.htm

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



