somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার নেপথ্যে ছিলেন শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা

২৬ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধানে নেমে তথ্য পেয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া প্রথম রাতের বিক্ষোভ পরবর্তীকালে পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আর এর নেপথ্যের কুশিলব হচ্ছেন শিক্ষক সমিতির কয়েকজন এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। বুধবার কারফিউ জারি ও হল খালি করার ঘোষণা প্রচারের পর একটি এ্যাম্বুলেন্সকে ক্যাম্পাসে তৎপর দেখা যায়। দুম্বজন ছাত্রনেতা এ্যাম্বুলেন্সে উঠে হ্যান্ডমাইকে শিক্ষক সমিতির নামে ছাত্র-ছাত্রীদের হল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০ আগষ্ট সোমবার বিকালের ঘটনার পরই বাম ছাত্র সংগঠন রাতের টানা নম্বঘন্টার ছাত্র বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল। রাত তিনটা পর্যন্ত ক্যাম্পাস উত্তাল দেখে মঙ্গলবার দুই ছাত্র সংগঠনের নেতারা পর্দার অন্তরালে থেকে বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেন। শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতার বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। শিক্ষক সমিতির ঐ কম্বজন নেতা ও ছাত্র সংগঠনগুলো মোবাইল টেলিফোনের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মীদের উস্কে দেন। গোয়েন্দারা সাধারণ ছাত্রদের সাথে কথা বলে অনেকগুলো নাম সংগ্রহ করেছে। এদের মধ্যে জরুরি আইন ভঙ্গ করে বিক্ষোভ এবং সহিংসতায় মূল ভূমিকা পালনকারী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ১২ নেতার নাম রয়েছে। গত বুধবার বিকালে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউয়ের ঘোষণার পরই ছাত্র নেতারা আত্মগোপন করেছেন।

গত সোমবার বিকালে জিমনেসিয়াম মাঠে মাস্টার্সের (লোক প্রশাসন) ছাত্র মেহেদী সেনা সদস্যের হাতে প্রহৃত হওয়ার পর দ্রুত ক্যাম্পাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার পর বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা প্রতিটি হল থেকে কর্মীদের বের করে ক্যাম্পাস উত্তাল করে। তারা একটি দাবিতে রাত তিনটা পর্যন্ত বিক্ষোভসহ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। দাবিটি ছিল ক্যাম্পাস থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার ও দায়ী সেনা সদস্যের বিচার। বিক্ষোভরত ছাত্রদের দাবি মেনে নেয়ার পর ক্যাম্পাসের আন্দোলন চলে যায় প্রধান দুম্বটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের হাতে। সূত্র জানায়, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশনসহ ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর বিভিন্ন হল শাখার নেতারা সোমবার রাতেই বড় ধরনের আন্দোলনের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

আগের রাতের পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি পয়েন্টে ছাত্র সংগঠনের নেতারা অবস্থান নিয়ে জরুরি আইন ভঙ্গ ও সহিংসতা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মোবাইল টেলিফোনে রাজধানীর বাইরে যোগাযোগ করে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে যে ১২ নেতার নাম বেরিয়েছে তারা হলেন ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল (বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে), সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টুটুল, সহ-সভাপতি অপর্না পাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা টিপু, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়েদুল হক নাসির, যুগ্ম সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, সহ-সভাপতি রুহুল হক মনি ও ছাত্র ইউনিয়নের মানবেন্দ্র দেব। এরাই একত্রে মধুর ক্যান্টিনে মঙ্গলবার বিকালে নির্যাতন বিরোধী ছাত্র-ছাত্রী নামে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়, সারাদেশে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়ানোর পর গত বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সমাবেশে কয়েকজন শিক্ষক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার পরই নীলক্ষেত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য জায়গায় দাবানলের মত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সূত্র আরো জানায়, গোয়েন্দা অনুসন্ধানে নীলক্ষেত এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষের নেপথ্যে কাজ করেছেন ঐসব ছাত্র নেতাদের নাম পাওয়া গেছে। বুধবারই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা আন্দোলনকে অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন ছাত্রনেতাদের। অনুসন্ধানে এসব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই ফুলার রোডের বাসভবনে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী দুম্বজন শিক্ষককে আটক করে।

।। ইত্তেফাক : ২৬.০৮.২০০৭ ।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×