স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম ভার্চুয়াল মুতকিযোদ্ধা ব্লগার এস্কিমো তার সাম্প্রতিক পোস্টে ২৮ অক্টোবরকে ডাউন-প্লে করার একটা সুযোগ নিয়েছেন। "কি হয়েছিলো ২৮শে অক্টোবর" শিরোনামের পোস্টে এই লেখক ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডকে ছিনতাইকারীদের গণপিটুনির সাথে তুলনা করেছেন। আসলে তার কোনো প্রয়োজন ছিলোনা হঠাৎ করে এই বিষয়টির অবতারনা করে তার ঘিলুবিহীন অনুর্বর মস্তিষ্কটির বিশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ধারনা দেবার।
আমি ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর নই। ঠিক যেমন স্পর্শকাতর নই '৭১ এর হত্যা এবং ধর্ষণগুলো নিয়েও। তাই এস্কিমোর এই তুলনা কতটা মানবিক হয়েছে তার বিচার ইমোশনাল লোকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে এই তুলনার মেরিট নিয়ে দুইটা কথা বলবো।
২৮ অক্টোবর কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে? মুজাহিদ এবং মাসুমের মত কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্রদেরকে হত্যা করা হয়েছে যারা এখনো জানেনা জীবন কি। হয়তো কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরেনি বা চুমুও দেয়নি। যারা কখনো কারো গায়ে একটা আচড়ও কাটেনি, কারো ১ টাকার ক্ষতি করেনি। তারপরও কেন তাদেরকে জীবন দিতে হলো তার উত্তর এস্কিমোর মতো লোকের বোধশক্তিতে ধরা না পরা স্বাভাবিক।
একটা গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীরা মারা গেলে সেখানে কোনো স্পষ্ট প্রতিপক্ষ থাকেনা। সমস্ত "পাবলিক"-রে যেহেতু কাঠগড়ায় তুলে বিচার করা সম্ভব না তাই সেই গণপিটুনির দায়ে পাবলিকের বিচার হবার কোনো সম্ভাবনাও থাকেনা। কিন্তু ২৮ অক্টোবর যুদ্ধ হয়েছে দুইটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীর মাঝে - পাবলিক এবং ছিনতাইকারীর মাঝে না। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে মারা অবশ্যই একটি ভিন্ন মাত্রার সামাজিক বিকৃতির নিদর্শন এবং একে ট্রিট করতে হবে সেভাবেই।
সমাজের সীমাহীন অপরাধ দমনের জন্য "নির্বিচারে" অপরাধকারীদের হত্যা করার পেছনে কোনো সমাজের একটা জাস্টিফায়েবল কারন থাকতে পারে। অপরাধ দমনে এধরনের অভিযান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং পৃথিবীর সকল পরাশক্তি বিভিন্ন সময়ে এর ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে পৃথিবীর সর্বত্রই দুস্কৃতিকারীদেরকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে। এটাও অপরাধ দমনের একটা (অস্বীকৃত) পন্থা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লগি-বৈঠা আনতে বলে পরিকল্পিত পিটিয়ে মারা, সবাই একমত হবেন, কখনো জাস্টিফায়েবল হতে পারেনা। কারন, এখানে যারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছেন তারা সুস্পষ্টভাবে অপরাধ দমনের জন্য কাজটি করেননি - পক্ষান্তরে র্যাবের এনকাউন্টার এবং পাবলিকের গণপিটুনির পেছনে সমাজে অপরাধ দমনের একটা আকাঙ্খা কাজ করে। এধরনের হত্যাকাণ্ডে পাবলিকের সাপোর্ট আছে - অন্যদিকে ২৮ অক্টোবরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড দেখে মানুষ শিউরে উঠেছে, দুঃখ পেয়েছে এবং দলমত নির্বিশেষে এধরনের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছে।
রাজনৈতিক কারনে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেটা রাজনৈতিক কারনেই ব্যবহৃত হবে এবং এটাকে অন্যভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই এস্কিমো ভদ্রলোক ২৮ অক্টোবরকে যতই "একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আমাদের সমাজে এমনটা অহরহই হয়" দাবী করার চেষ্টা করুন না কেন ২৮ অক্টোবরকে আজীবন আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার ডিফাইনিং ডে হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং বিশ্বব্যাপী এর বহুল প্রচার নিশ্চিত করা হবে। এতে জনাব এস্কিমোর গাত্রদাহ হলেই করার কিছু নেই। দুঃখিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

