দেশে নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পর বিদেশী দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে রাজনৈতিক দলের কয়েক স্তরের নেতাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কতিপয় রাজনৈতিক নেতা দূতাবাসের মাধ্যমে বিদেশী গোয়েন্দাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু এসব নেতা সরকার কিংবা বিরোধী দলে থাকায় শুরু থেকেই পার পেয়ে আসছিলেন। বড় দু’টি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ঐ নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে চলতেন বলে তাদের এসব গতিবিধি তদন্ত করতে সাহস পায়নি পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দারা। চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা শস্তিমূলক বদলি আতংকের জন্যই তারা ঐসব নেতাদের অনুসরণ করেনি। কিন্তু এবার জরুরি অবস্থা জারির পর যৌথ বাহিনীর তিন দফা অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের তথ্য পায়। কমপক্ষে ১০ জন নেতা বিদেশী দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছিলেন। সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন- বিএনপি’র এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হান্নান শাহ, লুৎফুজ্জামান বাবর, আলী আসগর লবী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। এই ছয়জনের সাথে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
গত ৬ জুন গোয়েন্দাদের নিকট কাজী জাফর উল্লাহ স্বীকার করেন, আইএসআই’র সাথে তার মাধ্যমেই দলের একাধিক নেতা যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনি যেসব নেতার নাম বলেছেন তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে নেমেছে। এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজেও আইএসআই’র সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। অপরদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এর সাথেও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগযোগ ছিল। সূত্র জানায়, ঐ ছয়জন ছাড়া অপর চারজন পরোক্ষভাবে’র’-এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
চট্টগ্রামের জেটিতে খালাস করা ১০ ট্রাক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বগুড়ায় এক ট্রাক গুলি আটক করা হলেও কারা কোন রুটে এনেছিল এবং গন্তব্যই বা কোথায় ছিল তা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। সূত্র জানায়, এ দু’টি বিষয় সম্পর্কে বাবর আগে থেকেই অবগত ছিলেন। চট্টগ্রামে পুলিশের পাহারায় আগ্নেয়াস্ত্র খালাস করার পর মুহূর্তেই সেগুলো আটক করা হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সংকেত দেয়ার পরই খালাস করা আগ্নেয়াস্ত্র তার পূর্ব নির্ধারিত রুটে যেতে পারেনি। তার আগেই আটক করা হয়। এছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে ট্রাক বোঝাই অবস্থায় গুলি অসংখ্য চেকপোস্ট ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাজধানীর উপর দিয়ে বগুড়া পর্যন্ত কি করে গেল সে রহস্যের জট এখনো খোলেনি। গুলিভর্তি ট্রাকটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংকেত পাওয়ার পরই আটক করেছিল পুলিশ। রাজধানীর উপর দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বোমা ও গ্রেনেড যেকোন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিল বিএনপি’র সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমদ পিন্টুর। আইএসআই’র সাথে পিন্টুরও যোগাযোগ ছিল।
।। ইত্তেফাক : ১০.০৬.০৭ ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



