পর্ব -১
Click This Link
পর্ব -২
Click This Link
পর্ব ২ এ একটা ভালো পিছলামির চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রথম তিনটা যৎকিঞ্চিৎ ব্যাখা দেয়া হইছিলো । চতুর্থ বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা একটু বড় দেখে, এইখানে সেইটার ব্যাখ্যা দেয়া হবে ।
ভালো পিছলামির চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটা শুনতে মনে হবে গভীর এবং বিশাল কিছু । বাইবেলের সংকলণের উদাহরণ ছাড়াও আরো দু'একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারখানা পরিষ্কার হবে আশা করা যায় ।
যেমন , বলা যায় ঈশ্বর মানুষের মাঝে কাজ করেন রহস্যময় উপায়ে । তিনি বাইবেলকে এমন অগোছালোভাবে পাঠাইছেন মানুষের মনের স্বচ্ছতার পরীক্ষা নেয়ার জন্য । এইটা শুনে মনে হবে , ওয়াও ! ঈশ্বরের চিন্তা কত গভীর আর বাঙ্ময় । তবে সমস্যা হইলো এইটা কাজ করে কেবলমাত্র বিশ্বাসীর জন্যই । যেলোক অলরেডি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বসে আছে তার কাছে এটা একটা চমৎকার কথা । এবং ঈশ্বরের অবিশ্বাসীর যেকোন অভিযোগের বিরুদ্ধে ট্রাম কার্ড । পরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতেছি, তাও এখানে বলে রাখি , এই ট্রাম্পকার্ড ইছলামি পিছলামির গুরুরাও অহরহ ব্যাবহার করে থাকেন ।
যাইহোক, এই ধরণের গভীর পিছলামিসমূহের জন্য ডেনেট সাহেব একটা শব্দ কয়েন করেছেন । "Deepity" । এইটার বাংলা এখনো করার চেষ্টা করা হয় নাই । আমার স্বভাবজাত বান্দ্রামির জন্য একাডেমিক বাংলা না কইরা এইটার বাংলা প্রস্তাব করলাম "গাভীরডিম" । কারণ এর যে অর্থের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডেনেট সেটা থেকে এর কাছাকাছি বাংলা শব্দ হইলো ঘোড়ার ডিম । যেহেতু ঘোড়ার ডিম বাংলায় অলরেডি বুকড এবং ডিপিটি শব্দটির মধ্যে ঘোড়ার ডিমের চাইতেও বেশি কিছু অর্থ লুক্কায়িত , তাই অন্য শব্দ দিলাম । এইবার এই গাভীরডিম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা যাক ।
একটা গাভীরডিম নরমালি একটা স্টেটম্যান্ট বা বাক্য বা একটা বড় ব্যাখ্যাকেও বুঝাইতে পারে । গাভীরডিমের বৈশিষ্ট্য দুইটা ।
১ । এর কমপক্ষে দুইটা অর্থ থাকবে ।
২ । প্রথম অর্থ ধরলে এইটা সত্য, কিন্তু মূল্যহীন বা সিলি । আবার দ্বিতীয় অর্থে এইটা মিথ্যা, কিন্তু যদি সত্য ধরা হয় তাইলে বিশাল ব্যাপার । আমাদের সমস্ত চেতনা উল্টাপাল্টা করে দেয়ার মত ব্যাপার ।
একটা উদাহরণ দিয়া ব্যাখ্যা করি । কিছুদিন আগে বাংলা ব্লগের পীরবাবা হযরত নরাধম শাহ একটি চমৎকার গাভীরডিম প্রসব করেন , যেটা এরকম
"মুক্তবুদ্ধি একটা ইল্যুশন । মুক্তবুদ্ধি বলতে আসলে কিছু নাই "
এইটা প্রথম পড়ে মনে হইলো, ওয়াও ! ওয়াও ! প্রাথমিক ওয়াওবোধ থিতু হইয়া আসার পর এইটার বিশ্লেষণে যাওয়া যাক এইবার ।
প্রথম অর্থে মুক্তবুদ্ধি আসলেই একটা ইল্যুশন , কিন্তু ঐ অর্থে দুনিয়ার সবকিছুই ইল্যুশন । আবার মুক্তবুদ্ধি বলতে আসলেই কিছু নাই , কারণ আমাদের বুদ্ধি, জ্ঞান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ সবকিছুই আমরা দুনিয়ার ব্যাপারে যেইসব সংজ্ঞা এবং স্বীকার্য ধরে নিই সেইগুলার উপর নির্ভর করে গড়ে উঠা । মানে, শিশুকালে আমরা ভাষা শিখি তোতাপাখির মত, নামতা মুখস্ত করি আগামাথা না বুইঝা, সংখ্যাগুলার নাম শিখি সেইগুলার উৎপত্তি না বুইঝা । কিন্তু এই অর্থে আমাদের বদ্ধবুদ্ধি এমনকি বুদ্ধি বলেও কিছু থাকেনা । এমনকি বুদ্ধি নামের "নাউন" টাও অন্যদের কাছ থেকে শিখা অর্থাৎ মুক্ত না ।
এখন দেখি দুনিয়ার সবকিছুই আসলে কিরকমের ইল্যুশন । সহজ জিনিস ধরি । একটা জিনিসের রঙ দেখেই আমরা সাথে সাথে বলতে পারি এটা লাল বা নীল বা সবুজ । এই লাল বা নীলের আইডিয়া আমাদের আসলো কিভাবে । সাদা আলো একটা বস্তুর উপর পড়লো । সেইখান থেকে যে আলো পড়লো তার একটা অংশ প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখের উপর পড়লো । আমাদের চোখের নিচের স্নায়ু সেইটারে তড়িৎ সংকেত বানায়া মাথায় পাঠাইলো । মাথা আগেই শিখে রাখা ডেটাবেজ এর সাথে মিলাইয়া বললো যে এইটা হইলো সবুজ । ঐখান থেকে আমরা মুখে বললাম যে এই পাতাটা সবুজ ।
অর্থাৎ দেখা যাইতাছে বস্তুটার কি বৈশিষ্ট্য সেইটার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হইতেছে আমাদের মাথার ভিতরের ডেটাবেজ । অর্থাৎ আমরা বস্তুটা দেখি না । বস্তুটার কারণে সাদা আলোর ভিতরে কি পরিবর্তন হইলো সেইটা দেখি । আবার সাদা আলোর পরিবর্তন দেইখাই আমরা স্বিদ্ধান্ত দিচ্ছি না । বরং এই পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই আমাদের মাথায় যে তথ্য আছে সেইটার সাথে তুলনা করেই আমরা স্বিদ্ধান্ত দিচ্ছি । অর্থাৎ বস্তুটা কি তার চাইতে বস্তুটা আমাদের মাথায় কি প্রতিক্রিয়া করতেছে সেইটার উপরেই আমাদের বিচার নির্ভর করতেছে । ইল্যুশনই বটেক ।
তবে এইখানে কথা আরো আছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



