আমার প্রিয় পোস্ট

আমার সকল স্পর্ধা সৃষ্টিকর্তাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি

আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার ডিফাইনিং ডে এবং ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধাদের গাত্রদাহ

১০ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:২০

শেয়ার করুন:                   Facebook

স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম ভার্চুয়াল মুতকিযোদ্ধা ব্লগার এস্কিমো তার সাম্প্রতিক পোস্টে ২৮ অক্টোবরকে ডাউন-প্লে করার একটা সুযোগ নিয়েছেন। "কি হয়েছিলো ২৮শে অক্টোবর" শিরোনামের পোস্টে এই লেখক ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডকে ছিনতাইকারীদের গণপিটুনির সাথে তুলনা করেছেন। আসলে তার কোনো প্রয়োজন ছিলোনা হঠাৎ করে এই বিষয়টির অবতারনা করে তার ঘিলুবিহীন অনুর্বর মস্তিষ্কটির বিশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ধারনা দেবার।

আমি ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর নই। ঠিক যেমন স্পর্শকাতর নই '৭১ এর হত্যা এবং ধর্ষণগুলো নিয়েও। তাই এস্কিমোর এই তুলনা কতটা মানবিক হয়েছে তার বিচার ইমোশনাল লোকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে এই তুলনার মেরিট নিয়ে দুইটা কথা বলবো।

২৮ অক্টোবর কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে? মুজাহিদ এবং মাসুমের মত কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্রদেরকে হত্যা করা হয়েছে যারা এখনো জানেনা জীবন কি। হয়তো কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরেনি বা চুমুও দেয়নি। যারা কখনো কারো গায়ে একটা আচড়ও কাটেনি, কারো ১ টাকার ক্ষতি করেনি। তারপরও কেন তাদেরকে জীবন দিতে হলো তার উত্তর এস্কিমোর মতো লোকের বোধশক্তিতে ধরা না পরা স্বাভাবিক।

একটা গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীরা মারা গেলে সেখানে কোনো স্পষ্ট প্রতিপক্ষ থাকেনা। সমস্ত "পাবলিক"-রে যেহেতু কাঠগড়ায় তুলে বিচার করা সম্ভব না তাই সেই গণপিটুনির দায়ে পাবলিকের বিচার হবার কোনো সম্ভাবনাও থাকেনা। কিন্তু ২৮ অক্টোবর যুদ্ধ হয়েছে দুইটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীর মাঝে - পাবলিক এবং ছিনতাইকারীর মাঝে না। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে মারা অবশ্যই একটি ভিন্ন মাত্রার সামাজিক বিকৃতির নিদর্শন এবং একে ট্রিট করতে হবে সেভাবেই।

সমাজের সীমাহীন অপরাধ দমনের জন্য "নির্বিচারে" অপরাধকারীদের হত্যা করার পেছনে কোনো সমাজের একটা জাস্টিফায়েবল কারন থাকতে পারে। অপরাধ দমনে এধরনের অভিযান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং পৃথিবীর সকল পরাশক্তি বিভিন্ন সময়ে এর ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে পৃথিবীর সর্বত্রই দুস্কৃতিকারীদেরকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে। এটাও অপরাধ দমনের একটা (অস্বীকৃত) পন্থা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লগি-বৈঠা আনতে বলে পরিকল্পিত পিটিয়ে মারা, সবাই একমত হবেন, কখনো জাস্টিফায়েবল হতে পারেনা। কারন, এখানে যারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছেন তারা সুস্পষ্টভাবে অপরাধ দমনের জন্য কাজটি করেননি - পক্ষান্তরে র্যাবের এনকাউন্টার এবং পাবলিকের গণপিটুনির পেছনে সমাজে অপরাধ দমনের একটা আকাঙ্খা কাজ করে। এধরনের হত্যাকাণ্ডে পাবলিকের সাপোর্ট আছে - অন্যদিকে ২৮ অক্টোবরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড দেখে মানুষ শিউরে উঠেছে, দুঃখ পেয়েছে এবং দলমত নির্বিশেষে এধরনের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছে।

রাজনৈতিক কারনে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেটা রাজনৈতিক কারনেই ব্যবহৃত হবে এবং এটাকে অন্যভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই এস্কিমো ভদ্রলোক ২৮ অক্টোবরকে যতই "একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আমাদের সমাজে এমনটা অহরহই হয়" দাবী করার চেষ্টা করুন না কেন ২৮ অক্টোবরকে আজীবন আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার ডিফাইনিং ডে হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং বিশ্বব্যাপী এর বহুল প্রচার নিশ্চিত করা হবে। এতে জনাব এস্কিমোর গাত্রদাহ হলেই করার কিছু নেই। দুঃখিত।

 

 

  • ১৬ টি মন্তব্য
  • ২৮৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৩
comment by: রাজনীতিক বলেছেন: ২৮ অক্টোবরের পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে যারা বৈধ করতে চায় তারা অবশ্যই মানুষ না আমলীগ। এই হত্যাকান্ড বৈধ হলে তো ১৫ই আগষ্টের হত্যাকান্ড আরো বৈধ। কারণ মুজিব ৩০ হাজার রাজনীতিককে বিনা কারণে হত্যা করেছিল, দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করার বন্দবস্ত করেছিল, সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে পর্যন্ত এরেস্ট করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক পর্যন্ত মুজিবের সঙ্গ ত্যাগ করেছিল, দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়েছিল, মুজিবের চাটার দল সোনার বাংলাকে শ্বশান বাংলায় পরিণত করেছিল, সুতরাং এরকম একটি জঘন্য অপাধীকে হত্যা করা সম্পূর্ণ বৈধ হয়েছে এস্কিমোর থিউরী অনুসারে। সুতরাং মুজিববের আবার বিচার চাওয়া হচ্ছে কেন ?

সাহসী এবং যুক্তিনির্ভর পোষ্টের জন্য ৫। এস্কিমোর মত ফ্যাসীবাদীর জন্য ০০
২. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১৫
comment by: হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: "২৮ অক্টোবর কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে? মুজাহিদ এবং মাসুমের মত কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ছাত্রদেরকে হত্যা করা হয়েছে যারা এখনো জানেনা জীবন কি। হয়তো কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরেনি বা চুমুও দেয়নি। যারা কখনো কারো গায়ে একটা আচড়ও কাটেনি, কারো ১ টাকার ক্ষতি করেনি। "



.......................
ভাইজান এমুন পোস্ট দিবার আগে উপ্রে একটা ডিসক্লেইমার দিবেন দয়া কইরা যে এইটা একটা বিকট হাসির পোস্ট।পড়ার আগে সতর্ক হইবার দরকার।


কারন আমি উপরোক্ত লাইনগুলা পইড়া এমন বিকট হাসি দিছি যে যুদি হৃদরোগী হইতাম,তাইলে এতোক্ষনে আমার জানাজার ইন্তেজাম করতে হইতো।
৩. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:২৭
comment by: রাজনীতিক বলেছেন: আপনে তো মানুসিক রুগী। তাই সমস্যা হবার কতা না। আর সমস্যা হইলে তো ডাংতার হারাধন আছেই।
৪. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৬
comment by: নাদান বলেছেন: "আমি ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর নই। ঠিক যেমন স্পর্শকাতর নই '৭১ এর হত্যা এবং ধর্ষণগুলো নিয়েও। " --- তাই নাকি?
৫. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৮
comment by: আসল ট্র্যাপ বলেছেন: আমি ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর নই। ঠিক যেমন স্পর্শকাতর নই '৭১ এর হত্যা এবং ধর্ষণগুলো নিয়েও।
----------------------------------
কুত্তার বাচ্চার স্পর্শকাতর হওয়ার কথাও না।
৬. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৪৮
comment by: হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: আসল ট্র্যাপের কমেন্টে ৫টা বিপ্লব দিলাম।
৭. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪০
comment by: ঘোড়ার ডিম বলেছেন: আসল ট্র্যাপ বলেছেন :
২০০৭-০৮-১০ ১৩:৩৮:৩১

আমি ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর নই। ঠিক যেমন স্পর্শকাতর নই '৭১ এর হত্যা এবং ধর্ষণগুলো নিয়েও।
----------------------------------
কুত্তার বাচ্চার স্পর্শকাতর হওয়ার কথাও না।




=================
ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা 'এস্কিমো'ও '২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ব্যপারে স্পর্শকাতর' এর ব্যপারে স্পর্শকাতর নয়। তাইলে 'আসল ট্র্যাপ' এর কথা মত 'এস্কিমো' একটা কুত্তার বাচ্চা?



এস্কিমো, কুইকলি এইখানে আসো। দেখো তোমার ভার্চুয়াল সহযোদ্ধা কি কয়।
৮. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
comment by: ঘোড়ার ডিম বলেছেন: হোসেইনও সমর্থন দিসে। হায় হায় হোসেইনও এস্কিমোরে কুত্তার বাচ্চা কইলো? ছি: ছি: ছি:


গালাগালি কলে না বাবুরা! এই নাও নলিপপ! আঙুল না চুষে ননিপপ চুষো
৯. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
comment by: কর্কট বলেছেন: ইন্টারনেটে পাইসি--
http://28thoctober.com
১০. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৩
comment by: কর্কট বলেছেন: এইটা মোটেই বিচ্ছিন্ন আর সাধারন ঘটনা না, সারা পিত্থিবীর মাইনষে যেইভাবে দেখসে, তাতে এইটারে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবেই জানসে। যাদের আরেট্টু জানার আগ্রহ ছিল, তারা জানসে এই কামে হাসিনার উস্কানি ছিল। যেই পোলাপানরা মারা গেসে, তাদের স্বাভাবিক, সাধারন জীবনের কথাও দ্যাশের মানুষ জানসে। আমি এখন পয্যন্ত একটা "মানুষরেও" পাই নাই, যেয় ওই ঘটনারে গা ঝাড়া দিয়া ফালায় দিসে, ছিনতাইকারীর গণপিটানির সাথে তুলনা করসে। গণরোষ আর রাজনৈতিক নৃশংষতার মইধ্যে পার্থক্য আসে। যারা অই কাজ করসে, কোন রকম সমর্থন দিসে, তারা একাত্তর সম্পর্কে কোন রকম কথা কওনের অধিকার হারাইসে। একটা কুকুরের মুখের হাড্ডি নিয়া নিতে গেলেও হেয় দৌড়ানি দিব, কামড়াইবো। আমরা মানুষ, আমগো দেশের মাটি নিয়া কামড়া কামড়ি করলে আমরা অস্ত্র হাতে নিমু না? সেইটায় কোন হিরোইজম নাই। যেই কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করি, সেইটার কারণ হইলো ধর্ষন, অন্যায় হত্যা থামাইতে চাইসে। যেই পাবলিক মুক্তিযোদ্ধারা যেইটা থামাইতে চাইসে, সেইটাই করায়, উস্কানি দেয়, হেরা চিন্তা ভাবনায় লুলা। পঙ্গু। ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা।


সব শালা ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা।
১১. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৩
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ। কিছু সহযোগী লিংক দিলাম।

কি হয়েছিল ২৮ শে অক্টোবর?
জানতে হলে একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখুন:
পোষ্ট- এক
পোষ্ট- দুই
পোষ্ট- তিন
পোষ্ট- চার
পোষ্ট-পাঁচ
পোষ্ট- ছয়
এবং
পোস্ট- সাত
এছাড়াও পোষ্টগুলোতে বিস্তারিত অন্যান্য লিংক দেয়া আছে।
১২. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
comment by: হট্টগোল বলেছেন: পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দকর দৃশ্য হলো ২৮ ডিসেম্বরের শিবির হত্যা।
১৩. ১১ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:০৫
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: সহমত @ কর্কট
১৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৪
comment by: নিরপরাধ বলেছেন: আহারে ... হোসেইন, আসল ট্র্যাপ, নাদান, হট্টগোলের কিসের এতো জ্বলুনি! মালিশ লাগবে, মালিশ ...
১৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৭
comment by: নিরপরাধ বলেছেন: হট্টগোল, এটা তোমার জন্য:


পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দের দৃশ্য হচ্ছে '৭৫ এর ১৫ আগষ্ট নিজ বাড়ীর সিড়িতে পরে থাকা মুজিবের মৃতদেহ হতে রক্ত নির্গত হবার দৃশ্য।
১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৫
comment by: সুমনকুমার দাশ বলেছেন: এটা কোন ধরনের কথা। নিরপরাধ তো সবসময় অপরাধ করে যাচ্ছে। যে অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। ক্ষমা নেই......

 

 

comment by:
আসলে বিদ্রোহী।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৪১৬৩