১৯৯৬ সালে শেয়ার মার্কেটে যে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে, তার পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ছিল বিদেশী ব্যবসায়ী চক্র এবং এদেশে বিদেশী দোয়েন্দা চক্রের আশীর্বাদপুষ্ট সুবিধাভোগী একটি মহল। এ দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজানোর সুদূরপ্রসারি চিন্তা, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ‘মাড়োওয়ারি’-দের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ এবং দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে একটি ব্যবসায়ীচক্রের ষড়যন্ত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করাই হলো মূল উদ্দেশ্য।
বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, বেঙ্গল গ্রুপের মি. লিটু ও চট্টগ্রামের সাকা চৌধুরী।।এই তিনজন হলেন এই চক্রের বাংলাদেশের মূল হোতা। বোম্বে শেয়ার মার্কেটের ধস নামানো দু’জন ব্যক্তি সালমান এফ রহমানের বাসায় দিনের পর দিন মিটিং করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘর থেকে সঞ্চিত সম্বল হাতিয়ে নিয়ে ভাগ করা হয় দু’ভাবে।।এক ভাগ বিদেশী চক্রের জন্য অপর ভাগ আমাদের নতুন সিন্ডিকেটের জন্য।
ড. মতিউর রহমান নামে একজনকে প্রধান বানিয়ে সালমান এফ রহমান কুয়ালালামপুরে BELL CONSTRUCTION নামে একটি কোম্পানি খুলে দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে সেই টাকা সাদা করে দেশে ফেরত আনেন। বাংলাদেশের ট্রেডিং বিজনেস-এর এই নতুন দিকের সূচনা তখন থেকেই। এই সিন্ডিকেটকে গুঁড়িয়ে দিতে না পারলে বাংলাদেশের মানুষের ওপর শোষণ চলতেই থাকবে। এক টাকা বেশি দরে কেজি প্রতি চাল ২ কোটি ৪০ লক্ষ পরিবার কিনলে প্রতিদিন বাড়তি যে মুনাফা হয় তার পরিমাণ সাড়ে সাত কোটি টাকার কাছাকাছি। এ ধরনের মুনাফা যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি দ্রব্য থেকে তোলা সম্ভব হয় তাহলে আর কিসের প্রয়োজন?
বর্তমানে দেশের এ চক্রটির ওপর সরকারি বাধা-নিষেধ থাকলেও দ্রব্যমূল্যের ওপর তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। কারণ, মূল চক্রটি এখন এই মার্কেট কন্ট্রোল-এর কাজটি বাইরে থেকে করছে। এই নেটওয়ার্ক খুবই সুসংহত এবং তা ভাঙতে হলে দরকার র্যাব ও এলিট ফোর্সের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চিরুনি অভিযান বা কম্বিং অপারেশন।
- শেখ মনিরুল ইসলাম ।
:: দৈনিক ইত্তেফাক :: ১৩.০৮.০৭ ::

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



